বিবাহ সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবীকে বিবাহ করা চারটি কারণে। তার সম্পদের কারণে, বংশ মর্যাদার কারণে সৌন্দর্যের কারণে এবং তার দ্বীনদারীর কারণে। সুতরাং ধার্মিক নারী লাভ করতে চেষ্টা করবে। তুমি ধ্বংস হোক (যদি অন্য কোন নারী চাও)। [বুখারী শরীফ]
২। হযরত আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদেরকে সাহায্য করা আল্লাহ আবশ্যক মনে করেন। এক মুকাতাব যে দাস তার মুক্তিপণ আদায় করতে চায়। দ্ইু. বিবাহকারী যে (বিবাহের মাধ্যমে) আপন চরিত্র রক্ষা করতে চায় এবং। তিন. ঐ মুজাহিদ যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। [নাসাঈ শরীফ]
৩। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের নিকট এমন লোক বিবাহের প্রস্তাব দেয় যার দ্বীনদারী ও চরিত্রকে তোমরা পছন্দ কর তখন বিবাহ দিয়ে দাও। যদি এমন না কর তবে জমিনের বিপদ ও বড় ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি হবে। [তিরমিযী শরীফ]
৪। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা ও তার ফুফুর মাঝে একত্রিত করা যাবে না এবং মহিলা ও তার খালার মাঝেও একত্রিত করা যাবে না। [মুসলিম শরীফ]
৫। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রক্ত সম্পর্কীয় (বংশীয়) যেই সমস্ত মহিলারা হারাম, দুধ পান করা দ্বারাও দুধ সম্পর্কীয় সেই সমস্ত মহিলারা হারাম। [ইবনে মাজাহ শরীফ]
৬। হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অপর ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কেউ যেন কেনাবেচা না করে এবং এক ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের ওপর তার অনুমতি ব্যতীত অপর ভাই যেন প্রস্তাব না দেয়। [মুসলিম শরীফ]
৭। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. মদীনায় আসল, তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাঝে এবং সাদ ইবনে রবী এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক করে দিলেন। এরপর সাদ আবদুর রহমানকে বলল, আস আমি তোমাকে আমার অর্ধেক মাল ভাগ করে দিচ্ছি, আর আমার দুই জন স্ত্রী আছে, আমি তাদের একজনকে তালাক দিচ্ছি যখন তার ইদ্দত শেষ হবে তখন তুমি তাকে বিবাহ করে নেবে। অতঃপর আবদুর রহমান বলল, আল্লাহ তাআলা তোমার সম্পদ এবং পরিবারের ভিতর বরকত দান করুক। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। সুতরাং তারা তাঁকে বাজার দেখিয়ে দিল। অতঃপর সে সেদিন কিছু পনির এবং ঘি নিয়েই ঘরে ফিরল যা সে মুনাফা হিসেবে পেয়েছিল। এরপর একদিন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন অবস্থায় দেখলেন যখন তার উপর হলুদের চিহ্ন ছিল, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন একি অবস্থা? সে উত্তর দিল, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন, তুমি তার জন্য কি মহর নির্ধারণ করেছ? সে বলল, একটা দানা। ইমাম হুমাইদ বলেন, অথবা রাবী বলেছেন (খেজুরের) এক দানা পরিমাণ স্বর্ণ। এরপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওলীমা কর, যদিও একটি বকরী দ্বারা হোক না কেন। [তিরমিযী শরীফ]
৮। হযরত নওফাল ইবনে মুআবিয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এমতাবস্থায় যে, আমার অধীনে পাঁচজন স্ত্রী ছিল। তখন আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, একজনকে ছেড়ে দাও এবং চারজনকে রেখে দাও। [তিরমিযী শরীফ]
৯। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, এ বিশ্বভূম-ল পুরোটাই ভোগ সম্ভার ও আনন্দ উল্লাসের সামগ্রী। তন্মধ্যে সর্বোত্তম সামগ্রী হল নেক ও সৎকর্মপরায়ণ নারী। [মুসলিম শরীফ]
১০। নেককার মহিলা নেককার পুরুষের বিবাহ বন্ধনে এমন, যেমন বাদশাহর মাথায় মূল্যবান পাথর খচিত তাজমুকুট। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight