মাদকাসক্তির মরণ ছোবলে বিপন্ন মানব সভ্যতা : উত্তরণে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি : মুফতি সরওয়ার হোসাইন

মদের শাব্দিক অর্থ : মদ শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে মদ্য শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। মদ (বি) শব্দের অর্থ : ১. দম্ভ, গর্ব, অহঙ্কার (শক্তি মদমত্ত), ২. প্রমত্ততা, ৩. বিহ্বলভা, ৪. কস্তরী (মৃগমদ), ৫. মদ্য, সুরা, ৬. প্রমত্তকর রস (মহুয়ার মদ), ৭. হাতির গ-দেশ থেকে ক্ষরিত স্্রাব। মত্ততা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বিশেষ বা নেশার দ্রব্য। মদ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ধহু বীযরষধৎধঃরহম রহঃড়ীরপধঃরহম ফৎরহশ; ংঢ়রৎরঃঁড়ঁং ষরয়ঁড়ঁৎ রিহব
পানীয় ও ঔষধ হিসেবে এবং অন্য পণ্য পরিচ্ছন্ন করতে যে ধষপড়যড়ষয ব্যবহার করা হয় তা মদ। যেহেতু বলা হয় ডরহব পড়হঃধরহং ধনড়ঁঃ ১০% ধষপড়যড়ষ আর মাদক ধষপড়যড়ষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
মদের আরবী প্রতিশব্দ ‘খমর’ এর কয়েকটি অর্থ হয়। যেমন, ক. বিলোপ করা, ঢেকে ফেলা, আবৃত করা, গোপন করা। কেননা মদ মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধিকে ঢেকে ফেলে বা গোপন করে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আর মদ হলো তা যা বিবেককে বিলোপ করে দেয়। উড়নাকেও ‘খমর’ বলা হয়, এই জন্য যে, তা মহিলাদের বক্ষ ও মাথাকে ঢেকে রাখে। অনুরূপভাবে মদ মানুষের জ্ঞানকে ঢেকে রাখে। তাই মদকে ‘খমর’ বা মদ বলে নামকরণ করা হয়। খ. নেশা সৃষ্টিকারী যে কোন দ্রব্য যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী যে কোন দ্রব্য মদ, আর যাবতীয় মদ হারাম।’
গ. মিশ্রিত করা। যেহেতু মদ জ্ঞানের সাথে মত্ততাকে মিশ্রিত করে।
ঘ. ঘন সন্নিবেশিত বৃক্ষকে ‘খমর’ বরা হয় এই জন্য যে, তা জমিনকে ঢেকে রাখে।
ঙ. পঁচানো বা পাকানো (ভবৎসবহঃধঃরড়হ) আঙ্গুর ও খেজুর থেকে গৃহীত নির্যাসকে ‘খমর’ বলে।
মদের পারিভাষিক অর্থ : মদের পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে অনেক মতামত আছে। যেমন, ড. ইব্রাহীম মাদকুর বলেন, “মদ হলো আঙ্গুর এবং অন্য কিছুর নির্যাস যা নেশা সৃষ্টি করে।”
ড়ীভড়ৎফ ফরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, রিহ : ধহ ধষপড়যড়ষরপ ফৎরহশ সধফব ভৎড় ঃযব লঁরপব ড়ৎ মৎধঢ়বং ঃযধঃ যধং নববহ ষবভঃ ঃড় ভবৎসবহঃ. ধহ ধষপড়যড়ষরপ ফৎরহশ সধফব ভৎড়স ঢ়ষধহঃং ড়ৎ ভৎঁরঃং ড়ঃযবৎ ঃযধহ মৎধঢ়বং.
আল্লামা ইউসুফ কারযাভী বলেন, মদ্য বা সুরা বলা হয় এমন এ্যালকোহলীয় পদার্থকে, যা পান করা হলে নেশাগ্রস্ত হতে হয়। যে সকল ঔষধ বা দ্রব্যাদি সেবন করলে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক বা মানসিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে, মানুষ অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং উত্তরোত্তর সে সব ঔষধ বা দ্রব্যাদি সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় তাই মাদক দ্রব্য হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
জমহুরের মতে, নেশা কম হোক বা বেশি হোক তা হারাম এবং তাই মদ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (যিড়) ড্রাগের সংজ্ঞা সম্পর্কে বলেছে, ড্রাগ হলো এমন বস্তু, যা জীবন্ত জীব গ্রহণ করলে তার এক বা একাধিক কার্যকলাপে ঈর্ষৎ পরিবর্তন ঘটায়।
মোটকথা, উপর্যুক্ত সংজ্ঞাসমূহ থেকে একথা প্রতীয়মান হয়, যে দ্রব্য গ্রহণ করলে নেশার উদ্রেক হয় তাই মদ। তাই তা পান করা, সেবন করা, খাওয়া, ইনজেকশন হিসেবে পুশ করা ইত্যাদির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে নেশা উদ্রেক হতে পারে।
মাদকাসক্তি বা নেশা কি? : মাদকাসক্তি শব্দটি যুগল শব্দ। যার একটি হলো মাদক, অপরটি হলো আসক্তি। অর্থাৎ, মাদক + আসক্তি = মাদকাসক্তি। মাদক শব্দটি মদ শব্দের বিশ্লেষণ। মাদক অর্থ মত্ততা জন্মায় এমন (মাদক দ্রব্য)। আর মাদকতা (বি) অর্থ মত্ততা বা নেশা উৎপাদন শক্তি।
আর ইংরেজি প্রতিশব্দ মাদক (ধফল) অর্থ রহঃড়ীরপধঃরহম; রহবৎনৎরধহঃ; ধফফরপ- ঃরাব; ংঃঁঢ়বভুরহম অর্থাৎ মাদক অর্থ ফৎঁম রহঃড়ীরপধহঃ
আর আসক্তি হলো বিশেষ্য পদ। যার অর্থ গভীর অনুরাগ, লিপ্সা, পাওয়ার দুর্দমনীয় প্রত্যাশা। অর্থাৎ মাদকাসক্তির অর্থ হলো, নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যের প্রতি গভীর অনুরাগ বা পাওয়ার দুর্দমনীয় প্রত্যাশা। অন্যকথায় বলা যায়, যা পাবার জন্য মন-প্রাণ অস্থির হয়ে যায় তাই হলো মাদক নেশা। আর মাদক দ্রব্যের প্রতি যার আসক্তি রয়েছে তাকেই বলে মাদকাসক্তি।
যে কোন ধরনের নেশা বা আসক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, আসক্তি হচ্ছে নিউরোট্রান্সমিশনের (হবঁৎড়ঃৎধহংসরংংরড়হ) স্ব আবেশিত এমন এক পরিবর্তন যা সমস্যা সৃষ্টিকারী আচরণের জন্ম দেয়।
মাদকাসক্তি সম্পর্কে অনেক মতামত পাওয়া যায়। নি¤েœ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মতামত তুলে ধরা হলো :
ইমাম আযম আবু হানিফা রহ. বলেন, মাদকাসক্তি বা নেশা হলো যার সাথে সম্পৃক্ত। তা জ্ঞানকে বিলুপ্ত করে, এমনকি মাতাল ব্যক্তি কোন কিছু বোঝে না, কথাবার্তায় জ্ঞান থাকে না, পুরুষ ও মহিলার মধ্যে এবং ভূম-ল ও নভোম-লের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।
সাহেবাঈন ও অন্যান্য ইমামগণ বলেন, “মদমত্তা বা মাতাল হল, যে উদ্দেশ্যহীন ও আবোল তাবোল কথাবার্তায় বিজয়ী। কেননা, সে মানুষের পরিচয় ও স্বভাবের ব্যাপারে মাতাল। নিশ্বয় মানুষের পরিচয়ের ব্যাপারে মাতাল হল এমন ব্যক্তির নাম যে উদ্দেশ্যহীন ও আবোল তাবোল কথা বলে এবং যে অন্যের কাপড় থেকে নিজের কাপড় এবং অন্যের জুতা থেকে নিজের জুতা চেনে না।
উল্লেখ্য যে, সাহেবাঈনদের মতের সাথে অধিকাংশ মাশায়িখ মত দিয়েছেন এবং এর উপর ফাতাওয়া। যেমনভাবে তানভীরুল আবসার ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
মাদকাসক্তির সংজ্ঞা অন্যভাবে বলা যায় যে, উৎঁম ধফফরপঃরড়হ ড়ভ পড়ঁৎংব রং সধহরভবংঃবফ ধং ধ ংঃধঃব রহ যিরপয ধ ঢ়বৎংড়হ যধং ষড়ংঃ ঃযব ঢ়ড়বিৎ ড়ভ ংবষভ পড়হঃৎড়ষ রিঃয ৎবভবৎবহপব ঃড় ধ ফৎঁম ধহফ ধনঁংবং ঃযব ফৎঁম ঃড় ংঁপয ধহ বীঃবহঃ ঃযব ঢ়বৎংড়হ ড়ৎ ংড়পরবঃু রং যধৎসবফ.
মাদকাসক্তি অবশ্যই এমন একটি মানসিক ও শারীরিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে যাতে একজন মানুষ মাদকতা সম্পর্কে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং মাদকতার অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বিস্তার করে ক্ষতি সাধন করে।
মাদকাসক্তি এমন একটি মানসিক অবস্থা, কখনও বা শারীরিক অবস্থা যার আবির্ভাব ঘটেছে জীবিত প্রাণী ও মাদক দ্রব্যের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে। এ অবস্থার আচরণগত অন্যান্য প্রতিক্রিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মাদক সৃষ্ট ফল পাওয়ার মানসিক প্রলোভন বা মাদকের অনুপস্থিতিজনক অস্বস্তি এড়ানোর জন্য মদ দ্রব্যটি কম বেশি নিয়মিত গ্রহণ করার দুর্দমনীয় আকাঙ্খা।
১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত বলতে বুঝায় এমন একজন মদ্যপায়ীকে যে অভ্যাসগতভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল, মাদক দ্রব্য সেবন কিংবা গ্রহণ যেন তার নিকট রোগাক্রান্ত তুল্য, মদ্যপান তাকে আস্তে আস্তে ধ্বংসের দিকে, অবক্ষয়ের দিকে, ফলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে।
উপর্যুক্ত সংজ্ঞাসমূহ থেকে একথা প্রণিধানযোগ্য যে, মাদকাসক্তি হচ্ছে এক ধরনের অসুস্থতা যার ফলে রোগী ড্রাগের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একবার ড্রাগ ব্যবহার ভালো লাগার আমেজের মধ্য দিয়ে জন্ম পুনরায় ব্যবহারের ইচ্ছা। এভাবে পুনঃপুনঃ ড্রাগ ব্যবহারের ফলে ড্রাগের প্রতি সহনশীলতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
ফলে ব্যবহারকারীকে ড্রাগের মাত্রা বাড়াতে হয়। এভাবে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ড্রাগ ব্যবহার না করলে শরীরে প্রত্যাখানজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আর এইরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাকে আবার টেনে নিয়ে যায় ড্রাগের দিকে। ফলে আসক্ত ব্যক্তি একমাত্র ড্রাগ ব্যবহারের চিন্তা-ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জীবনের বাকী সব চাহিদা, দায়িত্ব ও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। ড্রাগ ব্যবহারের প্রাথমিক অবস্থায় সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলেও পরবর্তীতে তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় আরও ড্রাগ সংগ্রহ ও ব্যবহার। এভাবেই তার পরিণতি হয় মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা যার পরিণাম মৃত্যু।
মদের উপাদান : মদরে উপাদান হিসেবে সাধারণত আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যবের কথা হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে। এ সম্পর্কে ইবনে উমর রা. বলেন, মদ হারাম হওয়ার আয়াত নাযিল হয়েছে। আর তা তৈরি হয় পাঁচ প্রকারের জিনিস থেকে। যথা, আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। তবে এ পাঁচটি জিনিসের মধ্যে উপাদান সীমাবদ্ধ নয় বরং যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে বিলোপ করে দেয় তাই মদ। বর্তমানকালে মদের আরো অনেক উপাদান মানুষ বের করেছে যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে বিলোপ করে। তবে মূল উপাদান ভেষজ থেকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পোপাভার সমনিফেরাম নামক এক ধরনের উদ্ভিদের উপাদান থেকে আফিম তৈরি হয়। ১৮০৫ সালে মাটারনাম নামে একজন বিজ্ঞানী আফিম থেকে আরো শক্তিশালী বেদনা নাশক দ্রব্য প্রস্তুত করেন এবং গ্রীক নিদ্রাদেবী এর নাম অনুসারে তার নাম দেন মরফিন। পরবর্তীকালে ১৮৯৫ সালে একজন জার্মান ফার্মাসিস্ট মরফিন থেকে অধিক গুণ শক্তিশালী বেদনা নাশক দ্রব্য হেরোইন প্রস্তুত করেন। হেরোইনের নেশা মরফিনের তুলনায় ৩ গুণ এবং আফিমের তুলনায় ৩০ গুণ অধিক। ক্যানাবিস স্যাটাইভা নামের এক ধরনের উদ্ভিদ, কা-, পাতা, ফুলের ঊর্ধ্বভাগ, রস, ডাল, ও বীজ থেকে গাঁজা তৈরি হয়। তাছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার কোকা পাতা থেকে তৈরি হয় কোকেন।
বর্তমান সময়ে উল্লেখযোগ্য মাদকদ্রব্য : গাঁজা, হাশিশ, হেরোইন, প্যাথেড্রিন, মরফিন, কোকো, ক্যাফেইন, অ্যামফেটামিন, বার্বিচ্যুরেট, মেথাকোয়েলেন, ট্যাংকুইলাইজার্স, এলএসডি, পেথেডিন, আফিম, কোডিন, থিবাইন, প্যাপাভারিন, নোসকাফাইন, নারকটিন, মেথাডন, ডেকাট্রোমোবাইড, ডাই পিপানন, ডাই হাইড্রোকোডিন, পেণ্টানাইল, কেণ্টাযোকাইন, আলফঅ, প্রোডাইন, হাইড্রোমরফাইন, আলফেণ্টানাইল, আলফামিথাইল, ফেণ্টানালই, সুপোণ্টানাইল, লোফেণ্টানাইন, ইন্ট্রোফাইন, অক্সিকোডন, ডিমেরাল, ক্যানাবিস, রেসিন, মদ, হুইস্কি, জিন, রাম, ভদকা, তাড়ি, পচাই, সুরাসার, ডিনেচার্ড, স্পিরিট বা মেথিলেটেড স্পিরিট, কোরডায়াজিপক্সাইড, ডায়জিপাম, অক্সাজিপাম, লোরাজিপাম, ফরাজিপাম, কোরজিপেট, ফেন্সিডিল, নাইট্রাজিপাম, ট্রায়াজেলাম, ট্রেমাজিপাম, ইয়াবা ইত্যাদি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাদকদ্রব্য।
মাদকদ্রব্যের শ্রেণীবিভাজন : আধুনিককালে বিশ্ব স্বাস্থ্য (যিড়) নির্ভরতা সৃষ্টিকারী ঔষধের এক আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিভাজন করে দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ১. আচ্ছন্নভাব উদ্্েরককর মাদক। যেমন, (ক) আফিম ধরনের। যথা, মরফিন, হেরোইন, প্যাথেড্রিন, কোডেইন, মিথাডন ইত্যাদি।
(খ) বার্চিচ্যুরেট ধরনের। যথা, গার্ডিনাল, সোনেরিল, ক্রোরাল, মেপ্রোবামেট, ডায়াজিপাম, মেথাকোয়ালোন প্রভৃতি।
২. উত্তেজক ধরনের মাদক। যেমন, (ক) ক্যানাবিস জাতীয়। যথা, গাঁজা, চরস, ভাঙ, সিদ্ধি ইত্যাদি। (খ) অ্যামফিটামিন জাতীয়। যথা, মেথেড্রিন, ডেক্সিড্রিন, ফেনপ্লোরামিন ইত্যাদি। (গ) কোকেন জাতীয়। যথা, কোকেন বড়ি বা নস্যি।
৩. ভ্রম বা মায়া উৎপাদনকারী মাদক। যথা, এল. এস. ড মেসক্যালিন।
৪. বিভিন্ন ধরনের ঔষধ। যেমন, (ক) যন্ত্রণানিবারক ঔষধ। যথা, অ্যাসপিরিন, পেন্টাজোনিন ইত্যাদি। (খ) পেট্রোলিয়াম উদ্ভূত দ্রব্য। যথা, আটা শোঁকা, পেট্রোল শোঁকা, জুতো পালিশ।
মাদকাসক্তির প্রভাব : মাদকাসক্তি মানুষকে সাময়িক আনন্দ দেয় বটে, তবে যতটুকু দেয় তার থেকে তার থেকে বেশি কেড়ে নেয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “তাদের পাপ উপকার থেকে বেশি।”
সর্বোপরি বলা যায়, মাকদাসক্তি ক্ষতিকর প্রভাব এত সুদূর প্রসারী যা বিপদজনক মাইন থেকেও ভয়াবহ ও মারাত্মক। নি¤েœ মাদকাসক্তির গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভয়াবহ কুপ্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রভাব : মাদকাসক্তির ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রভাব সুদূর প্রসারী। যেহেতু মাদককে আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী, ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হতে পারবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করেছে এরপর সে তা থেকে তাওবা করেনি, সে ব্যক্তি আখেরাতে তা থেকে বঞ্চিত থাকবে। তিনি আরো বলেন, মদ পানকারী পান করার সময় মুমিন থাকে না।
২। শারীরিক প্রভাব : মদ মানুষের শরীরে বহুমুখী ক্ষতি সাধন করে থাকে। মদের প্রতিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি বিনষ্ট হয়ে যায়, খাদ্য স্পৃহা কমে যায়, চেহারা বৃকৃত হয়ে পড়ে, ¯œায়ু দুর্বল হয়ে আসে, সামগ্রিকভাবে শারীরিক অক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, শারীরিক শক্তি সামর্থ্য লোপ পায়, মানুষ অকর্মণ্য হয়ে পড়ে, মদ যকৃৎ কিডনী সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে ফেলে, যক্ষা রোগ মদ পানেরই একটি বিশেষ পরিণতি। বর্তমানে এইডস এর প্রাদুর্ভাবেও মদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ডা. জাকির নায়েক বলেন, মাদকসেবীদের মধ্যে ৯০% বহুগামিতায় অভ্যস্ত। আর অরফং (অপয়ঁরৎবফ রসসঁহব ফবভরপরবহপু ংুহফৎড়সব) থেকে নিজেকে সংরক্ষণ করতে সমকামিতা, যৌনাচার পরিহার করা অন্যতম উপায়। তবে ঐরা (ঐঁসধহ রসসঁহব ারৎঁংব) শরীরে প্রবেশ করলে তার প্রতিষেধক ঔষধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। অত্যধিক সুরা পানের ফলে কিডনীর সন্নিহিত অঞ্চল উত্তেজিত হয়ে বেশি প্র¯্রাব উৎপন্ন করে। মাদকাসক্ত অমাদকসেবীর তুলনায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে মারা যায়। ¯œায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বুদ্ধি ও বিবেচনা শক্তি লোপ পেতে পারে। অমাদকসেবীর তুলনায় মাদকাসক্তদের মুখগহ্বর, গলা ও স্বরযন্ত্র (ঠড়রপব ইড়ী) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সুরার সাথে যারা ধূমপান করে তাদের পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা যদি সুরা ও ধূমপান একসাথে করে তাহলে, ঋবঃধষ অষপড়যড়ষ ঝুহফৎড়সব দেখা দিতে পারে, যার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে গর্ভজাত শিশু মানসিক ও শারীরিক বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে।
লেখক : ইসলামিক ফাউ-েশন কর্তৃক প্রকাশিত মেশকাত শরীফের বাংলা অনুবাদক, সাহিত্যিক, শাইখুল হাদীস ও পরিচালক মুন্সীগঞ্জ সূফিয়া-নাহার মহিলা মাদসারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight