সম্পাদকীয় : ইসলামী অনুশাসনই উত্তরণে পথ

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি মানুষের হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর যিনি অন্ধকার যুগে আগমন করে মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন এবং সত্যের উপমা সাহাবীদের উপর যিনারা দীনের দাওয়াত নিয়ে সারা বিশ্বে ছিটিয়ে ছড়িয়ে পরছেন। পর পর দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার পর থেকে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকরা এক ধরনের ভয়ভীতি বা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সরকার বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে আশ্বস্ত করা হলেও তারা যেন কিছুতেই আতঙ্কের বাইরে আসতে পারছে না। এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে আবারও পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। ট্যুর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি পর্যটকরা তাদের নির্ধারিত সফর বাতিল করে দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, আগামী ফেব্রুয়ারির পর্যটন মৌসুমে বিদেশি পর্যটক থাকবে না বললেই চলে, যদিও ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তাদের সফর বাতিল করেছে। পোশাক খাতের ক্রেতা প্রতিনিধিদল আসা কমে গেছে। রপ্তানি খাতের অন্যান্য ব্যবসা বা শিল্পেও এমন পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
অথচ অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যা করার বয়াভহতা সম্পর্কে ইসলামে কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। ইসলামে বিচার বহির্ভুত সকল প্রকার হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। এক্ষেত্রে ইসলামে বলা হয়েছে যে, কাউকে অবৈধ ভাবে হত্যা করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা হত্যাকারীকে চির জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তিনি তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট, অভিশাপ করা ও আখেরাতে তার জন্য দ্বিগুন শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। যে কোন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা জঘন্যতম শাস্তির কারণ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন’’ নিসা ৪/৯৩
পবিত্র কুরআনে অন্যায়ভাবে একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা সকল মানুষের হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- এ কারনেই আমি বানী ইসরাইলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা জমিনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারন ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে সে যেন তামাম মানুষকেই হত্যা করল; আর যে ব্যক্তি কোন মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকেই বাঁচালো। [মায়িদাহ ৫/৩২
আনাস রা. হতে বর্ণিত। নবী কারীম সা. বলেছেন- কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, প্রাণ হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া আর মিথ্যা বলা, কিংবা বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। [বুখারী ৬৮৭১; মুসলিম ৮৮]
এছাড়া কিয়ামতের দিন প্রত্যেকটি হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। সর্বপ্রথম হত্যার বিচরই করা হবে। আবদুল্লাহ রা. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সা. বলেছেন- (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে। [বুখারী ৬৫৩৩; মুসলিম ১৬৭৮]
আবদুল্লাহ ইবন উমার রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেলার পরে তার ধ্বংস থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় থাকে না, সেগুলোর একটি হচ্ছে, হালাল ছাড়া হারাম রক্ত প্রবাহিত করা (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।) [বুখারী ৬৮৬৩]
আবুল হাকাম আল-বাজালী রহ. বলেন, আমি আবু সাইদ খুদরি ও আবু হুরায়রাহ রা. -কে বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসুল সা. বলেছেন- আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মুমিনকে হত্যা করার কাজে শরীক থেকে থাকে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। [তিরমিযি ১৩৯৮]
মুয়াবিয়া রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সা.-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- প্রতিটি গুনাহ আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন; তবে দুটি গুনাহ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। আর তা হচ্ছে, কোন মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করলে। [নাসায়ী ৩৯৮৪; আহমাদ; হাকিম ৪/৩৫১]
উল্লেখিত হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝা যায় বিচার বহির্ভুত হত্যা মারাত্মক গোনাহের কাজ যার পরিণাম জাহান্নাম ছাড়া কিছুইনা। তাই দুনিয়ার অস্থায়ী ভোগ বিলাসের নেশায় আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ শান্তি যেন বিসর্জন না দেই। সাথে সাথে অন্যের প্ররোচনায় যেন নিজের দীন দুনিয়া উভয় নষ্ট না করি। আল্লাহ আমাদের বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight