মসজিদই ছিল মুসলমানদের অফিস / জমির আল-হাফিজ

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত ঘোষণার পর দ্বীনের কাজে মেহনত শুরু করেছিলেন। এতে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হিজরতের পর মদীনায় মসজিদে নববী নির্মাণ ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সকল মুসলমানকে এক জায়গায় একত্র করার উদ্দেশ্যে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সেখানে রুহানি প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পার্থিব সমস্যা-সম্পর্কিত বিষয়েও আলোচনা করা হতো এবং সমাধানও প্রদান করা হতো। আর সাহাবায়ে কেরামগণের জীবন ছিল পূর্ণাঙ্গ ইসলামি জীবন।
এলাকার প্রশাসনিক নানা সমস্যা নিয়েও মসজিদে আলোচনা হতো এবং সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হতো। প্রশাসন পরিচালনার জন্য আলাদা বা ভিন্ন কোন অফিস স্থাপন করা হয়নি।
মসজিদের পরিবেশ হচ্ছে পবিত্র পরিচ্ছন্ন, খোলামেলা। তা ছাড়া মসজিদ মহান আল্লাহর ঘর হওয়ায় সেখানে বিনয় ও ন¤্রতার প্রকাশ ঘটে। আল্লাহভীতি মনে জাগরূক থাকে সর্বদা। মানুষের সেবার মনোভবও অন্তরে সঞ্চারিত হয়। আর সকলেই পবিত্র পরিচ্ছন্ন হয়ে প্রবেশ করে মসজিদে তাই পবিত্রই থাকে। সেজন্য নাজাসাত বা অপবিত্রতা বলতে কিছুই বাকি থাকে না। খোলামেলা পরিবেশে থাকার কারণে মসজিদে মানসিক ও শারিরিক অসুস্থতার জন্ম নেয় না, স্থানাভাব, বদ্ধ ও গুমোট পরিবেশ বা সতেজ বাতাসের অভাব দেখা দেয় না। এ রকম পরিবেশে মানুষ থাকে সুস্থ। ফলে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।
মসজিদের পরিবেশ হচ্ছে আত্মসমালোচার পরিবেশ। মসজিদ ছোট-বড় কোনো পার্থক্য করা হয় না। ধনী-গরীব সবাই ঊর্ধতন শাসকের সঙ্গে সহজে দেখা করতে পারে, কথা বলতে পারে অনায়াসে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল রকমের কাজ মসজিদেই সম্পন্ন করতেন। হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রা.-ও তাই করেছন।
হযরত ওমর রা.-এর শাসনামলে মুসলমানদের সা¤্রাজ্য আফ্রিকা এবং এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। তবুও মুসলমানরা মসজিদেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। প্রশাসন পরিচালনার জন্য আলাদা আলাদা কোনো অফিস স্থাপন করা হয়নি তখনো।
বর্তমানের উন্নতি অগ্রগতির যুগে প্রশাসনসহ অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য ভিন্ন ধরনের অফিস তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রকমের অফিসের সমারোহ ল করা যায়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদকে সকল জাগতিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু করে আমাদের জন্য যে আদর্শ রেখে গেছেন, এতে মসজিদে আমরা শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সমাজিক ও রাজনৈতিক সকল সমস্যার সমাধান পেতে পারি।
মসজিদে বসে একজন শাসক নিজেকে মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহির ভয় বেশি অনূভব করেন। কিন্তু বর্তমান সমাজ  ও রাষ্ট্রে অফিসে বসে শাসক নিজেকে সেবকের চেয়ে মতাধর বলে মনে করেন বেশি।
এর ফলে বহু রকমের সমস্যার ত্রে তৈরি হয়। শারিরীক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সমাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি সমস্যাও এসব েেত্র বেশি হয়ে থাকে। তাই, আমাদেরকেও সাধনা করতে হবে : ফের মসজিদই হোক মুসলমানদের অফিস বা বিচারালয়।

নাম : জমির আল- হাফিজ
ঠিকানা : লিংকরোড়, ঝিলংজা-৪৭০১, কক্সবাজার।
মোবাইল : ০১৮৭৮৫৫৭৯১৭.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight