দৈনন্দিন মাসায়েল : নামাজের মাসায়েল : নামাজের ধারাবাহিক বর্ণনা / মাওলানা শিব্বীর আহমদ

নামাজের ফরজসমূহ
নামাজ শুরুর পূর্ব থেকে শুরু করে নামাজের শেষ পর্যন্ত মোট তেরটি কাজ ফরজ। কোনো নামাজে এগুলোর কোনো একটিও যদি ছুটে যায় তাহলে নামাজ হবে না। সেই নামাজ তখন পুনরায় আদায় করতে হবে।
নামাজের বাইরে সাত ফরজ। ১. নামাজের জায়গা পবিত্র রাখা; ২. শরীর পবিত্র রাখা; ৩. জামা পবিত্র রাখা; ৪. সতর ঢেকে রাখা; ৪. ওয়াক্ত চেনা / ঠিক থাকা; ৫. কেবলামুখী হওয়া; ৬. নিয়ত করা।
মাসআলা : যতটুকু জায়গায় নামাজ আদায়  করা হয় ততটুকু জায়গা পবিত্র থাকা জরুরি। এজন্যে অনেকে নামাজের সময় আলাদা কোনো চাটাই কিংবা জায়নামাজ ব্যবহার করে থাকেন। যদি কারও নামাজের জন্যে আলাদা কোনো চাটাই বা জায়নামাজ না থাকে, তাহলে যে কোনো পবিত্র কাপড় যেমন চাদর গামছা ইত্যাদি বিছিয়েও নামাজ পড়া যাবে। এমনকি যদি মাটি বা ফ্লোর পবিত্র হয় তাহলে কিছু না বিছিয়েও নামাজ পড়া যাবে।
মাসআলা : নামাজের পূর্বে শরীর সব রকম অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করতে হবে। যদি অজু ফরজ হয় তাহলে অজু করতে হবে, গোসল ফরজ হলে গোসল করতে হবে। আর যদি শরীরের কোনো অঙ্গে নাপাক কোনো কিছু লাগে তাহলে সেই নাপাক জায়গাটুকু ধুয়ে পবিত্র করতে হবে।
মাসআলা : শরীরের জামা পবিত্র থাকা ফরজ। দেখা যায় কিংবা দেখা যায় না—এমন নাপাক কোনো কিছু কাপড়ে লাগলে কাপড়ের নাপাক জায়গাটুকু ধুয়ে পবিত্র করতে হবে। পবিত্র করার উদ্দেশ্যে অনেকে কাপড়ের এক কোণা ধুয়ে নেয়। এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে কাপড় পবিত্র হবে না। বরং কাপড়ের যেখানে নাপাক বস্তু লেগেছে সে জায়গাটুকু ধুয়ে নিতে হবে। আর তা যদি জানা না থাকে, অর্থাৎ কোথাও কোনো নাপাকি লেগে যদি শুকিয়ে যায় এবং এর কোনো চিহ্নও না থাকে, তাহলে সতর্কতাবশত পুরো কাপড়টিই ধুয়ে নিতে হবে।
মাসআলা : নামাজে পুরুষের জন্যে নাভির নীচ থেকে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত  আর মেয়েদের জন্যে চেহারা হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ব্যতীত পুরো শরীর ঢেকে রাখা ফরজ।
মাসআলা : কোনো নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পরই সেই নামাজ পড়তে হবে। ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে কোনো নামাজ পড়লে তা আদায় হবে না।
মাসআলা : নামাজ শুরুর পূর্বে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং পুরো নামাজেই কেবলামুখী হয়ে থাকতে হবে। যদি নামাজের মধ্যে কারও সিনা বা বুক কেবলার দিক থেকে ঘুরে যায় তাহলে নামাজ হবে না।

নামাজের ভেতরে ছয় ফরজ।
১.তাকবিরে তাহরিমা। নামাজের শুরুতে তাকবির বলে নামাজ শুরু করা ফরজ। [সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬২৫১; আদদুররুল মুখতার, ২/১২৮]
২.কিয়াম করা। নামাজের প্রত্যেক রাকাতের শুরু থেকে রুকুর পূর্ব পর্যন্ত সময়টুকু দাঁড়িয়ে থাকা ফরজ।
৩.কেরাত পড়া। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাত এবং সুন্নত-নফল ও ওয়াজিব নামাজের প্রত্যেক রাকাতে পবিত্র কুরআন থেকে কমপক্ষে এক আয়াত পরিমাণ পড়া ফরজ।
৪.রুকু। প্রত্যেক রাকাতের কিয়াম শেষে রুকু করা ফরজ।
৫.সেজদা। প্রত্যেক রাকাতে দুটি করে সেজদা করা ফরজ।
৬.শেষ বৈঠক। নামাজের শেষ রাকাতে আততাহিয়্যাতু পড়ার জন্যে বসাকে শেষ বৈঠক বলে। আততাহিয়্যাতু পড়া শেষে দরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাতে হয়। তবে শেষ বৈঠকে আততাহিয়্যাতু পড়তে যতক্ষণ সময় লাগে ততক্ষণ বসা ফরজ।

নামাজের ওয়াজিবসমূহ
১. ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে এবং অন্যান্য নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া। ২. উপরোক্ত রাকাতগুলোতে সুরা ফাতেহার পর অন্য কোনো সুরা কিংবা কমপক্ষে ছোট তিন আয়াত অথবা বড় এক আয়াত পড়া। বড় একটি আয়াতের অংশ যদি ছোট তিন আয়াত সমান হয় তাহলে ততটুকু দিয়েও নামাজ হয়ে যাবে। ৩. রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো। ৪. দুই সেজদার মাঝে সোজা হয়ে বসা। ৫. তাদিলে আরকান অর্থাৎ ধীরস্থিরতার সঙ্গে রুকু-সেজদা আদায় করা। ৬. প্রথম বৈঠক অর্থাৎ তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে দুই রাকাতের পর বসা। ৭. প্রথম ও শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া। ৮. বেতের নামাজে দোয়ায়ে কুনুত পড়া। ৯. আস্তের জায়গার আস্তে পড়া, জোরের জায়গার জোরে পড়া। ফজর মাগরিব ও ইশার নামাজের প্রথম দুই রাকাতে ইমাম জোরে কেরাত পড়বেন। একাকী নামাজ আদায়কারী জোরেও পড়তে পারেন, আস্তেও পড়তে পারেন। আর জোহর ও আসর নামাজে ইমাম ও একাকী নামাজ আদায়কারী সকলেই আস্তে আস্তে কেরাত পড়বেন। মাগরিবের শেষ রাকাত এবং ইশার শেষ দুই রাকাতেও সকলকেই কেরাত আস্তে পড়তে হবে। ১০. জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ এবং রমজান মাসে বেতের ও তারাবির জামাতে জোরে কেরাত পড়তে হবে। ১১. নামাজের শেষে ডানে-বামে সালাম ফেরানো। ১২. ঈদের নামাজের অতিরিক্ত ছয় তাকবির বলা। ১২. নামাজের আমলগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
নামাজের সুন্নতসমূহ
দাঁড়ানো অবস্থায়
১. পরিপূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়ান। মাথা সামনে বা পেছনে ঝুঁকাবেন না। ২. তাকবিরে তাহরিমার সময় কান বরাবর দুই হাত তুলুন। ৩. হাত তোলার সময় হাতের তালু এবং আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখুন। ৪. হাত তোলার সময় হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে রাখুন, একেবারে মিলিয়েও নয়, আবার পুরোপুরি ছড়িয়েও নয়। ৫. জামাতের নামাজে ইমাম সাহেবের জন্যে উচ্চস্বরে তাকবির বলা সুন্নত। ৬. নাভির নীচে হাত বাঁধুন। ৭. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দিয়ে বাম হাতের কব্জি বৃত্তাকারে ধরুন। অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের সোজা বিছিয়ে দিন। ৮. তাকবিরে তাহরিমার পর আস্তে আস্তে ছানা পড়–ন। ৯. এরপর আস্তে আস্তে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়–ন। ১০. সুরা ফাতেহা শেষে আস্তে আস্তে আমীন বলুন। ১১. বিতির নামাজের তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবির বলুন। ১২. দোয়ায়ে কুনুত পড়ার পূর্বে তাকবিরে তাহরিমার মতো দুই হাত উঠিয়ে তাকবির বলুন।

রুকুতে
১. রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলুন। ২. রুকুতে দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু ধরে রাখুন এবং হাতের আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে রাখুন। ৩. রুকুতে হাটু পিঠ ও কোমর সোজা করে রাখুন। ৪. রুকুতে পায়ের নলা ও হাঁটু সোজা করে রাখুন। হাঁটু সামনের দিকে বাকিয়ে রাখবেন না। ৫. উভয় বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখুন। ৬. তিনবার রুকুর তাসবিহ পাঠ করুন। ৭. রুকু থেকে ওঠার সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ এবং ওঠার পর রাব্বানা লাকাল হামদ পড়–ন।
একাকী নামাজ আদায়কারী উভয়টিই পড়বেন। আর জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়লে ইমাম সাহেব শুধু সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ পড়তে পারেন, উভয়টিও পড়তে পারেন। আর মুকতাদি শুধু রাব্বানা লাকাল হামদ পড়বেন।

সেজদায়
১. সেজদায় যাওয়ার সময় তাকবির বলুন। ২.  প্রথমে হাঁটু, পরে হাত, পরে নাক ও এরপর কপাল রাখুন। ৩. সেজদার সময় চেহারা দুই হাতের মাঝে রাখুন। দুই হাত রাখুন কান বরাবর। ৪. সেজদার সময় দুই বাহু মাটিতে না বিছিয়ে মাটি থেকে পৃথক রাখুন। ৫. দুই হাতের বাহু পার্শ¦দেশ থেকে পৃথক রাখুন। ৬. উরু থেকে পেটকে পৃথক রাখুন। ৭. হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখুন। ৮. হাতের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখুন। ৯.পায়ের আঙ্গুলগুলো যথাসম্ভব কেবলামুখী করে রাখুন। ১০. সেজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়–ন। ১১. সেজদা থেকে ওঠার সময় তাকবির বলুন। ১২. সেজদা থেকে ওঠার সময় প্রথমে কপাল পরে নাক এরপর হাত তুলুন। ১৩. দুই কিংবা চার রাকাতবিশিষ্ট সকল নামাজের প্রথম ও তৃতীয় রাকাতে সেজদা থেকে ওঠার সময় হাঁটুতে ভর করেই সোজা উঠে দাঁড়ান। হাত দিয়ে মাটিতে ভর দেবেন না কিংবা বসবেন না।

বসার সময়
১. দুই সেজদার মাঝে এবং আত্তাহিয়্যাতুর সময় দুই হাত দুই উরুর উপর রাখুন। ২. ডান পা খাড়া রাখুন এবং বাম পা বিছিয়ে দিয়ে এর উপর বসুন। ৩. ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখুন। ৪. হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক করে রাখুন। ৫. শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ শরীফ পড়–ন। ৬. দোয়ায়ে মাছুরা পড়–ন। ৭. নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর সময় প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে চেহারা ঘুরান।

নামাজের আদবসমূহ
১. দাঁড়ানোর সময় সেজদার স্থানে দৃষ্টি রাখুন। ২. রুকুর সময় দৃষ্টি পায়ের পাতায় রাখুন। ৩. সেজদার সময় নাকের ডগায় দৃষ্টি রাখুন। ৪. বসা অবস্থায় কোলের দিকে দৃষ্টি রাখুন। ৫. ডান দিকে সালাম ফেরানোর সময় ডান কাঁধে এবং বাম দিকে সালাম ফেরানোর সময় বাম কাঁধে দৃষ্টি রাখুন। ৬. হাই এলে প্রথমত নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করুন। না পারলে বাম হাতের পিঠ দিয়ে মুখ ঢেকে দিন। আর যদি হাত বাঁধা অবস্থায় থাকেন তাহলে ডান হাতের তালু দিয়ে মুখ ঢাকুন। ৭. প্রচ- ঠা-া বা এমন কোনো ওজর না থাকলে তাকবিরে তাহরিমার সময় উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত খোলা রাখুন। এ বিধান শুধু পুরুষদের জন্যে।

নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ
১. স্বেচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক, নামাজের ভেতরের বা বাইরের কোনো একটি ফরজ ছেড়ে দেয়া। তবে যদি কারও অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজর থাকে এবং এজন্যে সে নামাজ শুরু করার পূর্বে নামাজের বাইরের কোনো ফরজ দেয় তাহলে নামাজ হয়ে যাবে। ২. ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় নামাজের মাঝে কারও সঙ্গে কথা বলা। ৩. কাউকে সালাম দেয়া কিংবা সালামের জবাব দেয়া। ৪. আমলে কাছির করা। অর্থাৎ এমন কোনো কাজ করা, যা দেখলে কেউ মনে করবে—সে নামাজ পড়ছে না। ৫. কেবলার দিক থেকে সিনা ঘুরিয়ে নেয়া। ৬. পানাহার করা, পরিমাণ কম-বেশি যাই হোক। ৭. দাঁতে আটকে থাকা একটি বুটের সমান বা বেশি কোনো কিছু গিলে ফেলা। ৮. ওজর ছাড়া গলাকাশি দেয়া। ৯. অসুস্থতার কারণে ওহ-আহ শব্দ করা। তবে যদি কেউ অধিক অসুস্থতার কারণে ওহ-আহ শব্দ করা ছাড়া নামাজ পড়তে না পারে, তাহলে অবশ্য তার নামাজ হয়ে যাবে। ১০. অসুস্থতা কিংবা বিপদের কারণে উচ্চস্বরে কাঁদা। তবে যদি কেউ আল্লাহর ভয়ে কিংবা বেহেশত-দোজখের কথা মনে করে কাঁদে তাহলে নামাজের কোনো সমস্যা হবে না। ১১. নাপাক জায়গায় দাঁড়ানো কিংবা সিজদা করা। ১২. তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় নামাজে সতর খুলে থাকা। ১৩. হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। ১৪. নামাজের কোনো এক রুকুন অর্থাৎ ফরজে তিনবার শরীর চুলকানো। ১৫. নামাজে কুরআন শরীফ দেখে দেখে পড়া। ১৬. নামাজের বাইরের কেউ লুকমা দিলে তা গ্রহণ করা। ১৭. নামাজের মাঝে বেহুঁশ বা পাগল হয়ে যাওয়া। ১৮. নামাজে শব্দ করে হাসা। নামাজে শব্দ করে হাসলে অবশ্য ওজুই ভেঙ্গে যায়। ১৯.  জামাতের নামাজে ইমামে আগে মুক্তাদি দাঁড়ানো।

সকল নামাজের নিয়ত
নামাজের শুরুতে নিয়ত করা জরুরি। তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। নিয়ত হলো অন্তরের সংকল্প। অর্থাৎ এমন সংকল্প করা—আমি ফজরের কিংবা জোহরের ফরজ নামাজ পড়ছি। অন্তরের এই সংকল্প ছাড়া শুধু মুখে উচ্চারণ যথেষ্ট নয়। এতে নিয়ত হয় না। এমনকি যদি কেউ মুখে ভুল উচ্চারণ করে, জোহর নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে ভুলে মাগরিবের কথা বলে, কিন্তু তার মনে জোহর নামাজের কথাই আছে, তাহলে তার জোহর নামাজই আদায় হবে, মাগরিব নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মুখে উচ্চারণ করে নামাজের নিয়ত করেছেন বলেও কোনো প্রমাণ নেই। তাই একে সুন্নত বলাও ঠিক নয়। তবে অন্তরের সংকল্পের পাশাপাশি মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করায় কোনো সমস্যাও নেই। খেয়াল রাখতে হবে, উচ্চারণসহ প্রচলিত আরবি বা বাংলা নিয়ত করতে গিয়ে যেন ‘তাকবিরে উলা’ ছুটে না যায় এবং অন্য মুসল্লির মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটে।
বর্তমান সময়ে আমাদের কোনো কোনো ভাই বলে থাকেন, ‘মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা বৈধ নয়। কারণ হাদীসে তো মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার কথা নেই।’ তাদের এই কথাটি ঠিক নয়। কারণ, হাদীসে শুধু নিয়ত করার কথা আছে, মনে মনে না মুখে উচ্চারণ করে – এমন কোনো কথা নেই। মুখে উচ্চারণ করার কথাও নেই, মনে মনে পড়ার কথাও নেই। তবে হজের সময় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই হজের মতো নামাজের মধ্যেও মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা যেতে পারে। তবে এটি জরুরি কিংবা সুন্নত পর্যায়ের কোনো আমল নয়।
আবার অনেকে মনে করেন, আরবিতে নিয়ত না করলে নামাজ যেন পরিপূর্ণ হয় না। তাই তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ সুন্নত, বেতের নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজার নামাজ, তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাকের নামাজ, আওয়াবিনের নামাজ ইত্যাদি সকল নামাজের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ত মুখস্থ করেন। অথচ আরবিতে এভাবে নিয়তের সাথে নামাজ পূর্ণ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight