মৃত দেহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর -মামুনুর রশীদ

আল্লাহ তাআলা বেহেশতি রুমণীদেরকে সব রকমের ক্লেদ থেকে পবিত্র রেখেছেন এবং এদের অধিকার হবে তারাই যারা পবিত্র থাকবে পার্থিব পাপ পঙ্কিলতা থেকে। এ কারনে হযরত রাসূলে কারীম সা. আমাদেরকে বারবার সতর্ক করেছেন আমরা যেন আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেচেঁ থাকি। কবীরা গোনাহ থেকে হারাম উপার্জন থেকে সদা যেন আমরা বিরত থাকি। কিন্তু আমরাতো এতটা নির্বোধ! সদা ডুবে আছি শরাবে, সুদে, ঘুষে, অবিচারে গানবাদ্যে এবং মা-বাবার অবাধ্যতায়। আবার এরি ভিতর দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করি। আল্লাহ তাআলার কাছে আমরা মনের আকুতি জানাই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যেসব অন্যায় থেকে বেচেঁ থাকতে বলেছেন তা থেকে মূহুর্তের জন্যও বিরত থাকার কথা ভাবি না। ভাবি না এই অন্যায় অপরাধ আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। বেহেশতের কথা ভাবি না, দোযখের কথা ভাবি না, আল্লাহর কথা ভাবি না, মৃত্যু কবর, হাশর, কবরের একাকিত্ব, হাশরের অসহায়ত্ব কোন কিছুই ভাবি না। আমাদের চোখের সামনে কত চেনা মুখ অসংখ্য সম্পদ পিছনে ফেলে চলে গেলো। কিন্তু তাদের দেখে আমরা সামান্যতমও শিক্ষা গ্রহণ করি না। যারা এ সময় এ পৃথিবীতে দাপটের সাথে রাজত্ব করেছে আজ তাদের কবরের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস কর, তোমার সামনে তো এক সময় পৃথিবীর শক্তিশালী বাহাদুরও মাতা নত করে বসে পড়তো। আজ তুমি কেন মাটির নিচে পড়ে আছো? আজ তোমার ভেঙ্গে পড়া কবরের পাশে কেন মাকড়সার বাসা? এই পৃথিবীতে তুমি ছিলে রুপের সম্রাজ্ঞী। গোলাপের পানি দিয়ে গোসল করতে। আজ তোমার শরীরের হাড় গুলো আলাদা হয়ে পড়ে আছে। তোমার কবরের পাশে তোমাকে স্মরণ করার মত কেউ নেই। কোথায় গেল তোমার দুনিয়ার এতো ক্ষমতা? তোমার শক্তি দেখে তো পৃথিবীর সকল প্রকার অন্যায় করলেও তোমার জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল, আজ তোমার এতো কমদামি কাপড় কেন? তুমি তো পৃথিবীতে হাজার হাজার টাকা দামের কাপড় পরিধান করতে, কোথায় গেল আজ তোমার এতো ঐতিহ্য? সূরা ফাতিহা পাঠ করে দুআ করার মতো আজ তোমার একটি লোক নেই। কি হলো তোমার তুমি যে কথা বলছো না? আর কোন দিন এ পৃথিবীতে তুমি আসবে না? তাহলে তুমি কি অজানা এক জগতে চলে গিয়েছো? সে আর কোন দিন কথা বলতে পারবে না?
প্রিয় পাঠক: আমাদের উচিত, এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। যারা একদা এ পৃথিবীতে বিত্তের প্রতিযোগিতায় সুদ, খুন, জুলুম শরাব ব্যভিচার গানবাদ্য কোন কিছুই ছাড়েনি। তারা তো সকলেই মাটির নিচে পড়ে আছে। একদা আমরাও এদের পথ অনু করে এই কবরের বাসিন্দা হবো। প্রতিদিনের মতো পৃথিবীতে সৃর্য ওঠবে, ঘরবাড়ী আবাদ হবে, কাজ কর্ম সবই চলবে আগের মতো। চলবে ব্যবসা-বাণিজ্য; কিন্তু সন্তানরা মাকে ভুলে যাবে। ভুলে যাবে সেই সোহাগিনী মায়ের কথা যে একদা সন্তানের অসুস্থতায় রাত ভর শিয়রের কাছে নির্ঘুম কাটিয়েছে। ভুলে যাবে সেই পিতার কথাও যে পিতা সন্তানের মুখে হাসি ফুঁটাতে গিয়ে নিজের জীবনের সকল সুখ-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে। সন্তানের মুখে সখের খাবার তুলে দেয়ার  জন্যে তপ্তরোদে বাজারে ঘুরে বেড়িয়েছে। গ্রীষ্মের তাবদাহে এক দেশ থেকে আরেক দেশে সফর করেছে। নিষ্ঠুর এই পৃথিবী এ ভাবেই এগিয়ে চলে। কেউ কাউকে মনে রাখে না। হে ভাই/ বোন! তারপরও কি আমরা শিক্ষা গ্রহণ করবো না ?….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight