সততার পুরস্কার… মুহাম্মাদ আতাউর রহমান (মারুফ)

বহুদিন আগের কথা,এক গ্রামে বাস করত নূরুল্লাহ্ নামের একজন দরিদ্র কৃষক।
নিজের আবাদের ছোট্ট তেটির দেখাশোনা আর অন্যদের বাড়িতে মাটি কেটেই তার সংসার চলে। তবে সম্পদের দিক দিয়ে সে দরিদ্র হলেও ঈমানের দিক দিয়ে কিন্তু দরিদ্র নয়! পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ সময়মত আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদও সাধারণত বাদ দেয় না সে। শরিয়তের অন্য সকল আদেশনিষেধও যথাযথভাবে পালন করে। তাই এই অভাবের সংসারেও সে দারুণ সুখী। যা পায় তাই খেয়েই তার সুন্দর দিন চলে। একদিনের ঘটনা, টানা কয়েকদিন কাজ না পাওয়ায় নূরুল্লাহর বাড়িতে খাওয়ার কিছু নাই, টাকাও নাই। এদিকে থাকার ঘরটারও বেহালদশা। মেরামত না করলে এর মাঝে আর থাকাই হয়তো সম্ভব হবে না! তাই সব মিলিয়ে এখন তার কমপে পাঁচটা হাজার টাকা হলে মোটামুটি চলে। শেষরাতে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর নিকট এ জন্য খুব কান্নাকাটি করল।
মোনাজাতে আল্লাহকে বলল হে আমার প্রভু, আপনি তো রাহমানুর রহীম, আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দিন। যা দিবেন আমার রান্নাঘরের চুলার উপর। মোনাজাত শেষ করে ফজরের নামাজ আদায় করল। অতঃপর সকাল সকাল আল্লাহর নাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল কাজের উদ্দেশে। আল্লাহর রহমতে আজ সে এক লোকের েেত মাটিকাটার কাজ পেয়ে গেল। সবার সাথে মাটি কাঁটছে সে। হঠাৎ তার কোদাল নিচে কিছুর সাথে লেগে জোরে আওয়াজ হল। আস্তে আস্তে মাটি সরিয়ে দেখল বড় একটি পিতলের কলস। বের করে মুখ খুলে দেখল ভিতরে টাকায় ভরপুর! ইহা দেখে সে প্রথমত খুশি হলেও পরে ভাবল আমি তো আল্লাহর নিকট আমার টাকা বাড়ির রান্নাঘরের চুলার উপর চেয়েছি। এই টাকা আমার নয়। আল্লাহ দিলে আমাকে সেখানেই দেবেন। যেখানের কলস সেখানেই রেখে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসল। রাতে শুয়ে স্ত্রী জমিলা বেগমের নিকট দিনের ঘটনাটি বলল। স্ত্রী শুনে তো েেপ ভূত! মানুষ এতো মগা হয়! এমনিতেই আমরা অভাবে আছি। এই মুহূর্তে কী কেউ এমন জিনিস পেয়েও হাতছাড়া করে.? নূরুল্লাহ অনেক বোঝানোর চেষ্টা করল যে, আমি যেখানে চেয়েছি আল্লাহ যদি দেন তো সেখানেই দিবেন। কিন্তু স্ত্রীর রাগ থামছেই না।
গভীর রাত, নূরুল্লাহ ঘুমিয়ে আছে। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে পাশের বাড়ির ছমির মিয়ার বৌয়ের নিকট চলে এল জমিলা বেগম। ডেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলল, ভাবি আপনাদের নূরুল্লাহ ভাই কতবড় বেআক্কেল দেখেন! মাটি কাটতে গিয়ে আজ সে অমুকের েেত একটি টাকাভর্তি কলস পেয়েও রেখে এসেছে! যান ভাবী আপনি কলসটি উঠিয়ে নিয়ে আসুন। আমি আর আপনি ভাগাভাগি করে নিয়ে নেব নে। পাশের বাড়ির মহিলাটি লোভ সামলাতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গেই চলে গেলো সেই েেত।
জায়গামত মাটি খুঁড়ে পেয়ে গেল কাক্সিক্ষত কলস! আস্তে আস্তে কলসের মুখটি খুলল। সঙ্গে সঙ্গে কলসের ভিতরে বসে থাকা বড় বিষধর সাপ তার দিকে ফনা তুলে এগিয়ে আসতে লাগল। তাড়াতাড়ি কলসের মুখটি বন্ধ করে কোনরকমে হাফ ছেড়ে বাঁচল। জমিলা বেগমের উপর তার ভীষণ রাগ হল। আমাকে মারার চাল, দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি! তোর ফাঁদে তোকেই আটকাবো। সে কলসটি উঠিয়ে নিয়ে এসে জমিলার রান্না করার চুলার উপর রেখে এল। আর বিড়বিড়িয়ে বলতে লাগল, সকালে রান্না করতে এলেই মজাটা বুঝবি!
শেষরাতে নূরুল্লাহ্ তাহাজ্জুদের জন্য ওজু করতে বের হল। বাড়ির উঠানে এসেই চোখ পড়ল তার রান্নাঘরের দিকে। কী যেন চকচক করছে। এগিয়ে গিয়ে দেখে সেই কলসটি! মুখ খুলে দেখে টাকাগুলো আগের মতই রয়ে গেছে। এটা এখানে কীভাবে আসল! সে ভেবেই পাচ্ছে না। হঠাৎ পাশ থেকে কে যেন মৃদু আওয়াজে বলে উঠল আল্লাহ তোমার তাওয়াক্কুল এবং সততার পুরস্কার প্রদান করেছেন। সে আল্লাহর শোকর আদায় করল।

শিক্ষা : আল্লাহ তাঁর উপর ভরসাকারী এবং সততার পরিচয় দানকারী ব্যক্তিদের এভাবেই পুরস্কৃৃত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight