নামায বেহেশতের চাবি : মাওলানা সুহাইল আহমদ

3261.preview

ইসলামে নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। নামায ইসলামের দ্বিতীয় রুকন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত করা ব্যতীত মুসলমান হওয়া যায় না।  নামায ইসলামের বড় নিদর্শন এবং বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন: নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় করে তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নির্জনে কথা বলে। [বোখারি] নামায বান্দা ও তার প্রতিপালকের মহব্বত এবং তাঁর দেওয়া অনুকম্পার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক। নামায আল্লাহর নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রমাণসমূহের একটি এই যে, নামায হল প্রথম ইবাদত যা ফরজ হিসেবে পালনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মেরাজের রাতে, আকাশে, মুসলিম জাতির উপর তা ফরজ করা হয়েছে।
নামাযে অবহেলা, অলসতা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা মুতাবিক নামায পরিত্যাগ করা কুফরি, ভ্রষ্টতা এবং ইসলামের গ-ীবহির্ভূত হয়ে যাওয়া। হাদীসে এসেছে, মুমিন ও কুফর-শিরকের মধ্যে ব্যবধান হল নামায পরিত্যাগ করা। [মুসলিম]
এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন-আমাদের ও তাদের মধ্যকার অঙ্গীকার হল নামায। অতঃপর যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। [তিরমিযী]
তা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে, ‘কোন আমল উত্তম’ জিজ্ঞাসা করা হলে তার প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছেন: সময় মত নামায আদায় করা। [বোখারি ও মুসলিম]
নামাযকে আল্লাহ পাপ ও গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জনের অসিলা বানিয়েছেন। হাদীসে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-যদি তোমাদের কারো (বাড়ির) দরজার সামনে প্রবাহমান নদী থাকে এবং তাতে প্রত্যেক দিন পাঁচ বার গোসল করে, তাহলে কি তার (শরীরে) ময়লা বাকী থাকবে? সাহাবীগণ বললেন, ‘না’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অনুরূপভাবে আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দ্বারা (বান্দার) গুনাহকে মিটিয়ে দেন’। [বোখারি ও মুসলিম]

নামায হচ্ছে পাপসমুহের কাফফারাহ: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং এক জুমু‘আ থেকে অন্য জুমু‘আ পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী পাপসমুহের কাফ্ফারা স্বরূপ যতক্ষণ না কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়।

নামায হচ্ছে পরকালে জান্নাতে প্রবেশের জন্য আল্লাহর অঙ্গিকার: উবাদা ইবন সামেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ্ সা.-কে বলতে শুনেছি যে,আল্লাহ  তা‘আলা বান্দার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এগুলো আদায় করবে এবং এর হক হালকা ভেবে নষ্ট না করবে, তার জন্য আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার রয়েছে যে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন…।
ফজর ও আসরের নামায জামা‘আতে আদায় করা নেফাকী থেকে নিরাপদ থাকা: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: মুনাফিকদের ওপর ফজর ও আসরের নামাযের চেয়ে অন্য কোনো নামায ভারী নয়, আর যদি তারা জানতো যে, এতে কী (পরিমাণ পূণ্য) রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এতে উপস্থিত হতো।
নামায জামাতে আদায় করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত: ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে মুসলিম হয়ে সাক্ষাৎ করা যাকে খুশী করে সে যেন এ নামাযগুলোর প্রতি যতœবান হয়, যখনই ডাকা হোক না কেন। কারণ, আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের রীতিনীতি প্রবর্তন করেছেন। আর যদি তোমরা তোমাদের ঘরে নামায আদায় কর যেমন জামাত থেকে পেছনে পড়া এ ব্যক্তি ঘরে নামায পড়েছে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাতকে পরিহার করবে, আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাতকে পরিহার কর তবে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। কোনো ব্যক্তি যখন ভালোভাবে অযু করে কোনো মসজিদের দিকে বের হয়, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমে একটি করে সাওয়াব লিখেন, একটি করে সম্মান বৃদ্ধি করেন এবং এর দ্বারা একটি পাপ মোচন করেন। আমরা নিজেদের মধ্যে দেখেছি শুধু প্রসিদ্ধ মুনাফিকরাই জামা‘আত থেকে পেছনে পড়তো, আর নিশ্চয় কোনো ব্যক্তিকে দুই জনের কাঁধে ভর করে নিয়ে এসে কাতারের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হত।
যে ব্যক্তি পাক-পবিত্র সহি শুদ্ধভাবে রুকু-সেজদার সাথে নামায আদায় করলো তার জন্যে বেহেশত ওয়াজিব, দোযখ তার জন্য হারাম হয়ে যায়। নামায যেমন প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ এর মাসআলাগুলো জেনে হক আদায় করে নামায পড়াও ফরজ। তাই নি¤েœ নামাযের জরুরী কিছু মাসআলা দেওয়া হলো, আশাকরি এগুলো  জেনে নামায পড়লে নামাযের হক আদায় হবে এবং হাদীসে বর্ণিত দশগুণের দশগুণ সওয়াবই পাওয়া যাবে।

নামাযের ১৩টি ফরজ
নামাযে মোট তেরটি ফরজের মধ্যে নামায শুরুর আগেই ৭টি ফরজ, আর নামাযের ভেতরে ৬টি ফরজ।

(ক) নামাযের বাইরের ৭টি ফরজ
(১) শরীর পাক, (২) পরনের কাপড় পাক, (৩) নামায পড়ার স্থান পাক, (৪) সতর ঢাকা, (৫) কিবলামুখী  হওয়া, (৬) ওয়াক্ত চিনা অর্থাৎ সময়মত নামায পড়া ও (৭) নামাযের নিয়ত করা।
বি. দ্র : নামাযের নিয়ত আরবীতে বলা বা মুখে উচ্চারনের প্রয়োজন নাই। মনে মনে করলেই চলবে। (খ) নামাযের ভিতরের ৬টি ফরজ
(১) তাকবীর তাহরীমা তথা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামায শুরু করা, (২) দাঁড়িয়ে নামায পড়া, (৩) প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া, (৪) রুকু করা, (৫) দুই সিজদা করা, (৬) শেষ বৈঠক করা।
সব ফরজ নামাযে মোট ১৪টি ওয়াজিব
১. সূরা ফাতিহা পুর্ণ পড়া,
২. সূরা ফাতিহার পর ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতে অন্য সূরা মিলানো।
৩. রুকু-সেজদায় বিলম্ব করা।
৪. রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
৫. দু’ সিজদার মাঝে সোজা হয়ে বসা
৬. দরমিয়ানী বৈঠক তথা চার বা তিন রাকাতওয়ালী নামাযে প্রথম বৈঠক করা।
৭. প্রত্যেক বৈঠকে তাশাহুদ পড়া।
৮. ইমামের জন্য কিরাত আস্তের জায়গা আস্তে (জহুর, আসর) এবং জোরের জায়গায় জোরে (মাগরিব, এশা এবং ফজরে) পড়া।
৯. বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূত পড়া।
১০.দুই ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলা।
১১.ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতকে কিরাতের জন্য নির্ধারিত করা।
১২.তাদিলে আরকান তথা নামাযের রুকনসমূহ ধীর-সুস্থে আদায় করা।
১৩.ফরজ ও ওয়াজিবগুলো তারতীব মতো আদায় করা,
১৪.আস্সালামু আলাইকুম বলে নামায শেষ করা।

নামাযের সুন্নত সমূহ
১) তাকবীর বলে দুই হাত উঠানো।
২) হাতের আঙ্গুল পরস্পর স্বভাবিক অবস্থায় রাখা।
৩) ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরা
৪) ইমামের জন্য নামায আরম্ভের তাকবীর উচ্চঃস্বরে পড়া।
৫) ছানা পাঠ করা।
৬) “আউযুবিল্লাহ্” পাঠ করা।
৭) “বিছমিল্লাহ্” পাঠ করা।
৮) সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ঈমাম ও মুক্তাদিগণের মৃদুস্বরে “আমীন” বলা।
৯) পুরুষের জন্য নাভীর নীচে তাহরিমা বাঁধা আর মেয়ে লোকের জন্য ছিনার উপরে তাহরিমা বাঁধা
১০) রুকুর তাকবীর বলা।
১১) রুকুতে দুই হাঁটু ধরা ও আঙ্গুল সমুহ পরস্পর পৃথক রাখা।
১২) রুকুর ভিতরে তিন, পাঁচ বা সাতবার তাছবীহ্ বলা।
১৩) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
১৪) রুকু হতে উঠার সময়ে ইমামের “ছামিয়াল্লাহ হুলিমান হামীদা” ও মোক্তাদিগণের “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলা।
১৫) সেজদায় গিয়ে দুই হাঁটু ও তাকবীর বলে বসা।
১৬) সেজদায় তাছবীহ্ পড়া।
১৭) পুরুষের জন্য সেজদাহ হতে উঠে ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসা, আর স্ত্রীলোকের উভয় পা ডান দিকে বাহির করে ছতরের উপর বসা।
১৮) সেজদা থেকে উঠার পর এক তছবীহ্ পরিমাণ সময় বসে থাকা।
১৯) দরুদ শরীফ পাঠ করা।
২০) দোয়ায়ে মাছুরা পড়া।
২১) দুই দিকে সালাম ফিরান।
আরো কিছু সুন্নাত
– এক্বামতের সময়ে “হাইয়্যা আলাল ফালাহ্” বলামাত্র নামাযে ঠিকভাবে দাঁড়ানো।
– তাকবীরে তাহরীমা বলার সময়ে আস্তিন হতে হাতের তালু বাহির করা।
– দাঁড়াবার সময়ে সিজদার জায়গার প্রতি দৃষ্টি রাখা।
– রুকুতে পায়ের পাতার দিকে দৃষ্টি রাখা।
– বৈঠকে কোলের দিকে দৃষ্টি রাখা।
– সাধ্যানুযায়ী হাসি ও কাশি বন্ধ রাখা।
– রুকুতে মাথা ও পৃষ্ঠ ভাগ সমান উঁচু রাখা।
– সিজদায় প্রথমে দুই হাঁটু, তারপর দুই হাত জমিনে রাখা, পরে নাক ও তারপরে কপাল জমিনে রাখা এবং সেজদা হতে উঠার সময়ে যথাক্রমে প্রথমে কপাল, পরে নাক উঠিয়ে তৎপর দুই হাত হাঁটুর উপরে রেখে বসা।
– সিজদায় দুই হাতের মধ্যে মাথা রাখা, নাক দুই বৃদ্ধাংগুলির মধ্যে বরাবর রাখা।
– হাত-পায়ের আঙ্গলিসমূহ কেবলা মুখ করে রাখা।
– সালাম ফিরানোর সময় দুই সিনার প্রতি দৃষ্টি রাখা।
– সেজদায় পুরুষের দুই হাত পৃথক ভাবে রাখা এইভাবে উঁচুতে রাখতে হবে যেন বকরীর বাচ্চা যাতায়াত করতে পারে।
– তিন বারের অধিক-বেজোড় তাছবীহ্ পড়া।
– ফযরের নামাযে তেওয়ালে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরা হুজরাত হতে সূরা বুরুজ পর্যন্ত, আছর এবং এশার নামাযে আওসাতে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরায়ে বুরুজ হতে সূরায়ে বায়্যিনাত পর্যন্ত এবং মাগরীবের নামাযে কিসারে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরায়ে যিলযাল হতে সূরায়ে নাস পর্যন্ত তেলাওয়াত করা।
– ফজরের প্রথম রাকাতকে লম্বা করা।
– নামাযে মধ্যম গতিতে তেলাওয়াত করা।

নামায ভঙ্গকারী জিনিসসমুহ
১. নামাযে ইচ্ছাকৃত কথা বলা, যদিও স্বল্প হয়।
২. পুরো শরীর কিবলা থেকে অন্য দিকে ফিরে যাওয়া।
৩. পেছন দিয়ে বায়ু বের হওয়া এবং অযু ও গোসল ওয়াজিবকারী জিনিসসমুহ।
৪. বিনা প্রয়োজনে ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত নড়াচড়া।
৫. নামাযে অট্টহাসি হাসা, যদিও স্বল্প হয়।
৬. ইচ্ছাকৃতভাবে নামাযে রুকু, সাজদাহ, কিয়াম বা কোনো বৈঠক অতিরিক্ত করা।
৭. স্বেচ্ছায় ইমামের আগে কোনো কিছু করা।

নামাযের মাকরূহ সমূহ যথা
১. চাদর বা জামা না পড়ে কাঁধে ঝুলিয়া রাখা।
২. ময়লা ধুলা-বালি লাগার ভয়ে কাপড়/জামা গুটানো।
৩. আঙ্গুল মটকানো।
৪. বস্ত্র, শরীর অথবা দাঁড়ির সাথে খেলা করা।
৫. এদিক ওদিক দেখা।
৬. চুল মাথার উপরিভাগে বাঁধা।
৭. বিনা ওজরে সেজদার স্থানের ইট-পাথর সরান।
৮. আলস্যভরে শরীর মোড়ামুড়ি করা।
৯. সিজদার সময়ে হাত বিছিয়ে দেওয়া।
১০. আগের কাতারে স্থান থাকতে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো।
১১. অবহেলা করে খালি মাথায় নামায পড়া।
১২. আকাশের দিকে তাকান।
১৩. ভাল কাপড় থাকা সত্ত্বেও মন্দ কাপর পড়ে নামায পড়া।
১৪. নামাযের মধ্যে কপালের মাটি মুছে ফেলা।
১৫. কোন প্রাণীর ছবি সম্মুখে, ডানে, বামে, মস্তকের উপর বা কাপড়ের মধ্যে থাকা।
১৬. সিজদার সময়ে বিনা কারণে হাটুর পূর্বে হাত মাটিতে রাখা।
১৭. বিনা কারণে আসন পেতে বসা।
১৮. ফরজ নামাযে এক সূরা বার বার পড়া।
১৯. কোন মানুষের মুখের দিক হয়ে নামায পড়া।
২০. সিজদাতে পিঠ উভয় উরুর সাথে মিলিয়ে দেওয়া।
২১. উভয় সিজদার মধ্যে অথবা তাশাহুদ পড়ার সময়ে কুকুরের ন্যায় বসা।
২২. দুই হাতে মাটি ভর দিয়া উঠা।
২৩. কোন সুন্নত পরিত্যাগ করা।
২৪. নাক মুখ ঢেকে নামায পড়া
২৫. নামাযে এদিক সেদিক মাথা বা চোখ ফিরানো, কিন্তু আকাশের দিকে তাকানো হারাম।
২৬. বিনা প্রয়োজনে নড়াচড়া বা কাপড় নিয়ে খেলা করা।
২৭. ব্যস্ত রাখতে পারে এমন কিছু নিয়ে নামায পড়া। যেমন, ভারী কোনো কিছু বা দৃষ্টিকাড়ে এমন রঙ্গীন কিছু।
২৮. কোমরে হাত রাখা।

প্রিয় মুসলিম ভায়েরা!
-আযান শুনার সাথে সাথে মসজিদে চলে যান।
-আপনার হাতে যা কিছু রয়েছে তা রেখে দেন। আল্লাহু আকবারই সর্বপ্রথমে।
-সর্বদা পবিত্রতার ওপর থেকে আল্লাহর ডাকের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
-ভালোভাবে অযু করুন, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পায়ে হেটে যান এবং এক ওয়াক্ত নামায পড়ে অন্য ওয়াক্তের নামাযের  জন্য অপেক্ষায় থাকুন।
-নামাযের আত্মা হচ্ছে বিনয়ী। কাজেই বিনয়ী হয়ে নামায পড়ুন।
-নামাযে কুরআনের যে অংশ পড়া হয় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন।
-নামাযে এদিক সেদিক বা ঘড়ির দিকে তাকানো এবং কাপড় নিয়ে অযথা খেলা করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, তা বিনয় বহির্ভূত কাজ।
-পবিত্রাবস্থায় সকাল সকাল ঘুমিয়ে যান, যেন ফজরের নামাযের জন্য খুব সহজেই জাগা সম্ভব হয়।
-নফল নামাযের প্রতি যতœবান হোন, বিশেষ করে বিতরের নামায এবং রাত্রে দুই রাকাত হলেও নামায পড়ুন।
-প্রথম কাতারে নামায পড়ার চেষ্টা করুন এবং নামাযের পর যিকির-আযকার না করে মসজিদ থেকে বের হবেন না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে উক্ত বিষয়গুলি খেয়াল করে নামাযের হক আদায় করে নামায আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক, তরুণ আলেম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight