সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের ভূমিকা : মাহবুবুর রহমান নোমানি

quran

সন্ত্রাস বর্তমান বিশ্বের একটি বার্ণিং ইস্যু। সব চেয়ে আলোচিত বিষয় ও আতংকের নাম। এটি সমাজের দুষ্টক্ষত, মরণব্যাধি বিষফোঁড়া; যার অপারেশন ব্যতিরেকে সমাজের শান্তি, স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। ব্যক্তি সন্ত্রাস, সামাজিক সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, তথ্য সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, সাংস্কৃতিক সন্ত্রাস ইত্যাদি হরেক রকম সন্ত্রাসে ছেঁয়ে গেছে আজকের পৃথিবী। সন্ত্রাসের ভয়াবহ অভিশাপে দেশ-জাতি আজ ভীত, সন্ত্রস্ত, বিপর্যস্ত। এর বিষাক্ত মরণ ছোবল থেকে বাঁচতে হলে পবিত্র ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সবাইকে আশ্রয় নিতে হবে। কেননা ইসলাম চির সুন্দর ও শান্তির ধর্ম। ইসলামপূর্ব আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। মানবতা ছিল ভূলন্ঠিত। নারীজাতি ছিল অধিকার বঞ্চিত। এতিম, বিধবা, অসহায় মানুষ ছিল অবলিত। সর্বত্র জোর-জুলুম, সন্ত্রাস, ব্যভিচার, হত্যা, লুণ্ঠন, হানাহানি, রাহাজানি ও ত্রাসের রাজত্ব ছিল। জাহেলিয়াতে তমাচ্ছন্ন সেই সমাজে চির শান্তি ও মুক্তির সমুজ্জল মশাল হাতে আবির্ভূত হলেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর অমিয় আলোকময় শিক্ষার স্পর্শে আরব্য সমাজ থেকে দূরীভূত হয়েছিল সকল প্রকার অন্যয়, অনাচার, জুলুমবাদ ও সন্ত্রাসবাদ। তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন কল্যাণকর ও শান্তিময় এক আদর্শ সমাজ। মানুষের জানমাল লুণ্ঠন করা ছিল যাদের পেশা, তাঁর অনুপম শিক্ষা পেয়ে তারাই হয়ে গেলেন জানমালের নিরাপত্তাদাতা। রাহজান থেকে রাহবার হয়েছিলেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এসে। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে পাশ্চাত্যের মনোভাব কোনো কালেই ইতিবাচক ছিল না। শান্তি, সাম্য, সৌভ্রাতৃত্ব ও মানবতাবাদের ধর্ম ইসলামকে তারা নানা কৌশলে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে পরিচিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন শক্তিশালী মিডিয়া, স্যাটেলাইটের বদৌলতে ইসলামকে এমন এক বিকৃতরুপে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন শান্তি, সুন্দরের ধর্ম ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম। ইসলাম ও সন্ত্রাস যেন সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। এখন পাশ্চাত্যের অনেকের কাছে ইসলাম এক আতংকের নাম। অথচ ইসলামের আগমন ঘটেছে মানবতার কল্যাণে; সর্বপ্রকার সন্ত্রাসের মূলোৎপাটন এবং শান্তিময় বিশ্ব উপহার দেয়ার জন্য। পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছেÑ ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি। মানবতার কল্যাণে তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা মানুষকে ভালকাজের আদেশ করবে এবং মন্দকাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহতে পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করবে। [সূরা আলে ইমরান:১১০]  কুরআনের আলোকে সন্ত্রাস নির্মূল সন্ত্রাস বিস্তৃত আজকের পৃথিবীতে সন্ত্রাস দমনের জন্য কত প্রচেষ্টাই না চলছে। পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্য পর্যন্ত সন্ত্রাসের মোকাবেলায় কী করা যায়, তা নিয়ে  চলছে বিস্তর চিন্তা-গবেষণা। সমরবিদ্যা, সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ, পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা সবকিছুই যেন আজ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় অসহায়। বস্তুত মানুষের চিন্তা ও কল্পনাপ্রসূত থিউরী প্রকৃত সমাধান দিতে পারে না। মানুষের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার চূড়ান্ত গ্যারান্টি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। কুরআনে ফাসাদ ও ফেতনা শব্দদুটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, বিপর্যয়, অনর্থ ইত্যাদি অর্থে ফাসাদ শব্দের ব্যবহার। আর মানুষের জানমাল, ইজ্জত, আব্র“, কায়-কায়বার ইত্যাদি যার কারণে হুমকি ও বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয় তা হলো ফেতনা। বর্তমান সময়ের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বলতে যা বোঝায় তার সবই কুরআনে বিধৃত হয়েছে ‘ফেতনা ও ফাসাদ’ হিসেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সমাজে ফেৎনা সৃষ্টি করা হত্যাকাণ্ডের চেয়েও মারাত্মক।’ [সূরা বাকারা:১৯১] সূরা আরাফে বলা হয়েছেÑ ‘পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।’ [আয়াত:৫৬] সূরা আন্ নামলে বলা হয়েছেÑ‘আর সেই শহরে ছিল এমন নয়জন ব্যক্তি যারা দেশময় ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াত এবং সংশোধন করতো না।’ [আয়াত:৪৮] আদ, সামুদ ও অতীতের বিভিন্ন অবাধ্য জাতিকে ফাসাদ সৃষ্টিকারী আখ্যায়িত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের অন্য জায়গায় ইরশাদ হয়েছেÑ‘যারা দেশে সীমালংঘন করেছিল এবং সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।’ [সূরা ফজর:১১,১২] দাম্বিক, অহংকারী ফেরাউন স্বৈরাচারী শাসন চালাত, দুর্বলদের অন্যায়ভাবে হত্যা করতো এবং তাদের সম্পদ লুটে নিত। তাই কুরআনে তাকেও ফাসাদ সৃৃষ্টিকারী আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছেÑ‘নিশ্চয় ফেরাউন দেশে উদ্ধ্যত হয়েছিল। সে দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে তাদের একটি দলকে দুর্বল করে রেখেছিল। সে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করতো এবং নারীদেরকে জীবিত রাখত। নিশ্চয় সে ছিল ফাসাদ সৃষ্টিকারী।’ [সূরা কাসাস:৪]
সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়াতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে, তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হয় হত্যা করা হবে নতুবা ক্রশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটা হলো তাদের প্রার্থিব লাঞ্ছনা। আর পরকালে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি অবধারিত রয়েছে। [সূরা মায়েদা:৩৩]
অন্যত্র বলা হয়েছেÑ
‘যে ব্যক্তি মানুষ হত্যার অপরাধ কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্ম পরিচালনা ব্যতীত কাউকে হত্যা করলো, সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করলো। [সূরা মায়েদা:৩২]
আল কুরআনের এ বিধান কার্যকর হলে সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব হবে। অসংখ্য আয়াতে সন্ত্রাস ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অসন্তোষ ও ঘৃণা জানানো হয়েছে। ইরশাদ হয়েছেÑ পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। [সূরা কাসাস:৭৭] কুরআনের এসব আয়াতের অনুকরণ করা হলে সন্ত্রাসের প্রতি মানবমনে ঘৃণা ও শংকা তৈরি হবে। এবং সমাজ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বিদূরিত হবে।
সন্ত্রাস নির্মূলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ
আল্লাহ পাকের অপরুপ সৌন্দর্যে সাজানো এ শান্ত,স্নিগ্ধ পৃথিবীতে মানুষ যেন সুখে, শান্তিতে বাস করতে পারে, গুটি কয়েক দুর্বৃত্ত দুরাচারের কারণে সমাজের শান্তিপ্রিয় মানুষের জীবন যেন দুর্বিসহ হয়ে না ওঠে, সে জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সদা তৎপর। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই তিনি সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামক এক শান্তিসংঘ গঠনসহ বহুবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। নবুওয়াত লাভের পর সরাসরি আল্লাহ পাকের নির্দেশ পেয়ে সকল প্রকার অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দীপ্তকন্ঠে জিহাদ ঘোষণা করেন। ইস্পাত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চোর, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের হস্ত, পদ কেটে দেয়া হবে। নারীর সম্ভ্রম হরণকারীকে প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঘোষণা করেন, ‘কোনো অন্যায় কাজ দেখলে তোমরা শক্তি দ্বারা তা প্রতিহত করো। শক্তি না থাকলে মুখ দ্বারা প্রতিহত করো। তাও সম্ভব না হলে অন্তত অন্তরে ঘৃণা করো।  [মুসলিম শরিফ]
তিনি আরো ঘোষণা করেছেনÑ   ‘যে ব্যক্তি আমাদের কারো ওপর অস্ত্র প্রয়োগ করলো সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। [মিশকাত শরিফ] রক্তপাতের প্রতি মানবমনে ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ইরশাদ করেছেনÑ ‘কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম মানুষের মধ্যে রক্তের বিচার করা হবে। [নাসাঈ শরিফ]
মুসলমানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে- ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ [বুখারি শরিফ] অসংখ্য হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানের জানমাল, ইজ্জত, আব্র“র স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঘোষণা করেছেন।
আরাফার ময়দানে জীবনের শেষ ভাষণে তিনি লক্ষাধিক সাহাবাকে সম্বোধন করে বলেছেন- ‘হে লোকসকল! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হলোÑ যেমন আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহরে রক্তপাত করা হারাম।’ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐতিহাসিক ভাষণের এ অলংঘনীয় ঘোষণাটি পৃথিবীতে এনে দিতে পারে শান্তি ও স্বস্তির গ্যারান্টি। প্রতিটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনে দিতে পারে নিরাপত্তা। শুধু ভাষণ বা কথায় নয়, বরং বাস্তব জীবনেও তিনি সন্ত্রাসীদের এমন কঠোর শাস্তি প্রদান করেছেন, যা দেখে কোনো মানুষের পক্ষে সন্ত্রাসবাদের দিকে পা বাড়ানো সম্ভবপর ছিল না। দৃষ্টান্ত স্বরূপ এখানে একটি ঘটনার অবতারণা করা যেতে পারে। সহীহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছেÑ একবার বাহরাইন থেকে উকুল ও উরায়না গোত্রের আটজন লোক মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর কাছে ইসলাম গ্রহণ করে। কিছুদিন মদীনায় থাকার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পেট ফুলে যায় এবং শরীর হলুদ বর্ণ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতে পেরে তাদেরকে মদীনার বাইরে উটের চারণভূমিতে চলে যেতে বললেন। তারা সেখানে গিয়ে উটের পেশাব ও দুধ পান করে অল্পদিনেই সুস্থ হয়ে উঠলো। কিন্তু তারা রাতের আঁধারে উটের রাখাল ইয়াসারকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি বিশজন অশ্বারোহী যুবক তাদের সন্ধানে পাঠান। দুপুরের মধ্যে তাঁরা সেই সন্ত্রাসীদেরকে ধরে মদীনায় নিয়ে এলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে তাদের হাত, পা কেটে দেয়া হয়। চোখ উপড়ে ফেলা হলো এবং ওই অবস্থায় তাদেরকে মরুভূমির তপ্তরোদে ফেলে রাখা হয়। তারা পানি চেয়েছিল কিন্তু তাদেরকে পানিও দেয়া হয়নি। এভাবে তারা মৃত্যুবরণ করে।
এ কথা ধ্র“ব সত্য যে, সন্ত্রাসের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর সতর্কবাণী ও তার যথার্থ শাস্তি প্রয়োগের ফলে তৎকালীন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পাপদাহে আচ্ছন্ন আরব সমাজ থেকে বিদায় নিয়েছিল সকল অন্যায়, অনাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ঐতিহাসিক গীবনের মতে জাহেলিয়্যাতের সময়ে ১৭০০ যুদ্ধ-বিগ্রহ সংগঠিত হয়েছিল। মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাণিত বিপ্লব সকল সন্ত্রাস ও সংঘাতের মূলোৎপাটন করে।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া উসমানিয়া দারুল উলুম সাতাইশ, টঙ্গী।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের ভূমিকা : মাহবুবুর রহমান নোমানি

  1. Faruk says:

    very fine Article, Alla Give him zaja khiran In the Earth and After Earth.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight