র্স্বাথপর মা : মুহাম্মদ দিলখোলাশা জাহিদ খান

বলতো আমি কে?
তোমার গর্ভে রাতের আঁধারে লুকিয়ে জন্ম নেয়া আমি সেই হতভাগা সন্তান। আমি সেই যাকে লোক লজ্জার ভয়ে নর্দমায় একটা পাটের ছালার বস্তার ভেতরে করে জীবিত ফেলে এসেছিলে। জানো মা? তুমি চলে আসার পর আমার সাথে কি হয়েছিল? তুমি যখন বস্তা বন্দি করে আমায় ফেলে আসলে, আমি চোখ খুলে দেখি তুমি নেই। এদিক ওদিক সবদিক তোমায় খুঁজলাম। চারদিকে ঘন অন্ধকার কন কনে শিত। বুঝে নিলাম তুমি কাছে নেই মা! আমি তো তোমায় মা বলে ডাকতে শিখিনি তখনো?। কিন্তু আমি জানতাম আমার চিৎকার শুনে তুমি দৌঁড়ে ছুঁটে আসবে। তাই আমার দেহে যতটুকু শক্তি ছিল সব শক্তি একত্রে করে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম মা! মা! মা! বলে। জানো মা? আমার চিৎকার শুনে তুমি এলে না ঠিকই। কিন্তু রাস্তার ইয়া বড় বড় লাল লাল, কালো কালো কুকুরগুলো আমার কঁচি কন্ঠের কাঁন্না শুনে ঠিকই আমায় খুঁজে নিল। আমি ভাবলাম কুকুরগুলো হয়ত আমাকে আদর যতœ করে আমার গর্ভ ধারিনী মায়ের কাছে নিয়ে যাবে। কিন্তু না, মা! ওরা তো আমায় খাওয়ার জন্য ছুঁটে এসেছিল। একটা দুইটা কুকুর না, মা! প্রায় ১০/১২ টা কুকুর। কি ধারালো দাঁত ওদের। আমার সুন্দর সুঠাম দেহ দেখে।
ওদের ইয়া বড় বড় জিহ্বা দিয়ে টপ টপ করে খেজুর গাছের রশের মত ফোটায় ফোটায় পানি পড়তে ছিল। প্রথমে একটা কুকুর এসে আমায় নখ দিয়ে পাঁজরগুলো ঠাস ঠাস করে ছিড়লো। তারপর আরও দুইটা কুকুর আমার মাথাটা নিয়ে কি টানাটানিই না করছিল। তখন যে আমার কত যন্ত্রণা হচ্ছিল মা! তা তুমি বুঝবে না। বুঝলে কি আর আমায় একা ফেলে যেতে এতিম করে, এভাবে খোলা আকাশের নিচে নর্দমাতে?
জানো মা? কুকুরের দলেরা আমায় নিয়ে যখন টানাটানি করছিল একটা সময় আমার যন্ত্রণাটাও কমে গেল। কমবে না কেন বলো? মা! কারণ, আমার প্রাণটা তো তখন আর ছিল না, মা! জানি না কে তোমায় ভালোবাসি বলে আমায় জন্ম দিয়ে চলে গেল। সে না হয় অমানুষ। বেঈমান, বাটপার, ছিটার, নিমক হারাম ছিল। কিন্তু তুমি তো আমার গর্ভধারিণী মা ছিলে। তবে তুমি কেন আমায় ফেলে দিলে নর্দমাতে। যদি তুমি তোমার নিজের কথা এতোই ভাবতে, তবে অবৈধভাবে জন্ম দিলেই বা কেন? কেনই বা এমন অমানুষের কাছে নিজের সব কিছু উজার করে দিলে? অবৈধ প্রেম-ভালোবাসার অর্থ কি মা? এক বিছানায় রাত্রি যাপন করা? ভালোবাসার অর্থ কি আমার মতো জারয সন্তানকে লোকের অগোচরে জন্ম দিয়ে কুকুর দিয়ে খাওয়ানো? তবে শোন মা!
এমন অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা পাওয়ার আগেই আমি এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছি চিরতরের জন্য সেটাই ভাল হয়েছে। আমি কালকেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহর কাছে তোমার জন্য সুপারিশ করবো মা! তোমায় যাতে মাফ করে দেন। মা! তুমি আমার কথা না ভাবলেও আমি তোমার কথা ঠিকই ভেবে রেখেছি। শুধু একটা অনুরোধ মা! যদি তোমার সন্তানকে লোকের সম্মুখে আনতে এতোই লজ্জা করে, তাহলে আর কখনো আমার মত অবৈধ সন্তানের জন্ম দিও না। আমি তোমায় মাফ করে দিলেও, আল্লাহ তোমাকে মাফ করবে এমনটা ভেবো না। কালকেয়ামতের দিন তুমি যে আমাকে অবৈধভাবে জন্ম দিয়েছিলে এর জন্য তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। ভাল থেকো “র্স্বাথপর মা” মা করে দিও আমাকে। ইতি তোমার পরিত্যক্ত জারয সন্তান।
লেখক : উঃরোয়াইল কওমী মাদরাসা, মির্জাপুর, টাংগাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight