শিশু প্রতিপালনে রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমরা / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনার প্রতিপালক আপনাকে কি এতিম পাননি তারপর আশ্রয় প্রদান করেননি? আপনাকে পথহারা পেয়েছেন অতঃপর তিনি পথ প্রদর্শন করেছেন। আপনাকে অভাবী পেয়েছেন অতঃপর তিনি অভাবমুক্ত করেছেন। অতএব আপনি এতিমের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবেন না। আর সাহায্যপ্রার্থীকে আপনি হাঁকিয়ে দিবেন না।  আল্লাহ তাআলা বলেন, আপনি কি তাকে দেখেছেন যে ধর্মকর্মকে প্রত্যাখান করে? সে তো এতিমদেরকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়, আর গরীব-দুঃখীকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখায় না।’  রাসূল সা. বলেন, ‘যারা শিশুদেরকে ¯েœহ করে না, বড়দেরকে শ্রদ্ধা করে না এবং আলেমগণকে সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’
রাসূল সা. বলেন, কোন সন্তানকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া বাবার পক্ষ থেকে বড় উপহার।  রাসূল সা. বলেন, কোন শিশুকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া আল্লাহর রাস্তায় সদকা করার চেয়ে উত্তম। রাসূল সা. বলেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সম্মান কর এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।  রাসূল সা.বলেন, আমি নামাজে প্রবেশ করি এবং নামাজকে লম্বা করার ইচ্ছা করি। তখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ পাই তখন শিশুটির কান্নার কারণে মায়ের অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য করে নামাজকে সংক্ষিপ্ত করি।  তাই আমাদেরকে ভালভাবে জানতে হবে কিভাবে শিশুদেরকে সঠিক উপায়ে প্রতিপালন করা যায়। রাসূল সা. কিভাবে শিশুদেরকে প্রতপালন করেছেন।
প্রথম : শিশুদেরকে ভালবাসতে হবে। রাসূল সা. একবার বসে ছিলেন। তাঁর এক কোলে হাসান রা. আরেক কোলে উসামা রা.। তিনি তাদেরকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন, একজনকে চুম্বন করছেন আবার আরেকজনকে চুম্বন করছেন। আকরা ইবনে হাবেস রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দশটা ছেলে আছে। আমি তো কাউকে চুম্বন করি না, আদরও করি না। আর আপনি এ বাচ্চাদের চুম্বন করছেন। রাসূল সা. বললেন, যার অন্তরে মায়া থাকবে সেই শিশুদের প্রতি মমতাময় হবে, শিশুদেরকে আদর করবে। আর যার মধ্যে দয়ামায়া থাকবে আল্লাহ তাআলাও তাকে দয়া করবেন।  শিশুদেরকে আদর করা অন্তরে দয়া থাকার বহিঃপ্রকাশ।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল সা. একবার রাস্তায় বের হলেন। তখন হযরত হাসান ও হোসাইন রা. তাঁর কাঁধে বসা ছিল। তিনি একবার একে চুম্বন করছেন আরেকবার ওকে চুম্বন করছেন। এভাবে আমাদের কাছে এলেন। তারপর তিনি বললেন, যারা এদেরকে ভালবাসবে তারা আমাকে ভালবাসবে আর যারা তাদেরকে অপছন্দ করবে তারা যেন আমাকে অপছন্দ করছে।  হযরত উসামা রা. বলেন, আমি একরাতে  কোনো দরকারে রাসূল সা.-এর কাছে গেলাম। তখন দেখলাম তাঁর চাদরের নিচে কিছু আছে। আমি জানি না সেটা কী। আমার কাজ শেষ হলে বললাম, আপনার চাঁদরের নিচে কী? তিনি চাঁদর খুললেন। দেখি, হযরত হাসান ও হুসাইন রা. তাঁর দুই উরুতে বসে আছেন। তখন রাসূল সা. বললেন, এরা হল আমার দু’ ছেলে (নাতিন)। আমি তাদেরকে ভালবাসি, তুমি তাদেরকে ভালবাস এবং যারা তাদেরকে ভালবাসবে তুমি তাদেরকে ভালবাসবে।  হযরত বুরাইদা রা. বলেন, রাসূল সা. একবার খুতবা দিচ্ছিলেন তখন হযরত হাসান ও হুসাইন রা. লাল দু’টো জামা পরিধান করে হাঁটছে। তারা হাটছে ও পড়ে যাচ্ছে আবার উটে দাঁড়াচ্ছে। রাসূল সা. তখন (মিম্বার থেকে) অবতরণ করে তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে রাসূল সা.-এর সামনে রাখলেন। অতপর রাসূল সা. বললেন, আল্লাহ সত্য বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের সন্তানসমূহ ও সম্পদসমূহ পরিক্ষার বিষয়। আমি এ দু’জন (শিশু) কে দেখে ধৈর্যধারণ করতে পারি নি। অতপর আবার বক্তৃতা শুরু করলেন।  রাসূল সা. এভাবে রাস্তার মধ্যে শিশুদেরকে আদর করতেন, শিশুদের সঙ্গে এভাবে খেলাধুলা করতেন।
দ্বিতীয় : শিশু আপনাকে ভালবাসতে হবে। শিশুর ভালবাসা অর্জন করতে হবে। আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের দিকে তাকালে বুঝতে পারব। আমরা ছোটবেলায় সে শিক্ষকের পড়াশুনা ভালভাবে করতাম যে শিক্ষককে আমরা পছন্দ করতাম। সে শিক্ষকের বিষয়ও ভালভাবে বুঝতাম। সে যা বলত সব খুশি মনে ও আগ্রহ ভরে পালন করতাম। আর যে শিক্ষক আদর করত না এবং মারধর করত তার ভয়ে পড়াশুনা ভালকরে পড়লেও তার পড়া ভালভাবে বুঝতাম না। তার বিষয়ে পরীক্ষায় ভাল ফলাফলও করতে পারতাম না। সে কারণে শিশু প্রতিপালনের অন্যতম সঠিক উপায় হল শিশুর ভালবাসা অর্জন করতে হবে। ভালবাসা অর্জন কিভাবে? শিশুরা যা পছন্দ করে, তারা যা ভালবাসে সেগুলো করতে হবে। শিশুদেরকে খেলতে দিতে হবে। তাদের খেলায় সমর্থন দিতে হবে। শিশুদের সঙ্গে খেলাধূলা করতে হবে।
এ কারণে রাসূল সা. শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন। হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূল সা. একবার বাইরে গেছেন। রাসূল সা. দেখলেন, হযরত হাসান ও হুসাইন রা. খেলাধুলা করছেন। রাসূল সা. তাদের দু’জনকে ডাকলেন আর দু’হাতে উঠতে বললেন আর বলতে থাকেন, উপরে চড়তে থাক। আর শিশু হযরত হাসান হুসাইন রা. রাসূল সা.-এর শরীরে গাছে চড়ার মত চড়তে থাকেন। এভাবে রাসূল সা.-এর বুকে উঠে যান। তারপর রাসূল সা. বলেন, মুখ খোল। অতপর রাসূল সা. তাদেরকে চুম্বন করেন ও বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তাকে ভালবাসেন কারণ আমি তাকে ভালবাসি।  রাসূল সা. একবার নিজের জিহবা বের করছেন আর শিশু হযরত হাসান ও হুসাইন রা. তার জিহবা ধরার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। এভাবে শিশুরাও জিহবা বের করছে আর রাসূল সা. তা ধরছেন এবং তাদের জিহবা চুম্বন করছেন।
রাসূল সা. যখন বাইরে বের হতেন তখন তিনি শিশুদেরকে দেখলে সালাম দিতেন। আমরাতো বড়দেরকেই সালাম দেই না, শিশুদেরকে কি সালাম দিব? অথচ সালাম অনেক বড় সাওয়াবের কাজ। রাসূল সা. একবার সাহাবাদের সঙ্গে বসা ছিলেন। এক ব্যক্তি রাসূল সা.-এর সামনে থেকে অতিক্রম করলেন ও বললেন, আস সালামু আলাইকুম। রাসূল সা. বললেন, দশ। আরেকজন অতিক্রম করলেন ও বললেন, আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। রাসূল সা. বললেন, বিশ। আরেকজন অতিক্রম করলেন ও বললেন, আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। রাসূল সা. বললেন, তিরিশ। সাহাবা কেরাম রা. বললেন, কি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল সা. বললেন, প্রথম ব্যক্তি ১০টি সাওয়াব পেয়েছেন। (শব্দ বাড়ার কারণে) দ্বিতীয় ব্যক্তি বিশ আর তৃতীয় ব্যক্তি তিরিশটি সাওয়াব পেয়েছেন। অথচ একটি সাওয়াবের জন্য কেয়ামতের দিনে মানুষের জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা চুড়ান্ত হবে। তখন মানুষ একটি সাওয়াবের জন্য আপনজনের কাছে ধরণা দিবে অথচ কেউ সহযোগিতা করবে না। মানুষ তার পিতার কাছে, মাতার কাছে, সন্তানদের কাছে, স্ত্রীর কাছে এভাবে আপনজনের কাছে একটি সাওয়াবের জন্য সহযোগিতা চাইবে অথচ তখন কেউ সহযোগিতা তো করবেই না, এমনকি আত্মীয়তার পরিচয়ও দিবে না। হযরত আনাস রা. বলেন, শিশুরা যখন খেলাধুলা করত এ অবস্থায় রাসূল সা. তাদের কাছে আসতেন এবং তাদেরকে সালাম দিতেন।
তৃতীয় : শিশুদের সঙ্গে আন্তরিকতা, ভালবাসা প্রকাশ করা ও তাদেরকে আদর করা। রাসূল সা. সর্বদা শিশুদেরকে আদর করতেন। হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূল সা. আনসারী সাহাবাগণের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যেতেন। তিনি আনসারী শিশুগণকে সালাম দিতেন এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন।  হযরত জাবের বিন সামুরা রা. বলেন, রাসূল সা. সবসময় শিশুদেরকে আদর করতেন। কারো গাল ধরতেন, কারো মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। শিশুরাও রাসূল সা.-এর আদর গ্রহণের জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। এভাবে একবার নামাজের পরে আমি রাসূল সা.-এর চলার পথে অপেক্ষা করলাম যাতে রাসূল সা.-এর আদর পেতে পারি। তখন দেখি, আমার মত এভাবে অনেক শিশু রাসূল সা.-এর আদর গ্রহণের জন্য অপেক্ষায় আছে। রাসূল সা. বের হয়ে সারিবদ্ধ শিশুদেরকে আদর করতে লাগলেন। কারো মাথায় হাত বুলালেন। কারো গাল ধরলেন। তখন রাসূল সা. আমার গাল ধরলেন ও আদর করলেন। হযরত জাবের রা. বড় হওয়ার পরে বলছেন, আমি এখনো রাসূল সা.-এর হাতের সে স্পর্শের কথা স্মরণ করছি। রাসূল সা.-এর হাত নরম ছিল এবং রাসূল সা.-এর হাতের সুঘ্রাণে আমার মনে হয়েছিল যে, রাসূল সা. যেন সুগন্ধির পাত্রে হাত ডুবিয়ে রেখেছিলেন এবং মাত্র সে পাত্র থেকে হাত বের করে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. হাতের সে কোমলতা এবং সুঘ্রাণ আমি যেন এখনো অনুভব করছি।
চতুর্থ : শিশুদেরকে খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ দিতে হবে। রাসূল সা. শিশুরা যা করতে চায় বা যা শিশুরা পছন্দ করে রাসূল সা. তা পছন্দ করতেন। যে বাবা তাদের সন্তানদেরকে খেলতে দেন সে বাবা তার সন্তানের কাছে সবচেয়ে প্রিয় বাবা। যে বাবা সন্তানদেরকে খেলতে দেন না সে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বাবা। হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমার বিয়ের পরে রাসূল সা.-এর বাসায় আমার বান্ধবীদেরকে নিয়ে খেলতাম। রাসূল সা. বাসায় প্রবেশ করলে সবাই চলে যেতে চাইত আর রাসূল সা. তাদেরকে আমার সঙ্গে পাঠাতেন।  বরং কখনো কখনো রাসূল সা. আমাদের খেলায় অংশগ্রহণ করতেন ও সঙ্গ দিতেন। একবার আমি পুতুল দিয়ে খেলছিলাম। রাসূল সা. এসে দেখলেন, আমি একটি ঘোড়া বানিয়েছি আর তার পাখা আছে। রাসূল সা. এটা দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা আবার কেমন ঘোড়া? এর পাখা আছে। আমি বললাম, আপনি কি জানেন না, সুলাইমান আ. ঘোড়ার দু’টি পাখা ছিল। অতপর রাসূল সা. হাসলেন যে তাঁর দাঁতের মাঢ়ি দেখতে পেয়েছি।
হযরত ইয়াইলা বিন মুররাহ রা. বলেন, একবার সাহাবাগণ সহ রাসূল সা. এক খাবারের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। তখন হযরত হুসাইন রা. রাস্তায় খেলাধূলা করছিল। রাসূল সা. সবার আগে চলে গেলেন ও হাত বাড়িয়ে দিলেন। আর শিশু হুসাইন এখানে পালাচ্ছে আর ওখানে পালাচ্ছে। রাসূল সা. শিশুটির সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন আর দু’জনেই হাসছেন। এভাবে খেলা করতে করতে রাসূল সা. শিশু হুসাইন রা. কে ধরে ফেললেন। অতপর রাসূল সা. তার এক হাত শিশুর থুতনির নিচে এবং আরেক হাত মাথার তালুতে রেখে তাকে চুম্বন করলেন। আর রাসূল সা. বলেন, হুসাইন রা. আমার অংশ আর আমি হুসাইন রা.-এর অংশ। যারা হুসাইন রা. কে ভালবাসবে আল্লাহ তাআলাও তাদেরকে ভালভাসবেন। হুসাইন রা. নবী বংশের একজন।
হযরত মাহমূদ ইবনুর রাবী রা. বলেন, রাসূল সা. একবার বালতি থেকে মুখে পানি নিয়েছেন। তারপর রাসূল সা. মুখ থেকে পানি আমার মুখের উপর ছিটকালেন তখন আমি ছয় বছরের শিশু ছিলাম। এরকম যদি বর্তমানে কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি চেয়্যারমান, কমিশনার, সংসদ সদস্য বা ধর্মীয় কোন ব্যক্তিত্ব যেমন ইমাম বা খতীব সাহেব কোন শিশুর মুখে এভাবে মুখের পানি ছিটকায় তাও রাস্তায় জনসম্মুখে তবে তো সে ব্যক্তিকে হয়ত পাগল বলা হবে।
হযরত জায়নাব বিনতে সালামা রা. বলেন, রাসূল সা. একবার গোসলখানায় ছিলেন আর রাসূল সা. আমাকে দেখে গোসলখানা থেকে তার মুখ থেকে পানি নিক্ষেপ করেন। হযরত জায়নাব রা. বলেন, ছোট বেলায় রাসূল সা.-এর মুখের সে পানি আমার মুখে লাগার কারণে আমার মুখের কোমলতা এখনো নষ্ট হয়নি। তিনি বুড়ি হয়ে গিয়েছেন তবুও তার চামড়া ঝুলে পড়ে নি।
রাসূল সা. শিশুদের সঙ্গে শিশুদের ভাষায় ব্যঙ্গানোর মাধ্যমে দুষ্টমি করতেন। হযরত জায়নাব রা. বলেন, রাসূল সা. আমাকে ব্যাঙ্গাতেন। আমার নাম জুআইনাব বলে ডাকতেন আর এভাবে আমার সঙ্গে মজা করতেন।  হযরত আনাস রা. বলেন, আমাকে রাসূল সা. হে দু’ কান ওয়ালা বলে ডাকতেন।  কখনো সবজিওয়ালা বলে ডাকতেন। কারণ আমি সবজি বাগান থেকে সবজি তুলতাম। এভাবে আমাকে বিভিন্ন নামে ডাকতেন। রাসূল সা. শিশুদের সঙ্গে এমন দুষ্টমি কেন করেছেন? তা আমরা ১৪০০ বছর পরে এখন আবিস্কার করতে পারছি। বর্তমান শিক্ষা বিজ্ঞানে আধুনিক আবিষ্কার হল শিশুদেরকে খেলার ছলে জ্ঞান শিখানো এবং পাঠদান করানো। যার ফলে বর্তমানে উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে বুঝায় সে প্রতিষ্ঠান, যেখানে কার্টুুন, মাল্টি মিডিয়া, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন বিনোদনের মাধ্যমে পাঠদান করানো হয়।
পঞ্চম : শিশুদেরকে সম্মান করতে হবে এবং এভাবে শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। রাসূল সা. শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন। আর খেলাধুলার মাঝে রাসূল সা. শিশুদেরকে শিক্ষা দিতেন। কখনো আত্মবিশ্বাস, কখনো ইনসাফ, কখনো হারাম বর্জন, কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোস না করা ইত্যাদি শিক্ষা ও ভাল চরিত্রের দীক্ষা দিতেন।
হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূল সা. সর্বোত্তম চরিত্রের মানুষ ছিলেন। আমার এক ছোট ভাই ছিল তার নাম ছিল আবু ওমাইর। সে তখন মাত্র দুধ ছেড়েছে এমন শিশু। আমার সে ছোট ভাই একটি পাখি নিয়ে খেলা করত। রাসূল সা. যখনই আমাদের বাসায় আসতেন তখন বলতেন, হে আবু ওমাইর! তোমার নুগাইর পাখি কি করে? । কখনো তিনি আমাদের বাসায় থাকতে নামাজের সময় হয়ে যেত। তখন তার নিচের চাদরটিকে ঝেড়ে ও পানি ছিটিয়ে বিছাতে বলতেন। অতপর রাসূল সা. দাঁড়াতেন তারপর আমরাও তার পিছনে দাড়াতাম ও জামাতে নামাজ পড়তাম।  এভাবে রাসূল সা. শিশুটিকে বড়দের মত ওমায়রের বাবা নামে ডাকতেন যাতে ছোটবেলা থেকেই শিশুটির মধ্যে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে । এমনিভাবে শিশু আবু ওমাইরের খেলায় সঙ্গ দিতেন। শিশুদের খেলায় উৎসাহ দিতেন। হযরত আনাস রা. বলেন, আমি যে সবজি তুলতাম তাই রাসূল সা. আমাকে সবজি ওয়ালা ডাকতেন। এভাবে আমাকে এ উপাধি প্রদান করা হয়েছে।  শিশুদেরকে বড়দের মত কোন পদবী দ্বারা ডাকলে সে নিজেকে বড় বড় ভাবতে থাকে। এভাবে শিশুদের মাঝে ব্যক্তিত্ব তৈরির চেষ্টা রাসূল সা. করতেন।
হযরত ইয়াস রা. বলেন, আমি রাসূল সা.-এর উট ধরে তার বাসায় নিয়ে আসি। তখন রাসূল সা. উটে ছিলেন এবং শিশু হযরত হাসান ও হুসাইন রা. একজন সামনে আর অন্যজন রাসূল সা.-এর পিছনে ছিল।  শিশুদেরকে উটে উঠিয়ে তাও মদিনা শাসকের সঙ্গে এক উটে উঠিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি করছেন।
রাসূল সা. শিশুদেরকে সম্মান প্রদর্শন করতেন আর এভাবে তাদেরকে ব্যক্তিত্ববান ও অধিকার সচেতন নাগরিকরূপে তৈরি করতেন। হযরত সাহল বিন সাআ’দ রা. বলেন, রাসূল সা.-এর কাছে একবার পানিয় আসল। রাসূল সা.-এর মজলিসে বড় ও ছোট সাহাবাগণ আছেন। ছোটরা রাসূল সা.-এর ডানে আর বড়রা রাসূল সা.-এর বামে বসা ছিলেন। রাসূল সা. সে পানিয় সবাইকে দিতে চাচ্ছেন। সবকিছু ডান দিক থেকে আরম্ভ করার নিয়ম তাই প্রথমে শিশুদেরকে দিতে হয় কিন্তু বড়দের সম্মানার্থে রাসূল সা. বড়দেরকে দিতে চাচ্ছেন। তাই রাসূল সা. প্রথমে পানিয় থেকে পান করার পর ডানে থাকা শিশু হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে বললেন, তুমি কি অনুমতি দিচ্ছ যে প্রথমে পানিয় বড়দেরকে দেই। তখন শিশু হযরত ইবনে আব্বাস রা. বললেন, না, আমি রাসূল সা. থেকে প্রাপ্ত অংশ কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাসূল সা. তখন প্রথমে ডানে থাকা শিশুকে দিলেন তারপর বামে থাকা বড়দেরকে দিলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাফর ইবনে আবী তালিব রা. বলেন, রাসূল সা. যখন সফর থেকে ফিরতেন তখন মদিনার শিশুরা রাসূল সা.-কে স্বাগত জানাত। রাসূল সা. একবার সফর থেকে ফিরছেন তখন আমি সবার আগে রাসূল সা.-এর কাছে আসলাম। তখন রাসূল সা. আমাকে তার বাহনের পিছনে উঠিয়ে নিলেন। অতপর ফাতেমা রা.-এর কোন এক সন্তান হাসান বা হোসাইন রা. কে আনা হলে রাসূল সা. তাকে বাহনে উঠালেন ও পিছনে বসালেন। এভাবে বাহনের উপর আমরা তিনজন (আমি, রাসূল সা. ও হাসান বা হুসাইন রা.) মদিনায় প্রবেশ করলাম।  হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. যখন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন রাসূল সা. তার বাহনে শিশুদেরকে ওঠান। রাসূল সা. সামনে শিশু হযরত কুসাম এবং পিছনে ফজলকে বসিয়েছেন।  এভাবে সেনাপতি, রাষ্টপ্রধান রাসূল সা.-এর একই বাহনে শিশুদেরকে উঠিয়ে এবং রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রবেশ উপলক্ষে স্বাগত আয়োজনে শিশুদেরকে অংশগ্রহণ করিয়ে রাসূল সা. শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিত্ব তৈরি করছেন।
হযরত আনাস রা. বলেন, একবার রাসূল সা. আমাকে একটি কাজে পাঠান। আমি পথিমধ্যে শিশুদেরকে দেখলাম যে তারা খেলছে। (হযরত আনাস রা. তখন আনুমানিক সাত বছরের শিশু ছিলেন) আমিও তাদের সঙ্গে খেলতে লাগলাম। রাসূল সা.এসে আমার পিছনে ধরলেন। আমি তাকিয়ে দেখি রাসূল সা. আমার দিকে হাসছেন তরপর আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, তুমি কি সেখানে গিয়েছিলে? আমি বললাম, আমি এখনি যাচ্ছি। হযরত আনাস রা. বলেন, আমি রাসূল সা.-এর দশ বছর খেদমত করেছি। কখনো রাসূল সা. আমাকে বলেননি, এমন এমন কাজটি কেন করলে? বা কোন কাজ করিনি তখনো আমাকে বলেননি, এমন এমন কেন করলে না?  রাসূল সা. এক স্থানে বসে অপেক্ষা করলেন।
একদিন বাসায় যেতে দেরী হওয়ায় আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বাসায় আসতে এত দেরী কেন? আমি বললাম, রাাসূল সা. আমাকে একটি দরকারে পাঠিয়েছিলেন। আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কি সে দরকার? আমি বললাম, সেটা রাসূল সা.-এর গোপন বিষয়। আমার মা আমাকে বললেন, হে আমার ছেলে! রাসূল সা.-এর গোপন বিষয় কারো কাছে প্রকাশ করো না। এ হাদিসের বর্ণনাকারী হযরত সাবেত রহ. কে উদ্দেশ্য করে হযরত আনাস রা. বলেন, (হযরত আনাস রা.-এর বয়স তখন আশি বছর) আমি যদি রাসূল সা.-এর সে গোপন কথা কারো কাছে বলতাম তবে আমি তোমাকে বলতাম।  হয়তবা সে বিষয়টি কোন গোপন কিছু ছিল না। কিন্তু রাসূল সা. শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করার জন্য হয়ত বলেছেন, এটা গোপন বিষয়, কাউকে বলবে না। কোন বাবা যদি তার শিশু সন্তানকে বলে, তুমি শরবত নিয়ে আস আর কাউকে বলবে না অথবা এ জিনিশটা রাখ আর কাউকে বলো না তবে শিশুটি নিজেকে বড় ভাবতে থাকে। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলে, না বলা যাবে না। এভাবে শিশুদের মধ্যে ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা যায়।
ষষ্ঠ : শিশুদের মাঝে নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে। কোন শিশুকে ভিন্ন চোখে দেখা যাবে না বা কোন পক্ষপাতিত্বমূলক আচরন করা যাবে না। হযরত আলী রা. বলেন, একবার রাসূল সা. আমাদের বাসায় আসলেন আর আমি শুয়ে ছিলাম। তখন শিশু হাসান বা হুসাইন রা. পান করতে চাইল। রাসূল সা. আমাদের ছাগলের কাছে গিয়ে দুধ দহন করলেন। তখন শিশু হাসান রা. রাসূল সা.-এর কাছে আসলে তিনি সড়িয়ে দেন। তখন ফাতেমা রা. বলেন, দু’জনের মধ্যে ও (হুসাইন রা) আপনার কাছে বেশী প্রিয়? রাসূল সা. বললেন, না। তবে সে অর্থাৎ হুসাইন রা. প্রথমে পানি চেয়েছে। তবে তুমি, এরা দু’জন আর যে শুয়ে আছে (হযরত আলী রা.) আমরা সবাই কেয়ামতের দিন এক স্থানে থাকব।  এভাবে রাসূল সা. শিশুদেরকে ইনসাফ, নিরপেক্ষতা ও আবেগের উপর বিবেককে অগ্রাধিকার দিতে হবে তার শিক্ষা রাসূল সা. শিশুদেরকে শিক্ষা দিতেন।
সপ্তম : কোন শিশু ভুল করলেও তাকে মাত্রাতিরিক্ত শাস্তি প্রদান করা যাবে না ও অমিাত্রায় তিরষ্কার করা যাবে না। রাসূল সা. কখনো শিশু, চাকর বা নারীকে মারতেন না। হযরত আনাস রা. বলেন, আমি রাসূল সা.-এর দশ বছর খেদমত করেছি। কখনো রাসূল সা. আমাকে বলেননি, এমন এমন কাজটি কেন করলে? বা কোন কাজ করিনি তখনো আমাকে বলেননি, এমন এমন কেন করলে না?  এমনভিাবে সাহাবাগণও কখনো কাউকে আঘাত করতেন না। কখনো কেউ এমন ভুল করে ফেললে তার জন্য তাওবা করতেন ও প্রায়শ্চিত্য করতেন।
হযরত মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম রা. বলেন, আমার এক চাকরানী ছিল। সে উহুদ ও জাওয়ানিয়া পাহাড়ের আগে আমার ছাগল চড়াত। একদিন আমি দেখছি, একটি বাঘ এসে আমার একটি ছাগল নিয়ে যায়। আমি আদম সন্তানদের একজন তাই সাধারণ মানুষ যেভাবে দুঃখ পায় এমনিভাবে আমিও দুঃখ পাই। কিন্তু আমি তাকে একটি থাপ্পড় দিলাম। অতপর আমি রাসূল সা.-এর কাছে আসলাম। রাসূল সা. বিষয়টি আমার কাছে ভয়ংকর করে দিলেন। তখন আমি বললাম, আমি চাকরানীকে মুক্ত করতে চাই। রাসূল সা. বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে আস। আমি চাকরানিটিকে রাসূল সা.-এর কাছে নিয়ে আসলে তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? চাকরানীটি বলল, আকাশে। রাসূল সা. বললেন, আমি কে? চাকরানী বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূল সা. তখন আমাকে বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন নারী।
অষ্টম : শিশুদের ভালবাসা শিশুদের ভুল শুধরানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হওয়া। হযরত ওমর ইবনে আবী সালামা রা. বলেন, আমি (ছোটবেলায়) রাসূল সা.-এর প্রতিপালনে ছিলাম। (একবার আমি রাসূল সা.-এর সঙ্গে খেতে বসেছি। খাওয়ার সময়) আমার হাত থালার মধ্যে ঘুরত অর্থাৎ যেভাবে আমার সামনে থেকে খেতাম এমনিভাবে কোন মজার জিনিশ অন্যের সামনে থাকলে তার সামনে থেকে তা নিয়ে নিতাম। রাসূল সা. আমাকে বললেন, হে বালক! আল্লাহর নামে খাবার আরম্ভ কর। ডান হাতে খাও এবং তোমার পাশ থেকে খাও।   রাসূল সা. যদিও শিশুদেরকে অনেক ভালবাসতেন তারপরও কোন ভুল দেখলে তা শুধরাতে ইতস্তত করেন নি এবং এ ধরণের ভুল শুধরানোর ব্যাপারে কোন আপস না করতে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাই খাবারের সময়েও শিশুদেরকে আদব শিখাতে রাসূল সা. লজ্জ্বা করছেন না। বরং যখনই কোন শিশুকে ভুল করতে দেখতেন তখনই তাকে আদব শিখাতে দ্বিধা করতেন না।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, শিশু উসামা রা. একবার বাসার চৌকাঠের সঙ্গে চেহারায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। রাসূল সা. আমাকে তার ময়লা পরিস্কার করতে বলেন। আমি তাতে ঘৃণাবোধ করলাম। তখন রাসূল সা. তার চেহারা থেকে রক্ত চুষতে থাকেন ও মুখ থেকে ফেলতে থাকেন। তারপর রাসূল সা. বলেন, যদি উসামা রা. মেয়ে হত তবে আমি তাকে অলংকার পড়াতাম ও কাপড় পড়াতাম এবং তার সৌন্দর্য বাবদ খরচ করতাম।  অন্য বর্ণনায় হযরত আয়েশা রা. বলেন, যখন উসামা রা. শিশু ছিল তখন একবার রাসূল সা. আমাকে বললেন, তার চেহারা ধুয়ে দিতে। আমার কোন সন্তান হয়নি ও আমি জানতাম না কিভাবে শিশুদেরকে গোসল করাতে হয়। তাই তাকে নিয়ে গোসল করাচ্ছিলাম তবে তা সঠিক হচ্ছিল না। রাসূল সা. তখন শিশু উসামা রা. কে ধরে গোসল করাচ্ছেন আর বলছেন, ভাল যে সে মেয়ে হয়নি। যদি তুমি মেয়ে হতে তবে তোমাকে অলংকার পড়াতাম ও তোমাকে দিতাম।  এর দ্বারা স্পষ্ট যে রাসূল সা. শিশু হযরত উসামা রা. কে কত ভালবাসতেন? তারপরও সে উসামা রা. যখন ভুল করতেন তখনো রাসূল সা. শাসন করতে দ্বিধা করেন নি।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, মাখজুমী বংশের এক নারীর বিরুদ্ধে চুরি সাব্যস্ত হয়। তার উপর ইসলামী শাস্তি প্রয়োগের ব্যাপারটি কুরাইশ বংশকে ভাবিয়ে তুলে। তারা বলল, তার (সে নারীর শাস্তি মওকুফের) ব্যাপারে রাসূল সা.-এর সঙ্গে কে কথা বলবেন? সবাই বলল, রাসূল সা.-এর সঙ্গে এমন সাহস রাসূল সা.-এর প্রিয়ভাজন হযরত উসামা রা. ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। অতপর তিনি রাসূল সা.-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেন। রাসূল সা. তখন বলেন, তুমি কি আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির বিধানগুলোর একটি শাস্তির ব্যপারে সুপারিশ করছ? অতপর রাসূল সা. দাড়ালেন ও বক্তৃতা দিলেন, তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে এ বিষয়টি ধ্বংস করেছে যে, তাদের মধ্যে কোন সম্মানিত লোক চুরি করলে তাদেরকে ছেড়ে দিত আর তাদের মধ্যে কোন দূর্বল লোক চুরি করলে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর শপথ! যদি মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতেমা চুরি করে তবুও আমি তার হাত কর্তন করতাম।  রাসূল সা. অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেন নি যদিও সে নিকটজন, আপনজন বা প্রিয়ভাজনই হোক না কেন। আমাদের মধ্যে  অনেক বাবা-মা বা শিক্ষকগণ অনেক সময় কোন শিশুকে ভালবাসে এবং তার এ ভালবাসা বা অতি আহলাদ সে বাবা-মা বা শিক্ষককে সে শিশুর দোষের ব্যাপারে অন্ধ বানিয়ে দেয়।
নবম : শিশুদেরকে উৎসাহ প্রদানোর মাধ্যমে শিখানো। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষাদান করা। রাসূল সা. শিশুদেরকে শিক্ষার ব্যাপারে বিভিন্ন ভাবে উৎসাহ দিতেন এবং বড়দের মত শিশুদেরকে হাতে কলমে শিক্ষা দিতেন। রাসূল সা.-এর শিক্ষা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বৈঠকে সিমাবদ্ধ থাকত না। বরং হাটতে বসতে, বাড়িতে সফরে সর্বদা রাসূল সা. শিক্ষা দিতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. একবার আমাকে জড়িয়ে ধরেন ও বলেন, হে আল্লাহ! আপনি তাকে কুরআন শিখিয়ে দেন।   হযরত আব্দুল্লাহ রা.-এর বয়স মাত্র দশ বছর ছিল যখন রাসূল সা.-এর ইনতিকাল হয়।  হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. আমার কাধে হাত রাখলেন ও বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন ও (কুরআনের) ব্যাখ্যা শিখিয়ে দেন।  হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা (রাসূল সা.-এর স্ত্রী) হযরত মাইমুনা রা.-এর কাছে রাতযাপন করলাম। রাতের এ অংশে রাসূল সা. উঠলেন ও ঝুলন্ত পানির কলস থেকে হালকাভাবে ওজু করলেন অতপর নামাজে দাড়ালেন। আমিও রাসূল সা.-এর মত ওজু করলাম ও তারপর এসে রাসূল সা.-এর বাম পাশে দাড়ালাম। রাসূল সা. আমাকে ঘুরিয়ে তার ডান পাশে দাড় করালেন। অতপর রাসূল সা. নামাজ পড়লেন।
হযরত আবু সাইদ রা. বলেন, রাসূল সা. হাটার সময়ে দেখতে পলেন, এক বালক ছাগলের চামড়া ছিলছে। রাসূল সা. তাকে বললেন, পাশে যাও, আমি তোমাকে দেখাই (কিভাবে চামড়া ছিলতে হয়?) অতপর রাসূল সা. ছাগলের চামড়া ও গোশতের মাঝে হাত ঢুকালেন আর ধাক্কা দিতে থাকলেন আর এভাবে বোগল পর্যন্ত আড়াল হয়ে গেল। অতপর তিনি চলে গেলেন তারপর মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়ালেন তবে তিনি নতুন করে ওজু করেন নি।
দশম : শিখানোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা। রাসূল সা. শিশুদের মাঝে বিভিন্ন সময়ে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতেন। রাসূল সা. বাইরে গিয়ে হযরত আব্বাস রা.-এর সন্তান আব্দুল্লাহ, কুসাম, কাসীর সহ শিশুদেরকে কাতারবন্দি করতেন। তারপর রাসূল সা. বলতেন, আমার কাছে যে সবার আগ আসতে পারবে তার জন্য এই এই পুরস্কার আছে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. বলেন, রাসূল সা. বলেন, একটি গাছ আছে যার পাতা পড়ে না। আমাকে বল সেটা কোন গাছ? লোকজন জঙ্গলের গাছগুলোর মধ্যে নিপতিত হল (সকলে বিভিন্ন গাছের মধ্যে চিন্তা করতে লাগল)। হযরত আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমার মনের মধ্যে আসল যে এটা খেজুর গাছ। অতপর আমি লজ্জা পেলাম (এবং লজ্জার কারণে কোন কথা বললাম না)। অতপর তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সা.! আপনি বলেন, সেটা কোন গাছ। রাসূল সা. বললেন, সেটা হল খেজুর গাছ। হযরত আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমার বাবা হযরত ওমর রা. বলেন, তুমি যদি বলতে যে, সেটা হল খেজুর গাছ এটা আমার কাছে এই এই জিনিশ থেকে বেশী প্রিয় ছিল।
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, হযরত ওমর রা. আমাকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সম্মানিত সাহাবাগণের সঙ্গে তার মজলিসে প্রবেশ করতে দিতেন। তাদের মধ্যে কেউ বললেন, আপনি কেন এ কিশোরকে আমাদের সঙ্গে বসান অথচ তার মত অনেক সন্তান আমাদের আছে। হযরত ওমর রা. বললেন, তার ব্যাপারে তোমরা অবগত আছ। এভাবে একবার তাদেরকেও ডেকেছেন আর আমাকেও তাদের সঙ্গে ডেকেছেন। আমি বুঝিনি যে, আমাকে ডেকেছেন তাদের কে দেখানোর জন্য (যে, কেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে ডাকেন?)। হযরত ওমর রা. বললেন, আপনারা সূরা নাসর: “যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে তখন আপনি লোকজনকে দেখবেন তারা আল্লাহর দ্বীনে দলে দলে প্রবেশ করবে…” এ সম্পর্কে কি বলেন? তাদের মধ্যে কেউ বললেন, যখন আমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হই এবং বিজয়ী হই তখন আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা করতে বলা হয়েছে। কেউ বললেন, আমরা জানি না। আবার কেউ কিছুই বললেন না। হযরত ওমর রা. আমাকে বললেন, হে ইবনে আব্বাস! তুমিও কি এমনই বল? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তবে তুমি কি বল। আমি বললাম, এটা হল রাসূল সা.-এর মৃত্যুসংবাদ। আল্লাহ তাআলা রাসূল সা. কে জানিয়েছেন যে, যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অর্থাৎ মক্কা বিজয় এসেছে তবে এটাই আপনার মৃত্যুর সময়। অতএব আপনার পালনকর্তার প্রশংসায় গুণগাণ করেন ও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল। হযরত ওমর রা. বলেন, হা আমিও সেরকমই জানি যেরকম তুমি জান।  রাসূল সা.-এর সাহাবাগণও শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করতেন এবং শিশু-কিশোরদেরকে জ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহ যোগাতেন।
একাদশ : শিশুদেরকে পুরস্কার প্রদান করার ব্যবস্থা করা। রাসূল সা. শিশুদেরকে বিভিন্ন হাদিয়া ও উপঢোউকন দিয়ে উৎসাহ প্রদান করতেন। মানুষজন যখন বছরের প্রথম ফল দেখতেন তখন তা রাসূল সা.-এর কাছে নিয়ে আসতেন। রাসূল সা. তা গ্রহন করে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শহরে বরকত দান করেন, আমাদের ফলে এমনিভাবে আমাদের খাবার মাপার পাত্রে বরকতের সঙ্গে বরকত দান করেন। অতপর রাসূল সা. সে ফল উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুকে দিতেন।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, নাজাশীর পক্ষ থেকে কিছু হাদিয়া রাসূল সা.-এর কাছে আসল। এ উপহারগুলোর মধ্যে স্বর্ণের একটি আংটি ছিল যাতে হাবশী মাধুলি ছিল। রাসূল সা. তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সেটা একটি লাঠি বা কোন আঙ্গুলের দ্বারা তা নেন। অতপর আবুল আস ও হযরত জায়নাব রা.-এর কন্যা উমামা রা. কে ডাকেন ও বলেন, হে মেয়ে! এ আংটি দ্বারা সাজো।
হযরত উম্মে খালেদ রা. বলেন, রাসূল সা.-এর কাছে কিছু কাপড় এসেছে তার মধ্যে এটি কালো রংয়ের অংকন খচিত চাদর ছিল। রাসূল সা. তখন বলেন, এ পোষাক কাকে পরিধান করাব? সবাই চুপ রইল। রাসূল সা. বললেন, আমার কাছে উম্মে খালেদকে নিয়ে আস। তখন তাকে কোলে করে রাসূল সা.-এর কাছে আনা হল। রাসূল সা. সে চাদরটি নিজ হাতে নিলেন ও তাকে পরিধান করিয়ে দিলেন এবং বললেন, এটা (পরিধান করে) পূরাতন কর তারপর (সেলাই করে) নতুন তৈরি কর। সে চাদরটিতে সবুজ বা হলুদ অংকন ছিল। তারপর রাসূল সা. বললেন, এটা সুন্দর এটা সুন্দর। তবে এটা আরবী ভাষায় নয় বরং হাবশী ভাষায় বললেন।  (কারণ শিশুটি ছোটবেলায় হাবশায় ছিল)।
হযরত উম্মে খালেদ রা. বলেন, আমি একবার রাসূল সা.-এর কাছে বাবার সঙ্গে আসলাম তখন আমার শরিরে হলুদ একটি জামা ছিল। রাসূল সা. আমার জামা দেখে বললেন, ‘সুন্দর’, ‘সুন্দর’ হাবশী ভাষায়। অতপর আমি রাসূল সা.-এর পিছনে গিয়ে নবুওয়াতের মহর নিয়ে খেলাধুলা করতে লাগলাম। আমার বাবা আমাকে ধমক দিল। রাসূল সা. বললেন, তাকে ছাড় (খেলতে দাও)। অতপর রাসূল সা. বললেন, এটা (পরিধান করে) পুরাতন কর তারপর (সেলাই করে) নতুন কর আবার (পরিধান করে) পূরাতন কর তারপর (সেলাই করে) নতুন কর। হযরত আব্দুল্লাহ রা. বলেন, তার সে জামাটা ছিল যতদিন তিনি জিবিত ছিলেন।
দ্বাদশ : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা সফর, বাড়ির কাজ প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে সার্বক্ষনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা ও সুযোগ মত কার্যকর শিক্ষা প্রদান করা। শিখানোর ক্ষেত্রে কখনো উদাসিনতা প্রকাশ না করা। হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি রাসূল সা.-এর পিছনে বাহনে ছিলাম। রাসূল সা. বললেন, হে বালক! আমি তোমাকে কিছু বাক্য শিখাচ্ছি। তুমি আল্লাহকে রক্ষা কর তবে আল্লাহও তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর (আদেশকে) রক্ষা কর তবে আল্লাহকে তোমার সামনে পাবে। যখন তুমি প্রার্থনা কর তখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। যখন সাহায্য চাও তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জেনে রাখ, সকল জাতী মিলে যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ তোমার জন্য যে উপকার নির্ধারন করে রেখেছেন তা ছাড়া কোন উপকার কেউ করতে পারবে না। যদি সকলে মিলে তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তবে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য যে ক্ষতি নির্ধারণ করে রেখেছেন তা ছাড়া কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কলম উঠে গেছে ও কাগজ শুকিয়ে গেছে।  হযরত ইবনে আব্বাস রা. আনুমানিক সাত বছরের শিশু হওয়া সত্ত্বেও রাসূল সা. তাকে বড়দের মত ইমানের মত কঠিন বিষয়ের শিক্ষা দিচ্ছেন। উপরন্তু এ শিক্ষাটি সফরের মধ্যে দিচ্ছেন এবং শুধুমাত্র একটি শিশুকে দিচ্ছেন। ছোট বলে এবং একজন বলে রাসূল সা. কঠিন বিষয় শিক্ষা দিতে উদাসীনতা প্রকাশ করেননি। বর্তমানে আমাদের মত অনেক শিক্ষক ও বক্তারা শ্রোতা কম হলে বা শুধু শিশু হলে বক্তৃতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না। বক্তৃতা অনুষ্ঠান না হলে বা ওয়াজ মাহফিল না হলে বাহনে বা চলতে চলতে কাউকে কিছু শিখানোর প্রচলন নেই। এমনকি এ অবস্থায় কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে তার উত্তর দেয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না।
ত্রয়োদশ : দরকার হলে শিশুদেরকে কঠোরভাবে শাসন করা। হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, হযরত হাসান রা. একবার খেজুর মুখে নেন। রাসূল সা. এসে বলতে থাকে হায়! হায়! খেজুর মুখ থেকে ফেলে দাও। তারপর তিনি তার মুখ থেকে সে খেজুর ফেলে দেন। তারপর রাসূল সা. বলেন, এটা হল সাদাকার খেজুর। আর আমরা সাদাকা খেতে পারি না।  রাসূল সা. বলেন, তোমরা লাঠি এমন স্থানে ঝুলিয়ে রাখ যেখানে বাসার সদস্যরা দেখতে পায়। কারণ এটা তাদের জন্য শিষ্টাচার শিক্ষার অংশ।  রাসূল সা. বলেন, তোমাদের সন্তানগণ সাত বছরের হলে তাদেরকে নামাজের আদেশ কর। আর দশ বছরের হলে তাদেরকে নামাজের জন্য মারধর কর এবং সন্তানদের বিছানা আলাদা করে দাও।
চতুর্থদশ : শিশুদেরকে শিখানোর ক্ষেত্রে সর্বদা নিজেকে আদর্শ রাখতে হবে। অভিভাবকের শিক্ষা ও তার কাজের মধ্যে গরমিল থাকতে পারবে না। আমি শিশুকে সত্য কথা বলতে বলব তবে অবশ্যই আমাকে সর্বদা সত্য বলতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমের রা. বলেন, একদিন আমার মা আমাকে ডাকল আর রাসূল সা. আমাদের বাসায় বসা ছিলেন। আমার মা বললেন, এখানে আস, তোমাকে (একটা জিনিশ) দিব। রাসূল সা. বললেন, তুমি তাকে কি দিতে চেয়েছ? আমার মা বললেন, আমি তাকে খেজুর দিতাম। রাসূল সা. তখন বললেন, যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার বিরেুদ্ধে মিথ্যা লেখা হত।
পঞ্চদশ : শিশুদেরকে শিখানোর ক্ষেত্রে পুরস্কার ও তিরস্কারের সম্মিলন থাকা। হযরত আবু মাহজুরা রা. বলেন, আমি (ছোটবেলায়) এক কাফেলার সঙ্গে বের হয়েছি। আমরা হুনাইনের পথে ছিলাম। তখন রাসূল সা. হুনাইন থেকে ফিরছিলেন। আমরা পথিমধ্যে রাসূল সা.-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। রাসূল সা.-এর একজন মুআজ্জেন নামাজের আজান দিচ্ছিল। আমরা মুআজ্জিনের আওয়াজ শুনে বিরক্ত হলাম তাই চিৎকার করে মুআজ্জিনের অনুকরণ করছিলাম। আমরা এটা নিয়ে উপহাস করছিলাম। নবী সা. সে আওয়াজ শুনলেন। রাসূল সা. আমাদের কাছে লোক পাঠিয়ে তার সামনে আমাদেরকে দাড় করালেন। রাসূল সা. বললেন, তোমাদের মধ্যে কার আওয়াজ উচু শুনলাম? সবাই আমার প্রতি ইশারা করল আর তারা সত্য বলেছিল। রাসূল সা. সবাইকে ছেড়ে দিলেন আর আমাকে আটক করলেন। তারপর বললেন, দাঁড়াও, নামাজের আজান দাও। আমি দাড়ালাম আর আমার কাছে রাসূল সা. ও তার এ আদেশ ছাড়া অন্য কোন বিষয় অপছন্দনীয় ছিল না।
আমি দাঁড়ালাম অতপর রাসূল সা. হুবহু আজান আমাকে বললেন। তিনি বললেন, বল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। রাসূল সা. বললেন, আবার বল ও আওয়াজ দীর্ঘ কর। তিনি আমাকে বললেন, বল, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাস সালাহ। হাইয়া আলাল ফালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। যখন আমি আজান শেষ করলাম তখন রাসূল সা. আমাকে ডাকলেন ও আমাকে একটা থলি দিলেন যাতে কিছু রৌপ্য ছিল।
অতপর রাসূল সা. তার হাত আবু মাহজুরার কপালে রাখলেন। অতপর হাত তার চেহারায় বুলালেন ও এভাবে তার বুকে বুলালেন অতপর তার কলিজায় বুলালেন এভাবে রাসূল সা.-এর হাত আবু মাহজুরার নাভীতে পৌছল। অতপর রাসূল সা. বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাতে বরকত দান করুন ও তোমার প্রতি বরকত দান করুন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সা! আমাকে মক্কায় আজান দেয়ার আদেশ করুন। রাসূল সা. বললেন, যাও আদেশ করলাম। রাসূল সা.-এর জন্য যত ঘৃণা ছিল সব চলে গেল আর তার পরিবর্তে রাসূল সা.-এর ভালাবাসায় আমার সব পূর্ণ হয়ে গেল। আমি মক্কার শাসক হযরত ইতাব বিন আসাদ রা.-এর কাছে আসলাম ও রাসূল সা.-এর আদেশে নামাজের আজান দিতে থাকলাম।
রাসূল সা. এভাবে কিশোর আবু মাহজুরা রা. কে আটক করা তারপর তাকে হাতে কলমে আজান শিখানো অতপর রুপার থলি উপহার দেয়া এবং সবশেসে তার আবদার মত তাকে মক্কার মুআজ্জিন নিযুক্ত করা দ্বারা শিখানোর যে পদ্ধতী জগতের সামনে উপস্থাপন করে গেছেন সে পদ্ধতীর সিকিভাগও আজও অনেক গবেষনা ও প্রশিক্ষনের পরও উপস্থাপন করতে পারে নি। রাসূল সা. শিশুদেরকে প্রতিপালনের যে পদ্ধতি বা আদর্শ রেখে গেছেন তার বাস্তবায়ন যদি জগদ্বাসী করতে পারত তবে জগতের সকল সমস্যার সমাধান হত। কারণ আজকের শিশু কালকের নেতা, কর্ণধার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight