মাসিক আল জান্নাত-এর ৫ম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। তাঁরই অনুগ্রহে মাসিক আল জান্নাত ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। পঞ্চম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মাসিক আল জান্নাত-এর সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দ, পৃষ্ঠপোষক, লেখক, পাঠক এজেন্টসহ সকল শুভানুধ্যায়ীকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। মাসিক আল জান্নাত-এর পথ চলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারী মাস থেকে। যাঁদের নেক নিয়ত, ঐকান্তিক চেষ্টা-প্রচেষ্টা, মেহনত ও মুজাহাদার বদৌলতে মাসিক আল জান্নাত জন্ম নিয়ে পথ চলতে শুরু করেছিলো তাঁদের প্রত্যেককে জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা ও মুবারকবাদ। এই শুভ মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সেসকল সম্মানীয় কর্মকর্তাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি যাঁরা অকুণ্ঠচিত্তে এই পত্রিকা প্রকাশের অনুমোদন দান করেছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের এই পথযাত্রা কঠিন হতো। আমরা তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আশাকরি, আমাদের সঙ্গে তাঁদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মূলত দীনে ইসলামের পথে নিজেরা সুদৃঢ় থাকা, অন্যদের এই পথে আহ্বান জানানো এবং সহীহ দীনি দাওয়াতের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই ‘মাসিক আল জান্নাত’-এর প্রকাশনা শুরু হয়েছিলো। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে, সত্য ও সুন্দরের পথে চলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম হবে আমাদের সকলের জন্য—এমন বিশ্বাস ও মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই মাসিক প্রকাশনাটির নাম দেয়া হয়েছিলো ‘আল জান্নাত’।
মূলত মানবজাতির প্রত্যেক সদস্যই জান্নাতের পথের পথিক। জান্নাতই আমাদের চূড়ান্ত ঠিকানা, যা চিরস্থায়ী ও শাশ্বত। এই মাটির পৃথিবীর ক্ষণকালের জীবনকে মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধান এবং তাঁর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ মানব ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত করতে পারলেই আমাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থল হবে সর্বোচ্চ নিবাস জান্নাতুল ফেরদাউস। এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই জান্নাতের পথে এগিয়ে নিতে মাসিক আল জান্নাত যদি সামান্য ভূমিকাও রাখতে পারে, তাহলেই এর প্রকাশনা ও পথচলা সার্থক হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশুদ্ধ দ্বীনি প্রকাশনা সহীহ ইসলামের প্রচারে বিশাল অবদান রাখতে পারে। বিশেষ করে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎকর্ষের এই আধুনিক যুগে। ইসলাম যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন-দর্শন ও জীবনব্যবস্থা; একমাত্র ইসলামি সভ্যতা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি-নীতিই যে সর্বোচ্চ মানবতার ধারক-বাহক, যেখানে কোনো মানবতাবিরোধী রীতি-নীতির প্রশ্রয় নেই; তদুপরি ইসলাম যে চিরআধুনিক জীবনঘনিষ্ট এক ধর্মের নাম তা অনেকাংশে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছে মাসিক আল জান্নাত। এই ক্ষেত্রে গত পাঁচবছরে মাসিক আল জান্নাত কতটুকু সফল হয়েছে তার মূল্যায়নের ভার পাঠকবৃন্দের কাছেই ছেড়ে দেওয়া সমীচীন মনে করছি। ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণের এই শুভক্ষণে আমরা আপনাদের সকলের কাছে আন্তরিক দোয়া চাই যাতে আমরা অতীতের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি অসম্পূর্ণতা কাটিয়ে উঠে আরো বেশি পূর্ণতা নিয়ে নির্ভুলতার সাথে মাসিক আল জান্নাতকে এগিয়ে নিতে পারি।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করো।’ [সূরা বাকারা : আয়াত ১৪৮] আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ পালনার্থে দ্বীনে ইসলামের মহান খেদমতে শরীক হওয়ার মানসিকতায় আমরা মাসিক আল জান্নাত প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের এই কার্যক্রম কোনো ধরনের পার্থিব স্বার্থ বা ব্যয়সায়িক উদ্দেশ্যে নয়; আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতের সাফল্য কামনা। আমরা মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখাতে চাই, মানবিকতা ও কল্যাণের পথে এগিয়ে নিতে চাই, মানুষের স্বভাবে ও কর্মচাঞ্চল্যে তাদের চারিত্রিক মাধুর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চাই। আমরা চাই না কোনো মানুষ পথভ্রষ্ট হোক, মা-বাবা ও গুরুজনের প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণ করুক, কল্যাণকামিতা ও মানবিকতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। বর্তমান বিশ্বে যে-বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি তার প্রধান কারণ মানুষ সত্য ও সুন্দরের চেতনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; মানুষের অভ্যন্তরীণ নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলি অসত্য ও অসুন্দরের আঁধারে ঢাকা পড়েছে। আমার মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলিকে জাগিয়ে তুলতে চাই এবং সকল মানুষকে সুন্দর ও কল্যাণের অভিমুখে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
পরিশেষে আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।
ধন্যবাদান্তে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight