ধৈর্য সফলতার সোপান / জাকারিয়া সদর

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৫৩)
বিপদে ধৈর্যধারণ করা একটি মহৎ গুণ। যার মাঝে এই গুন বিদ্যমান থাকে, সে চরম সংকটময় মুহূর্তেও আপন লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে যার মাঝে ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতা নেই, সে সামান্য প্রতিবন্ধকতায় পড়লে কিংবা সমালোচনায় জর্জরিত হলেই তার লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়ায়। জীবনে চলার পথে যত সমস্যাই আসুক তা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। কেননা, ধৈর্য না রাখতে পারলে ব্যর্থতা এসে জীবনকে গ্রাস করে নেবে। আর ব্যক্তিত্ব নতমুখ হয়ে যাবে। উঁচুমানের ব্যক্তিত্ব অর্জনের জন্যও ধৈর্যধারণ করা অপরিহার্য। সুতরাং ধৈর্য হারালে চলবে না। সাহসের সঙ্গে অনূকুল পরিস্থিতি সামলে নিতে হবে। যারা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে, প্রতিটা মুহূর্তে ধৈর্যের পথ অবলম্বন করেছে তারাই সফলতা পেয়েছে। তারাই হয়েছে সফল। আম্বিয়ায়ে কেরাম, তামাম সাহাবা রা. এবং আকাবির ও আসলাফদের জীবন ও কর্মের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ধৈর্যকে আরবীতে ‘সবর’ বলা হয়। সবর শব্দটি ছোট হলেও এর মর্মার্থ ব্যাপক। পবিত্র কোরানের অনেক স্থানে সবরের কথা আলোচনা করা হয়েছে এবং মুমিন মুসলমানদের তা লালন করে সমস্যাসংকুল জীবনের বিশাল পথ পাড়ি দিতে বলা হয়েছে। জীবনে সাফল্য পাওয়ার জন্য ধৈর্যধারণ করা আবশ্যক। ধৈর্য ব্যতিরেখে কোন কিছুতে সফলতা সম্ভবপর নয়। তেমনি কোন কাজ সম্পন্ন করাও সম্ভব নয়। নামাজ পড়ার জন্য সময় দিয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে, রোযার ক্ষেত্রেও ধৈর্যতা অবলম্বন করে নিষিদ্ধ কামনা – বাসনা থেকে বাঁচতে হবে, ধৈর্যের মাধ্যমেই সব রকমের পাপ কাজ পরিহার করে চলতে হবে। মোদ্দকথা, প্রতিটা ক্ষেত্রে, কাজ-কর্মে ধৈর্যধারণ করা একান্ত প্রয়োজন। যারা ধৈর্য ও সহনশীলতা আঁকড়ে ধরেছে তারাই সফলকাম। আল্লাহ তাআলা তার পবিত্র কালামে বলেন, ‘পরিপূর্ণ ধৈর্যশীল লোকগণ অগুনতি পুরস্কার লাভ করবে।’ (সূরা যুমার, ১০)
মানুষ ধৈর্যশীল হলেই কেবল যে কোন অনাড়ম্বর পরিস্থিতির মোকাবেলা স্বাচ্ছন্দ্য ও শান্তিপূর্ণতার সঙ্গে করতে পারে। যার ধৈর্য নেই সে একটুতেই অযথা মার-ডাঙা, দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িয়ে যায়। যার ফলে সমাজে অশান্তি আর সহিংসতার দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। আর ইসলাম কখনো বিশৃঙ্খলতা ও সহিংসতার সমর্থন করে না। বিপদে ধৈর্যধারণের মানে পিছিয়ে পড়া নয় বরং আবেগের বশবর্তী না হয়ে বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে যথাযথভাবে কাজ সমাধান করা। শত্রুর রূঢ় আচার-ব্যবহারের জবাব না দিয়ে ধৈর্যধারণের মাঝে কোন ক্ষতি নেই বরং তাতে উপকারই নিহিত আছে। এ জগৎ সংসারে চলার পথে সুখ-দুঃখ সবই আছে। মানুষ কোন কিছু অর্জনের পর যেমনিভাবে আনন্দে আত্মহারা হতে পারে, তেমনি কোন কিছু হারানোর বেদনায় অস্থিরও হতে পারে। বিশেষ করে এই দু’হালতে ধৈর্য ও সহনশীলতার পথ অবলম্বন করা খুবই কঠিন। কিন্তু আত্মসংযমের এটাই প্রকৃত সময়। তাই জীবনের বাঁকে বাঁকে সুখ-দুঃখ, আনন্দ – বেদনা যা কিছুই আসুক না কেন নিজেকে স্থির রেখে শান্তিপূর্ণতার সঙ্গে সকল অনাড়ম্বর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। ধৈর্য ও সহনশীলতার মহৎগুণ অর্জন করে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে নিজেকে মেলে ধরতে হবে। তবেই আসবে সফলতা। তুমি হবে সফল।
জামেয়া  তাওয়াক্কুলিয়া রেংগা, সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight