পবিত্র কুরআন ও বিজ্ঞান : আবদুল হান্নান জুলফিকার

“আমি আমার বন্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে তোমাদের বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকলে, তোমরা তার অনুরূপ কোন সূরা আনয়ন কর। এবং তোমরা যদি সত্যবাদি হও তাহলে আল্লাহ ব্যাতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে নিয়ে আস। যদি আনয়ন না কর তবে সেই আগুনকে ভয় কর, কাফিরদের জন্য যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। [সূরা বাকারা : আয়াত ২৩,২৪]
এটা এমন এক বিস্ময়কর কথা, যা মানব ইতিহাসে কোন গ্রন্থকারই নিজের বইয়ের পে দাবি করেননি এবং জ্ঞানবুদ্ধি থাকা অবস্থায় কোন মানুষই এমন সাহস করতে পারবেন না যে, সে কুরআনের মত একটা বই লিখে ফেলেছে। কুরআনের এই চ্যালেঞ্জ চলে আসছে সেই কুরআন নাযিলের সময় থেকে। শত শত লোক, শত শত সংগঠন এই চ্যালেঞ্জ এর মোকাবেলা করতে এগিয়ে এসেছে। চরমভাবে ব্যার্থ হয়ে সর্ম্পূণ নিরাস হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের সবাইকে।
লবিদ বিন রবিয়া। তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ কবি। তার শক্তিশালী ভাষা আর তেজ্যোদিপ্ত ভাব তাকে সারা আরবে পরিচিত করে তুলেছিল। উনি যখন কুরআনের এই চ্যালেঞ্জের কথা জানলেন তখন জবাবে একটি কবিতা রচনা করে কাবা শরীফের চৌকাঠের উপর ঝুলিয়ে রাখলেন। পরে একজন মুসলমান কুরআনের একটি সূরা লিখে ঐ কিতাবের পাশে ঝুলিয়ে দেন। লবিদ পরের দিন কাবার দরজায় এলেন এবং ঐ সূরা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, “নিঃসন্দেহে এটা মানুষের কথা নয় এবং আমি এর উপর ঈমান আনলাম” অতঃপর তিনি প্রকাশ্য কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। তিনি কুরআনের ভাব আর ভাষায় এতো বেশেী প্রভাবিত হন যে, পরবর্তীতে তিনি আর কোনদিন কোন কবিতাই রচনা করেননি। কুরআনের ঐ চ্যালেঞ্জ শত শত শতাব্দি পেরিয়ে আজো বিদ্যমান। এই চ্যালেঞ্জ থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না, পৃৃথিবীর তাবত তাগুতি শক্তি কিভাবে পরাজিত হয়ে আছে কুরআনের কাছে?
সপ্তম শতাব্দিতে কুরআন নাযিল হয়। মানুষ তখন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কুসংস্কার ও প্রাচীন উপকথায় বিশ্বাসী ছিল। তখন মানুষ মহাবিশ্ব, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, মানুষের সৃষ্টি, বায়ুম-লের গঠন এবং জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় উপাদান ইত্যাদি সম্বন্ধে সঠিক কিছুই জানতো না। যখন মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানের বহর ছিল এমন অবস্থা সেই সময়েই নাযিল হয়েছিল আল-কুরআন। এরকমই কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা শুরু করা যাক।
আকাশের খুটি : সেই সময়ে নাযিল হওয়া কুরআনে লেখা হল, আকাশের কোন দৃশ্যমান খুটি নেইে। “তিনিই আল্লাহ যিনি আকাশ মন্ডলিকে উঁচুতে স্থাপন করেছেন কোন দৃশ্যমান স্তম্ভ ছাড়া, যা তোমরা বুঝতে পারবে। [সূরা রাদ : আয়াত ২] আমাদের বিজ্ঞান আজ জানিয়েছে আকাশ মন্ডলির কোন দৃশ্যমান স্তম্ভ নেই। এর আছে একটি অদৃশ্য স্তম্ভ-মধ্যাকর্ষণ শক্তি! আর কুরআনও বলে দিচ্ছে একই কথা।
পৃথিবীর আকৃতি : মহাশূন্যে রকেট পাঠানোর সময়কাল এইতো সেদিন। পৃথিবী গোলাকার এই সত্যটা মানুষ বিজ্ঞানের কাছে জেনেছেও অল্প কিছু বছর আগে। আরমাত্র কিছুদিন আগে মানুষ জেনেছে পৃথিবী আসলে সম্পূর্ণরূপে গোলাকার নয়, অনেকটা উপবৃত্তকার অর্থাৎ, পাখির ডিমের মত। চলুন দেখা যাক পৃথিবীর আকৃতি সম্বন্ধে কুরআন কি বলছেম, “আর পৃথিবী, তিনি উহাকে তৈরি করলেন ডিম্বাকৃতির ন্যায়।” [সূরা নাযিয়াত : আয়াত ৩০]
এই আয়াতে ডিম বুঝাতে দাহাহা ব্যবহার করা হয়েছে। যার অর্থ আরও সঠিক ভাবে উষ্ট্রি (উট পাখি) এর ডিম। আজ আমরা এটাও নিশ্চিতভাবে দেখতে পাই যে, পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি উটপাখির ডিমের আকৃতির সাথে সব থেকে ভালোভাবে মিলে যায়।
মহাবিশ্বের আদি অবস্থা : আজকের বিজ্ঞান বলছে মহাবিশ্ব গ্যালাক্সিগুলো তৈরি হওয়ার পূর্বে সব পদার্থগুলো গ্যাসীয় অবস্থায় একত্রে ছিল। চলুন দেখি দেড় হাজার বছর আগের কুরআন এ বিষয়ে কি বলে, পৃথিবী সৃষ্টি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে কুরআন বলেছে, “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধু¤্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল স্বেচ্ছায় আসলাম।” [সূরা হামিম আস সিজদাহ : আয়াত ১১] কিভাবে এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা কুরআনে এলো!
কে স্থির আর কে গতিশীল : টলেমী বিশ্বাস করতেন থিওরী অফজিওছনেট্রিজম এ। আর মতবাদটি হল : পৃথিবী একদম স্থির, আর সূর্য সহ সব গ্রহ-নত্র গুলো ঘুরছে পৃথিবীর চারিদিকে। এ মতবাদটি ষোরস শতাব্দি পর্যন্ত বিজ্ঞান হিসেবে টিকে ছিলো। এরপর কোর্পানিকাস এসে প্রমাণ করলেন, পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলো সূর্যের চারিদিকে প্রদণি করছে। মাত্র ২৫ বছর আগেও বিজ্ঞান মানুষকে জানাচ্ছিল সূর্য স্থির থাকে, এটি তার নিজ করে চারপাসে প্রদণি করে না। কিন্তু আজ এটা প্রমাণিত যে পৃথিবীও সূর্য দুটোই গতিশীল। আর এদের দুজনের রয়েছে আলাদা কপথ। চলুন দেখি দেড় হাজার বছর আগের কুরআন এই ব্যাপারে কি বলে! “তিনিই একজন যিনি নদি ও রাত সৃষ্টি করেছেন, সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কপথে পরভ্রিমণ করছে। [সূরা আম্বয়িা : আয়াত ৩৩]
“এবং সূর্য তার নিজস্ব পথে চলছে যা সর্বশক্তিমানেরই আয়ত্বে। তিনিই সব জানেন। [সূরা ইয়াসিন : আয়াত ৩৮]
সাত আসমান : “তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন, যা কিছু জমিনে রয়েছে সেই সমস্ত, অতঃপর তিনি মনোযোগ দিয়েছেন আকাশের প্রতি। বস্তুত তিনি তৈরি করেছেন সাত আসমান। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে অবহিত”। [সূরা বাকারা : আয়াত ২৯]
আমাদের মাথার উপরের আকাশ অর্থাৎ বায়ূম-ল সাতটি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। এটা এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এই কিছুদিন আগে বিংশ শতাব্দির আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত হয়েছে। কুরআনে দেড় হাজার বছর আগে এই সাতটি স্তরের কথাই এভাবে বলেছে! খুবই বিস্ময়কর।
ভূমির সাতটি স্তর : “তিনিই আল্লাহ যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং পৃথিবী সেই একই পরিমানে”। [সূরা তারেক : আয়াত ১২]
আয়াতটি আমাদের কি বলছে? আয়াতটি আমাদের বলছে শুধু আসমানই নয় বরং পৃথিবীরও সাতটি স্তর রয়েছে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনকার দিনে কিভাবে একথা বলতে পারেন! যখন মানুষ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করাই শেখেনি? আজকের বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে এর উপরিভাগ পর্যন্ত সাতটি স্তর রয়েছে। গঠনগত এবং কার্যগত দিক থেকে একটার সাথে আরেকটার কোন মিলই নেই।
চাঁদের আলো কার আলো : “আল্লাহ তায়ালাই এই সূর্যকে করেছেন তেজঃস্কর আর চন্দ্রকে করেছেন পতিবিম্বিতি আলো”। [সূরা ইউনুস : আয়াত ৫]
“কত কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন রাশি চক্র এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ এবং চাঁদ যার রয়েছে ধার করা আলো”। [সূরা ফুরকান : আয়াত ৬১]
চাঁদের আলো যে প্রতিবিম্বিত আলো অন্যের ধার করা আলো এ কথাটা দেড় হাজার বছর আগের একটা বইয়ে আসাটা খুবই স্বাভাবিক, যদি সে বইটা হয় এমন এক মহাসত্বার কাছ থেকে যিনি সাময়িক জাগতিক ধ্যান-ধারণার অনেক ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! বিজ্ঞান সুস্পষ্ট কুরআনের সাথে এখন একমত।
থিওরী অফ রিলেটিভিটি : রিলেটিভিটি থিওরী মতে আমাদেরে দৃশ্যমান সময়ের পরিমাণ, আমাদের সময়ের পরমিাণ বেগের সাথে পরিবর্তনশীল। আইনস্টাইনের আগে কোন বিজ্ঞানী আমাদেরকে এই বিষয়ে ধারণা দিতে পারেননি। মানুষ তখন সময়কে একটা ধ্রুব রাশি হিসেবে বিবেচনা করতো। অথচ দেড় হাজার বছর আগের কুরআনে বলা আছে “ফেরেশতারা আর রুহেরা আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়, এমন একদিনে যার পরিমাণ এক হাজার বছরের সমান।” [সূরা মায়ারিজ : আয়াত ৪]
“তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কার্য পরিচালনা করেন, অতঃপর তার কাছে পৌঁছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান”। [সূরা সেজদাহ : আয়াত ৫]
পর্বতের গঠন ও কাজ : “আমি কি করিনি ভূমিকে বিস্তৃত এবং পর্বতমালাকে পেরেকের মত করে” [সূরা নাবা :৬-৭]
আয়াতটি বলছে পর্বতমালাকে পেরেকের মত করে তৈরি করা হয়েছে। পেরেকের কাজ হলো দুই বা ততোধিক কাষ্ঠখ-কে এমনভাবে জোরা লাগানো, যাতে সংযুক্ত বস্তুটিকে নাড়াচাড়া করা হলেও খুলে না যায়। আমরা যে বিস্তির্ণভূমির উপর বিচরণ করি, তা মূলত একধরনের পাতলা প্লেট। এদেরকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট। পৃথিবীর ঘুর্ণনের ফলে এই প্লেট গুলো সদা নড়াচড়া করে থাকে। আধুনিক বিজ্ঞান ব্যাখ্যা দিয়েছে, দুই বা ততোধিক প্লেট যখন একটির উপর আরেকটি চলমান হয়, অথবা ধাক্কা খায়, তখন এদের মিলন স্থলে পাহাড়ের সৃষ্টি হয়। এই পাহাড় ভূমির উপরে যতদূর উপরে উঠে, পরের অংশে অনেক গুণপরিমাণে ভূমির নিচে দেবে যায়। অনেকটা ভাজ সৃষ্টির মত। এর ফলে টেকটোনিক প্লেট গুলোর নড়াচড়া কমে যায়। আর কুরআন চমৎকারভাবে বলে দিয়েছে এ কথাটাই দেড় হাজার বছর আগে।
লোহার রহস্য : আমি লৌহ নাযিল করেছি, যার মাঝে অনেক শক্তি রয়েছে এবং যা মানব জাতির অনেক কাজের ব্যবহারে আসবে।” [সূরা হাদীদ : আয়াত ২৫]
বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে, আমাদের সৌরজগতের কোন গঠন প্রনালী নেই যা লোহার উৎপত্তি ঘটাতে পারে। লোহা কেবলমাত্র সূর্যের চেয়ে বড় কোন নত্রই তৈরি হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা কোটি ডিগ্রীর কাছাকাছি। এ রকম কোন গলিত নত্রেরবিস্ফোরনের মাধ্যমেই লোহার উৎপত্তিসম্ভব। আর এই ধরনের বিস্ফোরনের মাধ্যমে সৃষ্ট লোহার টুকরা গুলো পরবর্তীতে পৃথিবীতে পরার ফলেই লোহা অস্তিত্ব লাভ করেছে। অর্থাৎ, লোহা যে আকাশ থেকে এসেছে এটা বিজ্ঞান মেনে নিয়েছে।
বাতাশ ও বৃষ্টির সম্পর্ক : আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ূকে চালিত করে আকাশের কাছে নিয়ে যাই, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদের তা পান করাই। বস্তুত তোমাদের কাছে এর ভা-ার নেই” [সূরা হিজর : আয়াত ২২]
বিংশ শতাব্দির প্রথমদিকেও মানুষের ধারনা ছিল যে, বৃষ্টির সাথে বাতাসের সম্পর্ক হল, বাতাস মেঘকে চালিত করে দূরে নিয়ে যায়, ফলে বৃষ্টি সমভাবে হয়। বাতাসের মাধ্যমেই যে জলিয়বাষ্প উপরে উঠে মেঘের সৃষ্টি করে, এ সম্পর্কে মানুষ জানতো না। বৃষ্টিগর্ভ বায়ূ বলতে জলিয়বাষ্প পূর্ণ বায়ূ বুঝানো হয়েছে। “বাতাস জলিয়বাষ্পকে আকাশে উড়িয়ে নেয়, অতঃপর মেঘ সৃষ্টি হয়” এ কথাই এই আয়াতে বলা হয়েছে। বাতাসের ভূমিকা না থাকলে সূর্য যতই তাপ দিক না কেনো জলিয়বাষ্প কখনোই আকাশে পৌঁছতে পারতো না, মেঘ হওয়া তো দূরের কথা।
গাছের লিংগ : “তিনি প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়।” [সূরা রাদ : আয়াত ৩]
জোড়া অর্থাৎ, পুরুষ আর স্ত্রী লিঙ্গ। এই আয়াতটি আমাদের বলছে গাছ-পালারও লিঙ্গ রয়েছে। আজকের বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে গাছ পালারও লিঙ্গ থাকে। পুরুষ গাছ এবং স্ত্রী গাছ। সর্বপ্রথম যে বিজ্ঞানী উদ্ভিদের মধ্যে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনে। খৃষ্টিয় অষ্টাদশ শতকের মাঝা মাঝি সময়ে তিনি এ মত প্রকাশ করেন। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের আগে কে জানতো যে গাছেরও লিঙ্গ আছে?
গাছের নিঃশ্বাস-ফটোসিনথেসসি : “শপথ সকালের যখন তারা দিনের আলোয় নিঃশ্বাস নেয়”। [সূরা তাকবীর : আয়াত ১৮]
ফটোসিনথেসিস আবিষ্কার করার পূর্বে, এই আয়াতটি বেশ রহস্য তৈরি করে রেখেছিল। মানুষ ভাবতো এটা এমন কি হতে পারে যা দিনের আলোয় নিঃশ্বাস নেয়! গাছ কার্বণ-ডাই-অক্সাইড কে শোষণ করার মাধ্যমে নিজের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করে। একই সাথে অক্সিজেনকে পরিবেশ এ মুক্তকরে। এই প্রক্রিয়াটি কেবল দিনের বেলাতেই ঘটে, যেহেতু আলো এখানে অনঘটক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, গাছ কেবল দিনের বেলাতেই নিঃশ্বাস ক্রিয়া চালায়। আর এ কথাটিই বলা হয়েছে পবিত্র কুরআনে।
পেশি ও হাড়ের গঠন : “এর পর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাটরক্ত বিন্দুতে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংষপি-ে অতঃপর সেই পি-কে হাড় এ আর তারপর সে হাড়কে মাংসপেশী দ্বারা সজ্জিত করি। এবং এরপর তাকে একটি নতুন সৃষ্টিতে রূপান্তরিত করি, আল্লাহ তাআলার আশির্বাদ দ্বারা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি রূপে। নিপুনতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা কত কল্যাণময়।” [সূরা মুমিনূন : আয়াত ১২-১৪]
কিছুদিন পূর্বেও এম্ব্রয়লোজি জানতো যে, এম্ব্রয় এর হাড় ও মাংসপেশী একই সময়ে তৈরি হয়। এখন আধুনিক এম্ব্রয়লজি এভাবে দেয়া হয়েছে “সাত সপ্তাহের মধ্যে কংকালের গঠন শেষ হয় এবং দেহের সবখানে ছড়িয়ে পরতে থাকে। এবং হাড় এর বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে। অষ্টম সপ্তাহের দিকে মাংসপেশী গঠিত হতে থাকে যা হাড়ের চারপাশে অবস্থান নিতে থাকে। ”অর্থাৎ, মানুষের জন্ম ঠিক সেভাবেই হয় যেভাবে কুরআনে বলা হয়েছে।
জন্মের তিন ধাপ : “তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক (ধাপে ধাপে) ত্রিবিধ অন্ধকারে”। [সূরা যুমার : আয়াত ৬]
আধুনিক এম্ব্রয়লজি ও বিজ্ঞান জানিয়েছে গর্ভাষয় তিনটি দেয়াল বা স্তর নিয়ে গঠিত। ১. ইন্টেরিয়ার এবডোমিনাল ওয়াল, ২. ইউটেরাইল ওয়াল, ৩. এমনিও কার্ডিওনিক মেম্ব্রেন। ভ্রুনেরবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করতে কুরআনে বলা তিনটি অন্ধকার স্তর এবং বাস্তবে পাওয়া তিনটি স্তর মিলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, কারণ কুরআন সকল বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে। বিজ্ঞান ভুল করতে পারে কিন্তু কুরআন কালোত্তীর্ণ।
পাখিরা কথা বলে : “সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হলো, সে বলল, হে মানুষেরা! আমাদের উড়ন্ত পেিদর ভাষা পর্যন্ত শিখানো হয়েছে।” [সূরা নামল : আয়াত ১৬]
কুরআন এখানে পাখিদের ভাষার কথা বলছে, যা শিখানো হয়েছিল সুলায়মান আ. কে। পাখিরা কি নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে? চলুন দেখি বিজ্ঞান কি বলে। মারিয়া লুইসা ডা সিলভা কর্তৃক ব্রাজিলিয়ান হার্মিং বার্ড এর উপর র্দীঘ এক গবেষণার পর এর ফলাফল বিখ্যাত সাইন্স ম্যাগাজিন “ন্যাচার” এ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, হার্মিং বার্ড এর কণ্ঠ নিঃসৃত শব্দগুলোর নির্দিষ্ট অর্থ আছে, যেগুলো অন্য হার্মিং বার্ডকে নির্দিষ্ট কাজ করতে উৎসাহিত করে। এরা নিজেদের মধ্যে শব্দ বিনিময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে।
মধুর ওষুধীগুণ : “মৌমাছির উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য” [সূরা নাহল : আয়াত ৬৮-৬৯]
আমরা আগে জানতাম মৌমাছি মধুসংগ্রহ করে বিভিন্ন ফুল থেকে অতঃপর তা মৌচাকে মজুদ করে রাখে সরাসরি। আসলে তা নয়, বিজ্ঞান কিছুদিন আগে প্রমাণ করেছে মৌমাছির শরীর থেকে মধু বের হয়। কুরআন দ্বারা যা প্রমাণিত। কুরআন আরো বলেছে মধুর ওষুধী গুণের কথা। আজ আমরা জেনেছি মধুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর খাদ্যগুণ। আছে প্রচুর ভিটামিন কে আর ফ্রুক্টোজ। আরো আছে মাঝারি এন্টিসেপ্টিক গুণ। কেটে যাওয়া যায়গায় মধু লাগিয়ে রাখলে কোনরকম ইনফেকশন হয় না।
লেখক : জামিয়া মুনাফখীল, ফটিকছড়ি পৌরসভা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight