শয়তানের ডায়েরি

পূর্ব প্রকাশিতের পর….

মৌলভী সাহেবের ওয়াজ শুনিয়া সকলে শান্ত হইল। কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেশের পরিস্থিতি পরির্বতন হইল।
হুজুর: এরুপ একজন মৌলভী সাহেবের অপরাধ খুজিয়া কি লাভ। তোর নিজের জীবনে অপরাধের সীমা নাই। তার উপর পরের অপরাধ নিয়া সমালোচানা করিতে লজ্জা করে না।
শয়তান: পূর্বযুগে খুবই লাজুক ছিলাম। অন্যায় অপরাধ করিতে যথেষ্ট ইতস্তত করিতাম। কিন্তু বনি আদমের তাড়নায় শেষ পর্যন্ত লজ্জা শরম কিছুই রাখিতে পারিনাই। এখন যে কাজ যখন সম্মুখে বাধে বিসমিল্লাহ বলিয়া আরম্ভ করিয়া দেই।
কয়েকশত বৎসর পূর্বের কথা একদা রাস্তা দিয়া যাইতেছিলাম এমন সময় বন্ধু ফেরাউন আমাকে ডাক দিল। কাছে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলমা কি ভাই কেমন আছেন? ফেরাউন বলিল, আছি এক রকম মন্দ না। কিন্তু এদিকে কা- একটা ঘটাইয়া বসিয়াছি। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম ব্যপার কি ভাই? ফেরাউন বলিল, কাজ একটা বড় রকমের কা- ঘটাইয়াছি। আজ কয়েকদিন হইল রাজ্যময় ঘোষণা করিয়া দিয়ছি যে আমি সকল মানুষের খোদা। আমি মানুষ মারিতেও পারি, দুঃখে রাখিতে পারি। কাহাকে উন্নত করিতে পারি আবার কাহাকেও অবনত করিতে পারি। অতএব আমিই মানব দানবের খোদা। কথাটি ঘোষণা করার পর দেখিলাম দেশের প্রায় পনের আনি লোকে আমাকে সমর্থন পূর্বক আমার বশ্যতা স্বীকার করিয়াছে কিন্তু হঠাৎ মাঝখান দিয়া একদল মোল্লা জুটিয়া আমার সমস্ত আশা ভরশা প- করিয়াদিতেছে। ইহারা নানা রকম যুক্তি প্রমান ও ওয়াজ নসিহত দ্বারা আমার অধিকাংশ ভক্তদিগকে গোমারাহ করিয়া ফেলিতেছে। এই ভাবে যদি আরও কয়েকদিন চলিতে  থাকে তাহা হইলে এদেশ হইতে বিদায় গ্রহণ করা ব্যতীত আর উপায় থাকিবে না। অতএব এই মূহুর্তে কি করিতে পারি পরামর্শ দাও। একমাত্র এই পরামর্শের জন্যই তোমার কথা স্বরণ করিতে ছিলাম। হুজুর ফেরাউনের এমন মন্তব্য শুনিয়া আক্কেল গুড়ুম হইয়া গেল। ভাবিলাম যে, আমি হলাম পাতালের বড় অভিশপ্ত ও পাপী, তবুও এতবড় কার্যে হাত দেওয়ার কল্পনাও জীবনে করিতে পারি নাই। আর সেই কার্যে হাত দিল আল্লাহর সখের সৃষ্টি বনি আদম। মনে মনে চিন্তা করিলাম আল্লাহ তাআলা নিজে বড়াই করিয়া বনি আদম সৃষ্টি করিয়া উপযুক্ত শিক্ষা পাইয়াছেন।
ইহার পরে এই বিষয়ে ফেরাউনকে একটি সুষ্ঠু পরামর্শ দানের ইচ্ছা করিলাম। হঠাৎ মনে একটু ভয় হইল কি জানি এতবড় একটা খোদা বিরোধি কার্যে যদি পরামর্শ দেই তাহা ইইলে হয়ত আল্লাহর গযব হইতে আমিও রেহাই পাবনা। তাই অনেক্ষণ পর্যন্ত নিম্নমুখি হইয়া বসিয়া রহিলাম। পরক্ষণে দেলে খেয়াল হইল যে আল্লাহর আদেশ ব্যতীত গাছের একটি পাতাও নড়িতে পারেনা, তাই ফেরাউন যে দাবী করিতেছে ইহার পিছনে নিশ্চই আল্লাহর সমর্থন আছে না হইলে এতক্ষণে ফেরাউন আল্লাহর কোপানলে পতিত হইয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হইত। অতএব ভাবিলাম আল্লাহ যাকে সমর্থন করিতেছেন ও আহার পানি দিয়া প্রতিপালন করিতেছেন আমি তাহার সমান্য সাহায্য করিলে আর কি ক্ষতি হইবে?
এই চিন্তা করিয়া ফেরাউন কে বলিলাম, ভাই ঘোষণা যখন একটি দিয়াই ফেলিয়াছ, এখন উহা বলবৎ রাখার জন্য সব সকম চেষ্টাও করিতে হইবে। এ ব্যাপারে আমিও তোমাকে প্রাণপণ সাহায্য করিব বলিয়া অঙ্গিকার করিতেছি। বকি আল্লাহর ইচ্ছা। ইহার পরে বলিলাম, ভাই ফেরাউন, তোমার খোদায়ী দাবীর ব্যাপারে যাহারা অস্ত্র শস্ত্র নিয়া তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করিতে অগ্রসর হইতেছে তাহাদের সম্বন্ধে বিশেষ ভাবনার কিছুই নাই। তবে যাহারা যুক্তি প্রমাণ দ্বারা যুদ্ধ করিতে অগ্রসর হইতেছে তাহাদিগকে নিয়াই বিশেষ চিন্তা করা উচিত। অতএব প্রথম, তুমি দেমের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলি বন্ধ করিয়া দিতে চেষ্টা কর। তাহা তইলে আপছে আপ সকল কিছু ঠিক হইয়া যাইবে। ফেরাউন বলিল উহা কিরুপে বন্ধ সম্ভব? একদিনে যদি বন্ধ করিয়া দেই তাহা হইলে দেশ আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হইয়া উঠিবে। আর যদি ধীরে ধীরে বন্ধ করিতে চেষ্টা করি তাহা হইলে ততদিন আমি টিকিয়া থাকিতে পারি কিনা সন্দেহ। তাই কি উপায়ে বন্ধ করি। আমি একটুকাল ভাবিয়া বলিলাম, ওসব কিছুই করিতে হইবে না। শুধু একটি কাজ করো। দেশের মাদ্র্রাসা সমূহের যে সমস্ত ছাত্ররা প্রতি বছর পরীক্ষা দেয় তাহাদিগকে বিনা বাধায় পাশ করাইয়া দেয়ার ব্যবস্থা কর তাহা হইলে দুই বছর পরে যে সমস্ত আলেম দেশে বাহির হইবে তাহারাই তোামর প্রধান সহকর্মি হিসাবে খেদমত করিতে আসিবে।
ফেরউন আমার প্রস্তাব শুনিয়া অত্যন্ত আনন্দিত হইল এবং উহা কার্যকরী করার চেষ্টা করিল। আল্লাহর কি হুকুম, দুই বৎসর পার হইতে না হইতেই আমার প্রস্তাবে ফল ধরিল। দেশের একচেটিয়া খোদা হিসেবে  ফেরাউন কে সকলে স্বীকার করল।
পির আলী: ফেরাউনকে সকল মানুষে বিনা দ্বিধায় খোদা বলিয়া মানিল, কথাটি খুব বিশ্বাস যোগ্য বলিয়া মনে হয়না।
শয়তান: হুজুর আপনি অবিশ্বাস করিতে পারেন, কিন্তু ব্যাপার বাস্তবিক ঐরুপ ঘটিয়াছিল, কারণ দেশে যদি শিক্ষা না থাকে তাহা হইলে মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি প্রসারতা লাভ করিতে পারে না ও সত্য মিথ্যার পার্থক্যও করিতে পারেনা। তাই ফেরাউন যখন দেশের শিক্ষা খর্ব করিয়া দিল তখন মানুষ ধীরে ধীরে বিবেক বুদ্ধি হারাইয়া ফেলিল। অন্যদিকে ফেরাউন বিচক্ষণতার সাথে কতিপয় পুরাতন শিক্ষিতকে নানা অপরাধের অজুহাতে বন্দী করিল এবং কতককে হত্যা করিল। ইহা ছাড়া বাকি কতককে সরকারী চাকুরী নকরী দিয়া বশ করিয়া রাখিল, তখন ময়দানে আর প্রতিবাদ করার মত কেন লোক ছিলনা, ফেরাউন মহা আনন্দে খোদায়ী নিশান বুলন্দ করিয়া দিল।
শুনুন তবে সেই মায়দানের বুদ্ধিজীবি লোকদের একটি ঘটনা। একিদন কতিপয় বুদ্ধিমান লোক একত্রে বসিয়া আলোচনা করিতে ছিল যে, ফেরাউন যদি খোদা হয় তবে সে আমাদের পূর্বের খোদার ন্যায় মানুষকে মারিতে পারিবে ও বাঁচাইতে পারিবে। কিন্তু কই সে রকম কোন কাজতো ফেরাউন করিতেছে না। এই কথা নিয়া বহু আলাপ আলোচনার পরে সকলে সিদ্ধান্ত করিল যে, কথাটি স্বয়ং ফেরাউনের নিকটই জিজ্ঞাসা করিবে।  তাই একদিন সকলে সমবেত হইয়া ফেরাউনের দরবারে গিয়া হাজির হইল। তখন ফেরাউন সকলকে লক্ষ্য করিয়া জিজ্ঞাসা করিল। তোমারা কি জন্য আসিয়াছো ? সকলের পক্ষ হইতে একজন বলিল, হুজুর আমাদের মনের কোণে একটি প্রশ্ন উদয় হইয়াছে তাই উহার উত্তর নিতে আপনার দরবারে হাজির হইয়াছির্।

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ শয়তানের ডায়েরি

  1. আব্দুল্লাহ আলমামুন says:

    গল্পটি দারুণ তবে এটা অনেকটা বর্তমান সরকারের সাথে মিলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight