ফ্যাশন বনাম নগ্নতা : কামরুল ইসলাম

Porda

বর্তমান যুগে ফ্যাশন বলে যা মার্কেটে আছে, তা পোষাকের আসল উদ্দেশ্য কে ব্যাহত করেছে। পুরুষ এবং মহিলার মাঝে এমন পোষাকের প্রচলন ঘটেছে যে, শরীরের কোন অংশ খোলা থাকে, আর কোন অংশ ঢাকা থাকে, এ ব্যাপারে কোন খবর রাখেনা। আজ-কালের পোষাক হয়তো এমনই শর্টকার্ট যে, শরীরের অনেক অংশই খোলা থেকে যায়। কিংবা জালের মত এতো পাতলা যে শরীরের অঙ্গ গুলো সহজেই বুঝা যায়। অথবা রাবারের মতো এতো চিপা-চাপা যে শরীরের গঠন স্পষ্ট বুঝা যায়। পাঠক! লক্ষ্য করুন পুরুষের প্যান্টের দিকে, আজ-কালের প্যান্ট শুধু নাভীর নিচেই থাকেনা তল পেঠের চুল অনায়েসে বের হয়ে থাকে। আবার নিচের দিকে এতটুকু ঝুলে থাকে যে, রাস্তায় ঝাড়–র কাজ হয়ে যায়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- প্যান্টের যে অংশটুকু  টাখনুর নিচে যাবে তা জাহান্নামে থাকবে। আর মহিলাদের পোষাকের কথা কি বলব, আর কি লিখব! যেখানে তাদের সতর হলো, চেহারা ও কব্জি পর্যন্ত হাত ব্যতীত পুরো শরীর। সেখানে তাদের মাথা খোলা, হাত খোলা, বাহু খোলা, পেঠ খোলা ইত্যাদি। অনেকে আবার শুধু গ্যাঞ্জি প্যান্টি পরিধান করে থাকে, এমনকি মাঠে-ঘাটে সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে বাজার/মার্কেটে পর্যন্ত মহিলাদের সংখ্যা চোখে পরার মত। আর আমাদের  সমাজে এক প্রকার লোক আছে যারা ব্যবসার পণ্যের মতো মহিলাদেরকে ব্যবহার করছে। যেমন পত্রিকার পাতায় বা কোন পণ্যের এ্যাড বা প্রচারণার জন্য মহিলাদের কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যে কারনে ইভটিজিং, ধর্ষণ এর মতো ভয়াবহ কর্মকান্ড অহরহ হচ্ছে। এজন্য কারা দায়ী ? এ সকল কিছুর জন্য মহিলাদের ফ্যাশন নামের যে বেহায়াপনা তা অন্যতম কারণ। মহান আল্লাহ  ইরশাদ করেন- তোমরা যে বিপদ-আপদে আক্রান্ত হয়ে থাকো, তা তোমাদেরই কর্মকান্ডের কারনে হয়ে থাকে। আর আল্লাহ অনেক গুনাহ মাফ করে দেন। আর ঐ সব নারীদের ব্যাপারে রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন- এরাই সে সব নারী, যারা পোষাক পরে উলঙ্গ। অন্যদের কে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও অন্যদের প্রতি ধাবিত হয়।
ফ্যাশনের নামে অপব্যয় ও অহংকার
প্রিয় পাঠক! পোষাকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আরাম-আয়েশ ও সাঁজ-সজ্জা। এ ক্ষেত্রে নিজের ও পরিবারের পছন্দ মত পোষাক নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আধুনিক কালে পোষাকের দ্বারা আরাম আয়েশ উদ্দেশ্য হয় না। সাজ সজ্জা গ্রহণ ও লক্ষ্য হয়না, লক্ষ্য হয় শুধু ফ্যাশন। যে সময় যে পোষাক মার্কেটে আসে তা নেওয়ার জন্য সবাই আগ্রহ দেখায়। সেটা হয়ত যে কোন নামে, যেমন পাখি, বা যে জীবের নাম হোক। আর নারীদের অন্য আরেকটি ফ্যাশন হলো, একটি পোষাক একবার পরার পর কোন স্থানে গেলে পরবর্তিতে অন্য আরেকটি পোষাক পরে যেতে হবে। অর্থাৎ যে পোষাক পরিধান করলে অন্যরা তার প্রতি আকর্ষিত হবে, তাকে দামি বলবে, বর্তমান যুগের মেয়ে বলবে, হোক না তা চড়া মূল্যে, কিংবা  হোক না দেখতে বিশ্রী তাতে কি আসে যায়? এ ধরনের পোষাক এক দিকে অপব্যয় হয়, আবার অন্য দিকে অহংকার বৃদ্ধি পায়। কারণ হলো ফ্যাশন করার জন্য পোষাক ক্রয় করলে তা অন্যকে ছোট আর নিজেকে বড় মনে হয়ে থাকে। অথচ হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন- তোমাকে দুটি জিনিস যেন গুনাহে ফেলতে না পারে। ১.অপব্যয় ২.অহংকার। আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight