ধারাবাহিক উপন্যাস : কায়রাওয়ানী দুলহান

শাহজাদী আবু হামেদের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। ভাবতে লাগলেন তার কী উত্তর দেয়া যায়। লিময়ার দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, ও গলা বাড়িয়ে ওদের বাকী কথা শুনার চেষ্টা করছে। শাহজাদী তাকে ফিসফিস করে বললেন, এই তুমি তো বলেছিলে যে, তুমি নাকি মরক্কোর অধিবাসি। তুমি কি এই দু’জনকে চেনো?
লিময়া বলল, না জনাবা। আমি ওদেরকে মোটেও চিনি না। কিন্তু মনে হচ্ছে, তাদের কথায় কী আপনার সন্দেহ হচ্ছে?
শাহজাদী বললেন, হ্যাঁ, তাতো হবেই। কারণ, এই ধরনের নাযুক পরিস্থিতিতে সবাইকেই কিছু কিছু বিষয়ে সংযত হতে হয়। বিশেষ করে যদি তা শত্র“পক্ষের দেশীয় কোন বিষয় হয়। তুমিই তো শুনলে মরক্কো থেকে ওরা এসেছে। ওরা শত্র“দের পক্ষ থেকে কোন চরও তো হতে পারে।
এবার লিময়া সুযোগ পেয়ে সাথে সাথেই তাকে সমর্থন করে বলল, ঠিকই বলেছেন আমার মনিব। তাদের কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হুসাইনকে এখানে হাযির করতে বলুন। কারণ, আমি হুসাইনকে কায়রাওয়ানে থাকাবস্থায় দেখেছি।
তখন শাহযাদী মাথা নেড়ে লিময়ার কথায় সায় দিলেন। আবু হামেদকে তিনি সম্বোধন করে বললেন, আচ্ছা তুমি কি এ মুহূর্তে ওই ব্যক্তিকে হাযির করতে পারবে?
আবু হামেদ বলল, অবশ্যই জনাব। এরপর সে সালিমকে ইশারা করল হুসাইনকে নিয়ে আসার জন্য।
এদিকে লিময়া অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে লাগল। বহু কষ্টে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করল। মনে মনে দু‘আ করতে লাগল যেন, আবু হামেদের কথা মিথ্যা হয়। কিন্তু একটু পরই সে দরজার কাছেই হৈ চৈ শুনল। দেখল যে সালিম এক লোককে ধাক্কা দিতে দিতে কামরায় ঢুকাচ্ছে।
লিময়া উঁকি দিয়ে পর্দার ছিদ্রে চোখ রাখল। সে দেখল যে, সত্যিই তারা হুসাইনকে নিয়ে বন্দি করে নিয়ে এসেছে। তার হাতে ও গলায় বেড়ি পড়ানো। কিন্তু তারপরও হুসাইন দৃঢ় ও দীপ্তপদে কক্ষের মাঝে এসে দাঁড়াল।
শাহজাদী তখন লিময়ার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, সে রীতিমত কাঁপছে। তার চোখ রক্তজবার মত রঙিন হয়ে গেছে।
শাহজাদী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই হুসাইন?
লিময়া শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, মুখে কিছুই উচ্চারণ করল না। অধিক আবেগাপ্লুত হওয়ার কারণে হয়তো বা তার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গিয়ে তার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তাই সে চুপ রইল।
এদিকে শাহজাদী তার এই হঠাৎ অস্থিরতা ও বিষণœতা দেখে খুবই বিস্মিত হলেন। তারপরও তিনি হুসাইনকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমিই হুসাইন বিন জাওহার?
হুসাইন স্থীর ও দৃঢ়কণ্ঠে উত্তর দিল, হ্যাঁ, আমিই আমীরুল মুমিনীন মুঈয লিদীনিল্লাহ ফাতেমীর সিপাহসালার জাওহার আসসিকিল্লীর পুত্র হুসাইন।
আবু হামেদ তখন বিদ্রুপ করে বলল, তুমি এখনও ওই অজ্ঞ ও আত্মপ্রবঞ্চিত লোকটিকে ফাতেমী বলে অভিহিত করছো! অথচ ফাতেমা (রা:) তার এই বংশ থেকে মুক্ত!
হুসাইন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলল, মিথ্যুক! তোমার মুখে চুনকালি লাগুক। তুমি যতই গাদ্দারী ও বিশ্বাসঘাতকতা কর, তারপরও তিনি ফাতেমীই থাকবেন।
শাহজাদী বললেন, তোমাকে তো অনেক বড় বীর-বাহাদুর মনে হচ্ছে।  এরপরও কী করে তুমি এদের হাতে গ্রেফতার হলে?
হুসাইন বলল, এটি আমার মনিব মুঈযযের একনিষ্ঠ খিদমতে জানবাজি রাখার ফসল। তবে এতে আমার কোন পরোয়া নেই। কারণ আমি আমার মিশন পূর্ণ করেছি এবং আমার কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছি। ‘ফাজ্জুল আখয়ারে’ প্রোথিত গুপ্তধনের সবটুকুই উদ্ধার করে ‘কায়রাওয়ানে পাঠাতে পেরেছি। তাই আমি আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও শোকর আদায় করছি। আর আমি  অত্যন্ত আনন্দিত এজন্য যে, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে আদায় করেছি। এবার আমি যদি শাহাদৎ পেয়ালা পান করতে পারি তা হবে আমার সৌভাগ্য।
শাহজাদী হুসাইনের সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও অবিচলতা দেখে বিমুগ্ধ হলেন। এরকম বাহাদুরি ইতোপূর্বে কখনো দেখেন নি। তাই তিনি লিময়ার দিকে বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, এই তরুণটি তো অসাধারণ সাহসী।
লিময়া বলল, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এরা সবাই এমন বীর-বাহাদুর। তারা মরক্কো বিজয় করতে পেরেছে কেবল এ ধরনের আত্মোৎসর্গ ও জানবাজি রাখার কারণেই।
শাহজাদী বললেন, ঠিকই বলেছ তুমি হে সালামাহ। তার জন্য আমার খুব মায়া হচ্ছে।
লিময়া সাথে সাথে বলল, তাহলে আপনার ইচ্ছা হলে এই বন্দিকে আপনার প্রাসাদে রেখে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আর বন্দিকে নিয়ে আসা লোক দু’জনকে চলে যেতে বলুন। এরপর দেখুন আগামীকাল ওরা কী নিয়ে আসে।
শাহজাদী বললেন, সুন্দর পরামর্শ দিয়েছো তো তুমি। এরপর তিনি হাত তালি দিলে দাড়োয়ান এল। তাকে নির্দেশ দিলেন, এই বন্দিকে নিয়ে একটি কামরায় রেখে দাও। আমরা তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। আর তার হাত ও গলার বেড়িগুলো খুলে দাও। কারণ, এখান থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার কোন আশংকা নেই।
তার আবু হামেদকে লক্ষ্য করে বললেন, আর তোমরা এখন যেতে পার। আমি তোমাদের শোকর আদায় করছি। তোমরা যে প্রস্তাব পেশ করেছ, তা আমি ভেবে দেখব। হয়তো বা তা আমাদের উপকারে আসবে বলে আপাতত মনে করছি।
আবু হামেদ ওঠে কক্ষ থেকে বের হয়ে গেল এবং তার পিছুপিছু সালিমও। উভয়েই অবনত মস্তকে কক্ষ ত্যাগ করল। মুখে কারোরই কোন সাড়া শব্দ নেই।
বিশ
তখন সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। সবদিকে অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ছে। লিময়া মনে মনে আকাঙক্ষা করছিল যে, এখন যদি কিছু সময় পেত, তাহলে সে এতক্ষণ যা শুনল এবং যা দেখল, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারত। বিশেষ করে হুসাইনকে মুক্ত করার ব্যাপারে কোন একটি কৌশল বের করতে পারত।
এদিকে লিময়া দেখল যে, শাহজাদী ওঠে তাঁর কামরায় চলে যাচ্ছেন। তাকেও পিছনে পিছনে আসতে বললেন। শাহজাদী খাটে বসে তাকেও পাশে বসার জন্য বললেন।
লিময়া বসল। উভয়েই কিছুক্ষণ নীরব রইল। শাহজাদী আনমনে কিছুক্ষণ লিময়ার কাঁধের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। একটুপর তিনি গভীর শ্বাস ছাড়লেন।
এ অবস্থা দেখে লিময়া বলল, আমার মনিবাকে অহেতুক পেরেশান ও অস্থির দেখাচ্ছে!
শাহজাদী আবেগাপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, সালামাহ! আমি অস্থির নই। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, আমি একা ও সাহায্যহীন হয়ে পড়েছি।
লিময়া তৎক্ষণাৎ বলল, আমার মনিবা। আপনি শান্ত্ব ও নিশ্চিন্ত হোন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সম্ভাবনার একটি নতুন দোআর খুলে দিয়েছেন। তাহলো এই হুসাইন বিন জাওহার। সে এখন আপনার বাড়িতে অবস্থান করছে এবং সে আপনার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আমার পরামর্শ থাকবে আপনি তার সাথে সুন্দর ব্যবহার করবেন। মিসরী বাহিনী যদি বিজিত হয়, তাহলে এই হুসাইনও বন্দিদের মধ্যে থাকবে। আর যদি জাওহার সফল হন; তাহলে হুসাইন তার প্রতি আপনার বদান্যতা ও করুণা কখনো ভুলতে পারবে না। সে আপনাকে রক্ষার জন্য জানবাজি রাখবে।  লিময়ার এ প্রস্তাব শাহজাদীর খুবই মনঃপুত হলো। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন হে সালামাহ। আমি তো হুসাইকে সযতেœ রাখার পক্ষপাতি। আর এজন্যই তো আমি তার সব বেড়ি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
লিময়া তখন বলল, আমার কাছে আরেকটি প্রস্তাব আছে। তাহলো, আমরা যদি শত্র“দের দ্বারা আক্রান্ত হই, তাহলে বন্দিকে আমরা বাধ্য করতে পারব। সে আপনি ও এই প্রাসাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য  তার পিতার কাছে পত্র লিখে আবেদন করবে।
শাহজাদী তার প্রস্তাবে ভীষণ প্রীত হলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি দু’হাতে মুখ গুঁজে অন্য মনস্ক হয়ে কী যেন ভাবতে লাগলেন।
লিময়া ঘাবড়ে গিয়ে বলল, মনিবের কী হলো! প্রথমে রাজি হলেন। তারপরই এমন বিষণœ ও চিন্তিত হয়ে গেলেন।
শাহজাদী তার কথা কেটে বললেন, হ্যাঁ এ বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করার পর আমার মনে হলো যে, আমি এই বন্দির সামনে মাথা নোয়াতে পারব না এবং তার থেকে ওই ‘নিরাপত্ত্বাপত্র’ও আমার দ্বারা চাওয়া সম্ভব নয়।
লিময়া এবার মুচকি হেসে তাঁর আরও ঘনিষ্ট হয়ে বলল, কে বলেছে আপনাকে তা চাইতে হবে।
শাহজাদী বিস্মিত হয়ে বললেন, তার মানে?
লিময়া বলল, মানে আপনি নিজে তা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে..। আপনার সম্মতি পেলে আমিই এ ব্যাপারে প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। এর দ্বারা আপনার সম্মান, মর্যাদা, আত্মসম্ভ্রম সবই রক্ষা পাবে।
শাহজাদী এ কথা শুনে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন। সাথে সাথে বললেন, সালামাহ! তুমি এত বুদ্ধিমতি!
এরপর তিনি ওঠে ব্যক্তিগত কামরায় চলে গেলেন। লিময়াও তার কামরায় ফিরে এল।
একুশ
এরপর লিময়া কয়েকদিন এমনিই সময় পার করল। তবে তার মন হুসাইনের সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে রইল। সে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল। তার সাথে দেখা হলে তাকে সে কী কী বলবে, তা ঠিক করতে লাগল। সে কল্পনার রাজ্যে অবাধে বিচরণ করতে থাকল।
একদিন আসরের সময়। সে তার কামরার জানালা দিয়ে নীলনদের পানির উপরিভাগে সূর্যের কিরণ পড়ে যে চিকচিক করছিলো, এ দৃশ্য উপভোগ করছিলো। আচমকা সে কয়েকজন আগন্তুকের আওয়াজ শুনতে পেল, তারা মানুষদেরকে মিসরী বাহিনীকে সাহায্যের জন্য আহবান করছে। কারণ সংবাদ রটে গেছে যে, জাওহারের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ফুসত্বাত্বের দিকে এগিয়ে আসছে এবং মিসরী বাহিনীও ‘জীযা-এর দিকে তাদের মুকাবেলার জন্য অগ্রসর হচ্ছে।
তাই এই ঘোষকরা মানুষদেরকে অর্থ দিয়ে, জান দিয়ে দেশ রক্ষার মহৎকাজে অংশগ্রহণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে।
লিময়া যখন তাদের এ কথা শুনছিলো, এমন সময় প্রধান পরিচারিকা এসে বলল যে, বিনতে ইখশীদ তাকে ডাকছেন।
লিময়া দৌঁড়ে গেল। দেখতে পেল শাহজাদী বেলকনিতে বসে আছেন। তাকে দেখেই শাহজাদী বলতে লাগলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সিজিলমাসার আবু হামেদ লোকটি আমাদের সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। দেখো দেখো আমাদের সেনারা কী উৎসাহ ও উদ্দীপনায় ‘জীযা’ বন্দরের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কিশতিতে চড়ে নীলনদ পাড়ি দিচ্ছে। দেখো আমাদের ‘রাওযাহ’ ও ফুসত্বাত্বের মাঝে স্থাপিত পুলটি সৈনিকদের প্রচণ্ড ভীড়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। এবার দূরদিগন্তে তাকাও। শত্র“বাহিনীকে দেখা যায়? আমি কিন্তু দেখছি না!
লিময়া তার কথায় দিগন্তে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। একটু পরই সে চিৎকারে বলতে লাগল। আনন্দে সে যেন শূন্যে উড়ছিলো; হ্যাঁ আমি দেখছি, ওরা এগিয়ে আসছে। আমার মনিব! ওই দেখুন প্রচুর ধূলোবালি উড়ছে। আমি দেখছি, এর মাঝে পতাকাও পতপত করে উড়ছে। ওদিকে তাকান জনাবা, কিছু দেখতে পাচ্ছেন?
লিময়া নিজের আবেগ, উচ্ছ্বাস লুকাতে পারল না। এমনকি সে আনন্দের আতিশয্যে শাহজাদীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। ভাগ্যিস সে এর পূর্বেই সতর্ক হয়েছিলো। সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সে চুপ হয়ে গেল।
এদিকে বিনতে ইখশীদ আসন ছেড়ে উঠে লিময়া যেদিকে ইশারা করেছিলো, সেদিকে তিনি দৃষ্টি দিলেন এবং এর পরপরই চিন্তিত হয়ে বললেন, মনে হচ্ছে, শত্র“বাহিনীর সংখ্যা অনেক। হায় খোদা! এখন কী করব! সালামাহ তোমার কী মনে হয়, আমাদের বাহিনী বিজয়ী হবে?
লিময়া বলল, সে যাই হোক মোহতারামা! আমি পূর্বে যেমন বলেছি এখনও পূর্ণ আস্থার সাথে বলছি যে, এতে আপনার কোন ক্ষতি হবে না।
শাহজাদী কম্পিত স্বরে বললেন, হুসাইন থেকে কী ওই পত্রটি নিয়েছিলে?
-না জনাবা, এখনও নেইনি। আপনি কি এখন যাওয়ার অনুমতি দেবেন?
– ঠিক আছে, এখন যাও এবং দ্রুত কর। কিন্তু চিঠিটি সেনাপতি জাওহারের কাছে পৌঁছাবে কে?
– পৌঁছাবোও  আমিই। এখন ছদ্মবেশ ধারণ করার জন্য প্রয়োজন আমার পুরুষ সৈনিকদের পোষাক এবং একটি ঘোড়া।
শাহজাদী নির্দেশ দিলে নওকররা প্রয়োজনীয় সবকিছু হাযির করে দিল।
লিময়ানিজকামরায় গিয়ে সৈনিকদের পোষাকে মুখ আবৃত করে ফেলল। এরপর সে হুসাইনের কামরায় গেল। হুসাইন কারো ডাকাডাকি শুনেই খাঁচায় শৃংখলাবদ্ধ ক্ষুধার্ত সিংহের মত হুংকার ছেড়ে বলল, কে ওখানে?
হুসাইন দেখল যে, একজন সৈনিক তার কামরায় প্রবেশ করছে। হুসাইন তাকে দেখেই বসা থেকে দাঁড়িয়ে হাঁক ছাড়ল, এই তুমি কে এবং কী চাও?
লিময়া অপেক্ষাকৃত নিচু আওয়াজে যথাসাধ্য নিজের স্বর পরিবর্তন করে বলল, আমি সালামাহ। শাহজাদী বিনতে ইখশীদের একজন নগণ্য বাদী। আমি তাঁর পক্ষ থেকে আপনার কাছে একটি আবদার নিয়ে এসেছি।
হুসাইন বলল, কী সেই আবদার?
লিময়াবলল, আপনি আপনার পিতার কাছে আমীরের এই প্রাসাদ ও তার অধিবাসীদের নিরাপত্তা চেয়ে একটি পত্র লিখে দিবেন। আপনি কি তা করবেন!
হুসাইন বলল, অবশ্যই। এই প্রাসাদের মালিক শাহজাদীর কাছ থেকে আমি সে সমাদর ও সম্মান পেয়েছি, তা আমার কাঁধে ঋণ হয়ে থাকবে, আমি তা কখনো ভুলবো না।
এরপর হুসাইন কাগজ নিয়ে লিময়ার কথামত একটি নিরাপত্তাপত্র লিখে দিলো।
লিময়াচিঠিটি হস্তগত করেই তড়িঘড়ি কামরা থেকে বেরিয়ে পড়ল। ঘোড়ায় চড়ে সৈনিকদের অনেক সারি পাড়ি দিয়ে মুসলিম বিন উবায়দুল্লাহর বাড়ি পৌঁছল। পথে সে মানুষের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করল। দেখতে পেল যে, খোদ সৈনিকদের উৎসাহ-উদ্দিপনায় ভাটা পড়েছে; সাধারণ মানুষের কথা তো বলা বাহুল্য। তারা যুদ্ধের জন্য একে অপরকে উৎসাহিত করছে কেবল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। লিময়াবুঝতে পারল যে, মিসরবাসী এখন আর কোন যুদ্ধ চায় না।
মুসলিমের বাড়ি পৌঁছার পূর্বে আচমকা সালিমের কণ্ঠস্বরের মত একজনের কথা শুনতে পেল। তাকিয়ে দেখল যে, সালিম ও আবু হামেদ কিছু সেনাঅফিসারের সাথে ওই কাফুরী বাগানের দিকে যাচ্ছে। পথে পথে তারা মানুষদেরকে আনুগত্য ও যুদ্ধের জন্য অর্থসম্পদ বিলিয়ে দিতে উৎসাহিত করছে।
ক্রমশ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight