মহিলা মাদরাসা রমনীর আদর্শ পাঠশালা : মিযানুর রহমান জামীল

শুরু করছি মহান আল্লাহ তাআলার নামে যিনি পরম করুণাময় অতীব দয়ালু। সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে জানে এবং যে জানেনা, উভয়ে এক না।’ আর হাদীসের মধ্যে এসেছে, ‘দীনি ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক নর-নারীর উপর ফরজ।’
ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। নর-নারী উভয়ের জন্য এর বিধানের রয়েছে কিছু ভিন্নতা। ঠিক ছেলেদের জন্য যেভাবে যে আঙ্গিকে চলা-ফেরা করতে হয় সেভাবে মেয়েদের চলাফেরা প্রযোজ্য বা-নিরাপদ নয়, বরং তাদের মধ্যে শরীয়তের এমন কিছু বিধান আরোপ করা হয়েছে যা তাদের ইহকালীন পরকালীন শান্তি ও কামিয়াবীর কারণ।
ইসলামে সহশিক্ষা হারাম। দু’একটি গার্লস স্কুল থাকলেও সেগুলোও তেমন নিরাপদ না। কারণ এগুলো প্রতিষ্ঠার আগে যেভাবে ধর্ষণ নির্যাতন অব্যাহত ছিল তা এখনও কোনো অংশে কম নয়। বিশেষ করে সহশিক্ষালয়গুলোর ক্যাম্পাস বা ছাত্রাবাসে গলায় ফাঁস দেয়া থেকে নিয়ে নানান উপায়ে আত্মহত্যার মতো জগন্য কাজটি এখনও বন্ধ হয়নি। তাহলে এর মূল কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের পথ কী? এককভাবে মহিলাদের জন্য স্কুল খুলেও যদি তাদের নিরাপদ রাখা না যায় তবে সেখানে বুঝতে হবে তাদেরও কোনো না কোনো গলতি রয়ে গেছে। তা কোনো অবৈধ সম্পর্ক আলাপকেন্দ্রীক হোক বা দৈহিক কোনো সম্পর্কের সুত্রে হোক না কেন। এর পেছনের মূল কারণ হলো বেপর্দা
এবং আল্লাহভীতি না থাকা। তাহলে প্রশ্ন জাগে কোন জায়গায় এলে তাদের ভয় প্রদর্শনের সাথে রক্ষা করা সম্ভব হবে? সেটা একটু সচেতনতার সাথে বুঝে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ এবং সময়ের দাবী।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থার নয়া বিপ্লবে মহিলা মাদরাসার ভূমিকা অপরিসীম। একটা মহিলা মাদরাসা একটি জাতি ও সমাজের সু-নাগরিক নির্মাণের কারখানা। ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শরীয়তের মানদণ্ডে জেরা করলে প্রতিফলিত হবে, সমাজে নারীদের ইসলামী শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ। কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে ধর্মর্বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিকার করতে হলে এর বিকল্প পথ অবলম্বন করাই সময়ের দাবী। যুগের পরিবর্তনে সবকিছুর মধ্যে বিবর্তন সাধিত হলেও ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে আপন অবস্থায় রেখে ধর্মীয় পরিবেশে সমাজে নারী শিক্ষার ইতিবাচক মিশন চালু করা অপরিহার্য। আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার দৃষ্টে শরীয়তের বিধি-বিধানের নির্মল পথ অনুসন্ধানে নারী জাগরণের ক্ষেত্র হিসেবে মহিলা মাদরাসা নির্মাণ করা বাঞ্ছনীয়। দীনের ভিত্তিকে আরও উঁচু করার মানসে ঈমান রক্ষার বা হেফাজতের কেন্দ্র হিসেবে নারী শিক্ষার এ মারকাজ ওলামায়ে কেরামের আরও আগেই ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করার দরকার ছিল। একটি আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রয়োজন আদর্শ মানুষের। আর আদর্শ মানুষ উপহার দিতে পারে একজন আদর্শ মা। সুতরাং আদর্শ মা হতে হলে প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্র মহিলা মাদরাসা। যেখান থেকে আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. এর সবক নিয়ে আদর্শ নারীর একটি কাফেলা দীনের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণের পথকে তরান্বিত করবে। ফিরিয়ে আনবে ভূবনজয়ী নারীদের সমৃদ্ধ ইতিহাস।
আলহামদুলিল্লাহ! বাংলাদেশে এখন নারী জাগরণের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লাসহ শহরের মধ্যে মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সুচিন্তিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সময়ের চাহিদায় আমাদের এ সব মহিলা মাদরাসায় স্কুল-কলেজের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত রেখে ধর্মীয় পর্যায়ে শরীয়তের বিধিবিধানের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়। জেগে উঠার এই সময়ে ওলামায়ে কেরাম থেকে শুরু করে সমাজ সচেতন ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার এবং দীনের সচেতন ব্যক্তিবর্গের ঐক্যবদ্ধতায় প্লাটফরম ভিত্তিক কাজ করে শুভ্রগোলাপের এ বাগানগুলোকে আরও সুগন্ধিময় করা চাই। তবেই ১৪শ বছর পূর্বের রতœগর্ভাদের তথা উম্মতের জননীদের [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]Ñএর বিবিদের কাফেলায় আমাদের মা-বোনদের কৃতিত্ব যোগ হতে পারে। সামনের দিনগুলোতে ওলামায়ে কেরামের যোগসুত্রে মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় মুক্তচিন্তার সাক্ষর রাখা এবং তার সিঁড়ি বেয়ে সফলতার ব্যাপক প্রতিফলনের আশা করা যায়।

লেখক: সম্পাদক, কলমসৈনিক
সহযোগী সম্পাদক, মাসিক আর-রাশাদ

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ মহিলা মাদরাসা রমনীর আদর্শ পাঠশালা : মিযানুর রহমান জামীল

  1. Fahima ctg says:

    সুশিক্ষার উত্তম পাঠশালা। সবাই এগুলোর পথে হাটার জন্য অনুরোধ রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight