শয়তানরে ডায়রেী

ec95_polar_ice_crystal_clear_ice_cube_tray_ice

পূর্ব প্রকাশিতের পর
তখন আমি একজন দূরদর্শীর ন্যায় কপাল খিচিয়া, চক্ষু বড় করিয়া বলিলাম, হযরত নূহ তাহার উম্মতের জন্য যে নৌকাখানি তৈরী করিয়াছেন তোমরা সকলে একত্রিত হইয়া আগামিদিন হইতে উহার মধ্যে বাহ্য করিতে আরম্ভ করিয়া দাও। এমমনিক দুইচার দিনের মধ্যে উহাকে একটি পায়খানায় পরিণত করিয়া ফেল। ইহার ফলে হযরত নূহ লজ্জা আর ঘৃণায় আর উক্ত নৌকার নিকটে আসিবেন না এবং উক্ত নৌকার বাহিরে থায়িা তাহাদেরও যে অবস্থা হইবে তোমাদেরও সেই অবস্থা হইবে। তখন চিন্তার কিছুই থাকিবেনা।
আমার প্রস্তাব শুনিয়া উপস্থিত আবাল বৃদ্ধ বণিতাত সকলে আনন্দে লাফিয়া উঠিল এবং হাত উঠাইয়া একবার নারায়ে তাকবীর বলিয়া ধ্বনি তুলিল। আমি তখন হাত তুলিয়া তাহাদীসকে কোনরুপ বারণ করত বিদায় হইলাম। পরের দিন ভোরবেলা একটু আড়ালে দাঁড়াইয়া দেখিলাম শত শত লোক হযরত নূহের নৌকায় বাহ্য করার জন্য দলবদ্ধ হইয়া আসিতেছে। মনে মনে ভাবিলাম কাজ ফতে হইয়াছে।
এইভাবে কয়েকদিন অতিবাহিত হইবার পর হযরত নূহের নৌকা জনসাধারণের মলমূত্রে প্রায় পূর্ণ হইয়া গেল। ইহা দেখিয়া হযরত নূহ লজ্জায় আর নৌকার নিকটে আসিলেন না। এমনকি হযরত নূহের উম্মতের পর্যন্ত রাস্তায় বাহির হওয়া বন্ধ করিয়া দিল। অবস্থা দেখিয়া আমার উম্মতেরা আনন্দে আত্মহারা হইয়া লাফাইতে আরম্ভ করিল। শহরের ভালোমন্দ ছোট বড় সকলে তাহাদের একটা হিসাবে প্রত্যহ আসিয়া উক্ত নৌকায় বাহ্য করিত।
একদিন এক অন্ধ লোক আসিয়া নূহের নৌকায় বাহ্য করিতে বসিল। এমন সময় হঠাৎ পা পিছলে সে উক্ত নৌকার মধ্যে পড়িয়া গেল এবং নৌকার মধ্যস্থিত জলীয় পদার্থের মধ্যে ডুবিয়ে গেল। অবশেষে বহু চেষ্টা করিয়া যখন সে উপরে উঠিল তখন তাহার চক্ষের সম্মুখে শষ্য শ্যমল প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী পরিষ্কার ভাবে ভাসিয়া উঠিল। তাহার অন্ধত্ত্ব চিরদিনের জন্য দূরীভূত হইয়া গেল।
এই অদ্ভূত যাদুক্রিয়ার কথা মূহুর্তে মধ্যে চতুর্দিক ছড়াইয়া পড়িল। শহরের হাজার হাজার লোক ব্যাপারটি প্রত্যক্ষ করার জন্য এই লোকটির নিকট আসিয়া ভীড় জমাইল এবং নানা কথার ভিতর দিয়া প্রকৃত তত্ত্বটি অবগত হইয়া অবাক হইয়া গেল। ইহার পরে একদা রাত্রিবেলায় কয়েকটি অন্ধ একত্রিত হইয়া উক্ত ব্যক্তির ন্যায় হযরত নূহের নৌকায় উঠিয়া রাশীকৃত মলমুত্রের মধ্যে কয়েকটি ডুব দিল। আল্লাহর কি ইচ্ছা হযরত নুহের নৌকার বরকতে, না আমার উম্মতের পায়খানার বরকতে জানিনা ইহাদের চক্ষুও সম্পূর্ণ ভালো হইয়া গেল। এই দৃশ্য দেখিয়া দেশ ব্যাপী হৈ হৈ রব পড়িয়া গেল। দেশ বিদেশ অন্ধ, আতুর লেংড়া খোড়া কানা বোবা আসিয়া হযরত নূহের নৌকার যৌবন বাহার আবে হায়াতের মধ্যে হরদম ডুবাইতে আরম্ভ করিল। অবস্থা দেখিয়া মনে হইল সম্ভবত ইহারই নাম গঙ্গাস্নান।
হুজুর! ব্যাপারটি বলিতে লজ্জা আসে। এইভাবে ক্রমাগত কয়েকদিন চলার পরে হযরত নূহের নৌকা পরিষ্কার হইয়া গেল। অতঃপর যে সমস্ত রোগী সেখানে উপস্থিত হইল তাহারা উপায়ন্ত না দেখিয়া পানিদ্বারা নৌকা ধৌত করতঃ উহা ব্যবহার করিতে আরম্ভ করিল। ইহাতেও রোগীরা মুক্তিলাভ করিল দেখিয়া পরবর্তী আগন্তুকেরা নৌকাখানি এমনভাবে ধুইয়া মুছিয়া লইল যাহাতে নৌকার উপর নীচ সর্বত্র কাচের ন্যায় স্বচ্ছ হইয়া গেল। হুজুর! জনৈক শিষ্যের নিকট শুনিয়াছি যে উক্ত নৌকা ধোয়া পানি নাকি মানুষে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহার করিয়াছে। এখন চিন্তা করিয়া দেখুন ব্যাপারখানা কতদূর মারাত্মক।
পির আলী! ইহারই নাম আল্লাহর শিক্ষা এই রকম শিক্ষা ও পরীক্ষার সম্মুখে বোধ হয় তোর শত প্রতারণা, প্ররোচনা বিফল হইতে বাধ্য।
শয়তান! হুজুর সেকথা সত্যই বলিয়াছে, কারণ আল্লাহর নবীগনের ব্যাপারে কোন আশা ভরসা নিয়া যদি অগ্রসর হই তবে শেষ পর্যন্ত যোগ করিয়া দেখি সময় নষ্ট ছাড়া আর কোন ফল বাহির হয় না।
শুনুন তবে হযরত আইয়ূব নবীর ধন সম্পদ ও প্রতিপত্তি দেখিয়া আমার মনে হইল যে, আইয়ূব নবীর এইরুপ ধন সম্পদ  আছে বলিয়া তিনি দিবারাত্র আল্লাহর এবাদত করিতে সক্ষম। যদি তাহার এই সমস্ত সম্পদ না থাকিতে তাহা হইলে সে পেটের দায়ে কম্মিণকালেও এইরুপ এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকিতে পারিত না। তাই একদিন আল্লাহর দরবারে হাত উঠাইয়া বলিলাম, হে প্রভু! শুধু এবাদত করিলে যদি ধন সম্পদ মান ইজ্জত বর্দ্ধিত হয় তাহা হইলে সে রকম এবাদত আমারও করিতে ইচ্ছা হয়।
আমার এই মুনাজাত সরাসরি গিয়া আল্লাহর দরবারে পৌছিল, তখন আল্লাহ তাআলা আমাকে বলিলেন, হে ইবলিশ! আমার প্রিয় দোস্ত আইয়ূব, ধনসম্পদের লোভে এবাদত করে না, সে আমার মহব্বতই ইবাদত করিয়া থাকে।
এই কথা শুনিয়া আমি বলিলাম, হে পরওয়ার দেগার। আমি কছম করিয়া বলিতে পারি আইয়ূব নবী একমাত্র ধনসম্পদের লোভেই তোমার এবাদত করে। যদি তাহার এই সমস্ত ধন সম্পদ না থাকিত তবে সে কখনও তোমার দিকে অগ্রসর হইত না।
আমার এই কথার পর আল্লাহ ধমক দিয়া বলিলেন, দূর হও শয়তান। আমার দোস্ত সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করার অধিকার তোর নেই। তখন আমি আল্লাহর দরবারে করজোড়ে বলিলাম, হে প্রভু? যদি তুমি আমাকে একটু ক্ষমতাদান করিতে তাহা হইলে আমি হযরত আইউবকে একটু পরীক্ষা করিয়া দেখিতাম যে, সে কিসের এবাদৎ করে? তখন আল্লাহ তাআলা গম্ভীরস্বরে বলিলেন, যা! তোকে সর্বরকম শক্তি দিলাম। যেইভাবে ইচ্ছা সেইভাবে আমার নবীকে পরীক্ষা করিতে দেখিতে পার। আমি হযরত আইউব নবীকে পরীক্ষা করার ক্ষমতা লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে মুনাজাত ছাড়িয়ে আনন্দে কয়েকটি লাফ দিলাম। অতঃপর ধীরে ধীরে আইউব নবীর বাড়ীর দিকে রওয়ানা করিলাম।
চলবে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight