সর্বনাশা ইয়াবা : মোহাম্মদ আজমুলুয়াদ

quran

শোভন,  পিতা-মাতার শোভনীয় ছেলে। একমাত্র বলে মা-বাবার চোখের মণি। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ছেলেকে কোন আয়োজনই বাদ দেননি চাকরিজীবি মা-বাবা। শোভন অধ্যয়নের জন্যে একাগ্রচিত্ত। সামাজীকরনের প্রথম ধাপ পাড়ি দিয়ে সবে মাত্র সে দ্বিতীয়তে পৌঁছেছে। নিঃসঙ্গ জীবনের তিক্ত সময় কাটানোর জন্য স্কুল প্রাঙ্গনে তার জুটেছে
কয়েকজন বন্ধু। শোভন জানে না তার সদ্য পরিচিত বন্ধুগুলোর প্রশংসনিও চরিত্র সম্পর্কে লেইজার পিরিয়ড কাটানোর আসক্তিপূর্ণ মাধ্যম সম্পর্কে। পিতা মাতার চাকরীর সুবাধে স্কুল ছাড়াও সে আজ কাল গ্রামের বন্ধুদের সাথে কাটিয়ে দেয় অনেকটা সময়। ক্রমে ক্রমে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসার মতোই বন্ধুদের  আচরণ তার মাঝে প্রতিফলিত হতে শুরু করে। দিকে দিকে সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে জীবননাশক আগ্রাসনের দিকে। গ্রহণ করতে থাকে মাদকের মত সর্বনাশা নেশাকে। শোভন আজকাল প্রায়ই স্কুল ফাকিঁ দেয়। বাসা থেকে স্কুলের নামে বের হয়ে খারাপ বন্ধুদের সাথে রাস্তার অলিতে গলিতে আড্ডা দেয়। শোভন এই বিষয়টি বুঝতে পারে না যে প্রকৃত বন্ধু কোন দিন মাদকের অফার দিতে  পারে না। ইদানিং শোভনের শরীরে নানা ধরনের রোগের বাসা বেধেছে। তার মেজাজ আগের চেয়ে অনেকটা খিট খিটে হয়ে যাচ্ছে। ইদানিং আরেকটি বিষয় খুবই প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা হলো, প্রায় রাতে সে নিদ্রা যাপন করে। বাবা-মা এর সোনালি স্বপ্নের মুখপত্র শোভনকে নিয়ে পরিবারের সকলেই অস্থির ভাবে কালাতিপাত করছে। তখন বাবা-মা পরামর্শ করলো তাদের ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। নিয়ে যাওয়া হলো ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রিপোর্ট পেলো শোভন মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে তার শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করেছে। আজ তার সব কিছুতেই পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ডাক্তার বললো, যতদিন সে নেশার পথ থেকে ফিরে না আসবে এর চেয়ে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তার বাবা-মাকে বললো ডাক্তার সাহেব। আরো বললো সে যদি মাদক সেবন বন্ধ না করে তাহলে তার ফুসঁফুসেঁ ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপের মতো আরো ভয়াবহ রোগে তার জীবনকে আরো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। তার বাবা-মায়ের এতো কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও শোভন এর জন্য তা পরিহার করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। শোভনের কাছে এখনো সর্বনাশা ইয়াবা নিত্য দিনের সাথী। কোন ভাবেই এই থাবা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। নেশা যেন আজ তার কাছে মা-বাবা ভাই বোনের চেয়ে বেশী প্রিয় হয়ে গিয়েছে। কারণ সে তো জানেনা মাদক কোন কিছুই দিতে পারে না বরং অনেক কিছুই নিয়ে যায়। আজ কেবল শোভনের মা-বাবা ছাড়াও শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত শত শত শোভনের মত সোনালি জীবন ধ্বংস হচ্ছে, নষ্ট করে দিচ্ছে তাদের ভবিষৎ কে। এ জন্যই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আজ তাদের সন্তানদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে এবং তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে আমাদের এই সুজলা শ্যামলা দেশটাকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

2 মন্তব্য রয়েছেঃ সর্বনাশা ইয়াবা : মোহাম্মদ আজমুলুয়াদ

  1. Sakir Ahmad says:

    Vali hoyese. Thanks

  2. Mozibur Rahman says:

    সমাজ উন্নয়নের জন্য এ ধরনের লেখা খুবই উপকারী। বর্তমান সময়ের জন্য এ ধরনের লেখা আপনাদের পত্রিকায় ছাপানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ আপনাদের আরও বেশি দীনি খেদমত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight