ধারাবাহিক উপন্যাস : কায়রাওয়ানী দুলহান

 – ভীতু কাপুরুষ

এসময়ে সালিমের আবির্ভাব লিময়ার জন্য ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। সালিমকে দেখেই তার মাথা ভনভন করে উঠল। তার শক্তি একেবারে নিস্তেজ হয়ে গেল। ফলে সে কাছেই একটি আসনের ওপর শুয়ে পড়ল। লিময়া শুয়ে সালিমের দিকে এমন ড্যাব ড্যাব করে তাকাতে লাগল যে, যেন সে নিজ চোখকে বিশ্বাসই করাতে পারছে না। তার অজান্তেই চোখে অশ্র“র বান ডাকলো।
এ অবস্থা দেখে তার পিতা ‘হামদুন’ ও ‘আবু হামেদ’ ওঠে কামরা ত্যাগ করলেন। তাদেরকে কিছুক্ষণ একান্তে কথাবলার সুযোগ করে দিলেন। ফলে সালিম লিময়ার আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে বসলো। লিময়া তার হাত ধরে বলল, সালিম! এত দীর্ঘ সময় তুমি কোথায় ছিলে? তুমি আমাকে কীভাবে একেবারে ভুলে গেলে! এটুকু বলেই সে আর কিছু বলতে পারল না। কান্না তার কণ্ঠরোধ করলো। দু’হাতে মুখ গুঁজে ডুকরে কাঁদতে লাগল। সালিম তার কাঁধে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে লাগল। একপর্যায়ে লিময়ার কান্না থামলে সালিম বলল, লিময়া! তুমি কি যে বলো, কেউ কী তার আত্মাকে ভুলে যেতে পারে? লিময়া বলল, আচ্ছা যাই হোক। আল্লাহ তাআলার শোকর যে, তুমি যথাসময়েই পৌঁছতে পেরেছ। তুমি কি জানো, আমাকে অন্য কারো হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে..!!
আকস্মিক এ প্রশ্নে সালিম বিব্রত হলো না। তার হাবভাব দেখে মনে হলো যেন বিষয়টি এমনই ঘটার ছিল। সে শান্তভাবে মাথা নেড়ে বলল, অবশ্যই জানি। এতো আমার জন্য অত্যন্ত খুশির সংবাদ। আর এ উদ্দেশ্যেই আমি তোমাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছি।’..
সালিমের এ উত্তর শুনে লিময়া হতভম্ব হয়ে গেল। অপলক দৃষ্টিতে সালিমের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চিৎকার করে বলল, না.. না .. তুমি সালিম নও..। আমি এখন যা শুনলাম, তা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। সালিম হলে তুমি এ ধরনের কথা কখনো বলতে পারতে না।’..
সালিমের এবার টনক নড়ল যে, সে ভুল করে ফেলেছে। লিময়াকে এভাবে চমকে দেওয়া তার উচিত হয়নি। আরো সংযত হওয়া প্রয়োজন ছিল তার। তাই সে লিময়াকে শান্ত করার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করল। একটু নড়েচড়ে বসে সে আমতা আমতা করে বলল, লিময়া! আমি.. আমি.. তোমাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম..। কিন্তু আমি..।
লিময়ার তখন মনে হচ্ছিল যেন তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। তার শরীর থেকে কে যেন তার রুহটাকে টেনে বের করে নিচ্ছে। ঘটনায় আকস্মিকতায় লিময়ার দেহ অসাঢ় হয়ে মুর্ছা যাওয়ার উপক্রম হলো। কিন্তু বুদ্ধি করে সে পাশের সোফায় লুটিয়ে পড়ল।
সালিম অবস্থা বেগতিক দেখে লিময়ার দিকে অগ্রসর হল। লিময়া তাকে দূরে সরিয়ে দিল। আর তখনই লিময়ার পিতা ও আবু হামেদ হাসতে হাসতে তাবুতে প্রবেশ করল। কিন্তু পিতা হামদুন যখন দেখলেন যে, মেয়ে লিময়ার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেছে। তখন তিনি তার কাছে গিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। লিময়া কোনো উত্তর দিল না।.. তবে ধীরে ধীরে সে ওঠে দাঁড়ালো। এরপর সে পিতাকে লক্ষ্য করে বলল, বাবা! আমি এখনি প্রাসাদে ফিরে যাচ্ছি। আমার প্রতি কি আপনার আর কোনো নির্দেশ আছে?আবু হামেদ লিময়ার পিতাকে জওয়াবের সুযোগ না দিয়ে হাসতে হাসতে বলল, লিময়া! এখন কি তোমার বিশ্বাস হয়েছে যে, তোমার সালিমও ঐ প্রস্তাবকে মুবারকবাদ জানাবে..?
লিময়া তার কথার প্রতি কোনো কুর্ণপাতই করলো না। সে বাবার আরো কাছে গেলে তিনি বললেন, বেটি! আল্লাহ তাআলা তোমাকে হেফাযত করুন! তবে আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি, তা ভুলে যেও না যেন! লিময়া অনেক কষ্টে ক্রোধ সম্বরণ করে বলল, ‘আমিও তা আল্লাহ তাআলার ওপর ছেড়ে দিলাম। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করবেন।’..
এরপর সে ঘুরে তাবুর দরজার দিকে হাটা দিল। এদিকে সালিমও পিছু পিছু গিয়ে তার পথরোধ করে দাঁড়ালো। বলল, লিময়া! ঘুটঘুটে এই অন্ধকারে তুমি একাকী কীভাবে রাজপ্রাসাদে যাবে? চলো, আমি তোমাকে পৌঁছে দিই।
লিময়া তাকে দু’হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল, এর প্রয়োজন হবে না। পথ আমি ভাল করেই চিনি। তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়প্রত্যয়।
সালিম লিময়ার অগ্নিমূর্তি দেখে অগত্যা পিছু হটলো। আর লিময়া প্রাসাদের দিকে রওয়ানা দিল।..
পথে লিময়ার মাথায় একঝাঁক চিন্তা এসে ভীড় জমালো। তাবুতে ঘটে যাওয়া একটু আগের ঘটনাগুলো বারবার তার মনে পড়তে লাগল। তাদের কথাগুলোর যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করল। অনেক ফিকিরের পর তার মনে হল যে, আবু হামেদই এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। সে-ই খলীফা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরকে হত্যার ফন্দি এঁটেছে। এসব তারই কারসাজি।.. আবু হামেদই তার বাবাকে ধোঁকা দিয়েছে। কারণ, লিময়া তার পিতার মহানুভবতা ও ওফাদারী (বিশ্বস্ততা) সম্পর্কে অবগত। তাঁর দ্বারা এ ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া কখনো সম্ভব নয়..।
এরপর সে ভাবতে লাগল সালিমকে নিয়ে। নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল, এত বছর পর্যন্ত যাকে অকৃত্রিম ভালবেসে গেল। যার জন্য এতদিন অধীর অপেক্ষায় ছিল যে, তাকে এই নতুন বাগদত্ত্ব থেকে উদ্ধার করবে। আর আজ সে-ই নাকি তার চাচার সাথে খলীফাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যোগসাজশ করছে। তার নিজের প্রেয়সীকে এজন্যে বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। শুধু তাই নয়, উভয়ে মিলে তাকে রাজপ্রাসাদে তাদের ‘গোয়েন্দা’ হিসেবে নিয়োগ দিতে চাচ্ছে..! উফ্! কী মর্মান্তিক আচরণ..!
এভাবে কিছুদূর পথ অতিক্রম করার পরই লিময়া দেখল একটি ছায়ামূর্তি তার দিকে এগিয়ে আসছে..। লিময়া তাকে চিনে ফেলল যে, ছায়ামূর্তিটি ‘হুসাইন বিন জাওহার’।
হুসাইন তার কাছে এসে সশ্রদ্ধ সালাম দিল। এরপর সে অনুগত ভৃত্যের মত পিছনে হাটতে লাগল। লিময়া এ অবস্থা দেখে তার মনে হুসাইনের প্রতি ভক্তি জন্মাল। বলল, আপনাকে অপেক্ষা করতে বলে অনেক কষ্ট দিলাম। এত বিলম্বের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী..। হুসাইন বলল, লোকে বলে ‘অপেক্ষা তিক্ত’। কিন্তু আমি কসম করে বলি যে, তোমার অপেক্ষা করা আমার জন্য ছিল পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মধুর।’
হুসাইন এটুকু বলে নীরব হয়ে লিময়ার জবাবের অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু সে কোনো জবাব দিল না। লিময়াকে নীরব দেখে হুসাইন নিজেই বলতে লাগল, ক্ষমা করবেন। আমি মনে হয় আপনার সাথে কোনো বেয়াদবি করে ফেলেছি?
লিময়ার পক্ষ থেকে উত্তর আসার পূর্বেই উভয়েই তাদের দিকে ধাবমান ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনি শুনতে পেল। একটু পরই অশ্বারোহীটি তাদের কাছে এসে ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল। অশ্বারোহীটি ছিল সালিম। হুসাইন এগিয়ে তার বাহু ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এই তুমি কে? এই সময়ে তুমি এ পথে এলে কী জন্য..? হুসাইন তার উত্তরের অপেক্ষা না করেই লিময়াকে প্রশ্ন করল, লিময়া! এই যুবককে আপনি চেনেন? সালিম এবার উন্মাদ হয়ে চিৎকার করে বলল, বারে! এতো দেখছি ওর নামসহ জানে! হুসাইন সালিমের হাত সরিয়ে দিয়ে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে বলল, হ্যাঁ, জনাব! আমি তাকে ভাল করেই চিনি এবং জানি। আর আমি তাকে নিরাপদে রাজপ্রাসাদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এতক্ষণ তার অপেক্ষায়ও ছিলাম..। এবার বলো তুমি কে? এটুকু শুনেই সালিমের ধৈর্যের বাঁধ টুটে গেল। আচমকা সে তরবারি কোষমুক্ত করে হাঁক ছাড়ল, আমি তোমাকে কখনো বলবো না, আমি কে। আমার এই তরবারি-ই তোমাকে আমার পরিচয় বলে দেবে। অতএব বুকে সাহস আর বাহুতে বল থাকলে এসো আমার সাথে লড়ো দেখি! লিময়া সালিমের যুদ্ধংদেহী অবস্থা দেখে দু’জনের মাঝে দাঁড়িয়ে সালিমকে বলল, সালিম! তরবারি কোষে ভরো। চেনো তাঁকে? ইনি হলেন ‘হুসাইন বিন জাওহার’। তিনি বাস্তবেই আমার অপেক্ষায় ছিলেন। তাকে মল্লযুদ্ধে আহবান করার পরিবর্তে তোমার কর্তব্য ছিল তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা..।
হুসাইনের পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই সালিমের হাতে ধরা তরবারিসহ তার সমস্ত শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল। আতঙ্কে সে কয়েক কদম পিছু হটল। এরপর সে ঘোড়ায় চড়ে চোখের পলকে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
হুসাইন তাকে পলায়নোদ্যত দেখে দীর্ঘক্ষণ শব্দ করে হাসল। তার হাসির শব্দে রাতের পিনপতন নীরবতা খানখান হয়ে যাচ্ছিল। লিময়ার কাছে গিয়ে দেখল যে, সে     চিন্তাক্লীষ্ট ও বিষণœ হয়ে কী যেন ভাবছে। হুসাইন বলল, আমাদের বন্ধু আতঙ্কে পালাল। মনে হচ্ছে এটি তার চিরাচরিত অভ্যাস।’
লিময়া তখন অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, তার মানে আপনি তাকে পূর্ব থেকেই চেনেন?
-হ্যাঁ, সিজিলমাসার রণাঙ্গনে তার সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছিলো। সেদিন বন্ধুটি যোদ্ধাদের মাঝে ঘুরে ঘুরে তাদেরকে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করছিলো। তাকে দেখে আমি কাছে গিয়ে প্রথম আঘাতেই তাকে ঘোড়া থেকে মাটিতে আছড়ে ফেলি। যমীনে পড়া অবস্থায় তরবারি উঁচিয়ে হত্যা করতে উদ্যত হলে সে আমার পায়ে ধরে ছোট শিশুর মত কাঁদতে কাঁদতে প্রাণ ভিক্ষা চাইল। তার এই করুণ আর্তি দেখে আমার মনে দয়ার উদ্রেক হল। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সে তখন আমার হাত থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে আত্মগোপন করল।
লিময়া ঘটনাটি নীরবে শুনলো এবং ব্যথিত হলো। সালিমের এই কাপুরুষোচিত পরিচয় পেয়ে সে সীমাহীন কষ্ট পেলো। তবে সে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করল যে, সুযোগ হাত ছাড়া হওয়ার পূর্বেই তিনি তার সামনে এই ‘ভীরু ও ঠগ সালিমে’র মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন।..
এসব কথার মাঝেই তারা রাজপ্রাসাদের ফটকের কাছাকাছি চলে এল। লিময়া তখন হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে বলল, আজ রাতে আমার প্রতি আপনি যে করুণা দেখালেন, মূলত আমি এর যোগ্য ছিলাম না। তাই আমি অন্তঃস্থল থেকে আপনাকে শুকরিয়া জানাই।
হুসাইন বলল, এ আপনি কোন্ করুণার কথা বলছেন। আমি তো এখানে করুণার কিছুই দেখছি না। করুণা যদি কেউ দেখিয়ে থাকে সে তো আপনি..। কারণ আপনি আমাকে আপনার জন্য অপেক্ষা করার অনুমতি দিয়েছেন। রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত আপনার সাথে চলার অনুমতি দিয়েছেন। অতএব, এর জন্য আপনাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’
লিময়া হুসাইনের কথায় ভীষণ লজ্জা পেল। লজ্জায় তার মাথা নুয়ে এল এবং তার গণ্ডদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করল।
এরপরই হুসাইন লিময়ার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্থান ত্যাগ করল। লিময়াও প্রাসাদে তার কামরায় ফিরে এল। রাত তখন প্রায় শেষপ্রহর। সে তার পরনের কাপড় পাল্টিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। শুয়ে শুয়ে সে রাতে ঘটে যাওয়া সবগুলো ঘটনা একে একে মনে করতে লাগল। সবগুলো চিত্র তার সামনে একের পর এক ভেসে ওঠতে লাগল। সালিমকে মনে হলো একজন ইতর, কাপুরুষ ও প্রতারক লোক।’ এর বিপরীতে হুসাইনকে মনে হলো, একজন সম্ভ্রান্ত, বীর-বাহাদুর জওয়ান।’
তারপর এলো আবু হামেদের চিত্র। তাকে মনে হলো খবীছ এক ধূর্ত শিয়াল। এর বিপরীতে তার পিতা হামদুনকে মনে হলো, সাদামনের অধিকারী একজন সম্ভ্রান্ত ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। এ জন্যই তিনি আবু হামেদের চাল ধরতে না পেরে এত তাড়াতাড়ি প্রবঞ্চিত হয়েছেন।’
লিময়া এসব কথা ভাবতে ভাবতেই একসময় গভীর ঘুমে হারিয়ে গেল।
সকালে সে ঘুম থেকে ওঠেই উম্মুল উমারার কামরায় চলে গেল। অনুমতি নিয়ে কামরায় প্রবেশ করল। উম্মুল উমারা তাকে দেখেই সহাস্যবদনে অভ্যর্থনা জানালেন। আনন্দের আতিশয্যে তিনি লিময়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর তিনি তাকে পাশে বসিয়ে হেসে বললেন, আশা করি গতকালের মিশনে তুমি সফল হওনি।’ হুসাইনের সাথে তার বিয়ের দিকে ইঙ্গিত করে এ কথাটি বললেন।
লিময়া বলল, হ্যাঁ, মা! আপনি ঠিকই ধরেছেন। আমি আমার মিশনে সফল হইনি। মনে হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা আমীরুল মুমিনীন যা মনস্থ করেছেন, তা-ই বুঝি আমার ভাগ্যে লিখে রেখেছেন।’ এ কথা শুনে উম্মুল উমারার চেহারায় আনন্দের দ্যুতি খেয়ে গেল। বললেন, আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া। তোমাকে অভিনন্দন হে লিময়া! এবং হুসাইনের প্রতিও রইলো আন্তরিক শুভেচ্ছা।
পবিত্র রমজান প্রায় সমাগত। তাই তাদের বিয়ের তারিখ পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের   পরদিন ধার্য করা হল।
লিময়া উম্মুল উমারার বিশেষ তত্ত্বাবধানে রোজার মাসটি উদযাপন করলো। তবে পুরোটা সময় আবু হামেদের সেই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র তার মনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখত। সাথে সাথে সে অবাক হত এবং বিষয়টি তাকে পীড়া দিত যে, তার পিতা কীভাবে আবু হামেদের প্রবঞ্চণায় পড়ে এই হীন চক্রান্তে শরিক হলেন!
রমজানুল মুবারক শেষ হওয়ার পূর্বেই খলীফা মুঈয একদিন বিরাট ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এ মাহফিলে বড় বড় আমীর-উমারা, সেনাপ্রধানগণ আমন্ত্রিত হন। লিময়ার পিতা হামদুনকেও এ মাহফিলে বিশেষভাবে দাওয়াত দেওয়া হয়। খলীফা তাঁকে একেবারে তাঁর কাছাকাছি বসালেন। ইফতারের পর সিদ্ধান্ত হল যে, লিময়া ও হুসাইনের বিবাহ অনুষ্ঠান ঈদের তিনদিন পর হবে।’ এখানে হামদুন খলীফার নিকট আব্দার করলেন, এই বিয়ে অনুষ্ঠান যেন মহামান্য খলীফার উপস্থিতিতে তাঁর সেনাশিবিরে অনুষ্ঠিত হয়..। খলীফা মুঈয এতে স্বানন্দে রাজি হলেন।’
এই আরজিটি মূলত ছিল আবু হামেদের চক্রান্তেরই অংশ। সে হামদুনকে বুঝিয়েছে যে, আরবরীতি হলো কনের বিয়ে অনুষ্ঠান তার এলাকায় হওয়া জরুরি।’ তাই খলীফা যেন তাদের একটি জাতিগত প্রথা রক্ষার্থে তার এই আরজি কবুল করেন..।
তবে আবু হামেদ এই কৌশলটি প্রথা রক্ষার জন্য আঁটেনি। বরং এর পিছনে ছিল তার   একটি দূরভিসন্ধি..।                [ক্রমশ….]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight