পিতামাতাকে সন্তুষ্ট রাখার কয়েকটি নীতিমালা আবদুল মালেক মুজাহিদ

আমি (লেখক) আমার বাস্তব জীবনে দেখেছি যে, পিতামাতা দুনিয়াদারই এমনকি এর চেয়েও সামনে এগিয়ে গিয়ে তাঁরা কোন চারিত্রিক দুর্বলতার মধ্যে জড়িয়ে পড়–ন না কেন, তখনও তাঁরা নিজেদের সন্তানদেরকে অত্যন্ত উঁচু মানের চরিত্রবানরূপে দেখতে চান। তাঁদের আকাঙ্খা হয় যে, তাঁদের সন্তানগণ কুরআন কারীম পাঠ করুন, নামায রোযার পাবন্দ হোক। পিতামাতা নিজেরা যতই মন্দ কাজে লিপ্ত থাকুন না কেন, তাঁরা কোন মূল্যের বিনিময়েও নিজেদের সন্তানদেরকে চোর, ডাকাত বা হত্যাকারীরূপে দেখা কখনও পছন্দ করেন না। এ কারণে তাঁরা যথা সম্ভব পুরোপুরিভাবে চেষ্টা করেন যে, তাঁদের সন্তানগণ যেন চারিত্রিক দোষসমূহ হতে পবিত্র থেকে উন্নত মানের চরিত্র ও কর্মের অধিকারী হয়ে যায়।
আপনি স্বীয় কথাবার্তায় আপনার পিতামাতার মনে এ বিশ্বাস জন্মাবেন; “আপনারা নিশ্চয় আমাকে আনন্দিত, সৌভাগ্যশালী এবং হাস্যময় দেখতে চান। আমারও আন্তরিক আকাঙ্খা রয়েছে যে, আনারা আমার প্রতি আনন্দিত ও সন্তুষ্ট থাকবেন”। আপনার এই শব্দগুলি তাঁদের সমুদয় আশা পূরণকারী সাব্যস্ত হবে। মনে রাখবেন যে, পিতামাতার সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা এই হয় যে, তাঁদের সন্তানগণ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট ও আনন্দিত হয়। যদি আপনি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন এবং তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তবে বুঝবেন যে, আপনার ভাগ্যের দরজা খুলে গেছে। এখন দুজাহানের সফলতা আপনার ভাগ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
যদি এটা আত্মগর্ব না হয় তবে নেয়ামতের বর্ণনা হিসেবে আরয করছি যে, আমি মর্যাদা লাভ করেছি। কেননা, আমি বার বার স্বীয় সম্মানিতা মাতার পাশে বসে এই প্রকারের কথোপকথন করেছি। অবস্থা এই হয় যে, আমার সম্মানিতা মাতা প্রায় আরাম করতে থাকতেন। আমি তাঁর পাশে বসে পড়তাম। প্রায়ই তাঁর হাত ধরে নিয়ে বলতাম, আচ্ছা আম্মাজান! আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট আছেন তো? উত্তর আসতো, হ্যাঁ, ছেলে আমার! আমি সন্তুষ্ট রয়েছি। সত্যিই কি আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট আছেন? জবাব আসতো, হ্যাঁ, প্রিয় ছেলে আমার! সত্যিই আমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি।
না, আম্মাজান! আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আপনি কসম করে বলুন যে, আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট রয়েছেন।
তখন তিনি বলতেন, আচ্ছা আমি কসম খাচ্ছি যে, আমি সর্বদিক দিয়েই তোমার প্রতি খুশি রয়েছি।
আচ্ছা যদি এ কথাই হয়, তবে আবার কিয়ামতের দিন আপনি আল্লাহ তাআলার সমীপে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করবেন না তো?
তিনি জবাব দিতেন, না, হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি তো মনে প্রাণে তোমার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। তাহলে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব কেন?
শ্রদ্ধেয় পাঠকম-লী! আপনারা কি মনে করেন যে, এই প্রকারের কথোপকথনের পর মাতার অন্তর থেকে দুআ বের হবে না? আপনারা বিশ্বাস করুন, তিনি আমাকে অনেক দুআ করেছিলেন। তিনি আমাকে ¯েœহ ও ভালবাসার ছিঁটা দিয়ে এমনভাবে গোসল করিয়ে দেন যে, তার মমতার স্পর্শে আমার গোসল হয়ে যেত।
সম্মানিত পাঠকম-লী! আমার এই আবেদন সমূহের পর আমি কি আপনাদেরকে অনুরোধ করব না যে, আপনারাও আপনাদের পিতামাতার সাথে এরূপই ভালোবাসাপূর্ণ কথা বলবেন এবং তাঁদের দুআসমূহের ভা-ার হতে দুআ পরিপূর্ণ করে নিবেন। আপনারা একটু এরূপ করে দেখুন, বিস্ময়কর মজা ও আনন্দ লাভ করবেন।
যদি আপনাদের দাদা-দাদী নানা-নানী জীবিত থাকেন তবে তাঁদের ইয্যত ও সম্মানের মধ্যে কোন পার্থক্য আসতে দিবেন না। যথা সম্ভব তাঁদের খেদমত করবেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় কাজ করে দিবেন। তাঁদের চিকিৎসার ব্যাপারে কোন প্রকার কার্পণ্য করবেন না। তাঁদেরকে সন্তুষ্ট রাখবেন। এরূপ করলে আপনাদের পিতামাতা আপনাদের প্রতি অত্যন্ত খুশি হবেন এবং আপনাদেরকে অনেক দুআ করবেন। এভাবে আপনাদের উপর রহমত ও বরকতের দুআর খুলে যাবে।
এই বুযুর্গগণ যদি মৃত্যুবরণ করে থাকেন তবে তাঁদের আলোচনা খুব সুন্দরভাবে করবেন। তাঁদের পক্ষ থেকে দান খয়রাত করবেন। আমার (লেখকের) স্বরণ আছে যে, আমি প্রথম প্রথম যখন সৌদি আরবে আসি  তখন দাদা-দাদী, নানা-নানীর পক্ষ হতে হারামাইন শরীফাইন হতে এক একটি কুরআন পাকের কপি ক্রয় করে রাখি। নিয়ত এই ছিল যে,  এই সৎকাজের সওয়াব তাঁরা যেন লাভ করেন। অতঃপর আমি একটা পত্রের মাধ্যমে আমার শ্রদ্ধেয় পিতাকে এই সংবাদ প্রদান করি। এর উত্তরপত্র আমি আমার শ্রদ্ধেয় পিতার পক্ষ হতে অসংখ্য দুআর আকারে প্রাপ্ত হই।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণকারীদের ব্যাপারে যা বলেছেন তা হক ও সত্য। তিনি বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায় তখন তার আমলসমূহের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল এমন রয়েছে যা মৃত্যুর পরেও বাকী থেকে যায়। ১। সাদকায়ে জারিয়াহ। ২। এমন এলেম যার মাধ্যমে মানুষ মৃত্যুর পরেও উপকার লাভ করে থাকে। ৩। সৎ সন্তানগণ, যারা তার জন্যে দুআ করে থাকে।
এরূপ কি হতে পারে না যে, আপনি আপনার পিতামাতার মৃত্যুর পর এমন কাজ করেন যা তাঁদের পুন্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। যেমন মসজিদ নির্মাণ করা। এটা জরুরী নয় যে, আপনি একাই একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিবেন। হ্যাঁ, তবে যদি আপনি ক্ষমতার অধিকারী হন তবে একাই একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিতে পারেন। অন্যথায় নিজের শক্তি-সামর্থ অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণে অংশ নিবেন। পিতামাতার নামে কূপ খনন করাবেন বা টিউবওয়েল বসিয়ে দিবেন। কতিপয় এতীমের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিবেন। কুরআন কারীমের মুদ্রণ ও প্রকাশনায় অংশ নিবেন। কুরআন ও সুন্নাহর তালীমের মাদ্রাসায় নির্মাণ কাজে পিতামাতার অংশ রাখবেন। এরূপ স্বীয় পিতামাতার পুন্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে যেতে পারে। এটা কতই ভাল হবে যে, আমরা আমাদের পিতামাতাকে প্রত্যেক কাজে ও কথায় প্রাধান্য দেব। নিজেদের বন্ধু বান্ধব এবং স্ত্রী সন্তানদের উপর তাঁদেরকেই প্রাধান্য দান করব।
যদি আপনার পিতা-মাতা আপনার নিকট অবস্থান না করেন তবে মাঝে মাঝে আপনার বাড়িতে আগমনের দাওয়াত দিবেন। তাঁদেরকে অনুরোধ করবেন যে, তাঁরা যেন আপনার নিকট এসে থাকেন। আপনার এ কাজ তাঁদের জীবনে স্পষ্ট পরিবর্তনের কারণ হবে। পুত্রের এ ব্যবস্থায় নিশ্চিতরূপে তাঁরা অত্যন্ত খুশি হবেন।
আপনার যেমন মন চায় যে, আপনি শপিং সেন্টারে গিয়ে খরিদ্দারী করবেন, তেমনই পিতা মাতাও কমবেশি এরূপই আকাঙ্খা করে থাকেন। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বুযুর্গদের মধ্যে পার্থিব সৌন্দর্যের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যায়; কিন্তু স্বাভাবিক দাবী আপন জায়গায় কাজ করতে থাকে। তাঁদেরকেও ভ্রমণ করিয়ে নিন। মাঝে মাঝে শপিং এর জন্যে তাঁদেরকে বড় বড় অট্টালিকা ও শপিং সেন্টারে নিয়ে যাবেন। এতে তাঁরা খুশি হবেন।
মাতার সামনে আপনার পিতার প্রশংসা করুন। তাঁর উত্তম গুণাবলী ও সৌন্দর্য বর্ণনা করুন। অনুরূপভাবে পিতার সামনে মাতার সচ্চরিত্রতা ও ভাল কাজের আলোচনা করুন। তাঁর ভাল কথাগুলি সুস্পষ্টভাবে পেশ করে দিন। এভাবে আপনার পিতামাতা পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাঁরা আপনার উপর গৌরববোধ করবেন যে, তাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি  পাবে। তাঁরা আপনার উপর গৌরববোধ করবেন যে, তাঁদের পারস্পরিক চমৎকার সম্পর্ক মযবূত করণে তাঁদের পুত্রের সুস্পষ্ট হাত রয়েছে।
পিতামাতা বিশেষ করে মাতা সাহেবার গৃহের ব্যবস্থাপনার নিয়মনীতির প্রশংসা করবেন। সাধারণত: আমাদের সমাজে বাড়ির বাজেট মহিলারাই চালিয়ে থাকেন। সুন্দর পদ্ধতিতে তাঁরা তাঁদের স্বামীর উপার্জিত সম্পদ খরচ করে দুঃসময়ের জন্যে কিছু রেখেও দেন। সুতরাং যদি আপনার মাতার এই খরচ পদ্ধতি প্রশংসা করা হয় এবং খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নেয়া হয় যে, বাড়ির ব্যবস্থাপনা আম্মা সাহেবা বড়ই সুন্দর পদ্ধতিতে চালিয়েছেন তবে আপনার মাতা স্বীয় বিশ্বস্ততায় প্রশংসা শুনে খুশি হয়ে যাবেন এবং বাড়ির ব্যবস্থাপনা আরও উত্তম পদ্ধতিতে চালাবেন।
যদি আপনি কন্যা হন তবে এটা জানাও সুপরিতি কথা যে, আপনি আপনার আম্মার বহু নিকটে রয়েছেন। আপনি আপনার আম্মার গোপন রহস্য কখনও প্রকাশ হতে দিবেন না। তাঁর মানসিকতা বুঝবেন এবং সে অনুযায়ী আচরণ করবেন। তাঁর সাথে আনার রীতি নীতি সম্পূর্ণরূপে একজন বান্ধবী ও সখীর মত হওয়া উচিত। প্রত্যেক ছোট বড় ও কাজে তাঁর বিশ্বস্তরূপে গ্রহন করবেন এবং তাঁর সাথে পরামর্শ করবেন। যদি আপনার আরও বোন থাকে তবে তাদের সাথে ¯েœহ ও ভালবাসাপূর্ণ এবং সুন্দর আচরণ করবেন। তাঁদেরকে মাঝে মাঝে উপহার ও উপঢৌকন দিবেন। আপনার এরূপ কাজে আপনার মাতা আপনার উপর অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্ট হবেন। মাতার এটা প্রকৃতি বা স্বভাব যে, যদি কেউ তাঁর কন্যাদেরকে ¯েœহ ও মুহাব্বত করে তবে তিনিও তাকে মুহাব্বত করবেন ও ভালোবাসবেন। আপনার এ আমল যেখানে আত্মীয়তার সম্পর্কযুক্ত রাখার আওতায় পড়বে সেখানে ওটা আপনার আম্মার সন্তুষ্টি ও খুশির কারন হবে।
আপনার সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা এই পদ্ধতিতে করবেন যে, তারা তাদের বুযুর্গদের, বিশেষ করে দাদা-দাদী, নানা-নানীদের ইয্যত ও সম্মান করবে। আপনার সন্তানদেরকে বলবেন যে, তাঁরা যেন বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সামনে উপঢৌকন পেশ করে। এ উপহার উপডৌকন অবশ্যই অতি মূল্যবান হওয়া জরুরী নয়; বরং নিজেদের সাধ্যানুযায়ীই পেশ করবে। তা একটা ফুলই হোক না কেন! স্বীয় সন্তানদের সন্তানের হাত হতে প্রাপ্ত উপহার তাঁদের জন্যে সমগ্র পৃথিবী অপেক্ষা কম গুরুত্বের অধিকারী হবে না। একটু পরীক্ষা করে দেখুন তো!
পিতামাতা যদি দুর্বল হন তবে তাঁদের হাত ধরে তাঁদেরকে মসজিদ, বাজার হাসপাতাল এবং প্রিয়জনদের নিকট নিয়ে যাবেন। যদি তারা উঠতে যান তবে তাঁদের সামনে তাঁদের জুতা সোজা করে রেখে দিবেন। মনে রাখবেন যে, তাঁদের দেখাশোনার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি আনাদের উপরই বর্তাবে। পিতামাতার অধিকার সমূহ কখনও শেষ হবার নয়। আপনি তাঁদের যতই হক আদায় করুন না কেন তা অল্প বলেই বিবেচিত হবে।
পিতামাতার প্রকৃতিগত আকাঙ্খা হয় যে, তাঁদের ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হউক। আপনি তাঁদের ঘর সৌন্দর্যময় করতে তাঁদেরকে সাহায্য করবেন। ওর মেরামত করতে থাকবেন। যদি কোন ভাঙ্গা মেরামত করতে হয়, রঙ করতে হয়, আঙিনায় ফুলের গাছ লাগাতে হয়, এসব ব্যাপারে আপনি স্বীয় পিতামাতাকে সাহায্য করবেন। তাঁদেরকে পরামর্শ দিবেন। নিজে কাজে শরীক থাকবেন। পিতামাতার মধ্যে এ অনুভূতি সৃষ্টি করবেন যে, তাঁদের ঘর নির্মান এবং দেখা শোনা করার দায়িত্ব আপনার।
পিতামাতার শয়নের ঘরকেও আপনি আপনার মনযোগের কেন্দ্রস্থল বানিয়ে নিবেন। তাঁদেরকে সারাদিন ওখানে কাটাতে হয়। ঐ কক্ষটি সুন্দর হওয়া উচিত। তাঁদেরকে অন্যান্য সন্তানদের সাথেও ঐ কক্ষেই মিলিত হতে হয়। অতিথিদেরও এখানে আসতে হয়। সুতরাং এই ঘরের প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিভিন্ন সময়ে বেড সিট পরিবর্তন করাবেন। সেখানে যদি চেয়ার বা সোফা থাকে তবে পরীক্ষা করতে হবে যে, ওগুলি পুরাতন হয়ে যায়নি তো? এটা মস্তিষ্কে রাখতে হবে যে, বৃদ্ধদের নিকট তাঁদের সাথে সাক্ষাতকারীদেরকেও ঐ কক্ষেই আসতে হয়, তাহলে পিতামাতার কক্ষটি তাঁদের শান শওকতের জন্যে উপযুক্ত তো?
পিতামাতার আত্মীয় স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁরা খুশিও হবেন এবং আল্লাহ তাআলার হুকুম আহকামের উপর আমলও হয়ে যাবে। কোন কোন সমাজে পিতামাতার নামে সন্তানদের নাম রাখার প্রথা আছে এবং পিতামাতা এটা পছন্দ করেন যে, তাঁদের নাম যেন জীবিতরূপে থাকে।
বিশেষ করে সৌদি আরবে এটা সাধারণ ব্যপার। স্বয়ং লেখক স্বীয় কোন কোন প্রিয়জনের নাম নিজের বুজুর্গদের নামে রেখেছেন। এটা সত্য যে, তাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন বটে; কিন্তু এভাবে তাঁদের নাম জীবিত রয়েছে এবং তাঁদের সৎকার্যাবলীর আলোচনা হচ্ছে।
মনে করুন, আপনি পিতামাতাসহ কোথাও যাচ্ছেন। আপনাদেরকে গাড়িতে উঠতে হবে। এমতাবস্থায় প্রথমে পিতামাতাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে হবে। তাঁদের বাহু ধরে তাঁদেরকে সামনের আসনে বসাবেন। এরূপে তাঁদের মধ্যে এ বিশ্বাস সৃষ্টি হবে যে তাঁদের পুত্র তাঁদেরকে সম্মান করে। অনুরূপভাবে নামবার সময়েও তাঁদেরকে প্রথমে নামতে দিতে হবে। হ্যাঁ, তবে যদি তাঁদের আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হয় তবে আপনি প্রথমে নেমে গিয়ে তাঁদেরকে নামতে সাহায্য করবেন। বাহ্যত: এটা সাধারণ ব্যাপার বলে প্রতিয়মান হচ্ছে; কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এটার বড়ই গুরুত্ব রয়েছে।
এটা কুরআন কারীমের শিক্ষা যে, আমরা আমাদের পিতামাতার জন্যে দুআ করব। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের চেয়ে আর কোন কাজ হতে পারে যে, আপনি হাত উঁচু করে বলছেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাঁদের দুজনের উপর এরূপ দয়া প্রদর্শন করুন যেমন, তাঁরা শৈশবে আমাদের উপর দয়া প্রদর্শন করেছিলেন। এই দুআটি যদি কবূলিয়াতের দুআর সময় করা হয় তবে এর কল্যাণ ও উপকার বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
পিতামাতার সাথে বসার পূর্বে তাঁদের সাথে কথোপকথনের সময় নির্ধারণ করবেন। ঐ সময় স্বীয় পূর্ণ মনযোগ তাঁদের প্রতিই কাটিয়ে দিবেন। সংবাদপত্র, মোবাইল ইত্যাদি বন্ধ করে দিবেন। পুরো মনযোগের সাথে তাঁদের কথাগুলি শুনবেন এবং নিজের কথাগুলি শুনাবেন।
স্বীয় পিতামাতার উপর এবং তাঁদের ব্যক্তিত্বের উপর গৌরব প্রকাশ করবেন। যেখানে বসবেন সেখানেই পিতামাতার আলোচনা এই পদ্ধতিতে করবেন যে, তাঁরাই আপনার রোল মডেল এবং আপনি প্রত্যেক কাজে কর্মে তাঁদেরই অনুসরণ করে থাকেন।
পিতামাতার দুআ তাঁদের সন্তানদের পক্ষে কবূল হয়ে থাকে। আপনি তাঁদের নিকট দুআ প্রার্থনা করতে থাকবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পিতামাতা তাঁদের সন্তানদের জন্য দুআ করতে থাকেন; কিন্তু বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নিকট দুআ প্রার্থনা করা বড়ই প্রশংসাই। লেখকের জীবনে পিতামাতার, বিশেষ করে আম্মা সাহেবার দুআ বড়ই দখল রয়েছে। যখন তিনি পাকিস্থানে থাকতেন তখন আমি প্রায়ই ফজরের নামাজের পর তাঁকে ফোন করতাম।
গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকলে তার নিকট আরয করতাম; আজ মিটিং রয়েছে। আম্মাজান! দুআ করবেন। তিনি প্রায়ই জায়নামাযের উপর বসে থাকতেন। সাথে সাথেই তিনি বলতেন, ঠিক আছে এখন আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে দুআ করছি। ইনশাআল্লাহ তুমি সফলকাম হবে। নিঃসন্দেহে এরূপই হত যে, আমি সফলকাম হয়ে ফিরে আসতাম।
পিতামাতার মাধ্যমে দুআ করানোর মধ্যে কত মজা, শীতলতা ও উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়! চাকুরীতে এবং কারবারে যাওয়ার পূর্বে পিতামাতার নিকট আসুন এবং তাঁদের নিকট অনুমতি নিয়ে বলুন, আমি যাচ্ছি, দুআ করবেন। দেখবেন যে, আপনি দুআর ঢেরি সঞ্চয় করে বের হচ্ছেন। আপনার মনকে জিজ্ঞেস করুন যে, পিতামাতার দুআগুলি কি আপনার কৃত কার্যতার জামানত নয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight