মহান হজের ফযীলত এবং প্রস্তুতি খন্দকার মনসুর আহমদ

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

দেখতে দেখতে আবারও মহান হজের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চলে এলো। পবিত্র কা’বার স্বপ্নে বিভোর হবার দিন এলো। জীবনকে নতুন করে সাজানোর এ মহা সৌভাগ্য যাদের জন্য লেখা হয়েছে এখন তাদের আনন্দিত হবার কৃতজ্ঞ হবার এবং প্রস্তুত হবার সময়। এক্ষেত্রে দায়মুক্তির আনন্দ যেমন আছে তেমনি ভাবে মহান হজের অতুলনীয় ফযীলত লাভের আনন্দও আছে। মহান হজ যে কত বড় একটি দায়িত্ব এ  প্রসঙ্গে  মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার অবশ্যকর্তব্য। আর কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন’। [আল ইমরান : ৯৭] আর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি বাইতুল্ল াহ্ পর্যন্ত পৌঁছার পাথেয় ও বাহনের (সার্বিক ব্যয়ের) মালিক হওয়া সত্ত্বেও হজ করলো না। সে ইহুদী হয়ে মরুক বা নাছারা হয়ে মরুক তাতে আমার কোন দায় দায়িত্ব নেই’।   আর হজের অতুলনীয় ফযীলত প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘মাবরুর হজের প্রতিদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত।’ [বুখারী শরীফ : হাদীস নং ১৭৭৩]   অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করে এবং তাতে কোন অশ্লীলতা বা পাপাচারে লিপ্ত হয় না সে তার জন্মদিনের মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’ [মুসলিম শরীফ]
তিনি আরো ইরশাদ করেন- তোমরা হজ ও ওমরা লাগাতর আদায় করবে, কারণ এ- দু’টি দারিদ্র্য ও পাপসমূহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন কামারের হাঁপর লোহা, স্বর্ণ ও রুপার মরিচিকা দূর করে দেয়। মকবুল হজের সাওয়াব একমাত্র জান্নাত’ [তিরমিযী ও নাসায়ী ] এ ছাড়াও বহু হাদীসে হজের অতুলনীয় ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে এই ফযীলত যদি আপনার হাতছাড়া হয়ে যায় তবে তা হবে খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। তাই এক্ষেত্রে সচেতনতা খুবই জরুরী।
ফুলের সঙ্গে যেমন কাঁটা থাকে তেমনি হজ নামক এ মহান ইবাদতের সঙ্গেও  জড়িয়ে আছে  ত্যাগ তিতিক্ষার অনেক কাঁটা। এই ইবাদতের পথটি বাহ্যত কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ। এতে ত্যাগের কিছু দিক রয়েছে মহান বিধাতার পক্ষ থেকে প্রদত্ত। কষ্টের সে পথটুকু সকলকেই পাড়ি দিতে হয়। অত্যন্ত ধৈর্যসহ আনন্দিত চিত্তে সব কষ্টকে বরণ করে নিতে হয়। সর্বরকম বিরক্তি প্রকাশ করা থেকে নিজেকে সন্তর্পণে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। এ পথটকু পাড়ি দিয়ে বান্দা তার প্রিয়তম মা’বূদের খুব সান্নিধ্যে পৌঁছে যায়। মহান আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তার জন্য এপথ পাড়ি দেওয়া সহজ করে দেন। সে ত্যাগের প্রতিটি পদে অনুভব করে উদ্যম ও আনন্দ। আর কিছু কণ্টক তৈরী করে মানুষ। সে সব কণ্টকের মধ্যে পড়ে গেলে এই মহান ইবাদতটি কাঙ্খিত মানে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। কিছু পার্থিব স্বার্থ সন্ধানী মানুষের স্বার্থ চিন্তার জটিল ঘূর্ণাবর্তে হারিয়ে যায় হজের মত মহান ইবাদতের অনেক আমল ও ফযীলত। যা হৃদয়কে আহত ও বিক্ষুব্ধ করে। একটি লেখার মাধ্যমে এই জটিল সমস্যার সমাধান দেয়া তো আর সম্ভব নয়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে আনন্দ বেদনার কিছু অনুভূতি মিশিয়ে পবিত্র বাইতুল্লাহ’র মুসাফিরদের জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরতে চাই। যদি এর কোন একটি পরামর্শ আল্লাহর কোন বান্দার উপকারে এসে যায় তবেই আমার এ লেখা সার্থক হবে।
উত্তম সাথী
এ মহান সফরে যথাসম্ভব উত্তম সঙ্গীদের  সাথে থাকা চাই। মাবরুর হজ আদায়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় বিষয়। আপনার কাফেলার সব সদস্যই যদি নেক্কার ব্যক্তি হন এবং হজের মাসআলা মাসায়িল সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলিমও কাফেলায় থাকেন, তাহলে আপনার হজ আল্লাহর ইচ্ছ্য়া মাবরুর হওয়ার একটি বড় ধরনের সহায়তা হয়ে যাবে। সবসদস্য নেক্কার এমন পরিবেশ পাওয়া  সম্ভব না হলেও সৎকর্মপরায়ণ একটি ক্ষুদ্র সঙ্গী বলয়ে নিজেকে শুদ্ধি ও সৎকর্মের মধ্যে রেখে হজের মহান আমলটি নিস্কলুষভাবে সম্পন্ন করা কর্তব্য । তাও সম্ভব না হলে অন্তত আপনার আস্থাভাজন অভিজ্ঞ দু-একজন পরহেজগার আলেম এবং কিছু সংখ্যক নেককার সাথীর সঙ্গ আপনার জন্য জরুরী । অন্যথায় হজের আদব সম্পর্কে অসচেতন সঙ্গীদের ভুল কাজকর্ম ও অসংযত নানাবিধ আচরণ আপনার এই মহান ও ব্যয়বহুল আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আবার অনেক হজ এজেন্সি বে-এলেম ব্যক্তিদেরকেও মুয়ালিম নিয়োগ করে থাকে। হজের সফরে অনেক গ-মূর্খও মুয়ালিম সেজে বসে।  আপনি যদি এমন মুয়ালিমের খপ্পরে পড়েন আর নিজেও হজের মাসআলা মাসায়িল  না জানেন, তাহলে আপনার হজ বড় রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কারণ নিশ্চিত করেই বলা যায় এরা হজের রুহ বা প্রাণশক্তি কী এবং কতটা মমত্ববোধের সঙ্গে হজের আমলগুলো করতে হয় এ সম্পর্কে উদাসীন। এরা নিজেদের মত করে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দায়মুক্তির ঘোষণা দিতে আগ্রহী থাকেন। আমলের শুদ্ধতা ও প্রাণবন্ততার বিষয়টি এদের কাছে তেমন বড় ব্যাপার নয়। অনেক ক্ষেত্রে মাসআলা ভালো করে না জেনেই বলে দেয় আমরা এভাবেই বিষয়টি এতকাল ধরে করে আসছি।
বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য এ প্রসঙ্গে আমার অভিজ্ঞতার দুটি ঘটনা উল্লেখ করছি। মহান আল্লাহর অনুগ্রহে হজের সফরে গিয়ে একবার এক আধুনিক শিক্ষিত মুয়ালিম সাহেবকে দেখলাম যুবক ও সুস্থ সবল কিছু অনুচরসহ তিনি ১০ই জিলহজ তার নির্ধারিত স্থানে বিশ্রামে থাকলেন। আর অন্য কিছু সংখ্যক হাজী সাহেবকে তাদের কংকর মেরে দেয়ার পরামর্শ দিলেন। (অথচ মিনায় গিয়ে শয়তানকে তিনদিন কংকর মারা ওয়াজিব। এবং শরীয়ত সম্মত কারণ ছাড়া  এতে ত্রুটি করলে দম ওয়াজিব হয়ে যায়।) পরবর্তীতে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মাসআলা জেনে দম আদায় করেন এবং মুয়াল্লিমকে কঠিন ভর্ৎসনায় জর্জরিত করেন। তাদের সম্পর্কের মধ্যে একটি স্থায়ী ফাটল সৃষ্টি হয়ে যায়। যা খুবই দুঃখজনক।
দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো ইজতিবা সম্পর্কিত একটি মাসআলা নিয়ে। হজ বিষয়ক প্রায় সব কিতাবে একথা লিপিবদ্ধ আছে যে তাওয়াফের ক্ষেত্রে ‘(রমল’দু-কাঁধ সঞ্চালন করে ঘন পদক্ষেপে বীর দর্পে চলা শুধু তিন) চক্করে করতে হয়, তবে ইজতেবা [ইহরামের চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বের করে তার উভয় মাথা বাম কাঁধের ওপর ফেলে রাখা বহাল রাখতে হয়) পুর্ণ সাত চক্করে। আমাদের ‘মুয়ালিম’ সাহেব দু-জন আলেমের উপস্থিতিতেই এ বিষয়ে ভুল দিক নির্দেশনা দিলেন। সতর্ক করা হলে তিনি বললেন : আমরা বড়দের সঙ্গে এভাবে করে আসছি। কিতাব দেখানো হলেও তিনি তার একগুঁয়েমি ত্যাগ করলেন না। বললেন এভাবেই আমরা করে আসছি। আমরা লক্ষ করলাম যে এহেন মুয়ালিমরা হজের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে অনেক বড় প-িত ও সবজান্তারূপে প্রদর্শন করে। হাজীদের সামনে তাদের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখার চেষ্টা করে। অহমিকা বা অধিক মুনাফার লোভে পবিত্র মক্কা-মদীনার পুণ্যভূমিতে আল্লহর ঘরের মেহমানদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে এবং পুণ্যভূমির মর্যাদাহানি ঘটাতেও এদের বিবেকে বাধে না। সজ্ঞানে সবকিছু করার পর হয়ত ভবিষ্যৎ-বাণিজ্যের স্বার্থে দেশে ফিরে হাজী সাহেবদের কাছ থেকে লৌকিকতামূলক ক্ষমা চেয়ে নেন। জানা কথা যে এহেন ক্ষমাপ্রার্থনায় পুণ্যভূমিতে কৃত দুর্ব্যবহারের দুঃখ দূর হওয়া সম্ভব নয়। হজের ক্ষেত্রে এ ধরনের মুয়ালিমের সংস্পর্শ থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরী।

দুনিয়াদার পীর মাশায়েখ ও বিদাতিদের সংস্পর্শ থেকেও বাঁচুন
দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কাফেলায় যদি কোন ভ-পীর, ভ-পীরের মুরীদ অথবা বিদাতি সম্প্রদায়ের লোকজন থাকে তাহলে আপনার হজের আমল নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক ট্রাভেলস আছে হাজী গ্রহণে তাদের কোন শর্ত নেই। নির্ধারিত অংকের অর্থ জমা দিতে পারলেই তাকে গ্রহণ করে নেয়। আল্লাহ না করুক আপনি যদি এমন কোন কাফেলার সাথে জড়িয়ে পড়েন তাহলে বিদাতিরা আপনার আমলে যথেষ্ট বিঘœ ঘটাবে। বিদাতিরা আরাফাতের ময়দানে এবং মিনায় প্রচুর উৎপাত করে থাকে। বিদাতিরা গাড়ির মধ্যে যুবতীদের লক্ষ্য করে নানা রকম গজল গেয়ে থাকে এবং বিভিন্ন অশ্লীল কথা ও ভাবভঙ্গি প্রদর্শন করে থাকে। এবং গায়রে মাহরাম নারীদের সাথে হাসি-মষ্করা করে থাকে যা সম্পূর্ণ রূপে হারাম। কিন্তু ইহরামের সেই অবস্থায় বিদাতিদের থামাতে যাওয়াটাও বড় রকমের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বিধায় হজের আদব রক্ষার্থে তা নীরবে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না।
বিগত বছর তিনেক আগে হজের মৌসুমে একশ্রেণীর  বিদাতি এভাবেই অনেক হাজির পবিত্র সফরকে আরাফাতের ময়দানে এবং মিনায় কলুষিত করেছিলো। যার বর্ণনা দিতেও রুচিতে বাধে। এমন ক্ষেত্রে বুঝাই যায় না যে এটা কোন মহাপবিত্র আমলের সফর, নাকি অবাধ বিনোদনের প্রমোদ ভ্রমণ ?

মহান আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাওফিক প্রার্থনা করতে থাকুন
হজের মত উঁচু মানের এ অতুলনীয় ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের জন্য মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করে নিয়মিত দু’আ করুন। এজন্য দিন বা রাতের কোন একটি সময় নির্ধারণ করুন। সমর্পিতচিত্তে অশ্রুপাত করে একান্ত ফরিয়াদের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে আরজ করে বলুন ‘প্রভু! তুমি আমার মত নগণ্যকে যখন তোমার ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছো তখন তুমিই আমাকে এ মহান ইবাদত তোমার মর্জি মোতাবেক আদায় করার তাওফিক দিয়ে দাও। তুমি যদি সহজ করে না দাও তাহলে সব চেষ্টা চালিয়েও মাবরুর হজ আদায় করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।’ এছাড়াও নানাভাবে  নিজের মনের কথা প্রিয়তম মাওলার কাছে প্রতিদিন খুলে বলুন গভীর আগ্রহ আর ব্যাকুলতা নিয়ে। আপনার হজ গমনের সুখবর ব্যাপকভাবে প্রচার না করে উপযুক্ত ও নেককার শুভার্থীদের কাছে ব্যক্ত করে তাদের কাছেও আন্তরিক ভাবে দোয়া চান। স্মর্তব্য যে, হাদীসের ভাষ্যমতে দু’আই হচ্ছে সকল ইবাদতের সার। ঘনিষ্ঠ দু‘আর মাধ্যমেই বান্দা ও মাওলার মাঝে গভীর সম্পর্ক তৈরী হয়।

হজ বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমদের লেখা বইপুস্তক পাঠ করা অব্যাহত রাখুন
হজ বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমগণের লেখা বইপুস্তক নিয়মিত পাঠ করুন। নিজের মধ্যে হজের আবেগ ও ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য হজের ফযীলত, ইতিহাস ও বিজ্ঞ আলিমদের হজ সফর বিষয়ক বইপুস্তক যেমন পাঠ করবেন, তেমনি হজের জরুরী মসআলা মাসায়িল ও আদব সম্পর্কিত বইপুস্তকও পাঠ করবেন। সংক্ষিপ্ত কলেবরের দু একটি বই সাথেও নিয়ে যাবেন।  তবে মাসআলা মাসায়িল বিষয়ে শুধু আপনার পঠিত বইয়ের উপর নির্ভরশীল না থেকে বিজ্ঞ আলিমের সঙ্গেও আলাপ আলোচনা করবেন। শুধু বই পাঠ করা এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। একজন বিজ্ঞ আলিমের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগতভাবে হজের বিশেষ জরুরী কিছু বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিতে পারলে খুবই সুবিধা হবে। । তবে সব কিছু মনে রাখার জন্য অস্থির হবার কোন প্রয়োজন নেই। উপযুক্ত সঙ্গীরা ক্ষেত্রমত সহায়তা করবেন। নিজের সাধ্যের ভেতরে অস্থিরতামুক্তভাবে যতটুকু আপনি চর্চা করতে পারেন ততটুকুই মহান আল্লাহর দয়া ও সাহায্য লাভের উপায় হবে বলে আশা করা যায়।

পর্দার প্রতি খুব লক্ষ্য রাখুন
অত্যন্ত ব্যয়বহুল মহান এই ইবাদতটি সুন্দর ও গোনাহমুক্তভাবে আদায় করার সহায়ক পরিবেশ লাভের জন্য সাথে মাহরাম মহিলা (মা, বোন, স্ত্রী) থাকলে পৃথক রুমের শর্ত করুন। এতে খরচ একটু বেশি হলেও আপনি অনেক দিক থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেন। যেমন পর্দার মত একটি জরুরী ফরজ রক্ষা করা সহজ হয়ে যাবে এবং পারস্পরিক কলহবিবাদ থেকেও বাঁচা যাবে। আর এ দুটি বিষয় (পর্দাহীনতা ও কলহবিবাদ) এমন যা হজের মহান ইবাদতকে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিরল ব্যতিক্রম বাদে ট্রাভেলসগুলো সাধারণত এসব বিষয়ে তেমন ভ্রুক্ষেপ করে না।
হজের ক্ষেত্রে অসতর্ক হলে যে গোনাহটি ব্যাপকভাবে ঘটার এবং মহান হজের সওয়াব ও বরকত নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে তা হলো নজরের অসংযম। হজের ক্ষেত্রে অনেক মহিলা হাজি পূর্ব অনুশীলনের অভাবে শরয়ী পর্দা রক্ষা করে চলতে ব্যর্থ হন। এ ক্ষেত্রে পুরুষ হাজিগণও যদি অসতর্ক হন তাহলে ব্যাপকভাবে নজরের গোনাহ ঘটতে পারে যা থেকে বেঁচে থাকা ফরজ। অবশ্য সতর্ক থাকার জন্য পূর্ণ চেষ্টা সত্ত্বেও কোন বিচ্যুতি ঘটলে তা মহান  ধৈর্য ও তাকওয়ার অনুশীলন করুন
এ মহান সফরের জন্য সবচে জরুরী পাথেয় হলো তাকওয়া ও ধৈর্য। মহান আল্লাহ তা‘আলা, হজের ক্ষেত্রে তাকওয়াকে সর্বোত্তম পাথেয় ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন- ‘তোমরা পাথেয় অবলম্বন করো, আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া’। আর ধৈর্য প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে- ‘মহান আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন’। এই তাকওয়া ও ধৈর্য ব্যতীত মাবরুর হজ (গোনাহমুক্ত ও মাকবুল হজ) আদায় করা সম্ভব নয়। মাবরুর হজের জন্য তিনটি শর্তের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তা হচ্ছে – অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে, অন্যান্য পাপাচার এবং তর্ক বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকা।
সুতরাং পবিত্র কা’বার পথের যাত্রীরা এখন থেকেই তাকওয়া, ত্যাগ ও ধৈর্যের অনুশীলন শুরু করুন।

অতিরিক্ত বয়ান  শোনা থেকে বাঁচুন
হজের  বিভিন্ন ক্ষেত্রে (যেমন আরাফাতের ময়দানে এবং মিনায়) হাজিগণকে সমবেত করে কিছু সময় তাকওয়া এবং হজ সম্পর্কিত জরুরী দিকনির্দেশনা সংক্ষিপ্তভাবে দেয়া দোষণীয় নয়, বরং ভালো। তবে পেশাদার মুয়ালিমদের অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক বয়ান হজের গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুন্নত পদ্ধতির আমলের জন্য জটিল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণে সম্ভব হলে কাফেলা নির্বাচনের আগে এ বিষয়টিও লক্ষ্য করুন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে মাবরুর হজের তাওফীক দান করুন!
পুনশ্চ
মহান হজ ও পবিত্র হারামাইনের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আল্লাহর আগ্রহী বান্দাদের উপকারার্থে সীমিত অভিজ্ঞতার আলোকে কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো। কল্যাণকামিতাই এ লেখার উদ্দেশ্য। নিবন্ধকার কোন কাফেলার সাথে জড়িত নই। মহান আল্লাহ আমাদের এ শ্রমটুকু কবুল করুন!  আমীন।
লেখক: প্রবন্ধকার, গ্রন্থকার, মুহাদ্দিস: বাইতুস সালাম মাদারাসা, উত্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight