মহানবী সা. এর সুমহান চরিত্র ও দৈহিক সৌন্দর্য : ড. মুহাম্মদ আরিফুর রহমান

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন উন্নত চরিত্র ও সকল সৌন্দর্যের আধার। তাঁর মধ্যে সকল সৎগুণের সমাবেশ ঘটেছিল। অনুপম আদর্শ ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহা মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব। তাঁর সুমহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলী এবং সৌন্দর্য ও সুকীর্তির সমন্বয়ে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ও মহোত্তম ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তাঁর মহান চরিত্রের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন, “হে নবী! নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” [সূরা কলম : আয়াত নং ০৪] সাহাবী হযরত জাবের বিন সামুরা রা. বলেন, ‘‘আমি একবার জ্যোৎস্না রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলাম। তিনি তখন লাল পোশাকে আবৃত ছিলেন। আমি একবার চাঁদের দিকে আর একবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম। অবশেষে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের চেয়েও সুন্দর।’’ [মিশকাত শরীফ]
চারিত্রিক সৌন্দর্য : মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উন্নত চারিত্রিক গুণাবলীর অধিকারী ও সুকৃতির ধারক সকল সৌন্দর্যের আধার। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতাসহ সকল সৎগুণের সমাবেশ ছিল তাঁর মহান চরিত্রে। তিনি একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে, একজন নেতা ও একজন শিক্ষক হিসেবে এবং একজন মহান নবী হিসেবে সর্বক্ষেত্রে ছিলেন সফল এবং স্বার্থক। তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্য ও দৈহিক সৌন্দের্যের মধ্যে এক অসাধারণ মিল রয়েছে। হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বাধিক সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” [সূরা আম্বিয়া : আয়াত নং ১০৭]
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের প্রতি অতীব দয়াশীল, আর তাঁর স্ত্রীগণ ও পরিবারবর্গ তাদের আত্মার আত্মীয়। এ কারণে তাঁদের সাথে সম্পর্ক হবে খুবই আন্তরিক, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানের। তাঁর অবর্তমানেও এ সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হবে না। আল কুরআনে এরশাদ হচ্ছে : “নিঃসন্দেহে নবী (মুহাম্মদ সা.) মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক অগ্রগামী (প্রিয়)। আর স্ত্রীগণ হচ্ছেন তাদের মাতা স্বরূপ। আর আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আত্মীয়রা পরস্পরের কাছে বেশি হকদার। অনুরূপভাবে মুহাজিরগণও। তবে নিজেদের বন্ধুবান্ধবদের সাথে সদ্বব্যবহার করবে। আল্লাহর কিতাবে এ বিধান দেয়া হয়েছে।” [সূরা আহ্যাব : আয়াত নং ০৩]
ইনসানে কামিল বা পরিপূর্ণ মহামানব হিসেবে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে বেশি মানব-দরীদ ও দয়ালু। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে জ্ঞানী, আল্লাহভীরু ও রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি বিনয়ী ও সবচেয়ে মিশুক প্রকৃতির। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসের মধ্যে বিশেষ আসনে বসতেন না। সে দিক থেকে অপরিচিত কেউ বুঝতে পারত না যে, কে আল্লাহর রাসূল। ভ্রমণের সময়ও তিনি এমন সাদামাটা বাহনে চলতেন ও এমনভাবে হাঁটতেন যেন তিনি ছিলেন অন্যদের মতই সাধারণ মানুষ। তাঁর সামনে সম্মান দেখিয়ে কেউ দাঁড়াক সেটা তিনি চাইতেন না। তিনি মাটিতে বসতেন ও মাটিতে বসে খাবার খেতেন। তাঁর হাসিতে যেন মুক্তা ঝরতো। কিন্তু তিনি কেবলই মুচকি হাসি হাসতেন। কখনো অট্র হাসিতে মেতে উঠতেন না। ক্ষমা ও ঔদার্যতা ছিল তাঁর চারিত্রিক ভূষণ। মক্কাবাসীরা তাঁকে নির্মম যুলুম ও নির্যাতন করেছিল, তিনি মক্কা বিজয়ের দিন হাসি মুখে তাদের ক্ষমা করে দেন। এ দিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ সমাপ্তির পর কা’বা শরীফের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা কি বল, তোমাদের কিরূপ ধারণা হয়? আজ আমি তোমাদের সাথে কিরূপ আচরণ করব? তারা বলল, আমরা বলি, আপনি আমাদের ভ্রাতুষ্পুত্র এবং আমাদের চাচাত ভাই, অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও দয়াবান। তারা এ কথা তিনবার বলল। রাসূলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইউসুফ আ. যেমন বলেছিলেন আমিও আজ তেমনই বলব। আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাাহ তোমাদেরকে মাফ করুন। তিনি সকল মেহেরবান অপো অধিক মেহেরবান। হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, এ কথা শুনে মক্কার কাফেররা মসজিদে হারাম থেকে বের হয়ে এলো, তারা এত খুশী হল, যেন তাদেরকে কবর থেকে বের করে আনা হয়েছে। তারপর তারা ইসলাম গ্রহণ করে নিল।
তাঁর কোনো পাপ না থাকা সত্ত্বেও তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং আল্লাহর ভয়ে তাঁর হৃদয় বার বার কেঁদে উঠত। নামায পড়তে পড়তে তাঁর পদযুগল ফুলে যেত। স্ত্রীরা তাঁকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলতেন : আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? তিনি আল্লাহর দরবারে বার বার তরবা-ইস্তিগফার করতেন। এমনকি প্রতিদিন তিনি আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও অধিক মা প্রার্থনা করতেন। তিনি ছিলেন সর্বাপো নির্ভীক ও সাহসী । তিনি সর্বাপো ধৈর্যশীল ছিলেন। নিজের জন্য কোনো প্রতিশোধ নেননি। নিজের স্বার্থের জন্য কখনো রাগাম্বিত হননি। হ্যাঁ, আল্লাহর হুকুম বা বিধান লংঘন করা হলে সেক্ষেত্রে আল্লাহর জন্যই তিনি প্রতিশোধ নিয়েছেন। অধিকারের ব্যাপারে তাঁর কাছে আত্মীয়, অনাত্মীয়, দুর্বল, সবল, সবাই সমান ছিলো। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে, তাকওয়া ছাড়া আল্লাহর কাছে কেউ কারো চেয়ে শ্রেয় নয়। সব মানুষ সমান ও সমক। পূর্ববর্তী জাতিগুলো এ জন্য ধ্বংস হয়েছে যে, কেনো সমভ্রান্ত লোক চুরি করলে ছেড়ে দিতো, আর কোনো দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে শাস্তি দিতো। তিনি আল্লাহর শপথ করে বলেছেন, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদও (তাঁর মেয়ে ফাতিমা) যদি চুরি করেন, তাহলে তার হাত কেটে দিতে তিনি কুণ্ঠিত হবেন না। তিনি কখনো কোনো খাবারের দোষ বর্ণনা করেননি। রুচি সম্মত হলে আহার করতেন। আর তা না হলে সযতেœ ত্যাগ করতেন কিন্তু কোনো অভিযোগ করতেন না। কোনো কোনো সময় এক মাস দুই মাস পর্যন্ত তাঁর বাড়িতে আগুন প্রজ্জ্বলিত হয়নি। তিনি ও তাঁর পরিবার শুধু খেজুর ও পানি আহার করেছেন। তবুও তিনি নিরাশ হননি কিংবা সত্য পথ হতে এক বিন্দু বিচ্যুত হননি। তিনি অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যেতেন। জানাযায় হাযির হতেন। নিজ হাতে জুতা সেলাই করতেন, কাপড়ে তালি লাগাতেন এবং ঘরের কাজে তাঁর পরিবারবর্গের সহযোগিতা করতেন। তিনি অতি নম্র ছিলেন। ধনী গরীব, সম্ভ্রান্ত অসম্ভ্রান্ত সবার দাওয়াত গ্রহণ করতেন। গরীব মিসকীনকে প্রচুর ভালবাসতেন। কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে দরিদ্রের জন্য ঘৃণা করতেন না। কোনো রাজা বা শাসককে তাঁর রাজত্ব ও যশ ও খ্যাতির কারণে ভয় করতেন না। ঘোড়া, উট, গাধা, ও খচ্চরের ওপর আরোহন করতেন। তিনি স্নিগ্ধ হাসতেন। অথচ দুঃখ বিপদ অনবরত তাঁর ওপর আসতে থাকতো। সুগন্ধি ভালবাসতেন। দুর্গন্ধ ঘৃণা করতেন। আল্লাহপাক তাঁর মধ্যে চারিত্রিক উৎকর্ষ ও সুন্দর কর্মের অনুপম সন্নিবেশ ঘটিয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁকে এমন জ্ঞান ও হিকমত দান করেছিলেন যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্য কাউকে দান করা হয়নি।
তিনি ছিলেন নিরর। লেখা-পড়া জানতেন না। মানুষের মধ্যে কেউ তাঁর শিক ছিলো না। অথচ তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতার মহান শিক্ষক। তাঁর ওপর অবর্তীণ হয়েছে আল্লাহর সর্বশেষ কালাম মহাগ্রন্থ আল কুরআন, যার সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহপাক বলেন, ‘তিবইয়ানান লিকুল্লি শা।’ অর্থাৎ সব কিছুর বিবরণ সম্বলিত এক মহাগ্রন্থ। আর আল্লাহপাক গ্রন্থের সত্যতা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, “যদি মানুষ ও জিন এ কুরআনের অনুরূপ রচনা করার জন্য জড়ো হয় এবং তাঁরা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়, তবুও তাঁরা কখনো এর অনুরূপ রচনা করতে পারবে না। [সূরা ইসরা : আয়াত নং ৮৮]

“নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত” [সূরা আল কলম : আয়াত নং ০৪]
দৈহিক সৌন্দর্য : বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা দৈহিক ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। যেমন ছিল তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্য, তেমন ছিল উজ্জ্বল ও দৃষ্টি নন্দন দৈহিক সৌন্দর্য। তাঁর দৈহিক কাঠামোতে নবুয়াতের ছাপ ল্যণীয়ভাবে বিদ্যমান ছিল। তাঁর সুদর্শন দেহসৌষ্ঠব তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রতীক ছিল। তাঁর দৈহিক সৌন্দর্য সম্পর্কে মহান সাহাবী হযরত আবু হুারায়রা রা. বলেন, ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে সুদর্শন কাউকে আমি দেখিনি। মনে হতো যেন সূর্য ঝিকমিক করছে।’’
এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বহু সংখ্যক সাহাবী তাঁর সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ বিবরণ দিয়েছেন। যেমন : হযরত জাবের বিন সামুরা রা. বলেন, ‘‘আমি একবার জ্যোৎস্না রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলাম। তিনি তখন লাল পোশাকে আবৃত ছিলেন। আমি একবার চাঁদের দিকে আর একবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম। অবশেষে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদের চেয়েও সুন্দর।’’ হযরত রবী বিনতে মুয়াওয়ায রা. বলেন, ‘‘তুমি যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে, তাহলে তোমার মনে হতো যেন সূর্য ওঠেছে।’’
তাঁর সৌন্দর্য সম্পর্কে মহিলা সাহাবী উম্মে মাবাদ তার স্বামীর কাছে যে বিবরণ দিয়েছিলেন তা অসাধারণ। হিজরতের পথে সাওর পর্বতের গুহা থেকে বের হয়ে মদীনার দিকে রওয়ানার পথে খুযায়া গোত্রের এক মহিয়সী বৃদ্ধার বাড়ীতে যাত্রা বিরতি করেছিলেন। এ মহিলার নাম ছিল উম্মে মাবাদ। এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথী হযরত আবু বকর প্রচুর তৃষ্ণা কাতর হয়ে এ মহিলার কাছে পানি ও খাবার চান। কিন্তু মহিলা তাঁদের কিছুই দিতে পারেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বরকতে বৃদ্ধার ক্ষুধার্ত বকরীর কাছ হতে এত পরিমাণ দুধ পাওয়া গেল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা পেটপুরে খাওয়ার পর আরো খানিকটা দুধ অবশিষ্ট থাকে। উম্মে মাবাদের স্বামী বাড়ী ফিরে দুধ দেখে অবাক হয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করে, এ দুধ কোথা থেকে এল? উম্মে মাবাদ তখন তাকে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দেন। তখন তার স্বামী বলে, এ কুরাইশী যুবকের আকৃতির বিবরণ দাও, সে বহুল প্রত্যাশিত ব্যক্তি কিনা দেখি। তখন উম্মে মাবাদ চমৎকার ভাষায় নিপুণুভাবে তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যের একটি বিবরণ দেন। তাতে তিনি বলেন, পবিত্র দর্শন, প্রফুল্ল চেহারা, উত্তম চরিত্র, স্থুলকায়ও নন হালকাও নান। খাটোও নন বেমানান লম্বাও নন। প্রগাঢ় ব্যক্তিত্ব তাঁর মধ্যে লক্ষ্যণীয়। এভাবে তিনি এক লম্বা বিবরণ দেন। উম্মে মাবাদ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিনতেনও না, জানতেনও না। তার প্রতি হিংসা বিদ্বেষও ছিল না, বন্ধুত্বও ছিল না। তিনি যা দেখেছেন, হুবহু তা বর্ণনা করেছেন। এতেই ফুটে উঠেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সৌন্দর্যের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। বুযুর্গ কবি শেখ সরফুদ্দীন আল বুসীরি তার কবিতায় কতোই না সুন্দরভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তুলে ধরেছেন! তিনি বলেছেন :
মুহাম্মাদুন সাইয়্যেদুল কওনাইনে ওয়াছ সাকলাইন
ওয়াল ফরিকাইনে মিন আরবি ওয়ামিন আজমিন।
ফা-কান নাবীয়্যিনা ফিখালকিন ওয়াফি খুলুকিন
ওয়ালাম ইয়াদুনহু ফি ইলমিন ওয়ালা কারামিন।
(কাসীদায়ে বুরদাহ্)
অর্থাৎ : প্রিয় নবী মুহাম্মদই দুই জাহানের মহান নেতা,
আরব আজম অধিপত্তি, বিশ্বগুরু জগৎ জেতা।
সৃষ্টিগুণ ও স্বভাব চরিতে তিনি নবীকূলের শ্রেষ্ঠ
জ্ঞান-গুণে ও মর্যাদা বিচারে কেউ হয়নি তার সমক।।

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight