প্রিয় তালিবুল ইলমদের বলছি : উবায়দুল হক খান

ইলমে দীন হলো শাহী ইলম। যারা ইলমে দীন অর্জন করবে তারা শাহী চিন্তার অধিকারী হবে। পুরো জাতিকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। কুরআন পুরো জাতির জন্য নাযিল হয়েছে। সুতরাং যারা কুরআনের ধারক-বাহক হবে তারা পুরো জাতিকে নিয়ে চিন্তা করবে। কুরআনের শিা জাতীয় শিা। আবার কুরআন আল্লাহর প হতে নাযীলকৃত ওহী। কুরআনের জ্ঞান যেমন ওহী তেমনি হাদিসের শিাও ওহী। তাই ইমাম বুখারি তার কিতাব কিতাবুল ওহী দ্বারা শুরু করেছেন। এ ইলমে দীন ও ইলমে ওহী সবাই অর্জন করতে পারে না। সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি যাকে চান তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন।’ অতএব আমরা যারা ইলমে দীন অর্জন করেছি বা করব নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহ আমাদেরকে পছন্দ করেছেন, নির্বাচিত করেছেন, ভালোবেসেছেন। এজন্যই আপনাকে আমাকে মাদরাসায় নিয়ে এসেছেন। দীনের জ্ঞান শিা দান করার সুযোগ দিচ্ছেন।
ইলম অর্জন হয় তাকওয়া দ্বারা। কারণ ইলম হলো নূর। এ নূর পবিত্র পাত্রে রাখতে হবে। অপবিত্র পাত্রে এ ইলমের কোনো স্থান নেই। সুতরাং গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। গোনাহের কাজে সম্পৃক্ত হলে সঠিক ইলম অর্জন করা সম্ভব হবে না।
কওমি মাদরাসা পড়–য়া তালিবুল ইলম ভাই ও বন্ধুরা! আশা করি নতুন বছরে নিজেদের পছন্দনীয় এবং সুবিধাজনক মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে গেছেন। কেউ কেউ তো ইতোমধ্যে ভর্তি হয়ে গেছেন আর কেউ ভর্তির চেষ্টা করছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর দীনের খাদিম ও নায়েবে নবী হিসেবে কবুল করে নিন।
প্রিয় তালিবে ইলম ভাইয়েরা! আপনারাই পৃথিবীর সবচে ভাগ্যবান শ্রেণি, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এ চরম ফিতনার যুগে নানান সহজলভ্য সুযোগ-সুবিধা, আরাম-আয়েশ ছেড়ে দরসে কুরআন ও দরসে হাদিসে উপস্থিত হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। যেখানে নেই কর্পোরেট সমাজের শান শওকত, পদপদবী এমনকি পেঠ পুরে খাওয়ারও কোন নিশ্চয়তা। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনপূর্বক পরবর্তী জীবন তথা অনন্ত জীবনে সুখী হওয়ার গ্যারান্টি রয়েছে নিশ্চিত। সফল এবং পবিত্র ইহজীবন লাভের একমাত্র পথ এ মাদারেসে কওমিয়া।
আপনাদের একজন হিতাকাঙ্খীও এ পথের এক পুরনো পথিক হিসেবে কিছু পরামর্শ যদি অনুসরণ করেন তাহলে কোন একদিন হয়তো কাজে দেবে। মনে রাখবেন, একান্ত কোন অসুবিধা ব্যতীত মাদরাসা পরিবর্তন করবেন না। যেখানে ভর্তি হবেন সেখানেই সমাপ্ত করুন। যদি পরিবর্তন করতেই হয় যথাযথ কর্তৃপরে অনুমোদন এবং আসাতিজা হজরাতের সন্তুষ্টি ব্যতীত সরবেন না। এর পরিণাম সুখকর হয় না।
মাওলানা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবী রহ. বলেন, কোনো অখ্যাত অজ্ঞাত মাদরাসায় সাধারণ থেকে সাধারণ উস্তাযের স্নেহ-ছায়ায় থেকেও তুমি হতে পারো আগামী দিনের হুজ্জাতুল ইসলাম ও শায়খুল ইসলাম। আবার মদীনা ইউনিভার্সিটি, কায়রো ইউনিভার্সিটি, দেওবন্দ, সাহারানপুর ও নাদাওয়ার মতো বিশ্ববিখ্যাত শিাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েও হতে পারো মাহরূম। সবকিছু নির্ভর করে তোমার ইচ্ছা ও প্রতিজ্ঞার উপর, তোমার সাহস ও মনোবলের উপর এবং তোমার চেতনা ও প্রেরণার উপর। সুতরাং আজই প্রতিজ্ঞা করো, আলিম হওয়ার জন্য এবং ভালো মানুষ হওয়ার জন্য যা কিছু করণীয় ইনশাআল্লাহ আমি তা করবো। যে কোনো পরিবেশে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে আমি আমার ল্য ও উদ্দেশ্যে অবিচল থাকবো।
শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই তোমাকে ভাবতে হবে, আমি কি তালিবে ইলম? তালিবে ইলম কাকে বলে? তালিবে ইলম হলো, যার মধ্যে তলব আছে, জ্ঞানার্জনের পিপাসা আছে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তির পানির তীব্র চাহিদা হয়। তলব হলো পিপাসা। ইলম অর্জনের পিপাসা যার মধ্যে আছে, তার শুধু একটি চিন্তা থাকা দরকার, সেটা হলো ইলম। তালিবের পিপাসা এমন হতে হবে, যতণ ইলম অর্জন না হয়, ততণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। ইলমের পিপাসায় কাতর হয়ে যাওয়া।
বছরের শুরু থেকেই প্রত্যেকটি দরসে উপস্থিত থাকা ও বিশেষ বিশেষ সবকের নোট লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কিতাবের মূল মতন পাঠ ও নিজের ভাষায় পাঠোদ্ধার ব্যতীত নোট, ব্যাখা গ্রন্থ খুলবেন না। নিজের সহপাঠীদের বয়স অনুপাতে বড়ভাই ছোটভাই হিসেবে আচরণ করবেন। মনে রাখবেন, ইলমে ওহীর শিা গ্রহণে হযরত সাহাবায়ে কেরাম রা. এর সম্পর্ক ছিল সহোদরের মত। সংশ্লিষ্ট মাদরাসার আইন-কানুন মেনে চলা ওয়াজিব জানবেন। কোন সুবিধা-অসুবিধায় কর্তৃপরে অথবা নিজের ওস্তাদের স্মরণাপন্ন হবেন। ভুলেও সাধারণ লোকের দ্বারস্থ হবেন না। তালিবে ইলমের সাথে সাথে নিজের অন্তর ও বাহ্যিক সুরত ইলমে ওহীর নূরে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সর্বদা আসাতিযায়ে কেরামের সেবা ও দোয়া লাভে সচেষ্ট হোন।
আপনি যে কোন শ্রেণির হোন, আপনাকে শরিয়তের হুকুম-আহকাম, বিধি-বিধান, হালাল-হারাম সম্পর্কে এখনই সচেতন হতে হবে। সাধারণত বলা হয়, ছাত্র জীবনে এটা-সেটা, এদিক-ওদিক একটু হতেই পারে। খবরদার! এটা হচ্ছে শয়তানের একটি মহা ধোঁকা। এভাবে অঙ্কুরেই সে ধ্বংস করে ফেলে একটি সম্ভাবনাময় উন্নত জীবন। নিজেকে প্রচলিত রাজনীতি থেকে দূরে রাখুন। দরসী কিতাব মুতালাআর পর অবসর সময়ে ইতিহাস এবং আকাবিরের জীবনী পাঠ করুন। মাঝেমধ্যে তাবলীগে দু’চার দিন ব্যয় করুন। সাধারণ মুসলমানদের সাথে গড়ে তুলুন দীনি সম্পর্ক।
ফেসবুক আসক্তি হিরোইনের মত প্রতিভা বিকাশে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করছে। সুতরাং ক্রমেক্রমে ফেসবুক থেকে সরে যাওয়া একান্ত জরুরি। বিশেষ করে ইলমে ওহীর ধারক-বাহকদের মধ্যে সেলফি, ফটোবাজি এবং হারাম কাজে অনুভুতি হীনতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য আপনি আপনার মুহাক্কিক কোন ওস্তাদের দিকনির্দেশনা পালন করাই সবচে নিরাপদ মনে করি।
প্রিয় দীনি ভাই! ইলমদীন হাসিলে শারিরীক সুস্থতাও একান্ত প্রয়োজন। তাই নিয়মিত খাদ্য ও নিন্দ্রার দিকে খেয়াল রাখবেন। হ্যাঁ, কওমি মাদরাসাগুলোর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে যে খাদ্য দেয়া হয় তা সবরের সাথে গ্রহণ করুন। সংগতি থাকলে সামান্য বিস্কিট সাথে রাখুন। মনে রাখবেন, উন্নত স্বাস্থের জন্য উন্নত খাবারের প্রয়োজন নেই। সুষম, সময় মেইনটেইন করে সামান্য খাবারই যথেষ্ট। বুঝতে হলে ধনীর দুলাল এবং একটি পথশিশুকে দেখুন। আপনি নিজের উদ্যোগে উসওয়ায়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে অবহিত হোন। অনুস্মরণের চেষ্টা চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ জীবন সুন্দর ও স্বার্থক হবে।
মনে রাখবে, নবুওয়তের পর সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে ইলমেদীন। এ মহা সম্পদের ধারক-বাহক হিসেবে উলামায়ে কেরামের মান-মর্যাদা যেমন সকলের ঊর্ধ্বে, দায়িত্বও তেমনি বিশাল। কিন্তু বর্তমানে আমাদের অধিকাংশ আলেমরা নিজেদের এ বিশাল অবস্থান ও ভারী এ দায়িত্ববোধ থেকে কতটা গাফিল তা কি আর খুলে বলতে হবে? বিশেষত আমাদের সামাজিক আচার-আচরণ, লেনদেন, পারস্পরিক সহমর্মিতা, আকাবির-আসলাফের অনুসরণ, ইলমী ও আমলী মেহনতের মারাত্মক ত্রুটির দিকে তাকালে সহজেই বুঝা যায় আমরা কতটা আত্মভোলা।
১২-১৩ বছর লেখাপড়া করার পর একটি মাসআলার সমাধান কিংবা তার দলীল চাইলে আমরা এতটা অসহায় হয়ে যাই কেন? কোনো মাসআলায় ‘জানি না’ বা ‘জানা নেই’ বলা ততটা দুঃখের বিষয় নয় যতটা লজ্জা ও আফসোসের বিষয় হচ্ছে, নিয়মিত কিতাব মুতালাআ ও ইলমে দীনের চর্চা চালিয়ে না যাওয়া। পরে নিজেদের এসব দুর্বলতার জের ধরে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মাযহাব ও বড়দের উপর থেকেও আমরা আস্তা হারিয়ে ফেলি। অথচ আমরা যাদের উত্তরসুরী তারা কোন বিষয়ে ও কোন ময়দানে পিছিয়ে ছিলেন, তা কি কেউ বলবেন আমাকে দয়া করে?
বেশি দূরে যেতে হবে না। আমাদের নিকট অতীতের আকাবিরে দেওবন্দের কথাই ধরা যাক। কার নাম বলবো? আল্লামা কাসিম নানুতবী রহ. শাইখুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ. আল্লামা আনওয়ার শাহ কশ্মিরী রহ. আল্লামা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানবী রহ. শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ. আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা হাকিম মুহাম্মদ আখতার সাহেব রহ.। আমার দেশের আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রহ. হযরত হাফিজ্জী হুজুর রহ. আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরী রহ. মুফতীয়ে আজম আল্লামা ফয়জুল্লাহ রহ. হযরত শায়খে কৌড়িয়া রহ. হযরত শায়খে গহরপুরী রহ. আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা আকবর আলী রহ. শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.। আর কতো নাম বলবো? তারা এক একজন যেন এক এক রাজা-বাদশাহ ছিলেন। তাদের ইলমী দক্ষতা ছিল যেমন, ইবাদত-বন্দেগীতে গভিরতাও ছিল তেমন। আল্লাহ তাআলার সাথে গভির ও নিবিড় সম্পর্ক যেমন ছিল, দুনিয়ার জীবনে তাদের মান-মর্যাদাও তেমন ছিল। দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তি কি কিছু কম পেয়েছিলেন তারা? কোন দিক থেকে তারা পিছিয়ে ছিলেন? দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের সম্মান আজ আছে, কাল নেই। আজ সিংহাসনে তো কাল কারাগারে। তাদের গলায় আজ ফুলের মালা তো কাল জুতার মালা। কিন্তু আমাদের পূর্বসূরী মহান সে বুযুর্গানে দীনের বাদশাহী ও মর্যাদা চিরন্তন। তারা মরে গিয়েও অমর। মানুষের হৃদয়রাজ্যে ও অন্তরগহিনে তাদের স্থান।
জীবিতদের মাঝে আল্লামা মুফতী তাকি উসমানী, হযরত মাওলানা সায়্যিদ আরশাদ মাদানী, আমার দেশে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী, আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ আবদুল মতীন বিন হোসাইন, মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ, হযরত মাওলানা আবদুল মালিক। আরো আরো অনেক। আল্লাহর মেহেরবাণীতে তারা যেমন ইলমের ময়দানে রাজা তেমনি আমলি ময়দানেও বাদশাহ। তাদের এখলাস ও ত্যাগ আমাদের জন্য অবশ্যই অনুসরণীয়।
মৃত ও জীবিত সকল উদাহরণ পেশ করার পর এখনো কি আমরা পথের কোনো দিশা পাবো না? এখনো কি আমরা প্রতিদিন পাঁচ-সাত ঘণ্টা শুধু মোবাইল হাতে বেকার কর্মকা-ে লিপ্ত থাকবো? ফজরের পর কুরআন তেলাওয়াত ছেড়ে দিয়ে শুধু ঘুমাবো? না বন্ধুরা, নিজের উপর রহম করি। নিজেকে আরো অগ্রসর করতে সচেষ্ট হই। নফস ও শয়তানের প্ররোচণায় যা হবার হয়ে গেছে। এবার তো তাওবার রাহে ফিরে আসি। আর সর্বনাশ না করি মহা মূল্যবান এ জীবনটাকে। সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নব উদ্যমে তাকওয়া ও সুন্নতের পথে চলতে শুরু করি। নিরাশ না হয়ে যাই। এখনো মেহনত করলে ইনশাআল্লাহ হাফিজ্জি হুজুর হওয়া সম্ভব। আমরা আলেম-উলামারা নিজেদের পরিচয় ও অবস্থানটুকু একটু ভেবে দেখি। আর কত গাফলত ও হতাশার চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকবো? আল্লাহ পাক আমাদের সুমতি দান করুন।
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ছাত্রদের এ হিদায়াত দিতেন, তোমরা তিনটি বিষয় নিজেদের জন্য অপরিহার্য করে নাও। তাহলে আমি তোমাদের নিশ্চয়তা ও গ্যারান্টি দিতে পারি এবং আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, তোমাদের ইলমী যোগ্যতা অর্জিত হবে। এক. যে সবক তুমি পাঠ করবে, প্রথমে অবশ্যই তা নিজে মুতালাআ বা অধ্যায়ন করে নিবে। আর এ অধ্যায়নের বিষয়টি তেমন জটিল ও কঠিন কোন কাজ নয়। কেননা, এর উদ্দেশ্য হলো, শুধু জানা অজানার মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করা। শুধু এটুকু হয়ে গেলেই চলবে। এর চেয়ে বেশি অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে না। দুই. কাসে উস্তাদের কাছে সবকটি ভালোভাবে বুঝে নিবে। না বুঝে সামনে অগ্রসর হবে না। এ সময় শিকের মন মানসিকতা ভালো না থাকলে অন্য সময় তাঁর কাছ থেকে বুঝে নিবে। তিন. কাস শেষে নিজে একবার পঠিত সবক তাকরার বা পুনরালোচনা করে নিবে।
ছাত্ররা যদি নিয়মিতভাবে এ তিনটি বিষয় নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেয়, তাহলে তার মাঝে নিঃসন্দেহে ইলমী যোগ্যতা অর্জিত হবে। ছাত্রদের জ্ঞান অর্জনে এ তিনটি বিষয় অপরিহার্য হিসাবে গ্রহণের পর আরও একটি কাজ করে নিলে তা হবে তাদের জন্য উত্তম। আর সে কাজটি হলো, অল্প অল্প হলেও প্রতিদিন পিছনের পঠিত সবক পুনরায় পাঠ করা।
ছাত্রদের চারটি বিশেষ কাজ করার জন্য ইমাম বুখারি রহ. তাঁর রুবায়িয়্যাতে উল্লেখ করেছেন। আওযাজুল মাসালিকে শায়খুল হাদিস জাকারিয়া রহ. ও বুখারির প্রথম হাদিসে একই কথা উদ্দেশ্য নিয়েছেন। বিষয় চারটি হলোÑ ১. রেজায়ে মাওলা, ২. ইলম অনুযায়ী আমল, ৩. বক্তৃতার মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া, ৪. লেখনির মাধ্যমে সারাবিশ্বে প্রচার করা।
পরীায় ভাল ফলাফল করার কিছু আমল : ১. বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বা হল রুমে প্রবেশের আগে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া। ২. সুরা আল কলম পাঠ করা। ৩. হলে ঢুকে কথা না বলে দুরুদ শরীফ বা বিভিন্ন দোয়া পড়া। ৪. সুরা ফাতেহা ও তিন বার ইখলাস পড়ে মনে মনে দোয়া করা। ৫. প্রশ্ন হাতে আসার পর প্রথমেই না দেখে, শুরুতে ৪১ বার ইয়া আলিমু পাঠ করা। ৬. একমাত্র মাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে শুরু করতে হবে। যদি এমন হয় যে কোন প্রশ্ন মনে হচ্ছে বা হচ্ছে না তখন দুরুদ শরীফ পড়বে আর ওই প্রশ্নটি ভাবতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ উপকার পাবে।
লেখক : সম্পাদক, প্রতিভা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight