মানবজীবনে মহানবী সা. এর সীরাতের গুরুত: ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাঁর মহান আদর্শ ও পূতপবিত্র চরিত্রের জন্য তিনি মানবজাতির ইতিহাসে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব। মানবজীবনে তাঁর সীরাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকার যুগে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে প্রেরণ করে বিশ্বমানবতার প্রতি বিরাট করুণা করেছেন। কারণ সে সময়কার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল। অবস্থা এতই নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মানুষ আপন ¯্রষ্টাকে ভুলে গিয়ে নিজ হাতে বানানো দেবদেবীর পূজায় আত্মনিয়োগ করেছিল। মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধ বিলুপ্ত হয়ে মানবজাতি অবনতি ও অধঃপতনের চরম সীমায় উপনীত হয়েছিল। সমস্যার বীজ এত গভীরে পৌঁছে ছিল যে, সাধারণ কোনো শিক্ষক বা সংস্কারকের পক্ষে তা সংশোধন বা সংস্কারের মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি করা সম্ভবপর ছিল না। আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর ভাষায় ‘মানুষের সমগ্র ইতিহাসে এর চেয়ে অধিক নাজুক
ও জটিল কাজ এবং এর থেকে বিরাট ও ‘আজীমুশ-শান জিম্মাদারী আর চোখে পড়ে না, যা একজন নবী ও আল্লাহর প্রেরিত ব্যক্তি হিসেবে মুহাম্মদ সা. এর ওপর চাপানো হয়েছিল। কোনো জমিও এতটা উর্বর প্রমাণিত হয়নি এবং সজীব শ্যামলিমা নিয়ে আসতে পারেনি যেমনটি তিনি পেরেছিলেন। কোনো চেষ্টা সাধনাও এতটা ফলপ্রসূ ও কামিয়াব হয়নি, যতটা তাঁর চেষ্টা সাধনা সাধারণ মানবতার জন্য উপকারী, জীবনদায়ক ও প্রাণসঞ্চারক প্রমাণিত হয়েছে। এসব বিস্ময়কর বস্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ময় এবং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মু‘জিযা।’ (নবীয়ে রহমত) মহানবী সা. আগমনের পূর্বের সময়কার সমাজের চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃড়ভাবে আঁকড়ে ধর এবং তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইওনা। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকু-ের নিকটবর্তী ছিলে, আল্লাহ তা থেকে তোমাদেরকে রা করেছেন। [সূরা আলে ইমরান : আয়াত ১০৩]।
এমন এক জটিল ও কঠিন সময়ে বিশ্বময় আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের ঘোষণা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিরাট চ্যালেঞ্জ নিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. পৃথিবীতে আগমন করেন। আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে নবী! আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিμমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে ও উজ্জ¦ল প্রদীপস্বরূপ। [সূরা আহযাব: আয়াত ৪৫-৪৬]।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. হচ্ছেন সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল। তিনি তাঁর আদর্শ ও পূতপবিত্র চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর মহান চরিত্রের প্রশংসা করে বলেছেন, হে নবী! নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। [সূরা আল কলম : আয়াত ০৪]।
১. মহান আল্লাহ তায়ালা আরো এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। যাঁরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহর অধিক স্মরণ করে। [সূরা আহ্যাব: আয়াত ২১ ]
মহানবী সা. নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে এরশাদ করেছেন, হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, নবী করিম সা. এরশাদ করেছেন, যাবতীয় উত্তম চরিত্র ও উত্তম কার্যাবলী পরিপূর্ণ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা আমাকে প্রেরণ করেছেন। [মিশকাত, হাদীস নং ৫৫২২]।
অপর একটি হাদীসে তিনি আরো এরশাদ করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের নেতা হবো। সবার আগে আমি কবর হতে উত্থিত হবো। সবার আগে আমি সুপারিশ করব এবং আমার সুপারিশ সর্বপ্রম মঞ্জুর করা হবে। [মিশকাত, হাদীস নং ৫৪৯৫]।
এ হাদীস হতে প্রমাণিত হয় তিনি শাফায়াতের ক্ষমতাপ্রাপ্ত। কিয়ামতের দিন তিনি উম্মতের নাজাতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন এবং আল্লাহ তাঁর সুপারিশ কবুল করবেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আরো বিভিন্নভাবে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করেছেন। যেমন, আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন জগতসমূহের প্রতিপালক তথা রাব্বুল আলামিন। তিনি মহানবী সা. কে অভিধা দিয়েছেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত বা করুণার আধার। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মাকামে মাহমুদ ও হাউজে কাউসার দান করে সম্মানিত করেছেন। আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, আশা করা যায় আপনার প্রভু আপনাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন। [সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৭৯]
হাউজে কাউসার সম্পর্কে আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। [সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৭৯]
আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাধ্যমে নবুয়াতের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ তিনি শেষ নবী, তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। মহান আল্লাহর বাণী: মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের কারও পিতা নয়, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের ধারাবাহিকতার সমাপ্তকারী। [সূরা আহ্যাব: আয়াত ৪০]
তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত নবী ও রাসূল। বিশেষ কোনো গোত্র, সম্প্রদায় কিংবা নির্দিষ্টকালের জন্য তিনি আবির্ভূত হননি, যেমনটি পূর্ববর্তী নবী রাসূলগণ হয়েছিলেন। তাঁর আবেদন সার্বজনীন ও সর্বকালীন। আল কুরআনের বাণী, হে নবী! আপনি বলে দিন, হে মানবম-লী! আমি তোমাদের সবার কাছে আল্লাহর রাসূল হয়ে প্রেরিত হয়েছি। সমগ্র আসমান ও জমিনে তাঁর রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর উম্মী নবীর ওপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন তাঁর সমস্ত কালামের ওপর। তোমরা তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার। [সূরা আ‘রাফ: আয়াত ১৫৮]
আহলে কিতাবদেরকে তাঁর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসে গেছেন, যিনি তোমাদের সামনে সেসব কথা খুলে বলেন, যা তোমরা কিতাবের মধ্য থেকে গোপন করতে, তবে তিনি তোমাদের অনেক কিছু ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর তোমাদের কাছে আল্লাহর প থেকে একটি আলোকবর্তিকা এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে, যার মাধ্যমে তিনি সেসব লোককে নিরাপত্তা ও শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর পছন্দ মোতাবেক চলে এবং তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসেন এবং সঠিক পথে তাদেরকে পরিচালিত করেন। [সূরা মায়িদাহ: আয়াত ১৫]
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করেছেন। উপযুক্ত পাত্র। তাই তিনি তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর স্মরণকে সর্বকালের জন্য সুউচ্চ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, হে নবী! আমি আপনার স্মরণকে সুউচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছি। [সুরা আলাম নাশরাহ: ০৪]
সুবহে সাদিকের প্রারম্ভিকা থেকে অন্ধকার রাত পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের সুমধুর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,  আশহাদুআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ আশহাদুআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। সাথে সাথে কুল কায়েনাত হতে বর্ষিত হচ্ছে তাঁর প্রতি সালাত আর সালাম। এ আযানের মধ্যে মহানবী সা. এর মুবারক নামটি উচ্চারিত হয় তখন শ্রোতাকুলের প থেকে তাঁর নামের সাথে দরূদ পাঠ করা হয়। আযান শেষ হলে আবার বিশেষভাবে দোয়া পাঠ করা হয়। যার মর্মার্থ হচ্ছে নবী সা. এর মহান মর্যাদার স্বীকৃতি ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের গুণগান। আযান শুনে মুসলিম উম্মাহ্ মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করেন। এভাবে সকাল-সন্ধ্যা বিরামহীনভাবে নবী সা. এর নাম উচ্চারিত হচ্ছে এবং তাঁর প্রতি সালাত এবং সালাম বর্ষিত হচ্ছে। দিবা-রাত্রির আবর্তনের ফলে μমান্বয়ে পৃথিবীর কোথাও সকাল আবার কোথাও সন্ধ্যা হচ্ছে এবং একইভাবে আযান ও নামাজের আয়োজন হচ্ছে। বিস্ময়কর এ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নবী সা. এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ হতে একটি ুদ্র মুহূর্তও বাদ যাচ্ছে না। আরো বহুমাত্রিক উপলে তাঁর নাম শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হচ্ছে এবং প্রেরিত হচ্ছে সালাত এবং সালাম। পনেরশত বছর ধরে এভাবে বিশ্বময় নিরন্তন ভেসে আসছে আযানের সুমিষ্ট এ ধ্বনী। আর এভাবে চলতে থাকবে অনন্ত-অনাদিকাল পর্যন্ত। এ যেন সৃষ্টির এক অপূর্ব রহস্য! এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাই তো তিনি সৃষ্টির সেরা ও সর্বশ্রেষ্ঠ। মহানবী সা. এর আরো একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি আল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। যেমনটি উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রা. তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনাকালে এরশাদ করেছেন, তাঁর চরিত্র হচ্ছে কুরআনের অবিকল। এ প্রসঙ্গে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ তাঁর রাসুলে রহমত গ্রন্থে লিখেন ‘ইসলামের চিরন্তন মু‘জিযা এবং পবিত্র কুরানের বলিষ্ঠ দলিলের পর যদি অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বস্তু থাকে তাহলে তা হচ্ছে সাহিবে কুরান তথা রাসুলে কারীম সা. এর সীরাত। মূলত কুরআন ও সীরাতুন্নবী অর্থের দিক থেকে একই বস্তু। কুরআন হচ্ছে মতন এবং সীরাত হচ্ছে তার আমল। কুরআন হচ্ছে লিখিত ও হাফিজগণের বে সংরতি একটি কিতাব, আর সীরাত হচ্ছে একটি জীবন্ত ও আকৃতি বিশিষ্ট কুরান যাকে ইয়াসরিবের পথে প্রান্তরে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এসব কারণে তিনি বিশ্বমানবতার জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয় এবং তাঁকে মান্য করা আল্লাহর পক্ষ হতে আবশ্যক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে বড় সাফল্য অর্জন করবে। [সূরা আহ্যাব: আয়াক ৭১]
আরো এরশাদ হচ্ছে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা অতিμম করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন এবং সেখানে রয়েছে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি। [সূরা আন নিসা: আয়াত ১৪]
মহানবী সা. এর তেষট্টি বছরের নাতিদীর্ঘ জীবনকাল গণনার দিক থেকে খুব বেশি না হলেও ইতিহাস সৃষ্টির দিক থেকে এক অনন্য সাধারণ এবং বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ মহামূল্যবান জীবনকাল ছিল যুগান্তকারী এবং সমগ্র পৃথিবীর গতিবেগ পরিবর্তনকারী বিশ্ব ইতিহাসের এক নবসংযোজন। এসব কারণে সীরাতে নববী সা. এর ব্যাপকতা ও পূর্ণতা অন্য সব মহামানবের জীবনী থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের দাবিদার। পৃথিবীর আর কোনো নবী-রাসূল ও মহামানবের জীবনের ুদ্রাতিুদ্র ঘটনা এভাবে সংকলিত, সংগৃহীত ও সংরতি হয়নি। এটা মানব ইতিহাসের বিস্ময়কর এক ঘটনা। তাই সীরাত সমগ্র মানবজাতির সর্বকালের সার্বজনীন সম্মিলিত সম্পদ যেখানে সবার অংশ ও অধিকার বিদ্যমান। সকলেই এ থেকে জীবন চলার পথের আলোকে ও পথনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারে। মহানবী মুহাম্মদ সা. এর সীরাত চর্চার মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার সামনে তাঁর মহান আদর্শ ও অনুপম চরিত্রের সুউজ্জ্বল আলোক রশ্মি পরিস্ফূটিত হয়েছে। তাঁর মহান চরিত্রের মধ্যে বিশ্বের সব মানুষের জন্য রয়েছে শিণীয় আদর্শ। বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য মহানবী সা. এর সীরাত ও আদর্শের অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই। মনীষী বানার্ড শ’ বলেন,

I have studied himthe

wonderful man-and in my opinion far from being an Anti-Christ he must be called the

Savior of Humanity. I believe that if a man like him were to assume the dictatorship of

the modern world he would succeed in solving its problems in a way that would bring it

the much needed peace and happinevss.

(আমি মুহাম্মদের জীবনী নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি। তাঁর সম্পর্কে আমার অভিমত হচ্ছে, এ চমৎকার মানুষটি দাজ্জাল তো ছিলেনই না, বরং তাঁকে মানবজাতির ত্রাণকর্তা রূপে চিহ্নিত করা যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি মুহাম্মদের মতো একজন ব্যক্তি যদি সমস্ত পৃথিবীর একনায়কত্ব গ্রহণ করেন তাহলে তিনি বর্তমান বিশ্বের সমস্যাদি এমনভাবে সমাধান করতে সক্ষম হবেন, যা বিশ্বের জন্য বয়ে আনবে অপরিহার্য ও বহু-প্রতীক্ষিত সুখ ও শান্তি।) তাঁর মতো পশ্চিমা বিশ্বের অনেক মনীষী মহানবী সা.এর সৎ গুণাবলী এবং আকর্ষণীয় চরিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মাইকেল এইচ হার্ট (জ. ১৯৩২ খ্রি.) তাঁর দ্য হানড্রেড-এ এ প্রসঙ্গে বলেন,

My choice of Muhammad to lead the list of the world `s most influential persons may

surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in

history who was supremely successful on both the religious and secular levels.

(পৃথিবীর ইতিহাসে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের তালিকার প্রথমে মুহাম্মদের নাম স্থান দেওয়ায় বহু পাঠককে আমার এ সিদ্ধান্ত বিস্মিত করতে পারে এবং অনেকের কাছে তা প্রশ্নবোধকও হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষ উভয়ক্ষেত্রে চরমভাবে সফলকাম হয়েছিলেন। ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার এ অভূতপূর্ব নজীরবিহীন সংমিশ্রণই তাঁকে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ব্যক্তিরূপে চিহ্নিত করেছে।) উল্লিখিত আলোচনা হতে প্রমাণিত হয় যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন অনুপম চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী ও সুকৃতির ধারক সকল সৌন্দর্যের আধার। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতাসহ সব সৎগুণের সমাবেশ ছিল তাঁর মহান চরিত্রে। তিনি একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে, একজন নেতা ও একজন শিক্ষক হিসেবে এবং একজন মহান নবী হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ছিলেন সফল এবং সার্থক। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের পূর্ণতা দান করেছেন। তিনি এমন একজন মহোত্তম আল্লাহর বান্দা ও মহান রাসূল যাঁর কোনো তুলনা নেই এবং মর্যাদার বিচারে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বাদিক মর্যাদার অধিকারী। তাঁর আনীত জীবন বিধান ইসলাম এবং তাঁর জীবনচরিত ও আদর্শের মধ্যে রয়েছে মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও কল্যাণের পাথেয়। এ জন্য তাঁর এ মহান সীরাত অনন্তকাল বিশ্ববাসীকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করবে। ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য তাঁর আদর্শ ও সীরাতের অনুসরণ ও অনুকরণের বিকল্প নেই। তাই মানবজীবনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর সীরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশেষে ফার্সী কবি  শেখ সা’দীর বিখ্যাত দুটি চরণ উদ্ধৃতির মাধ্যমে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম করছি।
বালাগাল উলা বিকামালিহি + কাশাফাদ্দুজ্জা বিজামালিহি+হাসুনাত জামিউ খিছালিহি + সাল্লু আলাইহি ওয়ালিহি
অর্থ: আরোহণ করেছেন তিনি পূর্ণতার সর্বশীর্ষে সমস্ত অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে তাঁর সৌন্দর্যে অপূর্ব চরিত্র তাঁর অনুপম সৌন্দর্যে ম-িত ॥ সালাত ও সালাম তাঁকে এবং তাঁর পরিবারবর্গকে ॥

লেখক: প্রবন্ধকার ও গবেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight