মেঘ বালিকার ডায়েরী: জামিল আহমদ

একলা ভ্রমণ করার অভ্যাস নেই আমার। পরিস্থিতির স্বীকার হলে ভিন্ন কথা। কিছুদিন আগে এমনই একটি বিষয়ে একা সফর করেছি। যেটা ছিল আমার ব্যক্তিগত একটি কাজের জন্য।
ফজরের নামায শেষ করে মাথাটা একটু বালিশে রাখলাম। মনের অজান্তে চোখের পাতায় ঘুম এসে ভিড় জমাল। অতঃপর যখন দিনমনি পূর্ব আকাশে উঁকি দিল, তখন আমার আঁখিদ্বয়ের পাতা পৃথক হল। ঘড়িতে চোখ রাখতেই দেখলাম ঘড়ির কাটা ছয়টায়। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে হাম্মামভিমুখ হলাম। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিলাম। কাপড় পরিধান করে চলে গেলাম সরাসরি রেলস্টেশনে। কাউন্টার হতে একটি টিকিট নিয়ে ট্রেনে গিয়ে বসলাম। রেল ছাড়তে তখন পনের মিনিট বাকি। স্বল্পসময় বিশ্রাম নেওয়ার পর শরীরটা সতেজ হয়ে উঠল, গায়ে বল ফিরে পেলাম।
দৈবাৎ রেলকাটার আওয়াজ কানে ভেসে এলো। সংক্ষিপ্ত চোখ বুলিয়ে নিলাম বাইরের অঞ্চলটায়। বুঝতে বাকি রইল না যে, প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করেছে রেলগাড়িটি অর্থাৎ খুলনা রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করেছে। হালকা ধোঁয়া উড়ছে উপর দিয়ে। কিছুক্ষণ যেতেই ধুয়ালি কমে গেল এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পেল। অনতিকাল চলার পর টি-টি-ই এসে টিকিট চাইলেন। এই সুবাদে তার সঙ্গে কিছু কথা বলে নিলাম প্রশ্নের ছলে।  যদিও তা দীর্ঘ হয়নি। তবে ‘ নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল’ বলে একটা প্রবাদ আছে না ?! তাই মনে করলাম, একাইতো বসে আছি। যেহেতু একজনকে পেয়েছি সেহেতু কিছু কথা হয়ে যাক।
আবারও একা হয়ে গেলাম। কথা বলার কেউ রইল না। এভাবেই চলতে লাগলাম অনেকক্ষণ। কোন এক সময় ঈশ^রদী রেলস্টেশনে পৌঁছে গেলাম। ঝরোকা পথে দেখলাম, অনেকেই এই স্টেশনে নেমে যাচ্ছে, তাদের যাত্রার ইতি টানছে।
ট্রেন ছেড়ে দিবে দিবে অবস্থা। ঠিক এমন সময় লক্ষ করলাম, একটি মেয়ে বারংবার আমার দিকে দৃষ্টিপাত করছে। বুঝতে পারলাম, তার চোখে প্রশ্নের ছাপ। তবু চুপ রইলাম, মুখ খুললাম না। কেননা, সে আমার অপরিচিতা। ইতিপূর্বে তার সাক্ষাৎ মেলেনি এই ক্ষুদ্র জীবনে। ইত্যবসরে সে এগিয়ে এল আমার দিকে। জানতে চাইলো ভাইয়া! এটা কি ঈশ^রদী স্টেশন? হাঁ সূচক মাথা নাড়ালাম। আমি মাথা ঝোঁকাতেই মেয়েটি ভোঁ-দৌড় দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে গেল। এমতাবস্থায় তার ব্যাগ থেকে একটি ডাইরি ছিটকে পড়ে গেল প্রবেশ পথের উপর। আমি ছুটে গেলাম তার ডায়েরিটি আপন গৃহে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সক্ষম হইনি। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। তবু আমি চেষ্টায় ত্রুটি করিনি। দরজায় করাঘাত  করে বলিষ্ঠ কন্ঠে ডেকেছি মেয়েটিকে। সে শুনতে পায়নি আমার আওয়াজ, সে ব্যস্ত ছিল আপন কাজে। কি করার! মেনে নিতে হবে ভাগ্যের লিখন। কে জানত, এভাবেই  আমার হাতে আশ্রয় খুঁজে পাবে তার ডায়েরীটি? আমার পাণিতেই শোভা পাবে তার আদরের ডায়েরীটি?!
পরিশেষে ডাইরি হাতে ফিরে এলাম নিজ আসনে। অনেকটা চিন্তিত মনে বসে আছি সিটে। ভাবছি, অপরের ডায়েরীতো অনুমতি ব্যতিত পড়া ঠিক হবে না। অপরদিকে যদি না পড়ি তবে ডায়েরীর মালকিনের নিকট তা কিভাবে ফিরিয়ে দিব ? তাহলে কি আজীবন তার প্রিয় ডায়েরীটি আমার কাছে রয়ে যাবে? তার হৃদয়ের সুগুপ্ত কথাগুলি কি চিরকাল আমার কাছে অবরুদ্ধ থেকে যাবে? বিনা অনুমতিতে ডাইরিটি খুললে যেমন অপরাধ, না খুললে তার চেয়ে বেশি সমস্যা। কি যে করি, ভেবেই পাচ্ছি না! সে তো তার ডায়েরীটি রেখে গেল অথচ চিন্তায় ফেলে গেল আমায়।
একাকী বসে পর্যাপ্ত সময় এসব নিয়ে চিন্তা করে চলেছি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। কোন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি। অবসানে সিদ্ধান্ত নিলাম, আপন নীড়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডায়েরীটি পড়ব। কেননা, হতে পারে এর মাঝে মেয়েটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিপিবদ্ধ আছে। যা আমার কাছে থাকাটা তার জন্য ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
খুব সতর্কতার সাথে ডায়েরীটি খুললাম। প্রথমেই দেখতে পেলাম নীল কালিতে লেখা আছে ‘মেঘ বালিকা’। এটা দেখে কিছুটা অবাক হলাম। আচ্ছা, ‘মেঘ বালিকা’ কি কারো নাম হয়? নাকি এটা তার ছদ্মনাম ? সে কি মেঘের ে দেশ থেকে এসেছে? নাকি মেঘের দেশে থাকতে সে ভালবাসে ? কে জানে তার হাক্বীক্বত ? আবার হতে পারে সে অনেক…………….।
পূর্ণ ঠিকানার জন্য পরবর্তী পৃষ্ঠায় চোখ রাখলাম। সেখানে লেখা আছে, তুলি আনজুম, মিরপুর, কুষ্টিয়া। অসম্পূর্ণ হলেও কিছুটা বৃত্তান্ত পেয়ে গেলাম। এখন এই বিবরণ ডায়েরীর প্রকৃত মালকিনের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করবে। তবে আমি চাচ্ছি তার বাসার বা নিজের কোন ফোন নম্বর। এটা পেলে আমার জন্য খুব সহজ হয়। পিতার নাম এবং গ্রামের নাম হলেও চলবে। তবে নম্বর পেলে অনেকটা সহজ হয়। ফলে আমি চলে গেলাম ডায়েরীর শেষাংশে। না, এখানেও তেমন কিছু পেলাম না। একেবারেই ফাঁকা পড়ে আছে পত্তরগুলো। তাই প্রতিটি পাতায় চোখ বুলাতে শুরু করলাম। সহসা আমার চোখ আটকে গেল একটি পৃষ্ঠায়।
উক্ত পৃষ্ঠাটি তুলি আনজুমের মায়ের প্রশাংসায় ভরপুর। মেঘ বালিকার মা খুব সুন্দর সুন্দর হাসির গল্প বলেন। এ গল্প শুধু মজা লোটার জন্য নয়। বরং সোনামণিদের উপদেশ গ্রহনের জন্য। এমনই এক হাসির গল্প এই পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে। সেটা নিচে উল্লেখ করা হল।
(তুলি আনজুমের নিজ হাতে লেখা:) আমার মা আজ আমাদেরকে একটি হাসির গল্প বলে নসীহত করেছেন। গল্পটি হল, ওশেনিয়া বিশের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। এই মহাদেশের এক ব্যক্তির মনোবাসনা হল বিশ ভ্রমণ আই মিন পৃথিবীর উন্নত রাষ্টগুলোকে ঘুরে দেখা।
ইচ্ছা অনুপাতে প্রথমে সে পর্যটন শুরু করল উত্তর আমেরিকায়। অনেক উঁচু উঁচু প্রাসাদ সেখানে। হরেকরকম মার্কেট, নানাবিধ পণ্য তার। বহুবিধ হোটেল, রকমারি খাবার তার। রকমফের মানুষ, প্রভিন্ন চলাফেরা তার। কতশত রাস্তা, শতেক প্রকার যানবাহন তার। এসব দেখে সে তাজ্জব হয়ে গেল। তার মনে আরো নতুন নতুন জিনিস দর্শনের স্পৃহা জন্ম নিল।
তাই একদিন সে সমগ্র এলাকাটা ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিমানে আরোহণ করল। কিছুক্ষণ পর তার নজর পড়ল আঞ্চলিক এক লোকের উপর। লোকটির কাছে ছিল একটি টেবিল ফ্যান। হঠাৎ ফ্যানের পাখা ঘুরছে না। তাই সে ফ্যানটিকে ফেলে দিল। ওশেনিয়ার নাগরিক অবাক হয়ে বলল, ভাই! আপনি এত দামি একটি ফ্যান ফেলে দিলেন কেন ? উত্তরে সে বলল,  এটাতো সাধারণ একটি জিনিস। আমাদের দেশে এগুলো সচারচর পাওয়া যায়।
তারপর পর্যটকের দৃষ্টি পড়ল অন্য একজন বিজ্ঞানবিদের উপর। তার হাতে ছিল একটি ডিজিটাল কম্পিউটার। আচানক কম্পিউটারটা খারাপ হয়ে গেল। ফলে সে কম্পিউটারটা ফেলে দিল। ওশেনিয়ার অধিবাসী অবাক হয়ে বলল, ভাই! আপনি এত মূল্যবান কম্পিউটারটি ফেলে দিলেন কেন? এটাতো সাধারণ একটি জিনিস। আমাদের দেশে এগুলো সচারচর পাওয়া যায়। উত্তরে বিজ্ঞানী বলল।
এসব দেখে ভ্রমণকারী মানষিকভাবে নাজেহাল হয়ে গেল। এমতাবস্থায় তার চোখ পড়ল একটি বালকের উপর। তৎক্ষণাৎ সে বালকটিকে ধরে বিমান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিল। বিমানের সকলে অবাক হয়ে বলল, আরে ভাই! আপনি আগামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ অর্থাৎ বালকটিকে ফেলে দিলেন কেন ? ওশেনিয়ার বাসিন্দা জবাব দিল, এটাতো সাধারণ একটি জিনিস। আমাদের দেশে এগুলো সচারচর পাওয়া যায়।
গল্পটি শুনে আমরা অনেক হেসেছি। হাসির শেষ লগ্নে মা বললেন: সোনামণিরা! গল্পটি শুনে খুব মজা পেয়েছ তোমরা, তাই না ? তবে এটাকে হাসির খোরাক মনে কর না। একটু ভেবে দেখ, লোকটি যেমনি ভিনদেশী কর্ম দেখতে দেখতে দিশেহারা হয়ে বাচ্চাটিকে ফেলে দিয়েছে, ঠিক তেমনি আমরাও বিজাতির কালচার দেখতে দেখতে অনায়াসে ইসলামী বিধি-বিধান ছেড়ে দিয়েছি। পশ্চিমাদের চালচলনের অনুসরণ করতে গিয়ে আমাদের প্রিয় নবীর সুন্নাত তরক করে দিয়েছি। এমনকি ফরজ আমলগুলিকেও তুচ্ছ করে ফেলেছি।
অমুসলিমরা কুসংস্কারকে আমাদের সামনে সজ্জিত করে তুলছে আর আমরা তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি। যেটা আদৌ উচিত নয়, ইসলামরে দাবী নয়। এসো, তাদের চক্রান্ত থেকে আমরা বাঁচার চেষ্টা করি এবং ইসলামের প্রতি যতবান হই।
আসলেই প্রশংসনীয় তুলি আনজুমের মায়ের গল্পটি। সাথে সাথে প্রশংসা করতে হয় তার মায়েরও। রহস্যময় গল্পটি পড়ে খুব ভাল লাগল। এজাতীয় অনেক শিক্ষাপযোগী হাসির গল্প হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. লিখে গিয়েছেন। বর্তমান ‘মুসলমানের হাসি’ নামক গ্রন্থে (মাওলানা মুহাম্মদ রাজী নোমানী অনূদিত) এ জাতীয় গল্প পাওয়া যায়। যা অধ্যয়ন করলে আমরা জীবনে উন্নতি সাধন করতে পারব।
উম্মে তুলির গল্পটি প্রাধ্যয়ন করে আমার মায়ের একটি গল্প মনে উঁকি দিল। তুলির জনয়িত্রী যেমন মজার মজার গল্প বলে নসীহত করেন, আমার মাও তেমন আনন্দবিহুল গল্প বলে উপদেশ প্রদান করেন। আর আমি সেগুলিকে আমার ডায়েরীর পাতায় লিপিভুক্ত করে রাখি। আমার প্রিয় পাঠক-পাঠিকা বন্ধুদেরকে আজ আমার ডায়েরীর একটি পৃষ্ঠা উপহার দিব।
লেখা পড়ায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষে আজ মা আমাকে একটি হাসির গল্প বলেছেন। আর তা হল, দুশ্চিন্তার পাহাড় রাজিবের মাথায়। কেননা, আজ ইসলামী সদর দপ্তরে তার চাকরীর ইন্টারভিউ। এমন ইন্টারভিউ তো অনেকেই দিয়ে থাকে। কৈ? তারা তো কখনো এত চিন্তিত হয় না। তবে রাজিব কেন এতটা চিন্তামগ্ন ? এটা হল যথাযুক্ত লেখাপড়া না করার ফসল।
বাল্যকাল থেকে আজ অবধি রাজিব তার বন্ধু রাহাতের সাথে লেখা-পড়া করে। সকল পরীক্ষায় রাহাতের পাশে বসে। সব পরীক্ষাতেই রাহাতের খাতায় সংক্ষিপ্ত চোখ বুলায়, এতেই পাশ নম্বর হয়ে যায়। এভাবে পাশ করে এসেছে এপর্যন্ত। তবে আজ মৌখিক পরীক্ষা। তাই সে রাহাতকে বলল, তুই উত্তরগুলো জোরে জোরে উচ্চারণ করবি আর আমি পিছনের জানালার কাছে থেকে শুনে মুখস্থ করে নিব, এবং তোর উত্তরগুলোই পরবর্তীতে আমি বলব। ঠিক আছে তো ? ‘হুম’ বলে সায় দিল রাহাত।
ইন্টারভিউর সময় হয়ে গেল। রাহাত সালাম দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করল। এবার শুরু হল পরীক্ষার পর্ব-
১ম প্রশ্ন: রোজা কত তারিখে শুরু হয় এবং কত তারিখে শেষ হয়?
রাহাতের উত্তর: রমযানের এক তারিখে শুরু হয় আর ঊনত্রিশ বা ত্রিশ তারিখে শেষ হয়।
২য় প্রশ্ন: তোমাদের এলাকায় রমযানের রোজা রাখেন এমন দু’চার জন ব্যক্তির নাম বল।
রাহাতের উত্তর: শতশত লোকের মধ্য হতে মাত্র দু’চার জন ব্যক্তির নাম বলে বাকিদেরকে হীন করতে চাই না।
৩য় প্রশ্ন: এবছর রমযান মাস কত দিনে হবে ?
রাহাতের উত্তর: এ বিষয়ে সঠিক তথ্য বলা যাচ্ছে না। তবে মাস শেষে আমি আপনি সবাই জানতে পারব।
এবার শিক্ষক বললেন, সকলের পরীক্ষা শেষে ফলাফল জানানো হবে। এখন তুমি আসতে পার। অতঃপর রাহাত সালাম দিয়ে বাহিরে চলে এল। রাজিব শুধু উত্তরগুলো শুনেছিল বাতায়ন পথে, শিক্ষকের প্রশ্ন শুনতে পারেনি। কেননা, শিক্ষক স্বাভাবিক আওয়াজে প্রশ্ন করেছিলেন আর রাহাত একটু উচ্চৈঃস্বরে উত্তরগুলো বলেছিল। তাছাড়া রাজিব মনে করেছিল, সবাইকে একই প্রশ্ন করা হয়। তাই সে উক্ত উত্তরগুলো ভাল করে ইয়াদ করে নিল।
একপর্যায়ে রাজিবের সিরিয়াল চলে এল। রাজিব কামরায় প্রবেশ করল। শিক্ষক তার চেহারায় ভয়ের ছাপ দেখতে পেলেন। তাই ব্যক্তিগত কিছু জানতে চাইলেন প্রশ্নের মাধ্যমে-
১ম প্রশ্ন: তোমার জন্ম তারিখ কত ?
রাজিবের উত্তর: রমযানের এক তারিখে শুরু হয় আর ঊনত্রিশ বা ত্রিশ তারিখে শেষ হয়।
২য় প্রশ্ন: তোমার পিতার নাম কী ?
রাজিবের উত্তর: শতশত লোকের মধ্য হতে মাত্র দু’চার জন ব্যক্তির নাম বলে বাকিদেরকে হীন করতে চাই না।
৩য় প্রশ্ন: (একটু বিস্মিত হয়ে) তুমি কি পাগল হয়ে গেলে ?
রাাজিবের উত্তর: এ বিষয়ে সঠিক তথ্য বলা যাচ্ছে না। তবে মাস শেষে আমি আপনি সবাই জানতে পারব।
গল্পটি শ্রবণে আমার একগাল হাসি পেল। এমতাবস্থায় মা আমাকে  উদ্দেশ্য করে বললেন: ঠিকমত লেখাপড়া না করলে মানুষের সামনে এমন হাঁদারাম হতে হয় আর সমাজের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হয়। এটা খুব লজ্জাকর বিষয়। তাই তুমি সর্বদা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে লেখা-পড়া করবে। এতেকরে তোমার ভবিষ্যৎ যেমন উজ্জ্বল হবে তেমন দেশ পাবে একজন শিক্ষত মানব, আর জাতি পাবে একজন পথপ্রদর্শক।
প্রিয় পাঠক-পাঠিকা!  আশাকরি, মেঘ বালিকার জননী ও আমার মায়ের শিক্ষণীয় গল্প দুটি তোমাদের চেতনাকে নতুনরূপে সঞ্চার করবে। আমার ও তুলির দুই ডায়েরীর দু’টি পাতা তোমাদের জীবনকে পরিপাটি করতে সহায়ক হবে।
ও হ্যাঁ !! তোমাদেরকে তো একটি কথা বলতে ভুলেই গিয়েছি। তুলির মায়ের গল্পটি শেষ করে ( অন্য এক পৃষ্ঠায়) তার পিতার নাম ও মোবাইল নম্বর পেয়ে গেলাম। কল করলাম। রিং হতে লাগল কিন্ত কেউ রিসিভ করল না। এভাবে সাতবার অতিবাহিত হল। অষ্টমবার তার বাবা রিসিভ করলেন………..।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight