রোযা সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদিস

১।
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা একদিন অথবা দুদিন পূর্বে ইসতিকবালের নিয়তে রোযা রেখো না। তবে যদি এটি তোমাদের কারো পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী রাখা রোজার অনুকূল হয়ে যায় সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং ভঙ্গ করো।
যদি তোমাদের কাছে চাঁদ গোপন থাকে তাহলে ৩০ দিন গুণে নাও। তারপর রোজা মওকুফ করো। [তিরমিযী শরীফ]
২।
হযরত আনাস রা. বলেন, আমরা কামনা করতাম, আমাদের উপস্থিতিতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে কোনো জ্ঞানবান বেদুইন যদি প্রশ্ন করতো তবে কতোই না ভালো হতো। আমরা এ অবস্থায় থাকাকালে এক বেদুইন এলো। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। বললো, হে মুহাম্মদ! আপনার বার্তাবাহক আমাদের কাছে এসে বলেছেন, আপনি নাকি বলেন যে, আল্লাহ তাআলা আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন? এ শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বললো, আপনার বার্তাবাহক আমাদের কাছে বলেছেন, আপনি বলেন যে, আমাদের ওপর দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয? এ শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, যে সত্তা আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আপনার বার্তাবাহক বলেছেন, আপনি এরশাদ করেন যে, আমাদের ওপর বছরে এক মাসের রোজা ফরজ? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। [তিরমিযী শরীফ]
৩।
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে রোযা রাখে এবং দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, তাঁর পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি রাত্রে নামায আদায় করে তাঁর পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। [তিরমিযী শরীফ]
৪।
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রভু বলেন, প্রতিটি নেক কাজ দশগুণ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত হয়। আর রোজা আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দিবো। বস্তুত রোজা হলো, জাহান্নাম হতে ঢাল। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত। তোমাদের সঙ্গে যদি কোনো জাহেল রোজা অবস্থায় বর্বর আচরণ করে তাহলে সে যেনো বলে, আমি সায়েম বা রোজাদার। [তিরমিযী শরীফ]
৫।
হযরত আবু সাহল ইবনে সাদ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন, জান্নাতে এমন একটি দ্বার রয়েছে যেটিকে বলা হয় রাইয়্যান। রোজাদারদেরকে এই দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে রোজাদারদের অন্তর্ভুক্ত হবে, সে এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। আর যে এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে সে কখনও পিপাসায় আক্রান্ত হবে না। [তিরমিযী শরীফ]
৬।
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা একদিন অথবা দুদিন পূর্বে ইসতিকবালের নিয়তে রোজা রেখো না। তবে যদি এটি তোমাদের কারো পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী রাখা রোজার অনুকূল হয়ে যায় সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং ভঙ্গ করো। যদি তোমাদের কাছে চাঁদ গোপন থাকে তাহলে ৩০ দিন গুণে নাও। তারপর রোজা মওকুফ করো। [তিরমিযী শরীফ]
৭।
হযরত ইবনুল মুসাইয়িব হতে বর্ণিত, তাকে সফরে রোজা সম্পর্কে মা’মার জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদিস বর্ণনা করলেন যে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেছেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বদর ও মক্কা বিজয় এ দুটি যুদ্ধ করেছি। আমরা রোজাদার ছিলাম দুটি যুদ্ধেই। [তিরমিযী শরীফ]
৮।
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত, বনি আবদুল্লাহ ইবনে কাবের এক ব্যক্তি বললো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোড়া আমাদের ওপর আক্রমণ করলো। তখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলাম। আমি তাঁকে পেলাম সকালের নাস্তা করতে। তিনি বললেন, কাছে এসো, খাও। আমি বললাম, আমি রোজাদার। তখন তিনি বললেন, কাছে এসো, আমি তোমাকে রোজা সম্পর্কে হাদিস বলবো। আল্লাহ তাআলা মুসাফির হতে রোজা এবং নামাজের অর্ধেক মাফ করে দিয়েছেন। এমনভাবে অন্তঃসত্ত্বা কিংবা দুগ্ধদানকারীদেরও রোজা (এখানে সওম অথবা সিয়াম শব্দ ব্যবাহার করেছেন।) মাফ করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুটি শব্দ অথবা একটি শব্দ বলেছেন। আমার নফসের ওপর আক্ষেপ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খানা হতে আমি খেলাম না কেনো! [তিরমিযী শরীফ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight