যেভাবে কোরাইশ বংশে বিশ্ব নবী সা. এর ঐতিহাসিক আবির্ভাব! : মোঃ আবুল খায়ের (স্বপন)

বিশ্ব জগতের একক স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাআলার নিগুঢ় মহৎ এবং মহান ইচ্ছার বহমানতায় গোটা সৃষ্টি জগতের সর্বোত্তম, সর্ব শ্রেষ্ট এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলের রহমতের কাণ্ডারী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ট উপহার হিসেবে প্রেরিত হন হযরত মোহাম্মদ সা.। হযরত মহাম্মদ সা. এমন একটি অনন্য নাম যে নাম প্রতিদিন পৃথিবীর দিগ দিগন্তে কোটি কোটি মানুষের মুখে এবং হৃদয়ে ধ্বনিত এবং প্রতিধ্বনিত হয়। প্রত্যুষ যখন রাতের অন্ধকার বিদীর্ণ করে পুর্বাকাশে আলোর ছড়া ছড়িয়ে দেয়, তখন লক্ষ কোটি মোয়াজ্জিনের সুললিত কন্ঠে ভেসে ওঠে মহান আল্লাহ তাআলার নাম এবং সাথে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হযরত  মুহাম্মদ সা. এর অনন্য নাম। মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত ইবরাহীম আ. ইরাকের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পিতার নাম ছিল আযর। আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহীম আ. এবং তাঁর প্রিয় সহধর্মিনী হযরত সারাহ রা. সহ কানআনে এসে বসতি স্থাপন করে আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করতে লাগলেন। এক সফরে এসে মিশরের ফেরাউন এবং তার প্রাদেশিক শাষনকর্তা আবু মালিকি হযরত সারাহ রা. কে জোরপূর্বক বন্দী করে মিশরে নিয়ে যান এবং পরে খুবই সম্মানের সাথে ফিরিয়ে দেন। সাথে অনেক দাস দাসী এবং উপহার উপঢৌকন প্রদান করেন। তাদের এসব দাস দাসী এবং উপহার উপঢৌকনের মধ্যে হযরত হাজেরা আ. অর্ন্তভূক্ত ছিলেন। সলোমান ইবনে ইসহাক নামের এক ইহুদি পণ্ডিত হযরত হাজেরা আ. কে মিশরের ফেরাউনের কন্যা বলে দাবী করেন। যা হউক তিনি কিবতী শাহী খান্দানের এক সদস্যা ছিলেন। অর্থাৎ তিনি মিশরের রাজবংশের একজন বিদূষী মহিলা ছিলেন। হযরত ইবরাহীম আ. পরবর্তীতে হযরত হাজেরা রা. কে বিবাহ করেন এবং তাদের পবিত্র ঔরসে হযরত ইসমাইল আ. এর জন্ম হয়। আল্লাহর বিশেষ নির্দেশে হযরত ইবরাহীম আ., হযরত হাজেরা রা. এবং ইসমাইল আ.কে জনমানবহীন ফারান মরুপ্রান্তরে নির্বাসন দেন। ইসমাইল আ. এর খাতিরে যখন আল্লাহ তাআলা “যমযম” কুপ সৃষ্টি করলেন তখন “জুরহুম” এবং “ইয়াদ” এর ভাসমান আরব গোত্র হযরত হাজেরা রা. এর অনুমতি সাপেক্ষ সেখানে বসতি স্থাপন করেন। হযরত আদম আ. সর্বপ্রথম কাবা শরীফ নির্মাণ করেন; কিন্তু হযরত নূহ আ. এর সময়ের মহাপ্লাবনে কাবা শরীফ ধ্বংস হয়ে গেলে হযরত জিবরাইল আ. কর্তৃক চিহ্নিত স্থানে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে হযরত ইবরাহীম আ. এবং পুত্র হযরত ইসমাঈল আ. কাবা ঘর সংস্কার সাধন করেন এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিছুকাল পর বনু জুরহুম এবং বনু ইসমাইল আ. এর বংশধরদের মধ্যে কাবার তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে উভয়ের মধ্যে কাবার তত্ত্বাবধান সমহারে বন্টিত হয়। ঐ দিকে বনু খোযআহ গোত্র যখন যুদ্ধে মক্কার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তখন কিছুকালেন জন্য কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনু খোযআহ গোত্রের কাছে ন্যাস্ত হয়। বনু ইসমাঈল গোত্রের একজন সদস্য যিনি কিলাব নামে পরিচিত ছিলেন তিনি এক সফরে উত্তর আরবের কুদাআ গোত্রে বিবাহ করেন এবং তাদের ঔরসে কুসাইয়্যির জন্ম হয়। কুসাইয়্যির দীর্ঘদিন মাতুতালয়ে থাকার পর যৌবনে পর্দাপণ করে নিজ গোত্র বনু ইসমাইলে ফিরে আসেন। ঐ সময় বনু খোযআহ গোত্রের হুলায়ল ইবন হুবশিয়্যা ইবন সালুল কাবা ঘরের মুতাওয়ালি ও হাজিব তথা দ্বার রক্ষক ছিলেন। তিনি তার কন্যা হুব্বা বিনতে হুলায়ল কে কুসাইয়্যির সাথে বিবাহ প্রদান করেন। হুলায়ল যখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হন তখন কাবার চাবি তার কন্যার নিকট সমর্পণ করেন আর এভাবেই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুনরায় বনু ইসমাইল আ. বংশে ফিরে আসে। কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফিরে পেয়ে কুসাইয়্যির তার মাতামহকুল কুদাআ গোত্রের সাহায্য সহযোগিতায় বনু খোযআহ গোত্রকে শহরের বাহিরে নির্বাসন দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বনু খোযআহ গোত্র শহর ত্যাগ করার সময় বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী যমযম কুপে নিক্ষেপ পূর্বক উহা ঢাকিয়া ফেলেন ফলে সময়ের করাল গ্রাসে পতিত হয়ে এক সময় যমযম কুপ দীর্ঘদিন লোক চক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যায়। কুসাইয়্যির একজন বিরাট প্রভাবশালী সর্দার হিসেবে স্বীকৃতি পান। তিনি মক্কায় দারুন নাদওয়া (পার্লামেন্ট) এবং বিদাদাহ (শুল্ক) এর নতুন সংস্থা কায়েম করেন। কুসাইয়্যির চার পুত্র ছিল তাদের মধ্যে আবদ মনাফ ছিলেন সবচেয়ে সম্মানিত এবং অনেক প্রতিপত্তির অধিকারী। আবদ মানাফের চার পুত্র ছিল তাদের মধ্যে হাশিম ছিলেন সকলের চাইতে অগ্রগণ্য, সমাদৃত এবং মক্কার সর্দার ছিলেন। তিনি ধনবান ছিলেন তার বদান্যতার কারণে কোরাইশরা তাকে আল ফাদল নামে অভিহিত করেন। তিনি আবিসিনিয়া এবং ইয়ামেনের রাজ দরবারে নিজ গোত্রের প্রতিনিধিত্ব করতেন। হাশিম মদীনার বনু নাজ্জার গোত্রে বিবাহ করে স্বগোত্রে ফিরে আসার সময় গাযাহ নামক স্থানে এসে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। হাশিম মারা যাওয়ার পর তদীয় স্ত্রী সালমার গর্ভে মদীনা মোনাওয়ারার শায়বা আবদুল মোত্তালিব জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের পর তার মাথার কিছু চুল সাদা ছিল বলে তাকে শায়বা বলা হত। প্রায় সাত বছর তিনি তার মাতার সাথে মাতুতালয়ে অবস্থান করেন। অবশেষে পিতৃব্য মুত্তালিব তাকে মক্কায় নিজের কাছে নিয়ে আসেন (হাশিমের বড় ভ্রাতার নাম ও মুত্তালিব ছিল যিনি ভাতিজা আবদুল মোত্তালিব কে মক্কায় নিজের কাছে নিয়ে আসেন)। আবদুল মোত্তালিব অনেক সম্মান এবং মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল লোক চক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে যমযম কুপের সন্ধান লাভ করেন। তিনি একজন দীনদার এবং পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন। তার বহু সদগুণ ছিল। দানশীলতায় তিনি আরবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। শেষ জীবনে তিনি মূর্তিপূজা এবং শিরক পরিত্যাগ করে মিল্লাতে ইবরাহীম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি মদ্যপান, নগ্ন এবং ব্যভিচার থেকে মুক্ত ছিলেন। আগত ব্যক্তিদেরকে নগ্ন হয়ে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করতে তিনি সর্বদা নিষেধ করতেন। আবদুল মোত্তালিবের ছয়জন মহিয়সী স্ত্রী ছিলেন যাঁদের গর্ভে বার জন পুত্র আর ছয় জন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। তার মধ্যে বিশ্ব নবী সা. এর সম্মানীত দাদী ছিলেন ফাতেমা বিনতে আমর ইবন আইস ইবন ইমরান ইবন মাখযুম। যার পবিত্র গর্ভে আবদুল্লাহ, যুবাইর, আবু তালিব জন্ম গ্রহণ করেন। হালা বিনতে উহায়ব ইবন আবদ মান্নাফ ইবন যুহরা ইবন কিলাবের গর্ভে হযরত হামযা রা. এবং হযরত সাফিয়্যা রা. জন্ম গ্রহণ করেন। ফুতায়লা বিনতে জাহাব ইবন কুলায়র গর্ভে হযরত আব্বাস রা. জন্ম গ্রহণ করেন। আবদুল মোত্তালিবের পুত্র, হযরত মুহাম্মদ সা. এর সম্মানিত পিতা আবদুল্লাহ পিতার খুবই প্রিয়পাত্র ছিলেন। বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং উত্তম চরিত্রে তিনি ছিলেন আর্দশ ব্যক্তিত্ব। তার প্রশংসনীয় এবং মহৎ গুণাবলীর খ্যাতি ছিল গোটা মক্কাতে। আবদুল মোত্তালিব যখন যমযম কুপের মালিকানা নিয়ে একটি সংকটের সম্মুখিন হলেন তখন তিনি মানত করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে দশটি পুত্র সন্তান দান করে আর তারা সকলেই যৌবনে উপনীত হয় তবে তাদের মধ্য থেকে একজন কে কাবা শরীফে নিয়ে আল্লাহর সমীপে কোরবানী করবেন। দশ ছেলে যখন যৌবনে উপনীত হল তখন তার মানতের কথা সরণ হল। এমতাবস্থায় কাকে কোরবানী দিবেন তা লটারীর মাধ্যম নির্বাচিত হলে বিশ্ব নবী সা. এর পিতা আবদুল্লাহর নাম লটারীতে ওঠে। কিন্তু আত্মীয় স্বজন সকল বন্ধু বান্ধব এবং শান্তি প্রিয় লোকেরা লটারীর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেন এবং কোন এক গণকের নিকট গিয়ে লটারীর উত্তম সমাধান জানতে অনুপ্রাণিত করেন। অবশেষে “কুতবা অথবা সাজাহ নামের এক মহিলা গণকের নিকট মদীনায় গমন করলে তিনি এই মর্মে সিদ্ধান্ত দিলেন যে, একদিকে পুত্রের নাম অন্যদিকে রক্তপণ এই দুয়ের মধ্যে লটারী করতে হবে। (প্রতিবার দশটি উট) অবশেষে একশতটি উটের বেলায় পুত্রের নামের পরিবর্তে রক্তপণের নাম উঠে। এক এক করে তিনবার লটারী করলে একই ফলাফল দাঁড়ায়। তখন আবদুল মোত্তালিব সন্তুষ্টচিত্তে রক্তপণ আদায় করেন। আর এ ভাবেই আল্লাহ তাআলা আবদুল্লাহকে বাঁচিয়ে দেন। আব্দুল্লাহ যখন অষ্টাদশ বছরে মতান্তরে পচিঁশ বছরে পর্দাপণ করেন তখন আব্দুল মোত্তালিব মদীনার বনু যুহরার নেক ও চরিত্রাবান মহিয়সী নারী, সায়্যিদাতুন নিসা বিবি আমেনার সাথে আবদুল্লাহ কে বিবাহ দেন। বিবাহের পর আবদুল্লাহ কোরাইশদের নিয়ম অনুসারে কিছুদিন শ্বশুরালয়ে অবস্থান করে মক্কায় চলে আসেন। মক্কায় এসে বাণিজ্যের জন্য সিরিয়া গমন করেন। গাযাহ নামক স্থান থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করার সময় শারীরিক অসুস্থ হয়ে মদীনায় আবদুল মোত্তালিবের আত্মীয় স্বজনদের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে অবশেষে সেখানে ইন্তেকাল করেন এবং তাকে মদীনার দারুন নাবিগা নামক স্থানে দাফন করা হয়। আবদুল্লাহর করুন মুত্যুর সংবাদ মক্কায় পৌঁছলে আবদুল মোত্তালিব এবং সাইয়্যেদাহ আমেনা ভীষণভাবে শোকাতুর এবং বিমর্ষ হয়ে পড়েন তবে সাইয়্যেদাহ আমেনা এই শোকাবস্থায় অপরীসীম ধৈর্য্য, দৃঢ়তা এবং সাহসিকতার পরিচয় দেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তাকে সায়্যিদুল মোরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন, রাহমাতুললিল আলামীন এর জননী হিসাবে কবুল করেছেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়ে মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক বরকতময়, সৌভাগ্যপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল সেই দিনটির আগমন ঘটে, যে দিনটি ছিল ১ম হস্তী বর্ষ ৫৭১ খৃস্টাব্দ ১২ই রবিউল আউয়াল মতান্তরে ৮ই রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহি সাদিকের সময়। এ সময় এ পৃথিবী আলোকিত করে এ বিশ্ব ধরায় তাশরীফ আনেন হযরত মুহাম্মদ সা.।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর বংশধারাবিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর ঐতিহাসিক বংশধারা ছিল নিম্নরূপ:“আবুল কাশেম মুহাম্মদ সা. ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মোত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফ ইবন কোসাই ইবন কিলাব ইবনে র্মুরাহ ইবন কাব ইবন লুওয়াই ইবন গালিব ইবন ফিহর (কোরাইশ) ইবন মালিক ইবন আন নাদার ইবন কিনানাহ ইবন খুযায়মা ইবন মুদরিকাহ ইবন ইলিয়াস ইবন মুদার ইবন নিযার ইবন মাআদ্দ ইবন আদনান” এই পর্যন্ত স্বয়ং রাসুল সা. থেকে বর্ণিত। এর উর্ধের হযরত ইসমাইল আ. পর্যন্ত কতটি পুরুষ বংশ পরিচয় এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। এ ব্যাপারে হযরত আব্বাস রা. বলেন, বংশপরিচয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, আদনান এর বংশ হযরত ইসমাইল আ. পর্যন্ত সঠিক। আদনান এবং হযরত ইসমাইল আ. এর মধ্যে ৩৩ পুরুষের ব্যবধান ছিল। তাছাড়া বংশ পরিচয় সর্ম্পকে নবীজি সা. এরশাদ করেন আল্লাহ তাআলা “হযরত ইবরাহীম আ. এর সন্তানদের মধ্য থেকে হযরত ইসমাঈল আ. এবং তার বংশধরদের মধ্য থেকে বনু কিনানা এবং তার বংশধরদের মধ্য থেকে ফিহর (কোরাইশ) এবং তার বংশধরদের মধ্য থেকে বনু হাশিম এবং তার বংশধরদের মধ্য থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন”। নবীজি সা. আরো এরশাদ করেন আমি গোটা মানব মণ্ডলীর মধ্যে বংশ এবং ব্যক্তি সত্বার দিক দিয়ে সর্বোত্তম। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যার সাথে তার বংশ সুত্র গ্রথিত সম্মানে শ্রদ্ধায় আভিজাত্যে সুনাম, সু-খ্যাতিতে এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি হিসেবে তাঁরা সর্বত্র সমাদৃত ছিল।
লেখক :  প্রাবন্ধিক,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight