ভয় / মুস্তাকিম আল মুনতাজ

রাত ১০টা। সবে মাত্র টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে এসেছে সায়েম। কিছুণ
পরেই বৃষ্টির গতি বেড়ে গেল। বাহিরে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রচন্ড তুফান হতে লাগলো। আকাশেও খুব ঘনঘন বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হচ্ছে। এমন বিকট শব্দে থরথর করে কেঁপে উঠছে সায়েমের বুক। খুব ভয়ও করছে তার। সায়েমের মা আমিনা বেগম। তিনি ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে আছে। সেই কখন থেকেই একমাত্র বড় ছেলের জন্য অপো করছিলেন। হঠাৎ করে কে যেন দরজায় কড়া নাড়ছে। এবং উনাকে আম্মু বলে ডাকছে। আমিনা বেগমের বুঝতে আর বাকি নেই। সায়েম ছাড়া অন্য কেউ নয়। ছেলের ডাকে দরজা খুলে দিলেন। আমিনা বেগম সায়েমকে উদ্দেশ্য করে বললেন- এতণ কোথায় ছিলি ? আরো আগে আসলে কি হত। এই যে বৃষ্টিতে ভিজে এলি। যদি শরীর খারাপ করে। সামেয় মায়ের কথায় কান না দিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। বৃষ্টিতে পুরো শরীর ভিজে গেছে। তাই ভিজে “যাওয়া পায়জামা-পাঞ্জাবী চেঞ্জ করে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হলো। এদিকে তার মা আমিনা বেগম ছেলেকে খাবার খাওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। তাই আর দেরি না করে লি ছেলের মত খেতে বসলো সে। আমিনা বেগম ছেলেকে ভাত বেড়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন।
নীরব নিস্তব্ধ ঘর। কারো সাড়া শব্দ নেই। সবাই নিজের রুমে ঘুমে বিভুর। শুধু মাত্র সায়েম জেগে আছে। খাবার টেবিলে ভাত সামনে নিয়ে খেতে শুরু করলো। ঠিক তখনই বাহির থেকে কারো আওয়াজ শুনতে পেল। কেউ যেন ডাকছে! প্রথমে সে গুরুত্ব দিল না। পূনরায় আবার আওয়াজ শুনতে পেল। তখন সে ভাবলো এবার আর বসে থাকা উচিত হবে না। দরজা খুলে দেখতে হবে। কেউ আছে কি না। যেই ভাবনা,সেই কাজ। দরজা খুলে চতুর্দিকে তাকালো। কোথাও কারো সাড়া-শব্দ নেই। ভাবলো শুনতে বোধয় ভুল হয়েছে। এই ভেবে দরজা আঁটকিয়ে চলে এলো। আবার খেতে বসেছে। কিন্তু মনের মাঝে শান্তি পাচ্ছে না। মনের মধ্যে এক ভয় অনুভব করতে লাগলো। মন যেন কিছুতে মানছে না। বার বার মনের ভিতরে ঘুরপাক কাচ্ছে কে হবে? আর তো কোন দিন এমন হয়নি! আজ এই প্রথম এমনটি হচ্ছে। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না সে।
তারপরেও মনের মধ্যে সাহস নিয়ে খেতে শুরু করল। কিন্তু না, তা আর সম্ভব হয়নি। আবারো
আগের মত কারো ডাক শুনতে পেল। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলো সায়েম। নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। দ্রুত খাবার টেবিল থেকে উঠতে যাবে তখনি সায়েমের সামনে এসে উপস্থিত তার মা! আমিন বেগম বললেন, দেখতো বাবা এত রাতে বৃষ্টির মধ্যে কে যেন ডাকছে? ভয়ে ভয়ে সামনে অগ্রসর হলো সে। সাহস করে দরজা খুলে দিলো। খুলতেই চমকে উঠলো! ১৮ বছরের একটি ছেলে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সায়েম জিজ্ঞাস করল- কে তুমি? আর এখানে কেন? সে বলল, আমি রাশেদ।  এই এলাকাতেই আমার বাসা। বাসায় যাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়াতে
অনেণ ধরে ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। এমনিতেই কিছুটা ভিজে গেছি। তাই ভাবছিলাম
আপনাদের কাছ থেকে কিছু একটা নিয়ে বাসায় যাবো। আর সে জন্যই ডাকছিলাম। কিন্তু কারো কোন সাড়া পাচ্ছিলাম না।
আচ্ছা, ভাইয়্যা আপনাদের ঘরে যদি পলিতিনের ব্যাগ থাকে। তাহলে আমাকে দিন। ব্যাগ মাথায় বেঁধে চলে যাবো। ঠিক আছে এখন ঘরে এসে বসো। বৃষ্টি থামলে যাবে। এই বৃষ্টিতে গেলে ভিজে যাবে। তখন আবার অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার চেয়ে ভাল হবে বৃষ্টি থামুক। পড়ে যেতে পারবে।
জ্বী, না। আমার একটু তাড়া আছে। আপনি কষ্ট করে একটা পলিতিনের ব্যাগ দিন। আমি চলে যাবো। সায়েম সাথে সাথে তার মা’কে বলে একটি ব্যাগের ব্যবস্থা করলো। অতঃপর সে ব্যগটি তাকে দিলো। ছেলেটি ব্যগ নিয়ে চলে গেল। সায়েম ছেলেটাকে দরজা বন্ধ করে দিলো। কিন্তু তখনো সায়েমের ভয় কাটেনি। ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল শরীর। নিজেকে স্থীর করতে পারছিল না সে। আর এমন ভয় পাওয়ার কারণ হল, আজ পর্যন্ত কোন দিন এমন পরিস্থিতির মোকাবেলায় পড়িনি। তাই একটু বেশীই ভয় পেয়েছে সায়েম। এমন কি ঘুমানো পর্যন্ত তার ভয় লাগছিল। এই ভয় কে জয় করেই এক সময় আল্লাহর নাম নিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো সে নিজেই জানে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight