শয়তানের ডায়েরি : উম্মে হাবিবা আকলিমা

পূর্বে প্রকাশিতের পর।
পির-আলীÑ নারীদের সম্পর্কে সর্বদাই কু-মন্তব্য করিয়া থাক কিন্তু এই জাতীয় নারীদের এত প্রশংসা করিতেছে কেন ?
শয়তান, হুজুর, নারী জাতীকে অন্তর হইতে কখনোই মনে ঘৃণা করিনা। সর্বদাই তাহাদের একটু মহব্বতে নজরে দেখি। কারণ জগতের অধিকাংশ নারীকেই ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। এই জন্য দিবানিশি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেতেছি। তাহার পরে কতিপয় নারীর চরিত্র ও প্রকৃত ভিন্নরুপ। তাই  উহার সমস্যা ও ব্যবস্থা ভিন্ন। যেমন হযরত মরিয়ম, হযরত খাদিজা, হযরত হাজেরা, হযরত আয়েশা, হযরত ফাতেমা প্রমুখ। উহাদের কার্য কলাপের প্রশংসা আমি করি বটে কিন্তু উহাদের সমর্থন আমি কোন সময়ই করি না। পিরআলীÑএই নারীকুল সেরা মন্ডলীকে সমর্থন না করিয়া কাহাকে সমর্থন কর?
শয়তান: হুজুর, আমি যাহাদের সমর্থন করি ও যাহাদের সাথে উঠা-বসা করি, তাহাদের বিবরণ যদি শুনিতে চান, তাহলে নারী জগতের ডাইরি খুলিয়া দু একটা কালাম বর্ণনা করেতেছি শুনুন। একদা মিশর দেশের উন্নত শহরে কয়েক দিন যাবৎ থাকার নিয়তে প্লেন যোগে গিয়ে তথায় উপস্থিত হইলাম। মিশরের  হাওয়া অতি স্বাস্থকর, কারণ রাস্তাঘাটে ও পার্কে লেকে যেখানেই বাহির হইবেন সেখানেই সুসজ্জিত নারীদের কামিছ ও ওড়নার ভাঁজ হইতে গোলাব, হাছনা, চামেলী ইত্যাদি নানা প্রকার আরবী আতরের যে মাদকীয় গন্ধ আসিয়া সাধারণ হাওয়াটার পরিবর্তন ঘটায় তাহাতে আবহাওয়া স্বাস্থকর না বলিয়া উপায় নাই।
অন্যের কথা বলে লাভ নাই, আমার নিজ স্বাস্থের পরিবর্তনেই আমার এ অভিজ্ঞতা জন্মিয়াছে। ইহা ছাড়া আমার এ থিওরি যে নির্ভূল তাহাতেও কোন সন্দেহ নাই। কারণ আমার চাইতে একজন অভিজ্ঞ মানব দার্শনিক নাকি বলিয়াছেন যে মিশরের ”ছাহেলি” নামক হ্রদে যদি কোন অচল বৃদ্ধ এক সপ্তাহে যাতায়াত করে নিঃসন্দেহে সে তাহার যৌবন ফিরিয়ে পাইবে। তিনি আরো বলিয়াছেন যে, যদি আমার এই উক্তি অসত্য হয় তবে আমি যে কোন দন্ড স্বীকার করিতে রাজি আছি। এই অভিজ্ঞ দার্শনিকের মতবাদ পাইয়া বিষয়টি নিঃসন্দেহে সত্য বলিয়াই স্বীকার করিয়াছি। যাহা হোক বহু লোকের মুখে অসাধারণ প্রশংসা শুনিয়া একদা আমি বৈকাল বেলায় হাটিতে হাটিতে ছাহেলি হ্রদের নিকটে গিয়া পৌছিলাম। এখানে পৌছিয়া যাহা কিছু দর্শন করিলাম তাহাতে আমার ধমনির রক্ত টগবগ করিয়া গরম হইয়া উঠিল। শরীরে যেন একটা নব শক্তির সঞ্চার হইল এবং মনের মাঝে একটা পরম আনন্দ দোলা দিয়া উঠিল। ভাবিলাম হায়! যদি এখন যৌবন বয়স থাকিত…।
দূরে বসিয়া মনে করিয়াছিলাম যে হ্রদের আনন্দ উভোগকারী যুবক যুবতীরা সম্ভবতঃ উলঙ্গ হইবেন, পরে কাছে গিয়া দেখিলাম না তাহারা বেহায়া নন, অধিকাংশ যুবতির পরনে শরীরের রঙ্গের একটি লেংটি আর একটি বক্ষ বন্ধনি রহিয়াছে, এবং যুবকদের পরনে একটি হাফ পেন্ট ও একটি গেঞ্জি আছে। আমার ন্যায় আরো হাজার হাজার লেডি বিহীন দর্শক সেখানে রহিয়াছে বলিয়া আমি নির্ভয়েই তিক্ষèতার সাথেই সকল কিছু দর্শন করিতে লাগিলাম। সেখানে যুবক-যুবতিদের মধ্যে যেভাবে ছিনি মিনি জড়াজড়ি চলিতেছিলো তাহাতে প্রথমে আমি মনে করিলাম যে ইহারা হয়তঃ পরস্পর স্বামী-স্ত্রী হইবেন। পরে বিশ্বস্ত ও প্রাচীন দর্শকের নিকট হইতে জানিতে পারিলাম যে, ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই হইল দেশ বিদেশের অফিসার ও তাহাদের সহধর্মিনীগণ, তবে যে যাহার সহধর্মিনী সে তাহার সঙ্গে চলিতে বা থাকিতে নিতান্ত অভদ্্রতা ও বোকামি মনে করেন, তাই অবাধে যে যাহার   সঙ্গে রুচি মিলাইতে পারেন সে তাহার সঙ্গেই প্রমোদ করিয়া বেড়ান। ইহা ছাড়া ইহাদের মধ্যে কতক রহিয়াছেন স্কুল কলেজের ছাত্র ও ছাত্রী। ইহা ছাড়া আরো কতিপয় যুবতীকে দেখিতে পাওয়া যায় তাহাদের পরিচয় জানার সাধ্য নাই। ইহারা হইল শহরের নাগরদের উপভোগের সামগ্রী। গরম পকেট নিয়া যে সমস্ত নাগর ও দর্শক সেখানে জামায়েত হন তাহাদের আদরের আর শেষ নাই। অপরিচিত ও অজানা যুবতীদের নিকট তাহারা মূহুর্তের মধ্যেই বেশ আপন হইয়া উঠিতে পারেন। দুর্ভাগ্য আমার। পকেটও খালি, বয়সও বেশি। তাই দর্শক হিসাবেই দাঁড়াইয়া রহিলাম। তবে আল্লাহর মেহেরবানীতে ইহার মধ্যে দুই-চারিটি ধাক্কা ও ঠেলা যেভাবে খাইয়াছি তাহাতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করিয়া পারিনা।
পির-আলীÑ যাহা হোক আজকের মতো এ পর্যন্তই ক্ষান্ত করো।
শয়তানÑ হুজুর, আর একটি মাত্র মজাদার, লজ্জতপূর্ণ ঘটনা শুনুন। একদা রাত্রী বেলায় এক বিরাট হোটেলে থাকার ভাগ্য হইয়াছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight