সম্পাদকীয় : রজব মাসের তাৎপর্য

Sampadokia

সকল প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা.-এর প্রতি। হিজরি বর্ষের সপ্তম মাস রজব। এই মাসের প্রথম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলোÑ এটি কুরআনে উল্লেখিত “আশহুরু হারাম” তথা মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহের একটি। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী রহ. বলেছেনÑ “মিল্লাতে ইবরাহীম”-এর মধ্যে মোট চার মাস বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার মাস। মহান আল্লাহ এগুলোর মর্যাদাকে অক্ষুণœ রেখেছেন।
আরব জাহেলিয়াতের যুগে রজব মাস কেন্দ্রিক অনেক রুসম-রেওয়াজ প্রচলিত ছিল। ইসলাম সেসবকে বাতিল করে এটাকে সম্মানিত ৪মাসের একটি বলে ঘোষণা দিয়েছে। রজব ছাড়াও অপর তিনটি সম্মানিত মাস হলো-যিলকদ, যিলহজ ও মুহাররম। [সূরা তাওবা ৩৬নং আয়াত দ্র.] আজকের সমাজের মুসলমানদের বেশিরভাগ সম্মানিত মাসসমূহ এবং বিশেষত রজব ও শাবান মাস সম্পর্কে অনেকখানি অন্ধকারে রয়েছেন।
রজব মাস নাকরণ হিসেবে বলা হয় যে, ‘কামূস’ নামক প্রসিদ্ধ অভিধানে রাজাবা’র অর্থ লিখেছেন- ‘ভীতিপ্রদর্শন করেছে’, ‘সম্মান করেছে’। এ থেকে ‘রজব শব্দের উৎপত্তি। আরববাসীগণ এ মাসের প্রতি সম্মান করে আসতো। মাহে জুমাদাল উখরা ও মাহে শা’বানের মধ্যবর্তী মাস হচ্ছে ‘রজব’। হাদীস শরীফে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ মাসের অবস্থান নির্ণয় করে দিয়েছেন ‘রজব’ হ্েচ্ছ জুমাদাল উখরাহ ও মাহে শা’বানের মধ্যবর্তী মাস। এর কারণও এই যে, জাহেলী যুগের লোকেরা এ মাসকে মনগড়াভাবে সরিয়ে দিয়ে অন্য মাসকে তদস্থলে সাব্যস্থ করতো। তারা ওই যুগে দিন এবং মাসেও কম বেশী করে ফেলতো। তাদের এসব খেয়াল ও কাজকে বাতিল ঘোষণা করে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকিদ সহকারে ওই মাসের অবস্থান নির্ণয় করে দিয়েছেন।
হযরত আনাস রা. বলেন, মহানবী সা. যখন রজব মাসের চাঁদ দেখতেন, তিনি এই বলে দোআ করতেন “হে আল্লাহ আমাদের জন্যে রজব এবং শাবানের মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।” মোল্লা আলী কারী রহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, অর্থাৎ “উল্লেখিত মাসসমূহে আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে বরকত দান করুন। আমাদেরকে দীর্ঘায়ু করে মহান রমযান মাস পর্যন্ত নিয়ে যান। যেন রমযানে সকল আমল রোযা, তারাবীহ ইত্যাদি লাভের সৌভাগ্য হাসিল হয়।” [মিরকাতুল মাফাতীহ : ৩/৪১৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া]
রজব মাসের চাঁদ দেখে মহানবী সা. যেই দোআ করেছেন তাতে সে দোআর সঙ্গে কোনো কোনো রেওয়ায়েতে এ রাতে দোআ কবুলেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। “মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক”Ñ এ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর এক ‘আসর’ উদ্ধৃত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, “পাঁচটি রাত এমনÑ যেগুলোতে দোআ প্রত্যাখ্যান করা হয় না।Ñ শবে জুমা, রজবের প্রথম রাত, শাবান মাসের ১৫ তারিখের  রাত, ঈদুল ফিতরের ও ঈদুল আযহার রাত। [মুসান্নফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস ৩১৭/৪৭৯২৭ মজালিসুল ইলমী]
মাহে রজবের রোযা প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র কোনো বিশেষ ফযীলত উদ্ধৃত নেই। হাফেজ ইবনে হাজার “তাবঈনুল আজব বিমা ওয়ারাদা ফী ফজলে রজব” গ্রন্থে এ মর্মে বহু হাদীস সংকলন করে ঐগুলোর সনদ সংক্রান্ত দিককে ব্যাখ্যা করে রজব মাস সম্পর্কে বলেছেনÑ রজব মাসে একমাত্র রজবের কারণে কোনো রোযার বিশেষ ফযীলত সহীহ হাদীসে উল্লেখ নেই। [তাবঈনুল আজব বিমা ওয়ারাদা ফী ফজলে রজব। মুকাদ্দামা পৃ-১১] তবে রোযা স্বয়ং একটি নেক আমল, অতঃপর “আশহুরে হারাম”Ñএর একটি মাস  হওয়া এই দুই বৈশিষ্ট্য মিলে অপর সাধারণ সময়ের থেকে অতিরিক্ত সওয়াব হাসিলের এটি একটি নিমিত্ত হতে পারে। সুতরাং, এই মাসের যে কোনো দিন কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া রোযা রাখলে নিশ্চয় তা মোস্তাহাব ও নেকী অর্জনের মাধ্যম ও নিমিত্ত হবে। কাজেই এ মাসে কোনো দিনকে নির্দিষ্ট করে রোযা রাখা এবং এ ব্যাপারে বিশেষ ফযীলত বর্ণনা করে একে ইবাদত ও ফযীলতের সময়সংক্রান্ত অন্য প্রামাণ্য বর্ণনার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ সম্পাদকীয় : রজব মাসের তাৎপর্য

  1. said says:

    Masaallah very good Idia.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight