নবীজির ১১ বিবাহ যুক্তিসঙ্গত কেন ? সয়ৈদা সুফয়িা খাতুন

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

আজকাল কিছু কিছু ধর্মদ্রোহী নারী পুরুষ যুক্তি ও অনুসন্ধানের আশ্রয় না নিয়েই ধর্মকে বিশেষ করে ইসলামকে টার্গেট করে এর ত্র“টি বিচ্যুতি আবিষ্কারে লিপ্ত রয়েছে। ইসলামের বিধি বিধান সম্বন্ধে মন্তব্য করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য জ্ঞানের প্রয়োজন তা ঐ সব সমালোচকদের মধ্যে নেই। অবশ্য নাটক উপন্যাস লিখতে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু কোন নীতি বা মতবাদের সমালোচনা করতে গেলে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। তাহলে যাদের স্বভাব শুধু বিষোদগীরণ করা তাদের কথা ভিন্ন।
আসলে একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী রাখার প্রচলন ইসলাম পূর্ব যুগ থেকেই দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্মেই বৈধ মনে করা হত। রোম- পারস্য, আরব, পাক-ভারত, ইরান, মিশর, ইউনান (গ্রীস), ব্যবিলন, অষ্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশের সকল জাতির মধ্যেই বহু বিবাহের প্রচলন ছিল। এর প্রাকৃতিক প্রয়োজনীয়তাকে কেউ অস্বীকার করতে পারেনা। বর্তমান যুগের ইউরোপীয়রা তাদের পুর্ব পুরুষদের বিপক্ষে বহু বিবাহকে অবৈধ বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। অবশেষে প্রাকৃতিক নিয়মেরই বিজয় হয়েছে। বরং ইদানিং তারা এর বহু প্রচলনের জন্যই চেষ্টা করছে।
মিঃ ডিওনপোর্ট নামী জনৈক খ্রিস্টান পণ্ডিত বহু বিবাহ সম্বন্ধে ইঞ্জিলের বহু আয়াত উদ্ধৃতির পর লিখেন- এ সকল আয়াতের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বহু বিবাহ শুধু পছন্দনীয়ই নয় বরং স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা বহু বরকতও নিহিত রেখেছেন এর মধ্যে। [জন ডিওনপোর্টের জীবনী-১৫৮ পৃ. দ্র.] অবশ্য লক্ষণীয় বিষয় এই যে, ইসলাম পূর্ব যুগে বহু বিবাহের কোন সীমা রেখা ছিল না। এক এক জনের অধীনে শতাধিক নারী থাকত। পাদ্রী ফিক্স জন মিল্টন ও আইজ্যাক টেইলরসহ অনেকেই বলিষ্ঠ ভাষায় এর সমর্থন করেছেন। খ্রিস্টান পাদ্রীগণ বরাবরই বহু বিবাহে অভ্যস্ত ছিল। খ্রিস্ট ১৬শত শতাব্দী পর্যন্ত জার্মানে এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। কনস্টান্টিনোপলের সম্রাট ও তার উত্তরাধিকারীগণের বহু স্ত্রী ছিল। এভাবে বৈদিক ধর্মীয় শাস্ত্রেও সীমাহীন বহু বিবাহ বৈধ ছিল। এতে একই সময়ে দশ জন, তের জন, সাতাশ জন স্ত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রাখার প্রচলন প্রতীয়মান হয়। বর্তমানে বাইবেল পড়ে জানা যায়- হযরত সুলাইমান আ. এর সাতশত স্ত্রী ও তিনশত বাদী ছিল। [প্রথম সালাতীন ১১-১৩ দ্রষ্টব্য] হযরত দাউদ আ.-এর ৯৯ জন স্ত্রী, হযরত ইবরাহীম আ. এর তিন স্ত্রী, হযরত ইয়াকূব আ. ও মূসা আ. এর বার জন করে স্ত্রী। [বাইবেল জন্ম অধ্যায়-২৯ ও ৩০ পৃষ্ঠা] মনুজী, যাকে হিন্দু ও আর্যগণ বিশেষ ধর্মগুরু রূপে মান্য করে তিনি ধর্ম শাস্ত্রে লিখেন- যদি কোন ব্যক্তির চার পাঁচ জন স্ত্রী থাকে তন্মধ্যে একজন সন্তানবতী হয় তাহলে অবশিষ্টগণও সন্তানবতী বিবেচিত হইবে। [মনু, অধ্যায় শোক ১৮৩: রেসালায়ে তায়াদ্দুদে আযওয়াজ, অমৃতসর] হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বস্বীকৃত ও মান্য দেবতা শ্রী কৃষ্ণের কয়েক ‘শ’ স্ত্রী ছিল।
মোটকথা, ইসলামের প্রাথমিক যুগে সীমাহীনভাবে এ প্রথা প্রচলিত ছিল। কোন কোন সাহাবীর বিবাহ বন্ধনে চারের বেশি স্ত্রী ছিল। ইসলামের বিশেষ বিশেষ স্বার্থেই হযরত খাদিজা রা. কে এবং এর পর দশ জন স্ত্রী নবীজীর বিবাহ বন্ধনে শামিল হন। তারপর যখন দেখা গেল যে, স্বাধারণত মানুষের ক্ষেত্রে বহু বিবাহের দ্বারা মহিলার অধিকার খর্ব হচ্ছে। প্রথমতঃ মানুষ লোভের বশীভূত হয়ে একাধিক বিবাহ করে, কিন্তু পরে তাদের সকলের যথাযথ হক আদায় করতে সক্ষম হয়না। তখন পবিত্র কোরআনের চিরন্তন বিধান, যা দুনিয়া হতে জুলুম অত্যাচারকে উৎখাত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, প্রাকৃতিক প্রয়োজনীয়তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বহু বিবাহকে একেবারে অবৈধ আখ্যায়িত করেনি। বরং তার ক্ষতিসমূহকে রোধ করার জন্য একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মহান স্রষ্টার পক্ষ হতে ইরশাদ হয়েছে যে, এখন থেকে চারজন পর্যন্ত বিবাহ করতে পার। আর তাও এ শর্তে যে, তোমরা উক্ত চার জনের যথাযথ হক আদায় করবে সমভাবে। আর যদি এ সাম্য বজায় রাখার শক্তি সাহস না থাকে তাহলে একের অধিক স্ত্রী রাখা জুলুম বিবেচিত হবে। অত্র ইরশাদের পর উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী একই সময়ে চারের অধিক স্ত্রী রাখা হারাম হয়ে যায়। সুতরাং যে সব সাহাবীদের অধীনে চারের অধিক স্ত্রী ছিল তারা চারজন রেখে অবশিষ্টদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। এক হাদীসে উল্লেখ আছে যে, হযরত গায়লান রা. যখন মুসলমান হন তখন তার অধীনে দশজন স্ত্রী ছিল। রাসূল সা. তাকে চারজন রেখে বাকী স্ত্রীগণকে তালাক প্রদানের নির্দেশ দেন। এভাবে নাওফেল রা. যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তার অধীনে ছিল পাঁচ জন স্ত্রী, রাসূল সা. তাদের থেকে একজনকে তালাক দিতে নির্দেশ দেন।
উপরোক্ত সাধারণ বিধান মোতাবেক রাসূল সা. এর স্ত্রী চারের অধিক না হওয়ার কথা ছিল। তাহলে লক্ষ্যণীয় যে, নবী পতœীগণ অন্যান্য নারীগণের মত নন। স্বয়ং কালামে পাকের ভাষ্য- হে নবী পতœীগণ! তোমরা অন্য যে কোন মহিলাদের মত নও। তারাতো সমস্ত উম্মতের মা। নবীর পরে তারা অন্য কোন পুরুষদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না। এখন যদি সাধারণ বিধানের অধীনে চারজনকে রেখে নবীজি বাকিদেরকে তালাক দেন তাহলে তাদের উপর কতইনা জুলুম হত। তখন হতে তারা সারা জীবনের জন্য নিরুপায় হয়ে যেতেন। এবং নবীর স্ত্রীরূপে সামান্য কয়টা দিন কাটানোর বিষয়টি তাদের গোটা জীবনের জন্য এক আজাব হয়ে থাকতো। কারণ একদিকে নবীর সংশ্রব হারালেন, অপর দিকে অন্য স্বামী গ্রহণের অনুমতি নেই। চিন্তাগ্রস্ততা ছাড়া তাদের আর কিছুই থাকে না। তাই নবীর স্ত্রীগণ উক্ত সাধারণ নিয়মের আওতায় শামিল হওয়াটা আদৌ সমীচীন ছিল না। বিশেষ করে ঐ সকল স্ত্রী যাদের স্বামী জিহাদে শহীদ হয়েছিলেন পরে নবীজী তাদের অসহায়ত্ব  দূর করতে কিংবা ঐ স্ত্রীর বংশের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ইসলামের শক্তি সঞ্চয় করার লক্ষ্যে যাদেরকে বিবাহ করেছিলেন তাদের এখন যদি তালাক দেন তাহলে কি অবস্থা হবে তাদের? এটা কেমন মনতুষ্টি হত যে, এখন তারা সারা জীবনের জন্য বিবাহ বঞ্চিতা হতেন। এজন্যই আল্লাহর নির্দেশে শুধু রাসূল সা. -এর জন্যই চারের অধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি ছিল। ঐ দিকে নবীর পারিবারিক জীবনটা আমাদের জন্য দুজাহানে চিরকালীন শিক্ষণীয় বিষয় এবং অনুসরণীয় জীবন বিধান। তা শুধু নবী পতœীগণের মাধ্যমেই আমাদের পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব। বস্ততঃ এটা এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, এর জন্য মাত্র নয়জন বা ১১ জন পতœীও অতি নগণ্য। এ সকল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করলে কোন মানুষের পক্ষে কি আদৌ মন্তব্য করা সম্ভব যে, (নাউযুবিল্লাহ!) নিছক রিপুর বশীভূত হওয়ার উপর এ বিশেষত্বের ভিত্তি ছিল? এমন একজন মানুষের জন্য তার যুবক বয়সের প্রথম বিবাহ হয় ৪০ বা ৪৫ বৎসর বয়সের ১জন বিধবা ৫ সন্তানের মা বৃদ্ধার সাথে। হযরত খাদিজা রা. নবীজির উত্তম চরিত্র মাধুরী দেখেই তার চাচা আবূ তালিব-এর নিকট নবীজিকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব পাঠালে আবূ তালিবের নির্দেশেই নবীজি হযরত খাদিজা রা. কে বিবাহ করেন। নিজের ইচ্ছায় নয়। এই বৃদ্ধাকে নিয়েই তিনি যৌবনের সিংহভাগ সময় কাটান অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা ছাড়া। নবীজির ৫৩ বা ৫৫ বৎসর বয়সে হযরত খাদিজা রা. এর ইন্তেকালের পর বাকিদের বিবাহ করেন এবং মাত্র ১০ বৎসরের জীবন কাটান তাদের সাথে। খাদিজাকে স্ত্রী রাখা কালেও আবার ৪০ দিন সময় কাটান জাবালে নূরের হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যানে। এ থেকে পরিষ্কার হয় যে তিনি আদৌ যৌবনের চাহিদা মেটাতে বহু বিবাহ করেন নি। তাছাড়া তৎকালীন সময়ে কাফেররা নবীজির বিরুদ্ধে হীন কোন ষড়যন্ত্র এমন নেই যা তারা করেনি। তারা তাকে পাগল, জাদুকর, নানা রকম অপবাদ দিয়েছে। কিন্তু নবীজির বিরুদ্ধে কেউ যৌন উন্মাদ বা নারী লোভী বলেনি; বরং তাকে আল্-আমীন বলেছে।
খ্রিস্টান বিজ্ঞানী মাইকেল এইচ হার্ট সারা বিশ্বের এ যাবৎকালের যত মহা মানব আছে তাদের একটি নামের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেটা বর্তমান জাতিসংঘেও সংরক্ষণ করা আছে। সেই নামের তালিকায় নবীজির পবিত্র নামকে তিনি এক নম্বরে রেখেছন। সেখানে গৌতম বুদ্ধের নাম বা শ্রীকৃষ্ণের নাম এক নম্বরে রাখেন নাই অথবা তিনি নিজে খিৃষ্টান হয়েও যিশুখৃষ্টকে প্রধান্য দেন নাই।
মক্কার কুরাইশরা যখন তাঁকে বলেছিল যে, হে মুহাম্মদ, আপনি দাওয়াত ও তাবলীগ থেকে ফিরে আসেন, বিনিময়ে আপনি যদি মক্কার সবচেয়ে সুন্দরী রমণীকে বিবাহ করতে চান, তাহলে তাই দিব। আর যদি আপনি বড় নেতা হতে চান, তাহলে আমরা আপনাকে আমাদের নেতা বলে মেনে নিব। নবীজী সা. উত্তরে বললেন, যদি তোমরা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্রকেও এনে দাও তবুও আমি আল্লাহর একত্ববাদের তাবলীগ ও দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দেওয়া থেকে ফিরে আসব না।
মূলত এই উম্মতের নারী পুরুষের জন্য উস্তাদ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন রাসূলুল্লাহ সা.। কিন্তু নারীদের জীবনে এমন কিছু জটিল ও গোপন বিষয় আছে, যেগুলি কোন পুরুষ উস্তাদের পক্ষে শিক্ষা দেওয়া লজ্জার ব্যাপার। এগুলি কোন নারী অন্য পুরুষদের কাছ থেকে শেখা তো দূরের কথা নিজের বাপ-বা ভাইয়ের কাছেও শিখতে লজ্জা পাবে। এজন্য নবীজীর দরকার ছিল কিছু নারীদেরকে স্ত্রী হিসেবে রাখবেন। যেহেতু স্ত্রীদেরকে এধরনের বিষয় স্বামীর শিক্ষা দেয়া স্বামীর পক্ষে লজ্জার নয়। তারপর ঐ স্ত্রীরা অন্য মহিলাদেরকে শিক্ষা দিবেন। এজন্য নবীজী একাধিক বিবাহ করেছেন। উম্মতের শিক্ষার জন্য করেছেন। বিশেষ করে মা হযরত আয়েশা রা. থেকে সব চেয়ে বেশি এই বিষয়ের ইল্ম জাতি পেয়েছে।
নবীজির প্রত্যেকটি বিবাহই হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্রের স্বার্থে অথবা জাতীয় স্বার্থে। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে একটি বিবাহও করেননি। তারপরও যারা নবীজীর শানে চরিত্রহীনতার কটূক্তি করবে তাদের জন্য আল্লাহর গজব অবশ্যম্ভাবী ও ইসলামী বিধানমতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ফরজ। সুতরাং নবীজীর চরিত্রের উপর অশালীন কথা বলার অধিকার কারো নেই। কোন বিবেকবান মানুষ নবীর চরিত্র নিয়ে এমন কুমন্তব্য করতে পারে না। নবীজির পারিবারিক জীবন সম্পর্কে আরও বেশি জানতে চাইলে “তায়াদ্দুদুল আজওয়াজ লি ছাহিবিল মি‘রাজ” কিতাবটি পড়ে নিতে পারেন।
নবীজির স্ত্রীদের নাম
১। হযরত খাদিজা রা. ২। হযরত সওদা বিন্তে যাময়া রা. ৩। হযরত আয়শা রা. ৪। হযরত হাফসা রা. ৫। হযরত যয়নব বিন্তে খুযায়মা রা. ৬। হযরত উম্মে সালমা রা. ৭। হযরত যয়নব বিন্তে জাহ্শ রা. ৮। হযরত জুয়াইরিয়া রা. ৯। হযরত উম্মে হাবীবা রা. ১০। হযরত সুফিয়া রা. ১১। হযরত মায়মুনা রা.।
একাধিক স্বামী গ্রহণের দাবী অযৌক্তিক
চার স্ত্রী থাকা অবস্থায় যদি কেউ ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করে তাহলে সেটা আর বিবাহ থাকে না ক্যান্সারে পরিণত হয়। কেউ যেন নারীদের অধিকার খর্ব করতে না পারে সে জন্য আল্লাহ পাক কোরআনে এই সীমারেখা দিয়েছেন। তারপরও বর্তমান বিশ্বের আধুনিক নারীদের অনেক আপত্তি। আপত্তি হল নারীদেরকে যেমন একের অধিক স্বামী রাখার অধিকার দেওয়া হয়নি, তেমনিভাবে যদি পুরুষকেও একের অধিক স্ত্রী রাখার অধিকার দেওয়া না হত, তা হলে নারী পুরুষের সমান অধিকার হত। এই যুক্তি অন্তসারশূন্য। এই যুক্তির কোন ভিত্তি নেই। কারণ, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন যুগে আদম শুমারীতে দেখা যায় পুরুষের তুলনায় নারীদের সংখ্যা অনেক বেশী। গত আদম শুমারি মতে সারা বিশ্বের লোক সংখ্যা ৮ শত কোটি। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা অনেক বেশী। আমরা ধরে নেই পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ১ লক্ষ বেশি। কাজেই যারা বলে পুরুষদেরকে একের অধিক স্ত্রী রাখার অধিকার না দেওয়া হোক, তাহলে তাদের যুক্তি মেনে নিলে ঐ ১ লক্ষ নারীর বিয়ে কোন যুক্তিতে কার সাথে হবে? ঐ ১ লক্ষ নারীকে তাদের যুক্তিমতে স্বামী ছাড়া থাকতে হবে। দ্বিতীয়তঃ পুরুষকে চারজন স্ত্রী রাখার জন্য শর্ত হল স্ত্রীদের সকলের মাঝে সমতা রক্ষা করতে হবে। সমতা বিধান না করতে পারলে ১জন স্ত্রীকে নিয়েই শান্ত থাকতে হবে। একের বেশী তার জন্য হালাল নয়। [সূরা নিসা ৩নং আয়াত] কাজেই আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে যারা আপত্তি তোলে তারা নিঃসন্দেহে বেঈমান। আমি বুঝি বা না বুঝি আল্লাহর বিধান যথার্থ সঠিক, চূড়ান্ত সত্য, এমন বিশ্বাস করতে পারলেই একজন মানুষ ঈমানদার হতে পারে, এ ছাড়া নয়।

দৃষ্টি
আমার প্রিয় ভাই বোনদের প্রতি আমার অনুরোধ রইল আপনাদের পরিবারের স্ত্রী, মা-বাবা, ও ছোট ভাই-বোনদের প্রতি সব সময় খেয়াল রাখবেন। তারা যেন অবহেলিত না হয়। আর স্ত্রীদের প্রতি বেশী যতœ নিবেন যখন তারা গর্ভবতী হয়। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব থেকে সব সময় কাছে থাকবেন। কারণ, ঐ সন্তান আপনারই। আপনি যদি স্ত্রীর প্রতি খেয়াল রাখেন তাহলে আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখা হল। সেই সাথে সন্তান এবং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হল। এতে করে সন্তানের এবং আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ হবে। বিনা কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট করবেন না। এতে কবীরা গোনাহ্্ হয়। মায়ের শারীরিক মানসিক ক্ষতি হয়। সারা জীবন আফসোস করতে হয়। কারণ অনেক সময় সন্তান নষ্ট করলে পরবর্তীতে মায়ের সন্তান নিতে সমস্যা হয়।
লখেকিা : ইসলামী গবষেক, কবি ও সম্পাদক-মাসকি আল জান্নাত
তথ্যসূত্র : লখেকিা র্কতৃক ‘বশ্বি নারী মুক্তরি উপায়’ বই হতে গৃহতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight