যাকাত ও সদকা-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায ইবনে জাবালকে ইয়ামানের শাসনকর্তা করে পাঠালেন এবং বললেন, মুয়ায! তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ। প্রথমে তাদেরকে এ ঘোষণা করতে আহ্বান করবে- ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং  মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে লয়, তাহলে তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ পাক তাদের উপর এক দিন- রাত পাঁচটি নামায ফরয করেছেন। তারা যদি এটাও মেনে লয়, তাহলে তাদেরকে বলবে, আল্লাহ পাক তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ হতে গ্রহণ করা হবে, অতঃপর তাদের দরিদ্রদের প্রতি ফেরত দেওয়া হবে। এ ব্যাপারেও যদি তারা তোমার কথা মেনে লয়, তবে সাবধান! যাকাতে তুমি বেছে বেছে তাদের উত্তম জিনিসসমূহ নিবে না এবং বেঁচে থাকবে উৎপীড়িতের বদ দোয়া হতে। কেনন, উৎপীড়িতদের বদ দোয়া এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো আড়াল নেই। অর্থাৎ তাদের দোয়া কবুল হয়। [বুখারী ও মুসলিম]
২। হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে আল্লাহ পাক মাল দান করেছেন, আর সে উহার যাকাত দান করেনি, কেয়ামতের দিন তার মালকে তার জন্য একটি মাথার টাক পড়া সাপস্বরূপ করা হবে, যার চোখের উপর দুটি দাগ থাকবে তা তার গলার বেড়ীস্বরূপ করা হবে। উক্ত সাপ আপন মুখের দুই দিক দিয়ে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, আমি তোমার মাল আমি তোমার সংরক্ষিত অর্থ। অতঃপর রাসূল সা. এটা সমর্থনে এ আয়াত পাঠ করলেন, “যারা কৃপণতা করে থাকে, আল্লাহ পাক তাদেরকে যে মাল দান করেছেন, তা নিয়ে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য উত্তম, বরং এটা তাদের জন্য মন্দ। অতি শীঘ্র কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ীস্বরূপ করা হবে যা যা নিয়ে তারা কৃপণতা করছে। [সহীহ বুখারী]
৩। হযরত আবু যর গিফারী রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সা. বলেছেন, যে কোন ব্যক্তির উট, গরু বা ছাগল,  ভেড়া থাকবে, অথচ সে গুলোর হক আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন নিশ্চয় সেগুলোকে আনা হবে তার কাছে অতি বিরাটকায় ও অতি মোটাতাজা অবস্থায়, পশুগুলো দিয়ে দলে দলে তাকে মাড়তে থাকবে নিজেদের ক্ষুর দ্বারা এবং মাড়তে থাকবে তাদের শিং দিয়ে। যখন সম্পদের শেষ দল অতিক্রম করবে, পুনরায় প্রথম দল এসে তার সাথে এরূপ করতে থাকবে, যে পর্যন্ত না মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা শেষ হয়ে যায়। [বুখারী ও মুসলিম]
৪। হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কাছে যাকাত উসূলকারী আসবে, তখন সে যেন তোমাদের কাছ হতে তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। [মুসলিম]
৫। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. বলেন, কোন পরিবারের লোকেরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে আসত, তিনি বলতেন হে আল্লাহ! তুমি অমুক পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ কর। আবদুল্লাহ বলেন, একদিন আমার পিতা তাঁর কাছে যাকাত নিয়ে আসলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ! তুমি দয়া কর আবু আওফার পরিবারের প্রতি। [বুখারী ও মুসলিম]
৬। হযরত আবু হোরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হযরত ওমরকে যাকাত উসূল করতে পাঠালেন। অতঃপর রাসূল সা. কে বলা হল, ইবনে জামীল, খালিদ ইবনে ওলীদ ও আব্বাস যাকাত দেননি। একথা শুনে রাসূল সা. বলেন, ইবনে জামিল এ কারণেই যাকাত দিতে অপছন্দ করছে যে, সে দরিদ্র ছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁকে ধনী করে দিয়েছেন। আর খালিদ ইবনে ওলীদ, তোমরা তার প্রতি অবিচার করেছ। কেননা সে তার ধর্ম এবং সমস্ত মাল আসবাব আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্ফ করে রেখেছে। বাকি রইল আমার চাচা আব্বাস। তাঁর এ বছরের যাকাত এবং তার সমান আরও আমার জিম্মায়। অতঃপর রাসূল সা. বললেন, হে ওমর! তুমি কি বুঝলে না যে, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমমূল্য। [বুখারী ও মুসলিম]
৭। হযরত জাবের ইবনে আতীক রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শীঘ্র তোমাদের কাছে যাকাত উসূলের  জন্য কতক সওয়ারী আসবে, যাদেরকে তোমরা পছন্দ করবে না। কিন্তু যখন তারা আসবে, তাদেরকে স্বাগতম জানাবে এবং তারা যা চাবে, তা তাদেরকে দিবে। যদি তারা তোমাদের সাথে ইনসাফ করে, তাদের কল্যাণ হবে, আর যদি যুলুম করে, তা তাদের অকল্যাণের কারণ হবে। কিন্তু তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করবে। কেননা, তাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই তোমাদের যাকাতের পূর্ণতা রয়েছে এবং তারাও যেন তোমাদের জন্য দোয়া করে। [আবু দাউদ]
৮। হযরত বশীর খাছাছিয়া রা. বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যাকাত উসূলকারীগণ আমাদের প্রতি অবিচার করে থাকেন। সুতরাং আমরা কি অবিচার পরিমাণ আমাদের মাল গোপন করে রাখতে পারি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। [আবু দাউদ]
৯। হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে যাকাত উসূলকারী কর্মী বাড়িতে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী গাজীর ন্যায়। [আবু দাউদ ও তিরমিযী]
১০। হযরত আমর ইবনে শোয়াইব তারঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আনান ও সরান কোনটিই সিদ্ধ নহে। যাকাত তাদের বাড়িতে ছাড়া উসূল করা যাবে না। [আবু দাউদ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight