বিয়ের ফযীলত ও উপকারিতা : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

Porda

সৃষ্টিগতভাবেই নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী বিনে পুরুষ আর পুরুষ বিনে নারীর জীবন মরুবালূর চর। হতাশার অতল সাগরে হাবুডুবু খায়। নর ছাড়া নারী আর নারী ছাড়া নর। এ কারণেই তো পৃথিবীর প্রথম মানব সাঈয়িদুনা আদম আ. চরম ঔদাসীন্য ও অতৃপ্তিতে ভুগছিলেন অনিন্দ অতুলনীয় সুখের বাসর জান্নাতে থেকেও। সেই চরম অতৃপ্তি ও ঔদাসীন্য দূর করার লক্ষে তাঁর জীবনসঙ্গিনীরূপে সৃষ্টি করলেন মা হাওয়া আ. কে। আবদ্ধ করলেন বিয়ের বন্ধনে। অতৃপ্ত আদম তৃপ্ত হলেন। দূর হলো সকল উদাসীনতা। শুরু হলো নর-নারীর বৈধ যুগল বাঁধনে তথা বিয়ের সূত্রে মানবজীবন। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- হে মানবগোষ্ঠী! তোমরা ভয় কর তোমাদের সেই রবকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে আর তাঁর থেকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর স্ত্রীকে এবং তাদের দুজন থেকে সৃষ্টি করেছেন অগনিত নর-নারী। [নিসা:১]
বিয়ে মূলত একজন সুস্থ মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন। উপরন্তু মানুষের স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা, মানসিক ভারসাম্য, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও পবিত্রতার অন্যতম উপায় বিয়ে। ফিতরাতের ধর্ম ইসলামও এর যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছে।  তাই নিম্নে আমরা বিয়ের পরিচয়, শর্ত, গুরুত্ব, ফযীলত, বিধি-বিধান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব।
বিয়ের পরিচয়  বাংলা বিয়ে শব্দের আরবী প্রতিশব্দ হলো নিকাহ যার আভিধানিক অর্থ হলো- দলিত করা বন্ধন, সংযুক্ত করা। ইসলামী পরিভাষায় ইচ্ছাকৃতভাবে একজন পুরুষের একজন নারীর গুপ্তাঙ্গসহ সারাদেহ ভোগ করার বন্ধনকে বিয়ে বলে। [রদ্দুল মহতার: ৪/৫৭-৬০; কিতাবুল ফিকাহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ: ৪/১]   বিয়ে সম্পাদিত হতে হবে দুইজন স্বাধীন বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক ও মুসলমান পুরুষ অথবা এসকলগুণে গুনান্বিত একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে, বর কিংবা  কনে পক্ষের ইজাব তথা প্রস্তাব আর অপর পক্ষের কবূলের মাধ্যমে। এই প্রস্তাব ও কবূল সাক্ষীগণের শ্রবণও করতে হবে। এর বিপরীতে কোন পদ্ধতিতে বিয়ে সম্পাদিত হলে তা বিশুদ্ধ হবে না। [হিদায়া:২/২৮৫;রদ্দুল মুহতার:৪/৬৯, ৮৬-৯২]
বিয়ের গুরুত্ব ও ফযীলত অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসা যেভাবে মানব জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজন, শিক্ষা-দীক্ষার প্রয়োজনীয়তা যেভাবে যুক্তিতর্কের ঊর্ধে- একজন যৌবনদীপ্ত মানুষের সুস্থজীবন যাপনের জন্য বিয়ের অপরিহার্যতা তেমনই। তাই ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ফযীলত ও মর্যাদা তুলনাহীন। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-“তোমাদের মধ্যে যে পুরুষের স্ত্রী নেই আর যে নারীর স্বামী নেই তাদের এবং তোমাদের দাস-দাসীর মধ্যে যারা সৎকর্ম পরায়ন তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তাহলে আল্লাহ (বিয়ের বরকতে) নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছলতা দান করবেন। আল্লাহ বড় প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [সূরা নূর:৩২] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন- আপনার পূর্বে প্রেরণ করেছি অনেক রাসূল এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। [সূরা রাদ:৩৮]
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন- হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মাঝে যারা বিয়ে করতে সক্ষম তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং গুপ্তাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষায় অধিক সহায়ক আর যে বিয়ে করতে সক্ষম নয় সে যেন রোযা রাখে। কেননা রোযা তার যৌনক্ষুধাকে দমিত করবে। [বোখারি:২/৭৫৮,মুসলিম:১/৪৪৯, ইবনে মাজা:১৩২]  সাহাবী আনাস ইবনে মালিক রা. বর্ণনা করেন- মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি পূত-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে চায় সে যেন, বিয়ে করে স্বাধীন নারীকে। [ইবনে মাজাহ:১৩৫] অন্য এক বর্ণনায় আনাস রা. বলেন, মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন- কোন ব্যক্তি যখন বিয়ে করল তখন সে যেন দ্বীনের অর্ধেকটা পূর্ণ করে ফেলল। এখন সে যেন বাকী অর্ধাংশের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে। [মিশকাত:২/২৬৮]
সাহাবী আবু আইয়ুব রা. এর বর্ণনায় এসেছে মহানবী সা. বলেছেন- নবী-রাসূলগণের চারটি  সুন্নত রয়েছে। সেগুলো হলো ১.লজ্জাবোধ, ২. সুগন্ধি ব্যবহার, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. বিয়ে করা। [তিরমিযী:১/১২৮] রাসূলুল্লাহ সা. আরও ইরশাদ  করেন- তিন শ্রেণীর লোককে আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করবেন-১. স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ গোলাম, যে নিজ মুক্তিপণ আদায়ের ইচ্ছা রাখে, ২. চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি, ৩. আল্লাহর পথে জিদাহকারী। [তিরমিযী:২/২৯৫;৪; নাসায়ী:২/৫৮;ইবনে মাজা;১৮১] সুবহানাল্লাহ! কি অসাধারণ ফযীলত! মানুষ মানবিক প্রাকৃতিক চাহিদার কারণেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। অথচ আমাদের প্রাণের স্পন্দন ইসলাম বলেছে বিয়ে আর্থিক সচ্ছলতার কার্যকর উপায়। কখনো বলেছে, পবিত্রতার কার্যকর মাধ্যম। আবার কখনও বলেছে দ্বীনের অর্ধেক। কখনও বা আখ্যায়িত করেছে আল্লাহর সাহায্য লাভের মাধ্যম হিসাবে। সম্ভবত এত ফযীলত ও মর্যাদার কথা অন্য কোন ইবাদত সম্পর্কে বলা হয়নি। কারণও আছে। কেননা সকল ইবাদত বিশুদ্ধ ও পরিপূর্ণ রূপে আদায়ের জন্য প্রয়োজন শারীরিক মানসিক ও চারিত্রিক শুদ্ধতা, পবিত্রতা এবং স্থিতিশীলতা। যার অনেকটাই নির্ভর করে বিয়ের উপর।
বিয়ে না করার কুফল ও ক্ষতি
ধর্মীয় ও পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ে না করার ক্ষতি অনেক। প্রথমত সামর্থবান পুরুষকে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল। ফাযায়েলেও বর্ণিত হয়েছে প্রচুর। যা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের নির্দেশ লঙ্গন এবং তাদের তরফে বর্ণিত ফাযায়েল অর্জন না করার চেয়ে ক্ষতিকারক বিষয় আর কি হতে পারে? এতো ইহকাল ও  পরকালে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত থেকে মাহরুম হওয়ার কারণ। সাহাবী আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনায়, মহানবী সা. ইরশাদ করেন-“দ্বীনদারী ও চারিত্রিক দিক বিবেচনায় তোমাদের পছন্দ হয়, এমন ব্যক্তি তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলে (উপযুক্ত পাত্রীকে) তার সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি বিয়ে না দাও, তাহলে সমাজে বিরাট ফিতনা ও ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। [তিরমিযী:১/২০৭] উক্ত হাদীসের ভাষ্যমতে উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী পাওয়া সত্ত্বেও বিয়ে সম্পাদিত না হলে ভূখন্ডে দেখা দিবে ফিতনা ও বিপর্যয়। কি সেই ফিতনা ও বিপর্যয়? তিরমিযী শরীফের অন্যতম ভাষ্যগ্রন্থ ‘কুওতুল মুগতাযী’তে উল্লেখ আছে- উক্ত হাদীসে ফিতনা ও বিপর্যয় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী থাকা সত্ত্বেও বিবাহ কার্য সম্পাদিত না হলে অনেক নারী পুরুষ অবিবাহিত অবস্থায় থেকে যাবে। ফলে যিনা ব্যভিচার ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করবে। এতে অভিবাবকগণ শিকার হবেন অপমান ও লজ্জার। যার অনিবার্য ফল হিসাবে শুরু হবে দাঙ্গা ও খুনা-খুনী। [তিরমিযী:১/২০৭,টিকা নং-৪] এছাড়াও সামর্থবান যুবকের বিয়ে না করাটা সাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। ভেঙ্গে পড়ে শরীর। উড়ে যায় সুখনিদ্রা। মন্দা পরে কর্মস্পৃহায়। যুবসমাজ শিকার হয় কুচরিত্র ও অসভ্যতায়। যার অনিবার্য প্রভাব আক্রমন করে সমাজ জীবনকে। ফলে দূষিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র।
বিয়ের বিধান
এই বিয়ের হুকুম সর্বদা এক থাকেনা। বরং বিয়ের হুকুম আবর্তিত হয় ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থার বিবেচনায়। তাই বিয়ে ব্যক্তি বিভেদ ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতে মুআক্কাদা, হারাম, মাকরুহ, মুবাহ ও সুন্নাত বলে বিবেচ্য হয়। নিম্নে আমরা বিয়ের হুকুমগুলোর বিবরণ তুলে ধরলাম।
ফরজ: যদি কেউ বিয়ে না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে বলে প্রবল আশংকা হয় আর বৈধ পন্থায় মোহর ও ভরণ-পোষণ করতেও সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা ফরজ।
ওয়াজিব: যদি বিয়ে না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ভয় হয় কিন্তু ব্যভিচারে পড়েই যাবে এমন প্রবল আশংকা নেই। আবার বিয়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণও আছে। হালাল অর্থে স্ত্রীর মোহর ও ভরণ-পোষণ করতেও সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব।
সুন্নাতে মুআক্কাদা: বিয়ের প্রতি আকর্ষণ আছে তবে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশংকা নেই! কিন্তু বিয়ে না করলে লঘু পাপের অধিকারী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হালাল অর্থে স্ত্রীর মোহর ও ভরণ-পোষন আদায় করতে সক্ষম। স্ত্রী মিলনেও সামর্থবান। এমন ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা সুন্নাতে মুআক্কাদা। এ অবস্থায় বিয়ে বর্জন করলে গুনাহ হবে। আর নিজেকে পাপমুক্ত রাখা ও বংশ বৃদ্ধির নিয়ত করলে সওয়াব হবে।
মুবাহ : বিয়ের প্রতি আকর্ষণ আছে। তবে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কোন আশংকা নেই। হালাল অর্থে স্ত্রীর মোহর ও ভরণ-পোষন আদায় করতে সক্ষম। এমন ব্যক্তি যদি পাপ মুক্ত থাকা বা বংশ বৃদ্ধির নিয়ত না করে শুধু যৌনচাহিদা পূরনার্থে বিয়ে করে, তাহলে এটা মুবাহ।
হারাম : যদি বদ্ধমূল বিশ্বাস থাকে যে, বিয়ে করলে স্ত্রী জুলুম ও নিপীড়নের শিকার হবে এবং স্ত্রীর যথাযথ হক আদায়ে ব্যর্থ হবে তাহলে এক্ষেত্রে বিয়ে হারাম।
মাকরুহ : বিয়ে করলে স্ত্রী জুলুম-নিপীড়নের শিকার হবে যদি এমন আশংকা হয়; বদ্ধমূল বিশ্বাস না থাকে, তাহলে বিয়ে করা মাকরুহে তাহরিমী। [রদ্দুল মুহতার:৪/৬৩-৬৬; কিতাবুল ফিকহী-আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ:৪/৬]
বিয়েতে অবহেলিত কিছু আমল
অন্যের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব অনেক সময় দেখা যায়। একপক্ষ অপরপক্ষকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনাও পাকাপাকি অথবা পাকাপাকি হয়নি কিন্তু আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় তৃতীয় পক্ষ এসে বর কিংবা  কনে পক্ষকে অন্য আরেক বিয়ের প্রস্তাব করে। অনেক সময় লোভে পড়ে বা অন্য কোন কারণে চলমান আলোচনা ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে প্রস্তাবকৃত বিয়ের আলোচনা শুরু করে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি নিষিদ্ধ কাজ। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- তোমাদের কেউ যেন অপরের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না করে। [বোখারি:২/৭৭৩] কেননা এতে পরস্পর সৃষ্টি হয় ঘৃণা ও দুরত্ব। দেখা দেয় সামাজিক অস্থিরতা। অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রথম পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব করার পর দ্বিতীয় পক্ষ তা আমলে নেয়। আর যদি আমলে না  নেয় অর্থাৎ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কিংবা প্রস্তাবের পর হ্যাঁ-না কিছুই না বলে তাহলে অবশ্য অপর পক্ষের জন্য প্রস্তাব করার সুযোগ আছে।
বিয়ের খুতবা
বিয়ের খুতবা পাঠ করা সুন্নাত আর নিরবতার সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। এই খুতবা দাঁড়িয়ে দেয়া সুন্নত। বসেও দেয়া জায়িয আছে। [রদ্দুল মোহতার:২/৩৫৯; ফাতওয়া রহীমিয়্যাহ:৮/১৪৭; ফাতওয়া মাহমুদিয়া:৫/৩৫]
ইসলামপূর্ব যুগেও বিয়ের পূর্বে খুতবা দেয়ার রেওয়াজ ছিল। তবে সেকালের খুতবা ছিল অহংকার, বড়ত্ব, বংশীয় গৌরবগাথা ও পূর্বপুরুষদের প্রশংসার সাতকাহন। কিন্তু ইসলাম নির্বাচন করেছে এমন খুতবা যাতে থাকবে আল্লাহর হামদ-ছানা ও তাওহীদ রিসালাতের সাক্ষ। তাতে স্থান পাবে তাকওয়া-খোদাভীতি। আরো স্থান পাবে কুরআন ও হাদীসের এমন বাণী যাতে রয়েছে মানব জীবনের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্যের সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
বিয়েতে এলানবিয়ের একটি অন্যতম সুন্নাত হলো এলান বা প্রচার করে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা। বিনা কারণে গোপনে বিয়ে করা সুন্নতের খেলাফ। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন  তোমরা বিয়েকে প্রচার কর। [তিরমিযী:১/২০৭; ফাতওয়া রহীমিয়্যাহ:৮/১৪৭; আল বাহরুর রায়েক, কিতাবুন নিকাহ]
মসজিদে বিয়ে
বিয়ে মসজিদে সম্পন্ন হওয়াও একটি অন্যতম সুন্নাত। মহানবী সা. ইরশাদ করেন- বিয়ে মসজিদে সম্পাদন কর। [তিরমিযী:১/১৪৭] কিন্তু বড় পরিতাপের ব্যাপার হলো মুসলমানদের মুসলমানিত্ব ও দ্বীনদারীর চরম অধঃপতনের এ যুগে  মহান এই সুন্নাতটি চরমভাবে অবহেলিত। বিয়েতে এই সুন্নাত পালন তো অনেক পরের কথা অনেক মুসলমান এটা জানেও না যে, মসজিদে বিয়ে পড়ানো সুন্নাত। কমিউনিটি সেন্টার ও পার্টি সেন্টারের এ যুগে বিয়েতে এ সব সুন্নাত পালনের পরিবর্তে ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ বিধান বিয়ে হয়ে উঠে বহু অপরাধ ও অশ্লীলতায় ভরপুর এক অনুষ্ঠান। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

খেজুর ছড়ানো
বিয়ের পর খেজুর ছিটিয়ে দেয়া সুন্নাত। মহানবী সা. এর   এই সুন্নতটিও মৃতপ্রায়। উল্লেখ্য যে, খেঁজুর ছিটিয়ে দিলে যদি মনমালিন্য কিংবা মসজিদের আদব পরিপন্থী পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তাহলে ছিটিয়ে না দিয়ে বন্টন করে দেয়াই উচিৎ। অবশ্য একথাও সত্য এবং অভিজ্ঞতাও সাক্ষী যে, এজাতীয় অনুষ্ঠানে যে ধাক্কা-ধাক্কি, ঠেলাঠেলি ও কড়াকড়ি হয়, তা কখনো মনমালিন্য কিংবা ঝগড়া-বিবাদ পর্যন্ত গড়ায়না; বরং এর ভিতর আনন্দই প্রকাশ পায়। তাই এ ব্যাপারে অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। [হিন্দিয়া: ৫/৩৪৫; আল মুগনী:৭/২১৯]
বিয়ের দিন ও মাস বিয়ে শাউয়াল মাসে ও জুমার দিনে সম্পন্ন করা উত্তম ও মুস্তাহাব। তাই এ ব্যাপারে সকলের খেয়াল করা উচিৎ। আর অন্য যে কোন মাস বা দিন কিংবা সময়েও বিয়ে করা জায়িয আছে। কিছু কিছু মানুষ মহররম, সফর, জিলক্বদ, চৈত্র ইত্যাদি মাসে এবং শনিবারে বিয়ে করাকে অশুভ ও অমঙ্গলজনক মনে করে। এসব ধারণা মূলত কুসংস্কার ও ইসলাম পরিপন্থী। ইসলামে এসব চিন্তা/ধারণার কোনই স্থান নেই। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে অশুভ বলতে কোন সময় নেই। [তিরমিযী:১/২০৭; ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন:২/৩৬; ফাতহুল কাদীর:৩/২১৯]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight