শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

al-jannatbdbackground.jpg

র্পূব প্রকাশতিরে পর..
চতুর্থ স্ত্রীর ব্যাপারে একটা রহস্যজনক ঘটনা ঘটিয়াছিল। একদিন মুছল্লী সাহেব নিজ বাসগৃহখানি মেরামত করার জন্য কয়েকটি মজুর ডাকিয়া আনিল। মজুরেরা মুছল্লী সাহেবের ঘরের কার্যে হাত দেওয়ার পূর্বে মুছল্লী সাহেব তাহার স্ত্রী কে নিয়া বিপদে পড়িলেন। তাহাকে কোথায় পঠাইবে, বাড়ীর অন্যান্য ঘরে পাঠাইলে পর্দা নষ্ট হইতে পারে ভাবিয়া বাহিরে একটি বড় ঝুড়ির মধ্যে স্ত্রীকে বসাইয়া তাহার উপর কয়েকটা পুরাতন কাঁথা দিয়া দিলেন। এবং মজুরদের কে কার্যে নিয়োগ করিলেন। একাধারে কয়েক ঘন্টা কার্য্য করার পর মজুুরেরা পরিশ্রান্ত হইয়া এক জায়গায় কিছু সময় বিশ্রাম করার উদ্দেশ্যে বসিল। মুছল্লি সাহেব এতক্ষণে কার্যস্থলে ছিলেন, এই ফুরছতে তিনিও একটু হাজত পূরণের জন্য বাহিরে গেলেন। ক্ষুধার্ত মজুরেরা বসিয়া বসিয়া নানা কথা আলোচনা করিতেছিল। হঠাৎ একজন বলিল মুছল্লী সাহেব ঝুড়ির মধ্যে এত হেফাজতে কলা রাখিলেন নাকি। এই বলিয়া ঝুড়ির নিকটে গিয়া উহার উপরকার কাঁথা সরাইয়া দেখিল ইহার মধ্যে একটি নারী বসিয়া রহিয়াছে। তখন সে অবাক হইয়া অন্যান্য মজুরদের নিকট গিয়া বলিল। আমাদের মুছল্লী সাহ্ব ঝুড়ির মধ্যে এক আশ্চর্য নিদর্শন রাখিয়াছেন। অন্যান্য লোকেরা  উহার কথা শুনিয়া ঝুড়ির নিকট গিয়া মুখের কাঁথা উল্টাইয়া ফেলিল। এমন সময় মুছল্লী সাহেব বাহির হইতে আসিয়া এই অবস্থা দর্শন করত বলিলেন : নাউযুবিল্লাহ, যে স্ত্রীকে পরপুরুষ দেখিয়াছে সে আমার জন্য হারাম। তাহাকে আমি দশ তালাক দিয়া বিদায় দিলাম।
পঞ্চমা স্ত্রী মুছল্লী সাহেবের ঘরে অনেকদিন পর্যন্ত নিরাপদে ছিল। এই ঘরে দুইটি সন্তানও হইয়াছিল। একদিন মুছল্লি সাহেবের পার্শ¦স্থ ঘরে আগুন ধরিয়া যায়, তখন বহু লোক তথায় জমায়েত হইয়া আগুন নির্বাপিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করিতেছিল। এমন সময় মুছল্লী সাহেবের স্ত্রী পর্দার বেড়ার এক ফাকা দিয়া আগুুনের দৃশ্য দেখার জন্য অগ্রসর হইল। মুসল্লী সাহেব পিছন হইতে স্ত্রীকে ঐ অবস্থায় দেখিয়া বলিলেন। একজন পুরুষে যে নারীর সাধ না মিটে, পুনঃবহু পুরুষ দর্শনের চেষ্টা করে তাহাকে আমার ঘরে রাখিতে পরি না। তোমাকে আমি এক তালাক, দুই তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিলাম।ষষ্ঠ স্ত্রীর তালাকের ব্যাপারটা আরো রহস্য জনক।
পির আলী  : এইভাবে মুছল্লীর পনের স্ত্রীর তালাকের ঘটনা শুনিতে গেলে সমস্ত রাত্রই নষ্ট হইবে।
শয়তান : আচ্ছা হুজুর তবে সংক্ষেপে বলিয়াই শেষ করিতেছি। মুছল্লী সাহেব ষষ্ঠবারে যে নারীটি বিবাহ করিলেন, তাহার বয়স মাত্র ১৪ বছর। পিতা মাতার বাধ্য বাধকায় যুবতী এই মুুছল্লীর ঘরে আসিয়াছে। কিন্তু এই অর্ধবয়সী স্ত্রী মুছল্লীর সঙ্গে কিছুতেই মন মিলাইয়া উঠিতে পারিল না। মুছল্লীর গোড়া মতিগতি পরিবর্তনের জন্য সে বহু চেষ্টা করিয়াছে, কিšু— মুছল্লির আদৌ কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। অবশেষে বাদ্য হইয়া সকল নিপিড়ণ তাহাকে সহ্য করিয়া যাইতে হইল।
এইভাবে অনেকদিন অতিবাহিত হইবার পরে একদিন মুছল্লির এক যুবক ভ্রাতুষ্পুত্র একফাঁকে মুছল্লীর স্ত্রীকে দেখিয়া ফেলিল এবং তাহার রুপে যথেষ্ট আকৃষ্ট হইয়া পড়িল। তখন যুবকটি এই যুবতী নারীকে লাভ করার উপায় অন্বেষণ করিতে লাগিল। একদিন মুছল্লি সাহেবের নিকট আসিয়া বলিল: চাচা মিয়া জীবনে অনেক পাপতাপ করিয়াছি এখন অন্তরে পরিতাপ আসিয়াছে। তাই আপনার সংস্পর্শে থাকিয়া জীবনের ধারা পরিবর্তনের ইচ্ছা করিয়াছি। মুছল্লি সাহেব এই কথা শুনিয়া বলিলেন, বাবা দুনিয়ার সকল কিছু ফানি, কোথাও কোন সাড় পদার্থ নাই। ওসব দেখিয়াই আল্লাহর পথ ধরিয়াছি। যাহা হউক তুমি যে এই পথে আসিবা তাহা কখনও ধারণা করি নাই। আল্লাহ তোমাকে রহম করিয়াছেন। এখন হইতে ঠিক হইয়া চল। তহা হইলে সকল কিছু তোমার তাবে হইয়া যাইবে। যুবকটি মুছল্লির সকল কথা আগ্রহ করিয়া শুনিল এবং তাহার সঙ্গে শরিয়ত পালন আরম্ভ করিল। এইভাবে কিছু দিনের মধ্যে সে মুছল্লী সাহেবের একজন প্রধান সহচর হইয়া উঠিল। মুছল্লি সাহেব তাহাকে খুব বিশ্বাসের চোখে দেখেন। অনেক নিজস্ব কার্য্যরে দায়িত্বভার তাহার হাতে অর্পণ করেন। এমনকি বাহিরে  দূরদেশে কোথাও যাইতে হইলে তাহাকেই ঘরের পাহারাদার রাখিয়া যান। যুবকটি এই শরীয়াত পালনের সুযোগ ধরিয়া ধীরে ধীরে মুছল্লীর স্ত্রীর সঙ্গে এক গভীর ভালবাসা জন্মাইয়া ফেলিল। অবশেষে মুছল্লির স্ত্রী যুবকের হস্তে জীবন সমার্পণের প্রস্তাব করিয়া বসিল। যুবক ভাবিল তাহা কিরুপ সম্ভব হইবে। তবে যদি মুছল্লী সাহেব স্ত্রীকে কোন কারণে পরিত্যাগ করে তাহা হইলে সেই সুযোগ কার্য্য সমাধা করা সম্ভবপর হইবে। তাই যুবক মুছল্লীর স্ত্রীকে বলিল। মুছল্লির যে শরীয়ত উহার ব্যতিক্রম যদি কোন কার্য্য করতে পার তাহা হইলে সে তোমাকে পরিত্যাগ করিবে। তখন সেই সুযোগে আমি তোমাকে গ্রহণ করিব। মুছল্লীর এই পরামর্শ অনুসারে একদিন মুছল্লীর উপস্থিতিতে ইচ্ছাপূর্বক হাওলীর বাহিরে চলিয়া গেল। মুছল্লী সাহেব এই অবস্থা দেখিয়া স্ত্রীকে যথেষ্ট প্রহার করিলেন। অল্প বয়স্কা সুন্দরী সুশ্রী স্ত্রী বলিয়া এবারে আর তিনি তালাকের কথা উচ্চারণ করেন নাই। এইভাবে অন্য একদিন মুছল্লীর সম্মুখে বসিয়া ঘরের সম্মুখ দরজায় গিয়া উচ্চস্বরে একটি মেয়েকে ডাকিল। সে দিনও মুছল্লীর হাতে তাহকে মার খাইতে হইল। এইরুপ দেখিয়া একদিন মুছল্লীর স্ত্রী গভীর রাত্রে বাড়ী হইতে বাহির হইয়া যুবকের সঙ্গে উধাও হইল। মুছল্লী সাহেব পরের দির ভয়ানক ক্রোধান্বিত হইয়া স্ত্রীর নাম উচ্চারণ করিতে করিতে এক এক করিয়া একাধারে একশত তালাক দিয়া ক্ষান্ত হইলেন।
মুছল্লী সাহেবের সপ্তমা স্ত্রী একদিন ছিলেন অসুখে, তখন বাড়ীর অন্য একটি ছেলে মারফত কিছু ঔষুধ আনিয়া খাওয়াইয়া ছিলেন। এই অপরাধে মুছল্লী বলিল আল্লাহ যাহাকে মারিতে চান তাহাকে বাচানোর চেষ্টা করা খোদাদ্রোহী কার্য্য। অতএব যে স্ত্রী এমন কার্য্য করিতে পারে তাহাকে আমি ঘরে স্থান দিতে পারিনা, যাও তোমাকে আখেরী তালাক দিয়া বিদায় দিলাম।
মুছল্লীর অষ্টমা স্ত্রী একদিন গোসল করিয়া কাপড়খানা হাওলীর বেড়ার উপরে রৌদ্র দিয়াছিলেন। মুছল্লী সাহেব ইহা দেখিয়া বলিলেন, যাহার পরনের কাপড় ভিন পুরুষে দেখিতে পারে তাহার আবরু দেখার আর কি বাকি থাকে? অতএব এই বেপর্দা নারীকে নিয়া আমি ঘর করিতে পারিনা। যাও তোমাকে তালাকের উপর তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিলাম।
মুছল্লীর নবম স্ত্রীর একটি সুন্দর সুগঠিত পুত্র সন্তান ছিল। একদিন মুছল্লী সাহেব স্বপ্ন দেখিলেন কে যেন তাহাকে উক্ত পুত্রটি কোরবানি করার আদেশ করিতেছে। এই স্বপ্ন দেখিয়া মুছল্লী সাহেব ভাবিলেন হযরত ইবরাহীম আ. কে আল্লাহ তাআলা যে পরীক্ষা করিয়াছিলেন, মুছল্লীকেও সেইভাবে পরীক্ষা করিতেছেন। অতএব এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলে মুছল্লী সাহেব হযরত ইবরাহীম আ. এর দরজা লাভ করিবেন। তাই স্ত্রীর নিকট গিয়া যখন এই প্রস্তাব করিলেন তখন স্ত্রী হতবুদ্বি হইয়া সজোরে কাঁদিতে লাগিল। মুছল্লী ইহাতে আদৌ রেহাই দিলেন না। সে ছেলেটিকে স্ত্রীর বক্ষ হইতে ছিনাইয়া আনিয়া মসজিদের সম্মুখে বসিয়া আল্লাহর নামে কোরবানী করিয়া দিলেন। অতঃপর ছেলেটির দাফনকার্য সমাধা করিয়া ঘরে ফিরিয়া দেখিতে পাইলেন তাহার স্ত্রী চিৎকার দিয়া কাঁদিতেছে। তখন মুছল্লী বলিলেন , আল্লাহর কার্য্যে যাহারা বাধা দেয় ও অসন্তুষ্ট থাকে তাহারা বে-ঈমান। বে-ঈমান স্ত্রী লোক নিয়া কখনও মোমেনরা ঘর করিতে পারে না। অতএব তোকে কুল আলমের তালাক দিয়া বিদায় দিলাম।  চলমান….

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

  1. সাইট বিধ্বংসী ইঞ্জিন says:

    খুবই ভাল লাগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight