ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কিত নির্বাচিত আয়াত

১। “কিভাবে তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করবে যখন আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট পঠিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে তাঁর রাসূল রয়েছেন? কেউ আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করলে সে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত হবে। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না। তোমরা সকলে আল্লার রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লার অনুগ্রহ স্মরণ কর : তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা তো অগ্নিকু-ের প্রান্তে ছিলে। আল্লাহ তা থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন। এইভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার। তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; এরাই সফলকাম। তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কতক মুখ কাল হবে; তাদেরকে বলা হবে ঈমান আনার পর কি তোমরা কুফরি করেছ ? সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা কুফরি করতে। আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারা আল্লাহর অনুগ্রহে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। [সূরা আলে ইমরান : আয়াত ১০১-১০৭]
২। “আল্লাহ্র পথ থেকে লোককে নিবৃত করার জন্য কাফেররা তাদের ধন সম্পদ ব্যয় করে, তারা ধনসম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে, এরপর তারা পরাভূত হবে এবং যারা কুফরি করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে।” [সূরা আনফাল : আয়াত ৩৬]
৩। “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর আর আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। [সূরা হুজুরাত : আয়াত ১০]
৪। “বিশুদ্ধচিত্তে তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর, এবং অন্তর্ভুক্ত হয়ো না মুশরিকদের। নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।” [সূরা রূম : আয়াত ৩১-৩২]
৫। “মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ্ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে; তাদেরকেই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা তাওবা : আয়াত ৭১]
৬। “হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেন, যিনি তাদের দুইজন থেকে বহু নরনারী ছড়িয়ে দেন; এবং আল্লাহকে ভয় কর যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষè দৃষ্টি রাখেন।” [সূরা নিসা : আয়াত ১]
৭। “হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন কোন দলের সম্মুখীন হবে তখন অবিচলিত থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [সূরা আনফাল : আয়াত ৪৫]
৮। “তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে ও নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে না, করলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। তোমরা ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।” [সূরা আনফাল : আয়াত ৪৬]
৯। “যারা দীন সম্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়; তাদের বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।” [সূরা আনআম : আয়াত ১৫৯]
১০। “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর ও সৎকর্ম কর; তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আমি সবিশেষ অবহিত। [সূরা মুমিনুন : আয়াত ৫১]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight