বড়, মেঝো, ও ছোট ভাই: দিলখোলাশা জাহিদ খান

আজরাঈল এসে পড়েছে তার জান কবজ করতে। সে তার বড় ভাইয়ের কাছে চলে গেল। বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বললো ভাইয়া! আজরাঈল আমার জান কবজ করতে এসেছেন। আমি মরণের পর কী তুমি আমার সাথে ঐ অন্ধকার কবরে যাবে? বড় ভাই বললো, ঐ কবরে যাবো তো দূরের কথা তুই মারা গেলে তোর জানাযার নামাজটাও পড়তে যাবো না। সে কেঁদে কেঁদে বলে, হে আমার প্রাণপ্রিয় বড় ভাই! আমি তোমার জন্য কী না করেছি?
চোখের ঘুম হারাম করে, হালাল-হারাম বিবেচনা না করে তোমার জন্য কত কিছু করেছি। রাস্তার টাকা, এতিমদের টাকা, জনগণের টাকা, বিধবাদের টাকা, স্কুলের টাকা, মাদরাসা-মসজিদের টাকা, কবরস্থানের টাকা শুধুমাত্র তোমার জন্য আত্মসাৎ করেছি।
আর আজ তুমি বলছো আমি মারা গেলে তুমি আমার জানাযার নামাযও পড়বে না? ছিহ! বড় ভাই ছিহ!
হে দুনিয়ার মানুষ! একটু চিন্তা করে দেখুন। এই দুনিয়ার কালো টাকা, অসৎ পথে উপার্জিত টাকার গাড়ি-বাড়ি হলো আপনার বড় ভাই! আপনি যখন মারা যাবেন তখন এই বড় ভাই আপনার সাথে কবরে যাবে না। এমনকি সে জানাযার নামাযও পড়তে যাবে না। লোকটি চলে গেল তার মেঝো ভাইয়ের কাছে। হে আমার প্রাণপ্রিয় মেঝো ভাই! আজরাঈল আমার জান কবজ করতে এসেছে। আমার মরণের পর তুমি যাবে আমার সাথে? ঐ বাঁশ ঝাড়ের নিচে অন্ধকার কবরে? আপনি কি বলছেন! আপনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে? কথা দিলাম, আপনি মারা গেলে আপনার কবরে যাবো না ঠিক, কিন্তু জানাযার নামায পড়বো। মেঝো ভাই! তোমার জন্য দুনিয়াতে আমি কি করিনি?
আমি যখন বাড়ি নির্মাণ কাজের কন্টাক্টার ছিলাম, তখন রডের বদলে বাঁশ দিয়েছি, বালির বদলে মাটি দিয়েছি। ভালো ইটের পরিবর্তে নষ্ট ইট দিয়েছি, সিমেন্টের পরিবর্তে ছাঁই দিয়েছি। জাল টাকার ব্যবসা করেছি। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করেছি। অন্যের জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখর করেছি। ইয়াবা-মদসহ যাবতীয় নেশার ব্যবসা করেছি। ওজনে কম দিয়ে মানুষকে ঠকিয়েছি। ভালো মাল বিক্রির পরিবর্তে মন্দ মাল বিক্রি করেছি। হারাম গান-বাজনা করেছি। চুরি করেছি-ডাকাতি করেছি, যেনা-ব্যভিচার করেছি।
দুনিয়াতে এমন কোন মন্দ কাজ নেই যা আমি তোমাদের সুখের জন্য করিনি। আর আজ বলছো তোমারা আমার কবরে যাবে না?
লোকটি চলে গেলেন ছোট ভাইয়ের কাছে। বললেন, হে আমার ছোট ভাই! আমার জীবনে কখনো তোমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসিনি। বড় এবং মেঝো ভাইয়াকে আপন মনে করেছি। তোমাকে সবসময় অবহেলা করেছি। আজ অনেক বিপদে পড়ে তোমার এসেছি। আজরাঈল আমার জান কবজ করতে এসেছেন, আমি মরার পর তুমি কি যাবে আমার সাথে ঐ নীম গাছের নিচে, সাথী নেই, বাতি নেই অন্ধকার কবরে?
ছোট ভাই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললো, আল্লাহর কসম ভাই! শুধু কবর কেন, পুলসিরাত-মিজান, হাশরের মাঠে তোমার সাথে রয়ে যাব, মহান আল্লাহর সাথে সব হিসাব-নিকাশ করে তোমাকে জান্নাতে দিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ।
(ক) হে দুনিয়ার মানুষ! একটু চিন্তা করে দেখো, দুনিয়ার বড় ভাই হলো তোমার টাকা। গাড়ি-বাড়ি, সম্পদ, ক্ষমতা, যাকে তুমি সবচাইতে আপন মনে করেছো। উপরিউক্ত ঘটনা পড়ে আশাকরি বুঝতে পেরেছেন আপনি যখন মারা যাবেন, তখন আপনার বড় ভাই টাকা, গাড়ি-বাড়ি সাহায্য করবে না। তারা আপনার জানাযার নামাযও পড়বে না। অস্থায়ী এই দুনিয়ায় টাকা, গাড়ি-বাড়ি, সম্পদ, ক্ষমতার জন্য কত খারাপ কাজই না করেছেন।
টাকার জন্য রাতের আঁধারে ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। জাল টাকা বানিয়েছেন। গাড়ির ড্রাইভারকে খুন করে গাড়ির মালিক হয়েছেন। বাড়ি বানানোর জন্য অন্যায়ভাবে মানুষ খুন করেছেন। সম্পদের মালিক হবার জন্য নিজের আপন মানুষের সাথে নকল জাল দলিল করে সম্পদ লুটে নিয়েছেন। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিপক্ষকে রাতের আঁধারে খুন করেছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করেছেন। ভালো করে স্মরণ রাখুন, হে দুনিয়ার মানুষ! টাকা, গাড়ি-বাড়ি, সম্পদ, ক্ষমতা হলো তোমার বড় ভাই। তুমি মরার পর বড় ভাই তোমার কাজে আসবে না, এমনকি জানাযার নামাযও পড়বে না।
(খ) মেঝো ভাইকে বুঝানো হয়েছে, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানকে।
যাদেরকে আপন মনে করে মহান আল্লাহর সাথে নাফরমানি করেছো। স্ত্রী বলেছে স্বর্ণের হার কিনে না দিলে তোমার সাথে সংসার করবো না। স্ত্রীকে স্বর্ণের হার কিনে দেবার জন্য ঘুষ খেয়েছো।
সন্তান বলেছে বাবা! এস এস সি পরীক্ষার পর মটর সাইকেল কিনে না দিলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দিব। তখন সন্তানের হুমকির ভয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল ভাড়া করে এনে মটর সাইকেলের মালিককে খুন করে তার লাশ গুম করেছো।
মা বলেছে বিয়ে করতে চাও? যে পর্যন্ত বাড়িতে বিল্ডিং উঠাতে না পারবে ততদিন বিয়ে করাবো না। মা’র কথা রাখতে গিয়ে, বিয়ে করার নেশায়, ভারত থেকে চুরাই পথে গরু এনে, মটর সাইকেল এনে, অবৈধভাবে ব্যবসা করে বাড়িতে বিল্ডিং দিয়েছো।
মেয়ে বলেছে, বাবা! এবার এস এস সি পরীক্ষার পর যদি স্মার্টফোন কিনে না দাও তাহলে আমি আর পড়তে যাবো না। মেয়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য সুদি করে টাকা এনে, সমিতি থেকে ঋণ এনে, ব্যাংক থেকে লোন এনে মেয়েকে স্মার্টফোন কিনে দিয়েছো। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানের কথায় যত সব হারাম কাজ করেছো।
এই বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান কোন উপকারে আসবে না যখন তুমি কবরে ধরা খাবে। তুমি যখন মারা যাবে তখন তোমার বেঝো ভাই, অর্থাৎ, তোমার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, তোমার জানাযার নামাজ পড়ে কবর দিয়ে চলে আসবে যার যার ঘরে। তোমাকে থাকতে হবে ঐ অন্ধকার কবরে। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোনকে আপন মনে করে যত মন্দ কাজ করতেছো, একটু চিন্তা করে দেখো অন্ধকার ঐ কবরে কেউ তোমার সাথে থাকবে না।
হাশরের ময়দানে সবাই যার যার মত ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করতে থাকবে। তাই বলছি হে আখেরী নবীর উম্মতেরা! তোমরা মরণের কথা স্মরণ করে হারাম কাজ থেকে বিরত থাক, এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর।
(গ) ছোট ভাইকে বুঝানো হয়েছে, দুনিয়ার নেক আমলকে। হে দুনিয়ার মানুষ! চিন্তা করে দেখো। তুমি যখন মারা যাবে তখন আযাবের ফেরেশতা তোমার মাথার কাছে আসতে থাকবে। তখন তুমি দুনিয়াতে মাঝে মাঝে যে কুরআন তেলাওয়াত করেছো, মাদরাসা-মসজিদে আর্থিকভাবে শারীরিকভাবে সহযোগীতা করেছো, গরীব অসহায়দেরকে সাহায্য করেছো, আলেম-হাফেজদেরকে সম্মান করেছো ভালোবেসেছো। পবিত্র কুরআনকে মনেপ্রাণে ভালোবেসেছো। ঐ কুরআনই তোমার মাথার পাশে এসে দাঁড়াবে।
আর আযাবের ফেরেশতাদেরকে বলবে, খবরদার! আমি কুরআন বলছি আমার এই ভাইয়ের কাছে আযাব নিয়ে আসবে না। কুরআন আরো বলবে, হে ভাই! তুমি ঘুমাও, আমি তোমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে থাকবো। আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাকে জান্নাতে না দিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কুরআনই থাকবো তোমার পাশে অন্ধকার কবরে জান্নাতের আলো নিয়ে।
দুনিয়ার ছোট ভাই হলো তোমার নামাজ। যাকে অবহেলা করে ঠিকমতো আদায় করনি। সেই নামাজ যখন তুমি মারা যাবে তখন তোমার সাথে যাবে কবরে। আযাবের ফেরেশতা যখন ডান দিক দিয়ে তোমার কাছে আসতে চাইবে তখন দুনিয়ার ছোট ভাই নামাজ তোমার ডান পাশে এসে দাঁড়াবে। তুমি যে শীতের রাতে ফজরের নামাজ পড়েছো, শত ব্যস্তার মাঝেও যোহরের নামাজ পড়েছো, আসরের নামাজ পড়েছো, মাগরিবের নামাজ পড়েছো, এশার নামাজ পড়েছো, ঐ নামাজই আযাবের ফেরেশতাদেরকে বলবে, খবরদার! আমার এই ভাইয়ের কাছে আসবে না। আমি আমার ভাইকে জান্নাতে না দিয়ে এখান থেকে যাবো না। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো কিয়ামত পর্যন্ত। তাই বলছি হে মুসলমান! আজ নামাজকে ছোট ভাই মনে করে নামাজ আদায় করছো না অথচ এই নামাজই তোমার পাশে থাকবে অন্ধকার কবরে।
আমি তোমার ছোট ভাই রোজা। দুনিয়াতে আমি রোজাকে ছোট ভাই মনে করে ঠিকমত রোজা রাখো নি। বছরে একবার ৩৬৫ দিনে ৩০ বা ২৯ টি রোজা আসতাম তোমাদের কাছে। কিন্তু তোমরা আমি রোজাকে ছোট ভাই মনে করে কাজা করেছো। ঠিকমতো ৩০ টি রোজা রাখো নি। তারপরেও দু’একটি রোজা রাখার কারণে আমি তোমাদের পাশে আসলাম। হে দুনিয়ার মানুষ! তুমি যখন মারা যাবে, অন্ধকার কবরে সাথী নাই বাতি নাই একা একা যখন থাকবে। তখন আযাবের ফেরেশতা তোমাকে বাম দিক দিয়ে ধরতে আসবে। তখন তোমার দুনিয়ার ছোট ভাই রোজা বলবে ঐ ফেরেশতা খবরদার! তুই আমার ভাইকে স্পর্শ করতে আসবি না। দুনিয়াতে আমার এই ভাই আল্লাহর হুকুমে রোজা রেখেছে। আমি রোজা আমার এই ভাইয়ের পাশে দাঁড়ালাম। কবর, হাশর, পুলসিরাত, মীজান এবং জান্নাতে প্রবেশ না করিয়ে এই ভাইয়ের কাছ থেকে যাবো না ইনশাআল্লাহ!
তাই বলছি, তুমি মরার পরে বড় ভাই, মেঝো ভাই ধরা দিবে না। দুনিয়াতে যে ছোট ভাই রোজাকে অবহেলা করছ সে তোমার পাশে থাকবে অন্ধাকার কবরে। তাই বলছি আজ থেকে নিয়ত কর রোজা আর ভাঙ্গবে না। ফরজ রোজা, নফল রোজাও রাখবে। যদি জান্নাত চাও। তোমার মাথার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কুরআন, ডানে দাঁড়িয়ে আছে নামাজ, বামে দাঁড়িয়ে আছে রোজা। যাদেরকে দুনিয়াতে ছোট ভাই মনে করে অবহেলা করছো সবসময় এরাই পাশে থাকবে। মাথার কাছে কুরআন, ডানে নামাজ, বামে রোজা, এখন আযাবের ফেরেশাত আসবে পায়ের দিক দিয়ে তোমাকে সাপের ছোবল মারতে, তখন দুনিয়াতে যে তুমি মাঝে মাঝে দান-সদকা করেছো ঐ দান-সদকা তোমার দুনিয়ার ছোট ভাই আযাবের ফেরেশতাকে বলবে ঐ বেটা সাবাধান! এখানে জান্নাতী ব্যক্তি ঘুমাচ্ছে, খবরদার! এখানে আসবি না।
তখন তোমার দুনিয়ার দান-সদকা ছোট ভাই বলবে, ভাইয়া! তুমি আরামে ঘুমাও, দুনিয়াতে অনেক কষ্ট করে টাকা-পয়সা উপার্জন করেছো। সেই টাকা দিয়ে এতিম-অসহায়দেরকে সাহায্য করেছো, এক ছেলে টাকার জন্য পড়া-লেখা করতে পারে না তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছো, টাকার অভাবে বিয়ে হয় না এমন মেয়েদেরকে টাকা দিয়ে বিয়ে দিয়েছো, অসহায় মানুষ টাকা অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছিলো তুমি টাকা দিয়ে সাহায্য করেছো। আপনার সেই ছোট ভাই আমি আপনার পাশে দাঁড়ালাম কথা দিলাম আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ না করিয়ে আমি এখান থেকে যাবো না ইনশাআল্লাহ।
তাই বলছি হে দুনিয়ার মানুষ! বড় এবং মেঝো ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে ছোট ভাইকে ভুলে যেও না। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন কেয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। যখন তুমি একটি নেকির জন্য বাবাকে গিয়ে বলবে, আমি আপনার সন্তান একটি নেকি চাই। বাবা বলবে, দুনিয়াতে আমি বিয়েই করিনি! সন্তান আসবে কোত্থেকে? মা’র কাছে যাবে মা’ও একই কথা বলবে। সন্তানের কাছে যাবে, সন্তান বলবে নিজে বাঁচলে বাপের নাম। আমার বাবা কে তাকে আমি চিনি না। অবশেষে একটি নেকির জন্য আপনি যাবেন আপনার প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর কাছে যার জন্য নামাজ, রোজা, হজ্জ, এবং অন্যান্য ইবাদত করার সময় পাননি। যে স্ত্রীর জন্য বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ সব ত্যাগ করেছেন। যার জন্য হালাল-হারাম, জায়েয- নাজায়েয কোন কিছু বাছ-বিচার করেননি, ঐ স্ত্রীর কাছে যখন যাবেন একটি নেকির জন্য তখন সে বলবে আপনি পাগল নাকি? দুনিয়াতে তো আমার বিয়েই হয়নি! আপনি এক্ষুণি এখান থেকে চলে যান। দু’চোখের পানি আপনার গাল বেয়ে পড়বে কিন্তু কেউ আপনাকে একটি নেকি দিবে না। তাই বলছি আপনি আল্লাহর হয়ে যান, আল্লাহ আপনার হয়ে যাবে, আর আল্লাহ আপনার হয়ে গেলে সারা দুনিয়া আপনার হয়ে যাবে।
দুনিয়ার বড় এবং মেঝো ভাইকে আপন মনে  করে ছোট ভাই নেক আমল করাকে ছেড়ে দিও না। একটি কথা খুব স্মরণ রাখবেন, মানুষ চলে যায় মাটি থেকে যায়। আজ যে মাটি আপনার পায়ের নিচে কাল সে মাটি আপনার বুকের উপর থাকতে পারে। আজ দুনিয়ার মাটির জন্য বাবা-মা আপন মানুষকে খুন করেছেন। তাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। জেনে রাখুন! এ মাটি একদিন আপনাকে খাবে। একদিন এ মাটির ভেতরেই হবে আপনার ঘর। তবে কেন তৈরি করেন দালান ঘর। মাটি দিয়ে আপনার দেহ গড়া, যে মাটির আপনি ছিলেন, যখন মারা যাবেন তখন আবার মাটির নিচে যাবেন। যদি নেক আমল না থাকে তখন মাটি চাপ দিয়ে পিষে ফেলবে আপনাকে। কবরের ভয়াবহ আযাব থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। নেক আমল করা তখনই সম্ভব হবে যখন আল্লাহর ভয় অন্তরে থাকবে। নিচের আমলগুলো বেশি বেশি করলে আশাকরা যায় অন্তরে আল্লাহর ভয় ঢুকবে। এবং নেক আমল করার তাওফীক হবে। ১। মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। ২। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা। ৩। হাদীস পাঠ করা। ৪। দুআ-দুরূদ, যিকির-আযকার পাঠ করা। ৫। ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা। ৬। আত্মীয়দের খোঁজ-খবর রাখা। ৭। সালাতুদ দোহা আদায় করা। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝে বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
লেখক, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight