সমাজ সংস্কারে ইমামগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য : মাওলানা জামালুদ্দীন

বড়দের কথা দিয়েই শুরু করি। সম্ভবত আবু তাহের মিসবাহ সাহেব দা.বা. এর একটি লেখায় পড়েছিলাম। হুবহু মনে নেই। তবে তার সারাংশ এমন, তিনি লিখেছেন, “আমরা বলি আমাদের মিডিয়া নেই, আমাদের প্রচার মাধ্যম নেই, আমাদের গণমাধ্যম নেই। সারা বিশ্বের মানুষ আজ মিডিয়ামুখী। তাই আমরাও যদি মিডিয়া তৈরী করে তার মাধ্যমে দ্বীন প্রচার করি; তাহলে তা হবে যুগোপযোগী এক পদক্ষেপ। আমি বলি, আমাদের হাতে যত বড় মিডিয়া আছে তা কারো হাতে নেই। আমাদের প্রত্যেকটি মসজিদ ঐ এলাকার জন্য একটি দ্বীনি মিডিয়া এবং এমন একটি মিডিয়া যার প্রতি মহল্লার মানুষ অন্যান্য গণমাধ্যম বা মিডিয়ার তুলনায় অনেক বেশি আস্থাশীল। শুধু কাজে লাগানোর অভাব”।
বিষয়টি একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলে বুঝে আসবে; আসলেই আমাদের হাতে রয়েছে অনেক বড় ও শক্তিশালী মিডিয়া। একজন ইমাম তিনি যে মসজিদে নামায পড়ান সে মহল্লার লোকেরা তাকে বিশ্বাস করে বলেই নিজের সবচেয়ে দামি সম্পদ (আমল তথা আখেরাতের অমূল্য সম্পদ) তার কাধে সঁপে দিয়ে তার পিছনে ইকতিদা করেন। দ্বীনি ব্যাপারে তার কথা একবাক্যে মেনে নেয়। সকল দ্বীনি বিষয় তার নিকটই জানতে চায়। কোন দ্বিধা-সংকোচ ছাড়াই তার কথার উপর আমল করার চেষ্টা করে। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ শুক্রবারে কমপক্ষে ৮০% লোক এই মিডিয়ার সামনে হাজির হয়। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে এমন কোন মিডিয়া নেই যার সামনে মহল্লার সকল মানুষ জড়ো হয়। এমন কোন পত্রিকা নেই যা সবাই পড়ে। বড়জোর বলা চলে, ঐ সকল মিডিয়ার পাঠক বা দর্শক সর্বসাকুল্যে ১০%। তারপর বিশ্বাসের ব্যবধান তো আছেই। মানুষ ইলেকট্রিক বা প্রিন্ট মিডিয়াকে ততটা বিশ্বাস করে না যতটা করে তার এলাকার সত্যিকারের নায়েবে নবী ইমাম সাহেবকে বিশ্বাস করে। কিন্তু অভাব হল এই মিডিয়ার সুন্দর ও সুচারু ব্যবহার। যদি আমরা এই মিডিয়াকে তারতীবওয়ারী সুন্দর করে দরদের সাথে ব্যবহার করি তাহলে সমাজ সংস্কার করা একটু কঠিন হলেও সম্ভব। সম্ভব এই ঘুণে ধরা সমাজ থেকে ঘুণপোকাগুলোকে বিদায় করা। সম্ভব এই সমাজকে নাস্তিক-মুরতাদবিহীন সমাজে রূপান্তর করা। সম্ভব সমাজকে খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদক নামের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
একজন ইমাম সাহেব শুধু ইমাম সাহেবই নন। তিনি আলেম হিসাবে একজন নায়েবে নবী। নবীর ওয়ারিস। নবীর ইলম, হিকমাহ এবং জিম্মাদারীর ওয়ারিস। তেমনিভাবে নবীর খুলুকে আযীম ও আদর্শের ওয়ারিস। উম্মতের প্রতি নবীর যে দরদ, ব্যথা তারও ওয়ারিস। তাই একজন ইমামকে তাকওয়া, পরহেযগারী, মানুষের প্রতি ভালাবাসা, দরদ ও ব্যথার দিক দিয়ে মহল্লার জন্য আদর্শ হতে হবে।
নবীদেরকে আল্লাহ তা’আলা তা’লিম, তাবলীগ, তাযকিয়া এই তিনটি কাজ দিয়ে প্রেরণ করেছেন । [সূরা বাক্বারা : আয়াত নং ১২৯]
প্রত্যেক নায়েবে নবীরও এই তিনটি কাজ। এই তিনটি কাজ যে করবে সেই প্রকৃতপক্ষে ‘নায়েবে নবী’ পরিচয় দেওয়ার হক্ব রাখে।
একজন ইমামের এই জিম্মাদরীগুলো যেভাবে পালন করা উচিত তার রূপরেখা বড়দের অনুকরণে পেশ কর হল।
প্রথম জিম্মাদারী তাবলীগ :
প্রত্যেক এলাকায় ইমাম সাহেবের কিছু খাছ অনুসারী থাকেন। যারা তাঁকে ভালোবাসেন। তার সঙ্গে উঠাবসাকে নেককাজ মনে করেন। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে চলেন। অনেকে ইমাম, দ্বীন এবং দ্বীনদারদের প্রতি খুব আশেক থাকেন। যদি এমন লোক না থাকে তাহলে ইমাম সাহেব তৈরী করে নিবেন। এরা হবে তাঁর দাওয়াতী কাফেলার সদস্য। তাদের মাধ্যমে মসজিদ মহল্লার বালেগ পুরুষদের তালিকা তৈরী করবেন। তাদের ত্ববকা (শ্রেণী) বিন্যাস করবেন। নামাযী বে-নামাযী আলাদা করবেন। অতঃপর ত্ববকা (শ্রেণী) অনুযায়ী তাদেরকে রাসূলের উম্মতের প্রতি যে দরদ ও ব্যথা ছিল সেই দরদ ও ব্যথা নিয়ে ইলমে ওহীর হিকমাতের সহিত নামাযের দাওয়াত দিবেন। এক লোকের কাছে বার বার যাবেন। মনে দৃঢ় সংকল্প থাকবে যে, আমাকে পিছ পা হওয়া চলবে না, যত দিন না মহল্লার সকল বালেগ পুরুষ জামাতে শরীক হয়। আর এই কাজ করতে গিয়ে রাসূল যেমন কাফেরদের অবজ্ঞা, কটুকথা, নির্যাতন সহ্য করছেন দরকার হলে আমিও সবকিছু মেনে নিয়ে সেই সুন্নাত জিন্দা করব। সে যদি (নামায না পড়ার মত) একটি বদ আমলের উপর মজবুত থাকতে পারে তাহলে আমি কেন নায়েবে নবী হয়ে একটি ভাল কাজের (নামায পড়ার দাওয়াত) উপর মজবুত থাকতে পারব না?! অপরদিকে সে নামায পড়–ক চাই না পড়–ক আমি যতবার তার কাছে নামাযের দাওয়াত নিয়ে যাব, আমার নেকীর পাল্লা তত ভারী হতে থাকবে। আর যদি নামায পড়ে তাহলে তো তার সারা জীবনের নামাযের সাওয়াব আমার আমল নামায় জমা হতে থাকবে। এছাড়া এ মিশনের সফলতার জন্য আরো কিছু কাজ করতে হবে। মহল্লায় কেউ অসুস্থ হলে তার বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া। সান্ত¦Íনা দেওয়া ও বিপদে সবরের ফযিলত বলে তার দ্বারা দোয়া করানো। তার জন্য মসজিদে দোয়া করা। মহল্লার কেউ ইন্তেকাল করলে পরিবারের লোকদের সান্ত¦Íনা দেওয়া। সুন্নাত তরিকায় কাফন দাফনের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখা। এভাবে অবস্থা ও অবস্থান বুঝে সমাজসেবামূলক কাজে ভূমিকা রেখে নিজেকে এলাকার প্রত্যেকটা লোকের হিতাকাঙ্খী ও আপনজনরূপে পেশ করা। তাদের দিলে জায়গা করে নেওয়া। অতঃপর তাদের দিলের উপর রাজত্ব করা।
দ্বিতীয় জিম্মাদারী তা’লীম :
হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে শিক্ষক হিসাবে পাঠানে হয়েছে। তাই তাঁর নায়েবগণও উম্মতের শিক্ষক। মসজিদে নববী যেমন শুধু মসজিদ ছিল না আর রাসূল যেমন শুধু ইমাম ছিলেন না বরং মসজিদে নববীতে দ্বীনের তা’লিম চলত; তেমনিভাবে প্রত্যেক মহল্লার প্রত্যেকটি মসজিদ হবে মসজিদে নববীর নমুনা শাখা। ইমামগণ হবেন রাসূলের নায়েব শিক্ষক। রাসূল সাহাবাগণের দ্বীনি তা’লীম দিতেন। ইমামগণও মহল্লাবাসীদের দ্বীনের তা’লীম দিবেন। ছোট্ট বাচ্চাদের জন্য সহাবী মক্তবের ব্যবস্থা করবেন। এখানে মহল্লার সকল বাচ্চা যেন আসে সে ব্যাপারে জুম’আর নামাযে বাচ্চাদের দ্বীন ও কুরআন শিখানোর গুরুত্ব বুঝিয়ে অভিভাকদের তারগীব দিবেন। বাচ্চাদের কুরআন শিখানোর সাথে সাথে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান সম্পর্কে অবহিত করবেন। নামাযের আমলী মশক করাবেন। সালাম, মুসাফাহা, খাওয়া, পান করা, জানাযা, কাফন-দাফন ইত্যাদির সুন্নাত ত্বরীকা প্রভৃতি শিখাবেন। মোটকথা প্রত্যেক বাচ্চার মনে দ্বীনের একটি ভিত্তি স্থাপন করবেন। তাহলে এই বাচ্চাগুলো পরবর্তীতে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি জীবনে নাস্তিক হবে না। দ্বীনের বিরুদ্ধে কথা বলবে না।
এলাকার যুবক ও বয়স্ক শ্রেণীর জন্যও তাদের সাথে পরামর্শক্রমে মুনাসেব সময় নির্ধরণ করে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা। মাগরিব ও ঈশার পর মুসল্লিগণের কর্মব্যস্ততা একটু কম থাকে। এসময় প্রতিদিন এক ঘন্টা করে চল্লিশ মিনিট কুরআন শিক্ষা আর বাকি বিশ মিনিট আকাইদ, ইবাদাত, মু’আমালাত, মু’আশারাত, আখলাক ইত্যাদি নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা। এছাড়া সালাম, মুসাফাহা, নামায, জানাযা, কাফন-দাফনের আমলী মশক করানো। যাতে করে তাদের দৈনন্দিন জীবন চলার পথে যে মাসলা-মাসায়েলের প্রয়োজন পড়ে সেগুলো তারা এখান থেকে শিখতে পারেন। সমাজে চলমান অসঙ্গতিগুলো যেমন : মাদক, ইভটিজিং ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে মহল্লা থেকে সেগুলে দূরীভূতকরনের ব্যবস্থা তারগীব দিয়ে তাদের দ্বারাই করানো।
মহিলা অঙ্গনেও পুরুষদের শিক্ষার কারিকুলাম অনুযায়ী মহল্লায় একটি তা’লীমের কেন্দ্র করা। সেখানেও কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি মহিলাদের মাসাইল সম্বলিত কোন কিতাব যেমন : বেহেস্তি জেওর, আহকামুন নেসা ইত্যাদির তা’লিম করা। সেক্ষেত্রে এমন একটি বাড়ি নির্বাচন করা যেখানে সকল মহিলাদের যাতায়াত সুবিধা হয় ও পর্দার সুরক্ষা হয়। মহিলারা পুরুষদের তুলনায় ধর্মে-কর্মে সাধারণত একটু বেশি অনুরাগী হয়ে থাকেন। এমনকি অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তারা টাকা পয়সা দিয়ে হলেও এমন তা’লীম চালু থাকুক তার জন্য চেষ্টা বহাল রাখে। মহিলাদের তা’লীম তুলনামূলক বেশি ফলপ্রসূ হয়। তাদের দ্বারা পরিবার ও সমাজের পরিবর্তনও সহজ হয়। এক ঘরে যদি একজন মহিলা দ্বীনদার হয়ে যায় তাহলে তার স্বদেচ্ছা থাকলে অল্পদিনের মধ্যেই তার স্বামীকে দ্বীনদার বানাতে পারেন। আমার আপনার দাওয়াতের তুলনায় তার দাওয়াত তার স্বামী বেশি কবুল করবে। সে ঘরে যত সন্তানের জন্ম হবে তারা দ্বীনদার হবে। পরিবারে বইবে শান্তির বাতাস। ঐ ঘরের সন্তান খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, মাদক, ইত্যাদি অন্যায় অপরাধে জড়াবে না। এজন্যই এক নেপালিয়ান বলেছিলেন, “আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব”। এ ব্যাপারে আমি বলব, আমাকে একটি আদর্শ মা দাও তাহলে আমি তোমাদের একটি আদর্শ জাতি উপহার দিব।
এছাড়া জুমআ’র বয়ানগুলো বিষয় ভিত্তিক ও মুতালায়া সমৃদ্ধ ধারাবাহিক আলোচনা হওয়া চাই।
যেমন : প্রথম আকাইদ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকল। এরপর পর্যায়ক্রমে ইবাদাত, মু’আমালাত, মু’আশারাত প্রভৃতির আলোচনা করা। যাতে মহল্লাবাসী কিছু শিখতে পারে। গতানুগতিক ধারায় মজার কিচ্ছা কাহিনী দ্বারা মন জয় করা যায় কিন্তু সমাজ বা মানুষের কোন উপকার হয় না। তাই চাই গঠনমূলক আলোচনা। আর গঠনমূলক আলোচনার জন্য চাই অধিক মুতালাআ। আমাদের মুরব্বিগণের অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, কোন ইমাম সাহেব যদি কোন মহল্লায় এভাবে এলাকাবাসীদেরকে দ্বীন শিখানোর জন্য মেহনত করেন তাহলে তার দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগত সমৃদ্ধ হবে। অভাব তাকে কোনদিন স্পর্শ করতে পারবে না।
তৃতীয় জিম্মাদারী তাযকিয়া :
তাযকিয়া অর্থ আত্মশুদ্ধি। তাযকিয়া বলা হয় অন্তর হতে আল্লাহর অপছন্দনীয় খাসলাতগুলো সংশোধন করে খোদার পছন্দনীয় গুণাবলী দ্বারা আত্মার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। ইমাম গাযযালী রহ. তাবলীগে দ্বীনের মধ্যে অত্মার প্রধান দশটি অপছন্দনীয় খাসলাত বা রোগের কথা উল্লেখ করেছেন যথা : লোভ, অধিক কথা বলার আগ্রহ, রাগ, হিংসা, কৃপণতা, যশ ও খ্যািতর লোভ, দুনিয়ার মুহাব্বত, অংহকার, খোদ পছন্দী ও রিয়া। অন্তুরের এই রোগগুলোর চিকিৎসা করানো ফরজ। কোন হক্কানী শায়েখ থেকে যিনি কোন বযুর্গের দ্বারা নিজের আত্মশুদ্ধি করিয়েছন তার সোহবাতে থেকে বা নিয়মিত চিঠি আদান-প্রদান করে এই রোগগুলোর চিকিৎসা করানো। আর এর বিপরীত ভাল গুণগুলো যেমন : দানশীলতা, ছবর, বিনয়, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), শোকর, ইখলাছ, সল্পেতুষ্টি ইত্যাদি দ্বারা অন্তরকে সজ্জিত করা। কারণ, এই রোগগুলো এত মারাত্মক যে এর একটিই মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। হাদীসের মধ্যে আসছে- তিন ব্যক্তি দ্বারা জাহান্নাম উদ্বোধন করা হবে। তারা হল- আলেম, দাতা, মুজাহিদ। তাদের আগে জাহান্নামে এজন্য ফেলানো হবে যে, তারা এই মহান কাজগুলো আল্লাহর জন্য করে নাই। লোক দেখানোর জন্য করেছে। যাকে রিয়া বলা হয়। এজন্য আল্লাহ তা’আলা এর প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে, অবশ্যই যে আত্মশুদ্ধি করল সে সফল হল। অতএব বুঝা যায় দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা লাভ করতে হলে তাকে তাযকিয়া করতে হবে।
একজন নায়েবে নবী (ইমাম সহেব) মহল্লাবাসীর জন্য জান্নাতের রাহবার হবেন। যাতে মহল্লাবাসী জান্নাতে যেতে পারেন। তার সর্বাত্মক মেহনত হবে এই মাক্বছাদ সামনে রেখে। শুধু নামায পড়ানোই তার কাজ নয়। তবে হ্যাঁ, শুধু নামায পড়ালে তার বেতন-ভাতা হালাল হলো কিন্তু নায়েবে নবী হিসাবে উম্মতের প্রতি তার যে দায়িত্ব ও কর্তব্য তা পালন হলো না। তাই ইমাম সাহেব যদি নিজে কোন বুযুর্গের ইযাযতপ্রাপ্ত হন তাহলে নিজে মহল্লাবাসীর ইসলাহে নফসের ফিকির করবেন। জুম’আর বয়ান বা নিজের তারতীব অনুযায়ী এই রোগগুলোর চিকিৎসা বাতলে দিবেন। আর যদি তিনি কারো ইযাযাত প্রাপ্ত না হন তাহলে কোন হক্কানী বুযুর্গের নিকট নিজেকে সপে দিবেন। নিজের ইসলাহ করাবেন। মহল্লাবাসীদেরকেও তার প্রতি পথ দেখাবেন।
আমরা প্রত্যেক মহল্লার ইমাম সাহেবগণ যদি এই তিন নবুওয়াতী দায়িত্ব পালন করা আমাদের মাকসাদে জিন্দেগী বানিয়ে নিই তাহলে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জিন্দেগীর মধ্যে বরকত দান করবেন। সমাজ পরিবর্তন হবে। আর প্রত্যেকটি সমাজ পরিবর্তন হলে গোটা দেশ পরিবর্তন হবে।

লেখক : মুদাররিস, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর, মাদারীপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight