প্রিয় বোন তুমি যদি এমন হতে! : মুহাঃ ইউসুফ আহমাদ

Porda

একদা এক ধার্মিক লোক বাস করতো মিশরে। তার একজন অনুগত ছেলে ছিল। ছেলের যখন বিয়ের সময়  হল, তখন ছেলের বিয়ের জন্য ঐ লোক মেয়ে  খুঁজতে শুরু করলো। আর ঐ ছেলে তার পিতার উপর আস্থা রেখে সম্পূর্ণ দায়িত্ব পিতাকে দিয়ে  দিলো।
একদিন পিতা ছেলের বিয়ের জন্য একজন ভালো মেয়ে খুঁজে পেলো এবং বিবাহ ঠিক করে ফেললো। ছেলে শুনে খুব খুশি হলো এবং বিবাহের জন্য অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলো। নির্ধারিত তারিখে বিয়ের পর ছেলে তার স্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করলো। যখন আগ্রহের সাথে স্ত্রীর দিকে তাকালো, তখন খুব বিস্মিত হলো। কারণ তার স্ত্রী ছিলো অনেক কুৎসিত। যা তার একদম পছন্দ হয় নাই। এমনকি সে এতটাই শোকাহত হয়েছে যে, তার মুখ দিয়ে কিছুই বেড় হচ্ছিলোনা। আর এমন অবস্থায় সে প্রায় বেহুঁশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। স্ত্রী, এই অবস্থা বুঝতে পেরে নিজেও অনেকটা কষ্ট পেয়েছে। আর এ অবস্থায়  কিছু করতে না পেরে বসে আছে।  অনেকক্ষণ পর সে তার স্বামীকে জাগানোর চেষ্টা করলো এবং জাগাতে সক্ষম হলো। তারপর সে বললো-“আমি বুঝতে পেরেছি, আমাকে আপনার পছন্দ হয়  নাই।
তবে আমার বিবাহ পরবর্তী একটা আশা ছিলো, আমার স্বামীকে নিয়ে একসাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করবো। কারণ রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘উত্তম স্বামী/স্ত্রী সেই যে নিজে রাতে সালাত আদায়ের জন্য বিছানা ছাড়ে  এবং স্ত্রী/ স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। যদি সে (স্ত্রী/স্বামী) না উঠে, চোখে পানি ছিটকে দেয়।’ আপনার নিকট একটি অনুরোধ, আপনি আমাকে এই হাদীসটি পালনের জন্য আমার সাথে সালাতে দাঁড়ান।”
তখন ছেলেটি ঐ মেয়ের অনুরোধে পবিত্রতার সাথে সালাতে দাঁড়িয় পড়লো এবং একসাথে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করলো। সালাত আদায়ের পর ছেলেটি তার স্ত্রীর  দিকে পুনরায় দৃষ্টি দিলো এবং নিজের মধ্যে একটি পরিবর্তন অনুভব করলো। সে এবার তার স্ত্রীর মধ্যে দুনিয়ার  অন্য মেয়েদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য খুঁজে পেলো। অর্থাৎ মেয়েটির দ্বীন তার অন্তরকে পরিবর্তন করে দিলো। (সুবাহান’আল্লাহ)
(সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল ‘ফরইভার মুসলিম’ থেকে ‘আস-সিরাত মিশন’ টিম কর্তৃক অনুবাদকৃত)
প্রিয় বোন শোনলে তো এক নব বধূর হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য। তুমিও ইচ্ছা করলে এরকম হতে পার। শোন বোন তুমি সর্বদায় একটা কথা স্মরণ রাখবে জীবনসঙ্গিনী একজন পুরুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- উত্তম স্ত্রী যিনি জীবনে পান, তিনি একজন ভাগ্যবান পুরুষ। তেমনি একজন স্ত্রীর কাছে যিনি ভালো স্বামী তিনিই প্রকৃত উত্তম চরিত্রের মানুষ। একজন সফল ব্যক্তির পাশে থাকেন তার সুযোগ্য সহযোদ্ধা, সহযাত্রী, বন্ধু হিসেবে তার স্ত্রী। সৎ এবং চরিত্রবান স্ত্রী একজন পুরুষের জন্য এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ।  একজন অসাধারণ জীবনসঙ্গিনীর অনেক উত্তম গুণাবলী হতে পারে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো-
১- স্বামী বাইরে থেকে ফিরলে সম্ভব হলে দরজাটা নিজেই খুলে দেন, একটি হাসি উপহার দিয়ে দু’জনের মাঝে শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ চেয়ে তাকে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম।”
২- তার জীবনসঙ্গী কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর তাকে ফ্রেশ হয়ে নিতে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এগিয়ে দিন। একটু কষ্ট করে তার জন্য সময়মত খাবারটি পরিবেশন করেন। সুসংবাদটি তাড়াতাড়ি জানান এবং খারাপ সংবাদ থাকলে একটু সময় নিয়ে তারপর বলেন।
৩) স্বামীর নির্দেশনাগুলো শোনেন এবং সাধ্যমত চেষ্টা করেন যেন তাকে সন্তুষ্ট রাখা যায়। কোন বিষয় নিয়ে স্বামীকে কখনো চাপে রাখেন না বরং তার মনে শান্তি দেয়ার চেষ্টা করেন।
৪) যদি তার  জীবনসঙ্গী মানুষটা কখনো তাকে কষ্ট বা আঘাত দিয়ে ফেলে, তিনি নিজেকে শান্ত রাখেন। খেপে যান না। কেননা তিনি ধরেই নেন হয়ত তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দিতে চাননি, অসতর্কতায় এমনটি হয়ে গেছে।
৫) জীবন সঙ্গীর ছোট ছোট ভুলগুলো তিনি এড়িয়ে যান এবং তার ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করেন। তার পরিশ্রমের কাজগুলোর ব্যাপারে প্রশংসা করেন।
৬) নিজেকে পরিপাটি ও সুন্দর করে উপস্থাপন করেন স্বামীর সামনে, যা তিনি অন্য কারো সামনে, কারো জন্য করেন না। ঘরে থাকা অবস্থায় সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করেন।
৭) সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসার গলায় জীবনসঙ্গীর সাথে কথা বলেন। এই কোমল সুরে তিনি অন্য কোন পুরুষের সাথে কখনো কথা বলেন না। যাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ নয় এমন পুরুষদের সাথে যথাসম্ভব কোমলতাহীন কন্ঠে এবং সাধ্যমতন সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলাই ইসলামের শিক্ষা।
৮) তার স্বামীর আয় থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করেন না, অবর্তমানে তিনি তার সংসারের সবকিছু এমনভাবে দেখভাল করেন যেন স্বামীর অপছন্দের কিছু না ঘটে।
৯) জীবনসঙ্গী যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তিনি তার পাশে থাকেন, ধৈর্যধারণ আর সদুপদেশ দিয়ে তাকে ধীরস্থির হয়ে সময় কাটিয়ে ওঠার পথে সাহায্য করেন।
১০) স্বামী তার প্রতি সঠিক আচরণ না করলেও ধৈর্য ধরেন, চেষ্টা করেন তাকে উত্তম উপায়ে তার প্রত্যুত্তর দিতে।
১১) শালীনতা রেখে উত্তম পোশাক পরেন, কেননা পোশাকে রুচিবোধ ফুটে ওঠে। ঈমানের সাথে লজ্জার সম্পর্ক খুবই গভীর। যিনি যত বেশি ঈমানের অধিকারী/ অধিকারিণী তার লজ্জাবোধ তত বেশি। একজন উত্তম মুসলিমাহ এসব বিষয়ে সচেতন দৃষ্টি রাখেন।
১২) সন্তানদের ইসলামিক জ্ঞানে বড় করে তুলতে সামর্থের সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করেন। নিজেও আন্তরিকভাবে ইসলাম সম্পর্কে শেখেন এবং স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে জীবনে ইসলামকে মেনে চলেন। বাবা-মায়ের আচরণ সন্তানদের প্রভাবিত করে, তাই বাবা-মায়েরা নিজেরাও সচেতন থাকেন নিজেদের ব্যক্তিগত চরিত্র, স্বভাব এবং আচরণের প্রতি খেয়াল রাখেন।
দু’জনের জীবন মানেই নিজ নিজ কাজের ভার বয়ে নেয়া। তাই বলে অনেকদিন হয়ে গেছে, দু’জনকে চিনে গেছেন বলে সব সাদামাটা হয়ে যাবে? কাপড় ক’দিন পরার পর একটু নতুন করে ধুয়ে নেই আমরা? তাতে সুগন্ধি লাগিয়ে নেই ঠিক তেমনিভাবে সম্পর্কটাকেও মাঝে মাঝে একটু ঝালাই করে নিতে হয়। আপনার বর তো প্রতিদিন কত কিছুই করেন, কেনাকাটাও করেন। তার আনা যে জিনিসটা ভালো লেগেছে, একটু প্রশংসা করলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে?কখনো কখনো সুন্দর একটু প্রশংসা, একটু অনুপ্রেরণা জীবনটাকে একদম বদলে দেয়, মোড় ঘুরিয়ে দেয় চিন্তার, ভালোলাগা আর ভালোবাসার বন্যা এনে দেয়। দেখবেন, হয়ত আনন্দে তার চোখে পানি এসে যাবে। মুছে দিতে গিয়ে বুঝবেন- অল্প কিছুর মাঝেই কত আনন্দ মিশে থাকতে পারে..
লেখক: প্রবন্ধকার, গল্পকার: ফরিদাবাদ, ঢাকা

একটি মন্তব্য রয়েছেঃ প্রিয় বোন তুমি যদি এমন হতে! : মুহাঃ ইউসুফ আহমাদ

  1. সুন্দর পোষ্ট!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight