রমযান বারিতে স্নাত হোক আমাদের আত্মা : হাবীবুল্লাহ সিরাজ

রমযান বেসেস্তী উৎসব। আকাশী সৌরভ। সৌরভান্বিত এর প্রতিটি সময়খ-। নূরের ফোয়ারায় চমকিত প্রতিটি প্রহর। স্বর্গীয় মৌতাতে সুবাসিত প্রতিটি সাঁঝ। আসমানী তাগিদে পরিপাটিত তারাবির মিলনমেলা। প্রেমের সরোবরে ডুবন্ত জায়নামাজের মালি। সুন্নতের জয়গান সেহরীরর কোলাহল। আবেগের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠা প্রতিটি মুহূর্ত। রহমতের শবনমে শীতল প্রেমিক মুমিনের আত্মা। মাগফিরাতের ফাল্গুনিতে মৌ মৌ হাসিরব পাপীতাপ সকল বান্দা। নাজাতের হাতছানিতে দোলিত ও আলোড়িত আমি ও আমরা। সংযমের মিছিলে পুরো পৃথিবী। শুভ্রতার অভিলাষে মুমিনের আত্মা। মুক্তির অভিপ্রায়ে নির্ঘুম রাত্রি। যিকিরের তালধ্বনিতে সময় পাড়। তেলাওয়াতের সুতীব্র আকর্ষণে বিমোহিত কুরআনের খাদেম। হাফেজের কণ্ঠে আছে ওহীর সুর তাল লয় ও মুগ্ধতার জয়। বিনয়াবনত কঠোর সকল পুরুষ। ভালোবাসা আর পিরিতের ডোরে আটকানো রমযান। ব্যাকুলতা আর আকুলতার তড়পিত হৃদয়ের অলিন্দে রমযান। চিরসুখ জয়ের মাতামাতি আর জয়োল্লাসের রমযান। কুরআনের রমযান।
না, রমযানের প্রতি মুমিনের ভালোবাসা আর ভালোলাগা এই শুকনো কালি দিয়ে ব্যক্ত করা যায় না। অপার্থিব প্রীতির নমুনা কি আঁকা যায় এই পার্থিব শব্দাবলির দ্বারা? কখনোই না। তাই বেহুদা চেষ্টা করে লাভ নেই। রমযান হলো পবিত্র মহাপবিত্র এক মধুর ইবাদত। রমযানের প্রতিমুহূর্তে মুমিন ক্ষমার ঘোষণায়, মাগফিরাতের বার্তা ও নাজাতের সংবাদে মুখরিত হতে থাকে। কে না চায়? বরকতের জলে ¯œাত হোক তার ভিতরদেশ ও আত্মা। এটা মহামুক্তির মহাসুযোগ। জীবনের তরে চেয়ে নিতে হবে সফেদ সাফা-ই। আলো দ্বারা আলোকিত, নূর দ্বারা নূরান্বিত, বরকত দ্বারা ম-িত, রহমত দ্বারা উন্নীত অবশ্যই হতে হবে। এটা তো আমাদের ভালোবাসা আর ঈমানের জ্যোতি রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পষ্ট ঘোষণা- যে লোক রমযান পেলো রমযানের আলো পেলো দিন পেলো, পেলো রাত; তারপরও যদি সে নিজের অতীতপাপের দেয়াল, কয়লা কালি অন্তর, কসুরের শেওলায় ঢাকা হৃদয়, মিথ্যেয় ডুবন্ত কলব পরিষ্কার করতে পারলো না, ক্ষমার জলে ডুবাতে পারলো না নিজেকে, সে বড়ই দুর্ভাগা। ভাগ্য নিহত। পোড়া কপাল। হতচ্ছাড়া। পরাজিত। এই উজ্জ্বল পৃথিবীর আলো বাতাস ছায়া রোদ তার জন্য বেদনার হবে। রমযান হলো বরকত রহমত মাগফিরাত নাজাতের সুবর্ণ জয়ন্তি। এই সুবর্ণ সুযোগে কেউ যদি অর্জন করতে না পারে মুক্তির আলো বাতাস। তার কপালে আছে আগুন। আছে কষ্টের ফাগুন। অষ্টপ্রহরই মাগফিরাতের বারি ঢালেন আমার মহান আল্লাহ। এই বারিতে অবগাহন করতে পারাটাই রহমতের সাগরে ভাসতে থাকা। এই রহমত দরিয়ায় সাঁতরে সাঁতরে বান্দা পেয়ে যায় রমযানের স্বাদরস ও মিষ্টতা। রহমতের বারিতে ¯œাত প্রতিটি অন্তর হয় সবুজাভ সবুজ। চির মুক্তির সৌরভে মোহিত হয় হৃদয়ের চিৎকার। ক্ষমার বার্তায় শান্ত হয়ে পড়ে তাহাজ্জুুদের কোলাহল কলরব। নাজাতের কেল্লায় ঢুকতে থাকে অগণিত মুমিন। মাওলার সান্নিধ্যের লালিত্যে অন্তর হয় দীপিত ও তাড়িত। রমযান কী, এ বিষয়ে হাজারো হাদীস আছে, আছে ইমামদের হৃদয়ে ঝড় আশাব্যঞ্জক বাণীপরম। রমযানকে কেন্দ্র্র করে সাহাবীদের জীবনের নামতো আমলের ফাগুন। রাতের গভীরে নামতো প্রেমীয় রোদন। চোখে মুখে অপার্থিব চাওয়া। কলবে মাওলার ইশক। বিশ^াসে দৃঢ়তার সৌধ। একারণেই তাদের মুক্তির ফায়সালা হয়েছিল দুনিয়াতেই। ওদের কান্নার ঝড়ে ভাঙতো পাপের পিরামিড। আবেগের জলোচ্ছাসে সাফ হয়ে যেতো অন্যায় আর অন্যায় করার চিন্তা। তাড়িত হৃদয়ের চিৎকারে রোজাদার হতো নিষ্পাপ নিষ্কলুষ। তাওবার তলোয়ারে কাটতো মিথ্যে দুনিয়ার ভারি আবর্জনা। আজও দুনিয়ার রমযানে দেখি তারাবির জায়নামাযে বেহেস্তপথিকের পেরেশানী দেহ অবয়ব। রুকুতে নত ঔদ্ধত্য যুবক যুবতী। সিজদায় আছে রত অসংখ্য কন্যা জায়া জননী ও বর্ষীয়সী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight