সম্পাদকীয় : শাবান মাসের ফযীলত

Sampadokia-150x150

সকল প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা.-এর প্রতি। 
পবিত্র শাবান মাস রহমত বরকত এবং মাগফিরাতের বার্তাবাহক। আরবি চান্দ্রমাসের মধ্যে শাবান মাস হলো বিশেষ ফযীলতপূর্ণ। এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল বরাতের মতো অত্যন্ত বরকতময় রজনী, যাকে বলা হয় মাহে রমযানের আগমনী বার্তা। শাবান মাস মূলত পবিত্র মাহে রমযানের প্রস্তুতির মাস। প্রতিবারের মতো শাবান মাস মুসলমানদের কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত রমযান মাসের সওগাত নিয়ে আসে।  অধিক ইবাদতের মাস রমযান, এ জন্য পবিত্র শাবান মাস থেকেই রমযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মুসলমানেরই কর্তব্য। বিভিন্ন হাদীসে এ মাসের বিশেষ ফযীলত ও তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। এ মাসে মুসলিম উম্মাহর কিছু করণীয়ও রয়েছে। হযরত মুহাম্মদ সা. শাবান মাস থেকেই পবিত্র রমযানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন বলে হাদীসে উল্লেখ পাওয়া যায়। হযরত মুহাম্মদ সা. পবিত্র শাবান মাস থেকেই রমযানের জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন। আর এ কারণেই তিনি পবিত্র শাবান মাসের দিন-তারিখের খুব গুরুত্ব দিয়ে হিসাব রাখতেন। হযরত আয়েশা রা. বলেন, হযরত মুহাম্মদ সা. পবিত্র শাবান মাসের দিন-তারিখের এত হিসাব রাখতেন যতটা হিসাব অন্য মাসের রাখতেন না। [আবু দাউদ ১/৩১৮] সুতরাং পবিত্র শাবান মাসের দিন-তারিখের হিসাব রাখা সুন্নাত।
শাবান মাসের সমাপ্তির পরই মানবজীবনের সব কালিমা দূর করার বিশেষত্ব নিয়ে কৃচ্ছসাধনের মাস রমযানুল মোবারক আসে। তাই এ গুরুত্ববহ মাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। তাই আসন্ন মাহে রমযানের মূল সিয়াম শুরু করার আগে শাবান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কিছু নফল রোযা রাখা দরকার, যাতে করে মাহে রমযানের রোযা পালন সহজ্জ হয় এবং লক্ষ্যও ঠিকমতো অর্জিত হয়।
হযরত উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত তিনি জানান, আমি হযরত নবী কারীম সা.-কে শাবান ও রমযান ব্যতীত দুই মাস একাধারে রোযা রাখতে দেখিনি। হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শাবান মাসের মতো এত অধিক নফল রোযা রাখতে অন্য কোনো মাসে আর দেখিনি। এ মাসের অল্প কিছু দিন ব্যতীত বরং বলতে গেলে সারা মাসই তিনি নফল রোযা রাখতেন। (তিরমিযি-১/১৫৫)

পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ শাবান রাত হচ্ছে শবেবরাত। এ রাতের অশেষ ফযীলতও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বছরের পাঁচটি শ্রেষ্ঠ রজনীর অন্যতম এ শবেবরাত। এ রাতের করণীয় সম্পর্কে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ১৫ শাবান রাতে তোমরা জেগে থেকে ইবাদত কর এবং পরদিন রোযা রাখ। এ জন্য শবেবরাতে জেগে থেকে ইবাদত করা এবং পরদিন রোযা রাখা বিশেষ সওয়াবের কাজ। সর্বোপরি পবিত্র শাবান মাসের পরই যেহেতু পবিত্র রমযান মাস তাই শাবান মাসেই পবিত্র রমযানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে। সুতরাং পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় শাবান মাসব্যাপী অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি ও মধ্য শাবানের রজনীতে তওবা-ইস্তেগফার করে অতীতের সব গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণে নিজেদের জীবন পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight