মানবাত্মার বিজয় উৎসব ঈদ

আরবীতে ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ-‘যা বার বার ফিরে আসে’। সময়ের যে মুহূর্তটা এখন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে তার দেখা আর হবে না। জীবনের শৈশব, কৈশোর, যৌবন বা বার্ধক্যের যে অধ্যায়টিই অতিক্রান্ত হচ্ছে তার পুনরাগমন কোনকালেই হবে না। এভাবে বস্তুজগতের প্রতিটি জিনিসই একবার গেলে আর ফিরে আসে না। এ েেত্র ঈদের নিয়ম ব্যতিক্রম। প্রতি বছর এর আগমন হয় আমাদের সবার জন্য। তাই এর নাম ‘ঈদ’। মানে ‘বার বার ফিরনেওয়ালা’। বছরের ঋতুগুলোও বার বার ফিরে আসে। কিন্তু ঈদের জন্য সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে আকুল হয়ে অপোয় থাকে সেরূপ কোন ঋতু বা তিথির জন্য থাকে না। ঈদ মানব মনের রাশি রাশি আশার পুষ্পমাল্য আর অনাবিল আনন্দের সওগাত নিয়ে অন্তরের দুয়ারে দেখা দেয়। ফলে ঈদের প্রত্যাবর্তন সব মানুষই মনের সবটুকু অনুভূতি দিয়ে উপলব্ধি করে। তাই এর নাম হয়েছে ‘ঈদ’; বারে বারে দেখা দেনেওয়ালা। আরবী ভাষার ঈদের এত ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ হয়ত অন্য ভাষায় নেই।
ঈদের পারিভাষিক অর্থ উৎসব। যে পর্ব বা উপলকে কেন্দ্র করে মানব মনের সবটুকু আনন্দের সার্বজনীন প্রকাশ ঘটে তাকেই বলা হয় উৎসব। এদিক থেকেও ঈদের তাৎপর্য অনেক গভীর। একমাত্র ‘ঈদ’ ছাড়া সমাজের ধনী, গরীব, শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিতি-অশিতি, কৃষক-মজুর, সমাজ নেতা তথা সর্বস্তরের সব মানুষের মনের সবটুকু আনন্দ প্রকাশ করার অন্য কোন উৎসব নেই। ঈদের আনন্দ একান্ত আল্লাহর দেয়া, আবার আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। তাই ঈদের দিন কারো মনে ব্যথা বেদনা থাকলেও আল্লাহর দেয়া আনন্দের প্রবাহে তা দর হয়ে যায়। বিন্দুমাত্র ঈমানের অধিকারী মুসলমানের অন্তরেও যে কোন অবস্থায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার এক পবিত্র ভাবধারা অনুরণিত হয় এ দিনে।
তবে সার্বজনীন আনন্দ উৎসব হওয়ার মধ্যেই কি ঈদের তাৎপর্য সীমাবদ্ধ? এর সঠিক জবাব পাওয়ার জন্য আমরা আলোচনার আরো গভীরে প্রবেশ করব। পৃথিবীতে যে কোন জাতি ও সম্প্রদায়েরই নিজস্ব উৎসব আছে। ইতিহাসের শুরু থেকেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। এখন অনেক েেত্র এসব উৎসবের নাম পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বিপ্লব বার্ষিকী, শিশু দিবস, শ্রমিক দিবস প্রভৃতি। উপল, প্রোপট ও চরিত্রের বিচারে আমরা এসব উৎসব ও দিবসকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি।
১. জাগতিক সাফল্য বা বিজয়ের উৎসব। যেমন বিজয় দিবস। শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করার স্মৃতিস্বরূপ জাতীয়ভাবে এ দিবস পালন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস-যা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের মহান স্মৃতির স্মরণে পালিত হয়। বিপ্লব দিবস-যা জাতির সামনে, অতীতে সমাজ বিপ্লব ঘটানোর গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
২. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মৃতি রোমন্থন কিংবা নৈতিক চেতনা সৃষ্টিকারী উৎসব, যেগুলো শ্রমিক দিবস, শিশু দিবস, কোন মনীষীর জন্ম ও মৃতু্যদিবস প্রভৃতি আকারে উদ্যাপিত হয়।
৩. ধর্মীয় উৎসব, বিশেষ ধরনের পূজা-অর্চনার মাধ্যমে এ উৎসব পালিত হয়। যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পূজা উৎসব।
এখন প্রশ্ন হলো, ইসলামের যে দুই বড় ঈদকে সামনে নিয়ে আমরা আলোচনা করছি তা উল্লেখিত তিন প্রকার উৎসবের মধ্যে কোন ভাগে পড়ে? ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা কি জাগতিক কোন শত্রু বা শক্তির বিরুদ্ধে কোন জাতির বিজয়ের উৎসব?-না। এ দুই ঈদ কি বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের ন্যায় কোন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্মৃতিচারী কিংবা নৈতিক চেতনা সৃষ্টিকারী উৎসব? নিশ্চয়ই না। তাহলে এ ঈদ কি কোন বিশেষ ইবাদত অনুষ্ঠান বা পূজা অর্চনার উৎসব? যেমনটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা করে থাকে? নিঃসন্দেহে তাও নয়। তাহলে মুসলমানদের দুই ঈদের আসল পরিচয় কি?
এক কথায় বলতে গেলে মানুষের নিজের ওপর নিজের বিজয় লাভের উৎসব হলো ঈদ। যাবতীয় মানবীয় গুণাবলীতে সজ্জিত হয়ে সত্যিকার মানুষ হওয়ার চরম সাফল্যের উৎসব এই ঈদ। নৈতিক, মানবিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের আনন্দ উৎসব হলো এই ঈদ।
পৃথিবীর বুকে যে কোন ধর্ম বা চরিত্র বিজ্ঞানের মূল কথা হলো, মানুষকে যে অত্মা, প্রাণ বা রূহ দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে তার দু’টি রূপ। একটি হলো ‘নফস’ অপরটি ‘রূহ’। নফসকে ‘জীবাত্মাও’ বলা হয়, আর রূহকে ‘পরমাত্মা’। উভয়ের সংযোগে মানব জীবনের একটি জৈবিক দিক আছে, আরেকটি মানবিক ও আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে। মানুষ রূহ বা পরমত্মার নিয়ন্ত্রণ হারা হলে নফস বা জীবত্মার তাড়না ও জৈবিক কামনা বাসনার দ্বারা চালিত হয়ে হিংস্র বন্য জন্তুর চাইতেও অধঃপতনে চলে যেতে পারে। তখন সে যেনা-ব্যভিচার, হত্যাকান্ড, স্বার্থপরতা, জুলুম, অত্যাচার, ভোগ-লালসা প্রভৃতির গোলামে পরিণত হয়। যেমনটি আজকের বস্তুবাদীরা হয়েছে। আবার রূহ বা অত্মার পথ নির্দেশে চালিত হয়ে সত্যিকার আদর্শ মানুষে পরিণত হতে পারে। তখন তার মর্যাদা আল্লাহ্র নিষ্পাপ ফেরেশতাদের চাইতেও বেড়ে যায়। এমন কি আল্লাহ্র পরম সান্নিধ্য অর্জনের ফলে আল্লাহ্র মহান গুণাবলী ও চরিত্রের প্রতিফলন তার জীবনকে মহিমানি¦ত করে তোলে। সততা, পরোপকার, প্রেম, পবিত্রতা জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রভৃতি মহৎ গুণাবলী তার জীবনকে সুবাসিত ও সুরভিত করে। তখন মানুষ স্রষ্টার কাছে যেমন প্রিয় ও বরণীয় হয় তেমনি সৃষ্টির কাছেও আদরণীয় ও সমাদৃত হয়। যে কোন ধর্ম বা আদর্শই পৃথিবীর বুকে উন্নত সমাজ ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য শেষোক্ত পরিচয়ের লোকদেরই কামনা করে। কিন্তু এই মানুষ কিভাবে কোথায় পাওয়া যাবে বা গঠন করা সম্ভব হবে তা অনেক ধর্ম ও মতাদর্শের জানা নেই।
ইসলাম বলে, মানুষের নফসকে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করা যাবে না। তাহলে জাগতিক জীবন অচল হয়ে পড়বে। রূহের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। বরং রূহের দ্বারা ‘নফস’কে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জৈবিক কামনা-বাসনার মুখে লাগাম পরাতে হবে মানবিক ও আধ্যাত্মিক চেতনা দিয়ে। যেনা-ব্যভিচার, ভোগের দৌরাত্ম্য, জুলুম-অত্যাচার ও স্বার্থপূজা প্রভৃতি অসৎ চরিত্রকে মানুষের জীবনে চরমভাবে অবদমিত করতে হবে। পান্তরে পবিত্রতা, মানব প্রেম, ত্যাগ প্রভৃতি সৎ গুণাবলীর লালন ও উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। যেদিন মানুষ নিজের ব্যক্তি জীবনে এবং গোটা সমাজে এই ল্য অর্জন করতে পারবে, সেদিনই সাম্য ও প্রেম-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে যে দিনটিতে মানুষ এই ল্য অর্জনে সাফল্য লাভ করবে, সে দিন কোন নতুন দেশ জয়ের মতো মানুষের প্রকৃত উৎসব ও আনন্দের জয়গান করা উচিত। নিঃসন্দেহে ইসলামের নির্দেশিত দুই ঈদের দিনে মানুষ এই বিজয় অর্জন করতে পারে।
রমযানে দীর্ঘ এক মাস নফসের বিরুদ্ধে একটানা সংগ্রাম এবং ঈদুল আযহার দিনে নফসের কামনা-বাসনাকে বধ করার প্রতীক স্বরূপ পশু জবাই করে ঈদের মাঠে রূহ ও পরমত্মার বিজয় ঘোষণা করে। এই অর্থে ঈদ হলো ‘মানবত্মার বিজয় উৎসব’। মানুষকে প্রতি মুহূর্তে বিভ্রান্তকারী ও অধঃপতনের দিকে নানা প্রলোভনে আহ্বানকারী শয়তানের বিরুদ্ধে মানুষের বিজয় উৎসব। এজন্যই মহাপুরুষরা বলেছেন-যে ব্যক্তি রমযানের কৃচ্ছ সাধনায় অত্মাকে পবিত্র করতে পেরেছে এবং যার পাপ মোচন হয়েছে আর কোরবানীতে পশু জবাই করার সাথে জৈবিক কামনা-বাসনাকে জবাই করে একান্ত আল্লাহ্র জন্য নিবেদিত হতে পেরেছে, তার জন্য ঈদ। আর যারা এই গুণের অধিকারী হতে পারেনি তাদের জন্য ওয়াঈদ, ‘দুঃসংবাদের’ দিন। কিন্তু আমরাও আল্লাহ্র পাপমুক্ত নেক বান্দাদের সাথে শামিল হয়ে আল্লাহ্র রহমতের আশায় ঈদের উৎসবে শরীক হই, আনন্দে মেতে উঠি; যদিও আনন্দের পরিবর্তে ডুকরে ক্রন্দন করাই আমাদের উচিত।
মানুষ পৃথিবীতে প্রধানত তিনটি কারণে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। অন্য কথায় নফস মানুষকে তিনটি পথে আক্রমণ করে সহজেই কাবু করতে পারে। এগুলো হচ্ছে-(১) খাওয়া (২) পান করা এবং (৩) যৌন কামনা। ইসলাম মানুষের বিভ্রান্তির এই তিনটি প্রধান উপকরণ বা শয়তানের আক্রমণের পথ বন্ধ করে দিতে চায়। এজন্য দীর্ঘ এক মাস ধরে দিনের বেলা এই তিনটি কাজ বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছে। তাছাড়া রমযানে রোযাদারের মনে সারাণ জাগরুক থাকে আল্লাহ্র ভয়। সারাদিন উপবাস, সন্ধ্যায় ইফতার, আবার দীর্ঘ তারাবীহ্ নামায, শেষ রাতে পুনরায় সেহরীর জন্য রাত জাগা প্রভৃতির ফলে অলসতা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং জীবনে দায়িত্ব চেতনা, কর্মচাঞ্চল্য ও পবিত্র ভাবধারার উৎকর্ষ সাধিত হয়। একত্রে ইফতার, উপবাসে গরীবদের ুধা যন্ত্রণা অনুভব, এক সাথে নামায আদায়, যাকাত ও ফিতরা দান প্রভৃতির মাধ্যমে প্রেম-ভালোবাসা, পরোপকার ও আদর্শ সমাজ গঠনের প্রশিণ হয়। এভাবে দীর্ঘ একমাস প্রশিণের পর ধরে নেয়া হয় যে, মুসলমানরা তাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে সুন্দররূপে পরিচালনার পর্যাপ্ত ট্রেনিং নিয়েছে। তাই ঈদের দিন কুচকাওয়াজ করা হয়। যেমন সামরিক বাহিনীর কোন ট্রেনিং সেশনের পর করা হয়। ইসলামী সমাজের এই আধ্যাত্মিক কুচকাওয়াজ হয় ঈদের মাঠে আর প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।
পৃথিবীর বুকে এমন কোন অনুষ্ঠান-উৎসব বা সভা সমাবেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যা ঈদের মতো এত জাঁকজমকপূর্ণ ও সার্বজনীনভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং সমাজের সব মানুষের জীবন ছুঁয়ে যায়। অথচ তাতে কোন অপচয় হয় না। ঈদের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা স্বয়ং আল্লাহ্। এজন্য এখানে অর্থের অপচয় নেই। ডেকোরেশন কিংবা লোক দেখানো আড়ম্বর নেই। ঢাকঢোল পিটানোরও দরকার নেই। বলতে গেলে কোন খরচই নেই। আল্লাহ্র ডাকে সাড়া দেয়া মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য আল্লাহ্র বান্দারা ঘরে ঘরে তৈরি করে শিরেণী সেমাই। তাতেও কারো সামর্থের বাইরে খরচের প্রয়োজন হয় না। এমন কোন লোক পাওয়া যাবে না, যে ঈদের দিন বলবে যে, সেমাই আর মিষ্টি খেয়ে জীবনের স্বাদ মিটল না। কিছুণ পরে সবাই বলতে থাকে ‘আর না’ ‘আর পারলাম না’। মেযবানও মেহমানকে খাইয়ে পরম আনন্দ পায়। আল্লাহর প হতে এই মিষ্টির আপ্যায়নে প্রতিটি মানুষই আজ আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। এ যেন আল্লাহ্র জন্য দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখার বিনিময়ে সমাজের জন্য ছোট্ট প্রতিদান। কোন সরকারের প হতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোন একটি এলাকার সব মানুষকে কি এরূপ আপ্যায়িত করা যাবে?
একই ধরনের দৃশ্য আমরা দেখতে পাই আযহার ঈদে। ঐদিনও মুসলিম সমাজে এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি বলবেন যে, আমি আজ গোশ্ত কোরমা খেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। সমাজের ধনী-গরীব, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সবাই আজ আল্লাহর যেয়াফত খেয়ে সন্তুষ্ট। আবার আল্লাহর হয়ে যেয়াফতের আয়োজনকারীরাও অন্যদের খাইয়ে সন্তুষ্ট। অন্তত ঈদের দিনে মুসলিম সমাজের সব সদস্য আল্লাহর হুকুম মেনে চলে। এজন্য ঐদিন সমাজের চেহারা বদলে যায়। হযরত ইব্রাহিম আ. আল্লাহর হুকুমে প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবান করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সুন্নতের অনুসরণে নিজের কামনা-বাসনা ও প্রিয়বস্তুকে আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেয়ার প্রশিণ ও ঘোষণা হলো কুরবানি। যারা হজ্বে গমন করেন, তাদেরকেও হযরত ইব্রাহিম আ.-এর ছেলে কুরবানির জায়গা মিনায় গিয়ে পশু কুরবানি দিতে হয়। আল্লাহর হুকুম হলে মুসলমানরা প্রাণপ্রিয় পুত্র সন্তানকেও কুরবানি দিতে প্রস্তুত হত। এর প্রমাণ ও আল্লাহর প্রতি প্রেম-ভালবাসার অনুশীলন কুরবানির ঈদ।

সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight