ভোটের গুরুত্ব : মাওলানা জিয়াউল হকইসলামে

ভোট কি ও কেন?
ভোট মূলত ইংরেজি শব্দ। সাধারণ ভাষায় এর মানে হলো; সর্মথন দান করা, মতামত প্রকাশ করা। কোন বিষয়, বস্তু, ব্যক্তি, কোন মত পথ বা পদ্ধতি, সম্মতি বা অসম্মতি জানানো।
ভোট এমন একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা যার দ্বারা বা যার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর মতামত যাচাই করা হয়, তাদের সম্মতি বা অসম্মতি গ্রহণ করা যায় বা পরখ করা যায়। যদিও এটি একটি বিদেশী শব্দ, তারপরেও এটির বহুল ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশে শিক্ষিত অশিক্ষিত, নারী পুরুষ, ছোট বড় এমন কেহ নাই, যিনি ভোট কি তা জানেন না।
অনেক বিদেশী শব্দের মত ভোট শব্দটিও আমাদের ভাষায় এমনভাবে অঙ্গীভুত হয়েছে যে, এটা এখন আমাদেরই মাতৃভাষার একটি অতি পরিচিত শব্দ বলে মনে হয়। আমাদের জাতীয় জীবনে ছোট বড় সার্বিক অঙ্গনে ভোট একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার লড়াই হয়ে উঠে, আর আমরা সকলেই তাতে জড়িয়ে পড়ি আমাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়। কোন ব্যক্তি বা বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে আমরা আমাদের সম্মতি বা অসম্মতি প্রকাশ করি। এটা কখনও বা আমাদের একটি হাত তুলে বা মাথাটা একটু দলিয়ে বা মুখে একটু শব্দ উচ্চারণ করে, আর কখনও বা একটি কাগজের টুকরায় একটি সীল মেরে, কখনও বা তা করে থাকি প্রকাশ্যে বা গোপনে।
ভোট একটি আমানত
আমানত হলো কোন কিছুকে কারো নিকট গচ্ছিত রাখা। যার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়, তিনি এটার মালিক নন, তার কাছে রাখা হয় সাময়িকভাবে সংরক্ষনের জন্য অথবা কোন নির্দিষ্ট সময়ে বা উপলক্ষ্যে  নির্দেশিত পথ বা পদ্ধতিতে প্রয়োগের জন্য।
আমরা যে রাষ্ট্রের নাগরিক বা যে প্রতিষ্ঠানের সদস্য, ঐ প্রতিষ্ঠান বা রাষেট্রর একজন নাগরিক হিসাবে তার ভাল  মন্দের সাথে সম্পর্কিত কোন ব্যক্তি বা বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে আমাদের মতামত প্রকাশের ক্ষমতা দিচ্ছে ঐ রাষ্ট্র বা সমাজ বা প্রতিষ্ঠান। এই ক্ষমতাটাই হল আমাদের নিকট সমাজ বা প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গচ্ছিত রাখা আমানত।
আর আমরা যে পদ্ধতিতে এই আমানত ফেরত দেই বা প্রয়োগ করি, সেই পদ্ধতিই হলো ভোট। আমাদের কাছে এই ক্ষমতা অর্পণকারী প্রতিষ্ঠান; তা রাষ্ট্র যেই হোক না কেন, আহ্বান করা মাত্রই আমরা এই আমানতটি বর্ণিত সময়ে ও নির্দেশিত পন্থায় প্রদান করব স্বাধীনভাবে বিনা বাধায়।

ভোট একটি অধিকার
সমাজ বা রাষ্ট্রের একজন সদস্য বা নাগরিক হিসাবে আমাদের অনেকগুলো অধিকার আছে, এগুলো হল আমাদের মৌলিক অধিকার। যেমন অন্ন, বস্ত্র বাসস্থান, চিকিৎসা ও লেখা পড়া শেখার অধিকার। তেমনি রাষ্ট্র বা সমাজের সাথে সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে একজন নাগরিক হিসাবে আমাদের মতামত প্রকাশ করব কোন দ্বিধা দ্বন্দ, কোন ভয় ভীতি, কোনরুপ লোভ লালসা, প্ররোচনা ব্যতিরেকে স্বাধীনভাবে, এটাও আমাদের মৌলিক অধিকার।
ভোট একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব
রাষ্ট্র বা সমাজের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক কিছু অধিকার যেমন থাকে, তেমনি থাকে কিছু নৈতিক দায়িত্ব, একজন নাগরিকের এ সব দায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার কোন প্রকার সুযোগ নেই। এ দায়িত্বগুলো এড়িয়ে যাওয়া বা এড়ানো নিতান্তই অপরাধ। রাষ্ট্রের আইন শৃংখলার প্রতি অনুগত থাকা, রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট হওয়া ও তৎপর থাকা, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতাকে প্রশ্রয় না দেওয়া ও প্রতিহত করা, এসবই হলো রাষ্ট্রের প্রতি একজন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একইভাবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কোন ব্যক্তি বা বিষয়ে বা রাষ্ট্রিয় কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নাগরিকের মতামত জানতে চাওয়া হলে সেই মতামত প্রদান করা একজন নাগরিকের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করা বা পালনে গাফলতি করা রীতিমত অপরাধ।

ভোট একটি ক্ষমতা
সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিকেরা প্রত্যেকের মতামত কে ভোটের আকারে প্রকাশ করে রাষ্ট্রের যে কোন কার্যক্রম কে বাস্তবায়ন করতে বা বাস্তবায়ন করাটা রুখে দিতে পারে। নাগরিকেরা তাদের ভোট প্রদান করে যে কোন ক্ষমতাশালীকে অতি সহজেই ক্ষমতার মসনদ থেকে নামিয়ে দিতে পারেন যেমনি, তেমনি আবার যে কোন লোককে রাজপথ হতে টেনে তুলে বসাতে পারেন ক্ষমতার মসনদে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ভোট অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর একটি ক্ষমতা।

নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে ভোট
নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ বিচার করে দেখলে আমরা ভোটকে আরও ব্যাপক অর্থবোধক ও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখতে পাই। যেমন;

এক. ভোট হলো স্বাক্ষ্যদান
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বা যে কোন পর্যায়েই হোক না কেন, আপনি-আমি তথা আমরা যখন কারো পক্ষে ভোট দেই তখন পক্ষান্তরে আমরা এ কথারই সাক্ষ্য প্রদান করি যে; অমুক ব্যক্তি অমুক পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্য, উপযুক্ত, দক্ষ ও সৎ। পক্ষান্তরে আমরা যখন কারো বিপক্ষে ভোট দেই, তখন আমরা এই সাক্ষ প্রদান করি যে, অমুক ব্যক্তি অমুক পদের যোগ্য নয়, অনুপযুক্ত। তার মেধা, দক্ষতা, সততা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ঐ দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত মানের নয়। তাকে ঐ পদে দায়িত্ব দেয়া যাবে না।
এ সাক্ষ্যদান যেমন কোন ব্যক্তির বেলায় হতে পারে, তেমনি তা কোন সমষ্ঠি, বস্তু বা বিষয়ের প্রতিও হতে পারে। যার বেলাতেই হোক না কেন; ভোট প্রদানের অর্থ হলো কোন ব্যক্তি বা বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য দান করা।

দুই. ভোট হলো সুপারিশ করা
আমরা যখন কোন ব্যক্তির পক্ষে ভোট প্রদান করি, তখন আমাদের অধিকার দায়িত্ব ও ক্ষমতা দ্বারা আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্ণধার বা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে সুপারিশ করি যে; অমুক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় অমুক পদে বা দায়িত্বে নিয়োজিত করা হোক। পক্ষান্তরে কারো বিপক্ষে ভোট দিয়ে বা কোন প্রার্থী কে ভোট না দিয়ে আমরা তার পক্ষে রাষ্ট্র বা তার কর্ণধারদের নিকট সুপারিশ করা হতে বিরত থেকে যাই। অতএব ভোট এর আরও এক অর্থ হলো সুপারিশ করা।

তিন. ভোট হলো ওকালতি করা
কারো পক্ষে ভোট প্রদান করার মানে হলো আমরা তার পক্ষে ওকালতি করি। তার সততা, শিক্ষা, মেধা, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, আমানতদারী, নিষ্ঠা ও কর্তব্য পরায়ণতা ইত্যাদি সকল ইতিবাচক গুণাবলি সমন্ধে রাষ্ট্রের কাছে বা সমাজের কাছে যাকে ভোট দিলাম তার পক্ষ হয়ে ওকালতি করি। ওকালতি করি প্রকাশ্যে বা গোপনে।

চার. ভোট প্রদান মানে প্রতিনিধিত্ব প্রদান
আমরা যখন কোন ব্যক্তিকে ভোট দেই, তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, সমাজ বা রাষ্ট্রের যখন যেখানে প্রয়োজন, অমুক ব্যক্তি আমার বা আমাদের পক্ষ হতে সমাজ, জাতি বা প্রশাসনের সামনে আমার বা আমাদের অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট, আমাদের ভাল মন্দ বা আমাদের পছন্দ অপছন্দের কথা তুলে ধরবে। অর্থাৎ দেশ জাতি প্রশাসনের সামনে তার উপস্থাপিত মতামতই হলো আমার বা আমাদের মতামত। কোন বিষয়ের প্রতি তার সমর্থন প্রদানের মানেই হলো ঐ বিষয়ের প্রতি আমার বা আমাদের সমর্থন। আর কোন বিষয়ের প্রতি তার বিরোধিতার মানে হলো; ঐ বিষয়ের প্রতি আমার বা আমাদের বিরোধিতা।
এভাবে আমরা কোন ব্যক্তিকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে তার হাতে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্ঠিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পাদনের ব্যাপারে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করি। তাই ভোট প্রদান মানেই হলো প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা প্রদান করা।

ভোট প্রয়োজন কেন?
আঞ্চলিক বা জাতীয় যে কোন পর্যায়ে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বা বৃহত্তর যে কোন পরিসরে, রাষ্ট্র সমাজ বা প্রতিষ্ঠানে যে কোন বলয়েই হোক না কেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের সংখ্যা গরিষ্ঠ  সদস্য বা নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনা ও শৃংখলা বজায় রাখা। প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় সমাজের অধিকাংশ লোকের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হলো গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মৌলিক এই বৈশিষ্ট্যটি পূরণ করতে গেলেই প্রয়োজন পড়ে ভোট এর। কোন ব্যাংক বা কোম্পানীর বোর্ড অব ডাইরেক্টরসদের সভায় বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সদস্য বা কর্ণদারদের সভায় যেখানে সদস্য সংখ্যা সীমিত, সেখানে উপস্থিত সদস্যদের হাত উত্তোলনের মাধ্যমে ভোটাভোটি সম্পাদিত হতে পারে এবং তা হয়েও থাকে। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মত বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিত সদস্যরা কোন প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের মতামত প্রদান করে থাকেন এভাবেই হাত উঠিয়ে।
অপরদিকে এই ভোটাভোটিই যদি হয় বৃহত্তর পরিসরে, যেমন স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, এরকম একটি ক্ষেত্রে তো মতামত দানকারী লোকের সংখ্যা লাখ লাখ বা কোটি কোটি হয়ে থাকে। এই কোটি কোটি লোকের মতামত বা ভোট কোনক্রমেই তাদের হাত উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই তখন প্রয়োজন পড়ে বিকল্প ব্যবস্থার।
এই বিকল্প ব্যবস্থার মধ্যে যেটি অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে সহজ, সেটি হলো ব্যালট পেপার নামক একটি কাগজে সীল মেরে নিজের মতামত প্রকাশ করা। 
ভোট দেব কেন?
ভোট দেব কারণ ভোটটি হলো আমাদের নিকট সমাজ ও রাষ্ট্রের গচ্ছিত আমানত। সমাজ বা রাষ্ট্র আমাদেরকে ভোট দেবার ক্ষমতা অর্পণ করছে, আমরা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রকেই ফেরত দেব।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক, বিচার-ক্ষমতা-বিশ্লেষণ শক্তি প্রদান করেছেন, জঙ্গলের পশু পাখি হিসেবে সৃষ্টি না করে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, সমাজে বসবাস করার সুযোগ দিয়েছেন বদ্ধ উম্মাদ হিসেবে নয়; বরং সুস্থ সবল একজন মানুষ হিসেবে। আল্লাহর দেয়া এ সব যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়েই আমরা ভালো-মন্দের বিচার করি। কাউকে ভালো মনে করি, কাউকে ভাবি মন্দ। কাউকে মনে করি যোগ্য আর কাউকে বা অযোগ্য।
আমাদের এসব শক্তি, যোগ্যতা ও বিচার ক্ষমতা সব কিছুই হলো আল্লাহ পাকের নিকট হতে আমাদের কাছে আমানত। আমরা ভোট প্রদানের মাধ্যমে এই আমনতটির যথাযথ হেফাজত করব, এটাই আমাদের দায়িত্ব। এই আমানতটি রাষ্ট্রের বা সমাজের জন্য, এই আমানত সমাজের লোকের জন্য এবং এই আমানত স্বয়ং আল্লাহ পাকের।
এই তিনটি ক্ষেত্রেই আমরা আমানতটিকে সঠিকভাবে পালন করলাম কি না, বিবেচ্য বিষয় হলো সেটাই। মহান আল্লাহ পাক বলেন- নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে মিমাংষা করতে আরম্ব কর তখন মিমাংষা কর ন্যায়ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদেরকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু দেখেন ও শোনেন। [সূরা নিসা : ৫৮]
এখানে আমনতসমূহ তার প্রাপককে ফেরত দানের নির্দেশ দেবার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে, তা হলো মানুষের  মধ্যে মিমাংসা করার সময় তা  ন্যায়ের ভিত্তিতে করতে বলা হয়েছে। যখন একাধিক ব্যক্তি ভোট প্রার্থী হন তখন তাদের মধ্যে ভালো মন্দ, যোগ্য অযোগ্য লোক থাকে। তাদের মধ্য হতে আমাদের দৃষ্টিতে ও বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি যোগ্য ও সৎ তাকেই ভোট দেবো, যদিও ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বেলায় সে আমাদের নিকট পছন্দনীয় নয়।
এখানে কে দক্ষ ও যোগ্য তা বিচার করতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে। আপনার আমার ব্যক্তিগত ভালো লাগা না লাগার ভিত্তিতে নয়। এটাই হলো ইনসাফের দাবী। তাই আমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাকের রক্ষিত আমানত তার প্রাপককে পৌঁছে দেওয়া ও মানুষের মধ্যে ন্যায় ভিত্তিক মিমংসা করার জন্য ভোট দেবো। ভোট দেবো কারণ, এটা হলো আপনার আমার প্রতি আল্লাহর নির্দেশ।
আমরা যদি আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় এ দায়িত্ব পালন না করি, তবে আমার আমানত খেয়ানত করলাম। যার অধিকার ছিল সৎ ও যোগ্য বলে স্বীকৃতি পাবার, তাকে তা দিলাম না। এটাতো পরিষ্কারবাবেই আমানতের খেয়ানত। নিচের হাদীসটি দেখুন, রাসূল সা. বলেন- যার মধ্যে আমানতদারী নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই। আর যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নিয়মানুবর্তিতা নেই, তার মধ্যে ধর্ম নেই। [মুসানাদে আহমদ : ৩/১৩৫,১৫৪,  মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৬/১৫৯, সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী : ৬/২৮৮]
উল্লেখিত হাদীসে আমানতদারীর উপরে কি অপরিসীম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা লক্ষ্য করুন। অপরদিকে যোগ্য ও সৎ লোককে যোগ্য ও সৎ বলে রায় দিলাম না বা স্বীকার করলাম না, এটা তো সুষ্পষ্ট জুলুম। যে জুলুম করযে সে তো একজন জালিম। আর আল্লাহ পাক পরিষ্কার ভাষায় আল কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বার বার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি জালেমদের হেদায়াত দেন না।
ভোট দেবার অর্থ হলো আগামি পাঁচ বছর বা নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য দেশ-জাতি-সমাজ ও তার সকল প্রকার ভালো মন্দের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার ও সে অনুযায়ী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় তথা সকল প্রকার কর্মকা- পরিচালনা করার নিরংকুশ ক্ষমতা প্রদান করলাম তাকে, যাকে আমরা ভোট দিলাম। অর্থাৎ তার কাছে আমরা আমাদের সকলের ভালো মন্দকে আমানত রাখলাম।
আমরা আমাদের প্রয়োজনে সোনা-দানা, টাকা-পয়সা বা মূল্যবান কোন বস্তু আমানত রাখার দরকার পড়লে একজন আমানতদার, আল্লাহ ভীরু লোক খুঁজি যেন রক্ষিত আমানতটির হেফাজত হয়। সামান্য সোনা-দানা, টাকা-পয়সার বেলায় যখন এতটা সতর্কতা তখন নিজেরদের ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভালো-মন্দ, এমনকি আমাদে প্রিয় দেশটির ভালো-মন্দকে আমানত রাখার বেলায় আরও শতগুণ বেশি আমানতদার লোক খোঁজা উচিৎ নয় কি?
আমরা কি এক্ষেত্রে বিবেক-বিবেচনা না করে অদক্ষ, অনুপযোগী, সন্ত্রাসী এবং যার মধ্যে আল্লাহর ভয় নেই, এমন লোকের হাতে এত বড় আমানত তুলে দিতে পারি? আমরা আমাদের দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভালো মন্দের দায়িত্ব একজন যোগ্য ও আমানতদার লোকের হাতে অর্পণ করব, এটাই আমাদের দায়িত্ব।
আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন- আমার উম্মতের কোন লোকের উপর যদি মুসলমানদের কোন কাজের দায়িত্ব আসে এবং সে ঐ দায়িত্ব নিজের আপন কাজের মত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনাপূর্বক আদায় না করে, তবে সে লোক জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। [বোখারী : ৬৭৩১]
আমরা ভোট দেব কারণ, ভোট প্রদানের ক্ষমতা ও সুযোগ হলো আমাদের অধিকার। এটা আমাদের প্রতি কারো দয়া দাক্ষিণ্য নয়। যে সমাজ বা যে রাষ্ট্রে আমরা বাস করি, সে সমাজ বা সে রাষ্ট্রের নিকট এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। কেউই কোন অবস্থাতে বা কোন কারণেই আমাকে আপনাকে আমাদের এ অধিকার অর্জন করা হতে বিরত রাখতে বা তার প্রয়োগ করা হতে আমাদেরকে বিরত রাখতে পারেনা।
আমরা আমাদের এই মৌলিক অধিকার রক্ষা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সচেতন হব। আমরা আমাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করব কারো বিনা প্ররোচনায় বা প্রভাবে। এক্ষেত্রে কারো বলপূর্বক বা প্রতারণা, মিথ্যা, ছল-চাতুরির প্রশ্রয় দিব না। আবার কেউ যদি এমন করে তাহলে সেটা হবে আমাদের অধিকারের প্রতি অন্যায় হস্তক্ষেপ। কোন সুস্থ বিবেক বা আত্মসম্মানবোধ ব্যক্তিই এ ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ সহ্য করেনা, বা করতে পারেনা।
কাজেই আমরা ভোট দেব স্বাধীনভাবে এবং এটাই আমাদের নিজস্ব বিচার বুদ্ধির উপর নির্ভর করে। এটা হলো স্বাভাবিক বিবেকের দাবী। এর অন্যথা করা বা করতে দেয়ার মানে হলো নিজের অধিকারকে নিজেই ভুলুন্ঠিত করা এবং সেই সাথে অন্যের অধিকার প্রদানে বাধা সৃষ্টি করা।
আমরা ভোট দেবো কারণ, ভোট প্রদান করা হলো স্বাক্ষ্য দেয়া। সত্য কে সত্য, মিথ্যা কে মিথ্যা এবং যোগ্য কে যোগ্য বলে স্বাক্ষ্য দেয়া। আপনার আমার কাছে যখন একাধিক ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আমাদের মতামত বা ভোট চাইবে, তখন আমাদের কর্তব্য হলো, আমাদের বিবেক বুদ্ধি নিয়ে, আমাদের বিবেক ও বিচার ক্ষমতা দিয়ে, আমাদের ঈমান দিয়ে তাদের প্রত্যেকের সার্বিক কর্মকান্ড, আমল আখলাক, চাল চলন ইত্যাদি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিচার করে দেখব। এর পরে তাদের মধ্যে যাকে যোগ্য ও সৎ বলে আমাদের বিবেক রায় দেবে, একমাত্র তাকেই আমরা যোগ্য ও সৎ বলে ভোট দেবো। এটা আমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর টিকে থাক। আল্লাহর খাতিরে ন্যায় সঙ্গত সাক্ষ্য দান করো, তাতে যদি তোমার নিজের পিতা-মাতা বা নিকটআতœীয় স্বজনের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও। কেহ যদি ধনী বা গরীব হয় তবে তোমাদের চেয়ে আল্লাহই তাদের বেশি শুভাকাংখী। অতএব বিচার করতে যেয়ে তোমরা নিজেদের কামনা বাসনার অনুসরণ করো না। এবং তোমরা যদি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলো বা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রাখ আল্লাহ তোমাদের সকল কাজ কর্ম সম্বন্ধে পূর্ণমাত্রায় অবগত। [সূরা নিসা-১৩৫]
আল্লাহ পাকের এ নির্দেশটি বার বার খুব গভীরভাবে মনযোগের সাথে ভেবে দেখে চিন্তা করুন, আল্লাহ পাক আমাদের নির্দেশ প্রদান করছেন সত্য সাক্ষ্য দিতে যদিও সেই সাক্ষ্য আমাদের বাবা মা, আতœীয় স্বজন এমনকি আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে ও যায় তবুও, তবুও সত্তকে গুপন করা যাবে না।
অথচ বাস্তবে আজ আমরা কি করছি বা কি দেখছি? লাখ লাখ কোটি কোটি লোক শুধুমাত্র তাদের বংশীয় বা গোত্রীয় বা সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভংগী বা কিছু আর্থিক বা সামাজিক সুবিধা, কিছু নগদ প্রাপ্তির বিনিময়ে অহরহ নির্দ্বিধায় তাদের সাক্ষ্যকে বিক্রি করে দিচ্ছে! অবলিলায় যোগ্যকে অযোগ্য ও অযোগ্যকে যোগ্য, সত্যকে মিথ্যা বা মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
কত রকম খোঁড়া যুক্তি আর অপপ্রচার, মিথ্যা অহমিকা, হিংসা-বিদ্বেষপ্রসূত পূর্ব ধারনার উপর ভিত্তি করে, শত শত বানোয়াট যুক্তি উপস্থাপন করে, কথার ছল-চাতুরি আর যুক্তির মায়া জাল বুনে পাশ কাটিয়ে চলছে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করাটাকে। আর অনপুযুক্ত, অদক্ষ্য, লোভী, স্বার্থবাদী, সন্ত্রাসী আর খোদাদ্রোহীকে সমাজের নেতা বানিয়ে দিচ্ছে নিজের মিথ্যা সাক্ষ্যের জোরে। অপরদিকে সমাজের সৎ আমানতদার আর যোগ্য লোককে প্রকৃত সাক্ষ্য হতে বিরত থেকে তাকে তার প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করছে। এ এক সর্বনাশা প্রক্রিয়া, আল্লাহর নির্দেশের সরাসরি বিরোধিতা। কারণ মহান আল্লাহ পাক বলেন; তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না, আর জেনে শুনে সত্যকে গোপন করো না। [সূরা বাকারা-৪৪]
আমরা জেনে শুনে সজ্ঞানে সুধুমাত্র সাময়িক দুনিয়াবী লাভের আশায়, সামান্য দু’পয়সা অর্থের বিনিময়ে সত্য মিথ্যা একাকার করে ফেলছি। কোন বাছ বিচার করছি না! এটাতো আল্লাহর সাথে সরাসরি বিদ্রোহ করা। অথচ মুসলমানদের তো উচিত ছিল যত কষ্টই হোক না কেন, যে কোন মূল্যে সত্য সাক্ষ্য প্রদানের ব্যাপারে হিমালয়ের মত অটল থাকা। এ ক্ষেত্রে তারা সমগ্র বিশ্ববাসীর রক্তচক্ষুকেও উপেক্ষা করবে। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঈমানদার মুসলমানদের স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিচ্ছেন এভাবে: হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় স্বাক্ষ্য দানের বেলায় অটল থাকবে এবং কোন গোষ্ঠীর শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায় বিচার করা হতে ক্ষান্ত হবে না। সুবিচার করবে, এটাই আল্লাহভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহ কে ভয় করো, তোমরা যা করো আল্লাহ খুব ভালো করেই জানেন। [সূরা মায়েদা-৮]
আমরা ভোট দেবো কারণ এটি আমাদের নৈতিক সামাজিক দায়িত্ব। আমরা প্রত্যেকে সমাজের একজন নাগরিক। এই সমাজের ভালো মন্দের সাথে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভালো মন্দ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাই সমাজের ভালো কিসে হবে, তা নির্ধারণ করতে সচেষ্ট হওয়া বা তৎপর হওয়াটা সমাজের সকলের সামষ্টিক দায়িত্ব যেমনি, তেমনি আপনার আমার একক দায়িতও বটে। আমরা প্রত্যেকেই এ দায়িত্বের বোঝা বহন করে চলেছি জেনে বা না জেনে। আর এটা সুনিশ্চিত যে, আমাদের প্রত্যেককে এ ব্যাপারে অবশ্যই জবাবদীহি করতে হবে। আল্লার রাসূল বলেছেন; তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [মিশকাতুল মাসাবিহ ]
অতএব এ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে সেটা যে অবহেলাকারীর সার্বিক অকল্যাণের ও ধ্বংসের কারণ হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহর রাসূল আমাদের কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন; মুসলমানদের কোন কাজ বা দায়িত্ব যদি কারো উপর অর্পিত হয় এবং সে লোক ব্যক্তিগত ভালবাসার কারণে কোন লোককে কোন দায়িত্ব অর্পণ করে, তার উপর আল্লাহর লানত। আল্লাহ তার কোন ফরজ ও নফল এবাদত কবুল করবেন না এবং তাকে দোযখে দেয়া ব্যতীত ছারবেন না।
একটি কথা
আমাদের মত গরীব দেশেও ভোট এর ক্রেতা অনেক, আর বিক্রেতার তো অভাব নেই। এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, এখানে আমাদের সরব বা নিরব সম্মতিতেই ভোটের কেনা বেচা হয়। কেনা বেচা হয় প্রকাশ্যে বা  গোপনে। গোপনে কেনা বেচার কথা ও তার স্বরুপ আমরা কম বেশি সকলেই জানি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, প্রকাশ্যে যে কেনা বেচা হয় ভোটের, সেটিই আমাদের কাছে রয়ে যায় গোপনে। বড় আশ্চর্যের কথাই বটে!
আমাদের সম্মতিতে আমাদের চোখের সামনেই আমাদের ভোট কিনে নিয়ে গেল, আমরা বিক্রি করে দিলাম কিন্তু বুঝলাম না, যে আমরা একজনের আমানত, একজনের অধিকার আর আল্লাহর নির্দেশকে সামান্য অর্থ বা সুযোগের বিনিময়ে বিক্রি করে দিলাম! মুসলমান জাতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য লজ্জা ও পরিতাপের বিষয়।
ভোট এর সময় হলে ভোট প্রার্থী জনদরদী নেতারা আসেন, এলাকার স্থানীয় মুরুব্বী ও প্রভাবশালী লোকজনসহ সর্বস্তরের লোকজনকে সম্বোধন করে বলেন- আগামি নির্বাচনে আমাকে ভোট দিলে, আমি বিজয়ী হলে আপনাদের এলাকার অমুক রাস্তাটি পাকা অমুক রাস্তার উপরে ব্রীজ বা একটি হাসপাতাল, একটি কলেজ বা হাসপাতাল কিংবা একটি ফ্যাক্টরী করে দেব। আর ভোটের আগে বায়না বাবদ পাড়ার ছেলেদের কে একটি ক্লাব বা কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বান্ডিল টিন বা কোন এলাকায় একটি টিউবওয়েল এবং এলাকার ছেলেদের হাতে হাত খরচ হিসাবে নগদ কিছু দিয়ে যান।
ভবিষ্যৎ কিছু প্রতিশ্রুতি ও নগদ কিছু প্রদান করে লোকজনের মন জয় করে নিলেন আর নির্বাচনে (দু চার জন ব্যতিক্রম বাদে) লোকজন কৃতজ্ঞতায় গদ গদ হয়ে সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে উক্ত প্রার্থীর চেয়েও কোন যোগ্য প্রার্থী বিদ্যমান সত্ত্বেও তাকেই ভোট দিলেন। যোগ্যতার নিরিখে যার যোগ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাবার কথা ছিল তাকে সে স্বীকৃতি দিলেন না, এ ধরনের কর্মকান্ড আমাদের চোখের সামনে অহরহ ঘটছে যা নিত্যদিন আমরা তা দেখছি।
এটা চরম অন্যায়। যিনি এ ধরনের সুবিধা দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন এবং যিনি বা যারা এ ধরনের সুবিধা নিয়ে ভোট দেন বা দিতে প্ররোচিত করেন, তারা সকলেই অপরাধী। তারা এ ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যাকে সত্যের সাথে মিশ্রিত করা, সত্যকে গোপন করা, মিথ্যা সুপারিশ করা, আমানতের খেয়ানত করা, প্রাপকের অধিকার তাকে ফেরত না দেওয়া, ঘুষ গ্রহণ করা বা ঘুষ প্রদান করা, সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে আল্লাহর আদেশ নিষেধকে বিক্রি করা, ইত্যাদি মারাতœক অপরাধে অপরাধী।
আমরা যারা নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করি, তারা যদি খুব ভাল করে কুরআন হাদীস ঘেটে দেখি, তবে দেখবো যে, উপরে উল্লেখিত প্রত্যেকটি অপরাধ হলো ইসলামের দৃষ্টিতে কবীরা গুনাহ। যার অধিকার বিনষ্ট হয়েছে তার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে, তাকে সন্তুষ্ট করে আল্লার নিকট আন্তরিকভাবে তওবা না করলে কাল কেয়ামতের মাঠে নিস্কৃতি পাবার সুযোগ নাই। আমরা যুগের পর যুগ ধরে নির্লিপ্ত থেকে এ ধরনের কবিরা গুনাহ করে চলেছি অথবা করে যাবার সুযোগ করে দিচ্ছি। এর জন্য অবশ্যই আমাদেরকে আল্লাহর আদালতে আখেরাতের কঠিন মুহুর্তে ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে। আমাদের এখনই সাবধান হওয়া উচিৎ এবং সেই সাথে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যে, আমরা আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশকে উপেক্ষা করে মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেবো না। সত্য কে গোপন করবোনা বা এ ধরনের কঠিন অপরাধের সাথে নিজেকে পত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন ভাবেই জড়িত করব না।
আমরা প্রত্যেকে যদি ব্যক্তিগত ভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেই এবং তা বাস্তবায়নে অটল থাকি, শত ভয়-ভীতি, লোভ-লালসা টোপের মুখে শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে চলি, তবে আল্লাহই আমাদেরকে রক্ষা করবেন। মহান আল্লাহ পাক বলেন; যারা বলে আল্লাহ আমাদের রব এবং তারা এই বিশ্বাসের উপর অটল থাকে, নিঃসন্দেহে তাদের জন্য ফেরেশতা নাযিল হয়ে থাকে এবং তাদেরকে বলে, ভয় পেয়ো না, চিন্তা করো না, আর খুশি হও সেই জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে যার ওয়াদা তোমাদের নিকট করা হয়েছে। [সূরা হা-মীম আস সাজদাহ-৩০]
ঘোষণাটি যখন এতটাই স্পষ্ট এবং স্বয়ং আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে, তখন আর দেরি কিসের, ভয়ই বা কাকে?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight