শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা-০০৭]

পূর্ব প্রকাশিতের পর……
দশমা স্ত্রীর বেলায়ও অনুরুপ অবস্থা ঘটিয়াছিল। একদিন মুছল্লীর এক আত্মীয় কিছু মিষ্টি নিয়া মুছল্লীর বাড়িতে বেড়াইতে আসে। মুছল্লীর স্ত্রী ঘরে বসিয়া উহা হইতে কিছু মিষ্টি ভক্ষণ করিল। ইহা দেখিয়া মুছল্লি সাহেব বলেন। যাহারা স্বামীর বিনা এযেনে পরের হাতের মিষ্টি খাইতে পারে তাহারা স্বামীর অগোচরে যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে। এমন বিশ্বাসঘাতক স্ত্রী ঘরে থাকিলে বরকত চলিয়া যায়। অতএব আমি তোমাকে বিশ নম্বর তালাক দিয়া চির বিদায় করিলাম।
একাদশ স্ত্রী একদা মাসিক অপবিত্রতার কারণে নামাজ পড়া ক্ষান্ত করে। তখন মুছল্লী সাহেব তাহাকে বলিলেন। দেখ নামাজ পড়িলে উহা একেবারে বেকার যাইবে না। হয়ত ফরজ হিসাবে কবুল না হউক নফল হিসাবে অবশ্য কবুল হইবে। এই কথা শুনিয়া তাহার স্ত্রী বলিল, আলেমের মুখে শুনিয়াছি ও বাংলা মাছলার পুস্তকেও পড়িয়াছি যে, এই অবস্থায় নামাজ পড়া হারাম। এই কথা শুনিয়া মুছল্লী বলিলেন, যে স্ত্রী স্বামীর হুকুম না মানে, উপরন্ত মুখে মুখে কথা বলে সে বে আদব। বে আদব স্ত্রীর ঘরে যত সন্তান হয় সকলেই বে আদব হইয়া থাকে। বে আদব স্ত্রী ঘরে রাখা আমার অন্যায় হইবে। অতএব তোমার পথ তুমি খুঁজিয়া লও।
মুছল্লী সাহেব খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে খুব হুঁশিয়ার ছিলেন। যদি কোন দিন ঘরে মুরগীর গোস্ত পাক হইত সেদিন মুছল্লী খাইতে বসিয়া যাহা সম্মুখে পাইতেন তাহাতো খাইতেনই পরে আবার বলিতেন কলিজাখানা দাও, রানের গোশত আছে কি? পাজরার কাঠি খাইতে ভালবাসি, গলার হাড় আমার ছোটবেলা হইতে খাওয়ার অভ্যাস, গীলা থাকিলে আন, পাখ ও চামড়াই হইল খাওয়ার জিনিস। ইত্যাদি করিয়া সম্পূর্ণ মুরগী তিনিই উদরস্ত করিতেন।
কোন দিন মাছ পাক হইলে মুড়া তাহাকে পূর্বেই দেওয়া হইত। উহা খাওয়া শেষ করিয়া বলিতেন কোলের মাছ থাকিলে কয়েকখানা দাও, পিঠের মাছে ভিন্ন স্বাদ। খাবার শেষে লেজখানা খাইতে ভাল, ইত্যাদি বলিয়া মাছের দফা তিনিই শেষ করিতেন। ছেলে পুলে ও স্ত্রীর খাওয়ার দিকে তিনি আদৌ ভ্রুক্ষেপ করিতেন না। এই জন্য স্ত্রী পুত্র কন্যা সকলেই মুছল্লীর কার্য্যে মনক্ষুন্ন থাকিত। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে মুছল্লীর জঘণ্য আচরণ সহ্য করিতে না পারিয়া একদিন তাহার দ্বাদশ স্ত্রী তাহার অগোচরে কতখানি পুরাতন  ঘি তাহাকে খাওয়াইল। ইহাতে মুছল্লী পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হইয়া পড়িলেন। এই সময় মুছল্লীর স্ত্রী সুযোগ বুঝিয়া একদিন একটি মুরগী জবেহ করিল। মুছল্লী সাহেব এই খবর পাইয়া ক্রোধান্বিত হইলেন। কিন্তু কি কথা দিয়া স্ত্রীকে ধরিবেন তাহাই ভাবিতেছিলেন। হঠাৎ বুদ্ধি স্থির হইল। বলিলেন, রবিবার দিন ইহুদিদের ধর্ম করার দিন এই দিনে কেন মুছলমান কিছু কোরবানী বা জবেহ করবে.? তাহলে তো সেও ইহুদি হয়ে যায়। অতএব তোমার ন্যায় স্ত্রী নিয়া আমার বসবাস করা সমীচিন নহে। তুমি আজই আমার বাড়ী হইতে বিদায় হও।
ত্রয়োদশ স্ত্রীর তালাকের কথা আগেই বলিয়াছি। রমজান মাসে দিনের বেলায় তার সন্তানকে দুগ্ধ পান করানোর অপরাধে তাহাকে তালাক দেওয়া হয়।
চর্তুদশ স্ত্রী পিতার বাড়ীতে বসিয়া দর্জির দ্বারা একটি জামা সেলাই করাইয়াছিল। ইহা দেখিয়া মুছল্লী সাহেব বলিলেন যাহার বুকের মাপ ভিন্ন পুরুষে জানিতে পারিয়াছে। তাহার বুকে কিয়ামতের দিন দোযখ চাপিয়া ধরা হইবে। এই দোযখীবুক ঘরে থাকিলে সে ঘরে ফেরেশতাও আসে না। অতএব তোমাকে আইন তালাক বাইন তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিলাম।
পঞ্চদশ স্ত্রীকে এই জাতীয় অপরাধে একবার তালাক দিয়া নিজ ভগ্নিপতির দ্বারা হীলা করত পুনঃ গ্রহণ করিয়াছেন। তিনিই বর্তমানে মুছল্লীর ঘর উজ্জল করিয়া আছেন।
পির আলী: আচ্ছা এই বোকা মুছল্লীর জীবিকা নির্বাহের কি সম্বল আছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight