পরিকল্পনা ইব্রাহিম / হাসান হৃদয়

ঈশান কোণে মেঘ জমেছে খুব। অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিক। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছে গালিব। পথিমধ্যেই ঝুম বৃষ্টি নামলো, বইগুলো ভিজে যাচ্ছে তাই দৌড়ে একটি ঘরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। তবুও বৃষ্টির কবল থেকে রা পাচ্ছে না সে। তাই সে অপারগ হয়ে দরজায় ধাক্কা দিল। একটা ছেলে দরজা খুললো। গালিবকে দেখে ঘরে আসতে বলে। গালিব ঘরে প্রবেশ করলো, বৃষ্টির তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেলো। ঘরটা অনেক পুরোনো, একেবারেই জীর্ণ। ঘরের চালটা প্রায় ফুটো। বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরেই প্রবেশ করছে, বৃষ্টির তীব্রতায় পুরো ঘর প্লাবিত হলো। ভিজে গেলো বিছানাপত্রসহ সব কিছুই।
কিছুণ পর বৃষ্টি বন্ধ হলো। আকাশটাও পরিষ্কার হয়ে এলো, গালিব তাদের বাড়িতে ফিরলো।
রাত ১০টা বেজে গেছে, পড়ার টেবিলে আর মন বসছে না গালিবের। কিছুই যেন ভাল লাগছে না তার। তাই শুয়ে পড়লো সে, কিছুণ পর আবারো বৃষ্টি এলো। বইতে লাগলো ঝড়ো হাওয়া। গালিবের মনে পড়লো সেই পুরোনো ঘরটির কথা। এখনো হয়তো ভিজবে সব কিছু। নিদ্রাহীন রাত কাটাবে হয়তো ঘরের প্রতিটি সদস্য। ওদের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে গালিবের।
কাস শুরু হওয়ার আর দশ মিনিট বাকি। গালিব উঠে দাঁড়ালো, গত কালের ঘটনাটি খুলে বললো এবং সহযোগিতা চাইলো সবার কাছে। সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দিলো কাসের সবাই।
বেশ কিছু টাকা হাতে এসেছে গালিবে। কিন্তু এই টাকা দিয়ে ঘরের চাল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। টিন ক্রয় করতে আরো কিছু টাকা লাগবে। তবে বাকি টাকা কোথা থেকে যোগাড় করবে তা নিয়েই চিন্তামগ্ন সে। হঠাৎ মনে দাদু ভায়ের কথা। হুম দাদু ভাই-ই পারবে আমাদের সহযোগিতা করতে।
আসরের নামায আদায় করে হাঁটতে বের হয়েছে দাদুভাই। গালিব হাঁটছে দাদুর সাথে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে গালিব দাদুকে জানালো তাদের পরিকল্পনার কথা। দাদু তাদের এই মহৎ পরিকল্পনার কথা শুনে খুবই আননন্দিত হলেন। তাদেরকে সব ধরনের সহযগিতা করার কথা জানালেন।
জুমাবার সকালে দাদুভাই গালিব ও তার বন্ধুদের নিয়ে বাজারে গেলেন। দোকান থেকে ভালো মানের টিন ক্রয় করে দিলেন। সাথে ঠিক করে দিলেন দুই জন মিস্ত্রী। গালিব ও তার বন্ধুরা সব নিয়ে পৌঁছে গেলো ওই বাড়িতে। মিস্ত্রিরা দ্রুত কাজ শুরু করলো। পুরোনো টিন খুলে নতুন টিন গুলো লাগাতে লাগলো। অভাবনীয় এই সহযোগিতা পেয়ে অশ্রুতে আঁখিযুগল ঝাপসা হয়ে এলো ঘরের মালিক অসহায় মহিলাটির।
তিনি এই আত্মত্যাগী কিশোরদের জন্য মন খুলে দোয়া করলেন মহান প্রভুর দরবারে।
কাজ শেষ হলো। গালিব ও তার বন্ধুরা ওই মহিলা থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এলো। আর তাদের মুখে ভেসে উঠলো বাঁকা চাঁদের মতো অমলিন তৃপ্তির হাসি।
অবশেষে গালিবের বন্ধুরা থাকে অনেক ধন্যবাদ জানালো। তারা বলল। তোমার জন্য আমরা একটা ভালো কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। তোমার মত আমাদের সবাইকে সমাজের গরীব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight