দেশ-বিদেশের খবর

১। নেশার টাকা না পেয়ে মা-খালা-ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকা না পেয়ে পাবনা জেলার বেড়ায়; মা, ছোট ভাই ও খালাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পরিবারের এক সদস্য।
বুধবার (৪ জুলাই) ভোরে উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সেনাপদ্মা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের বরাত দিয়ে বেড়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আশিষ বনি হাসান বলেন, ভোর ৪টার দিকে সেনাপদ্মা গ্রামের মিঠু হোসেনের বড় ছেলে তুহিন হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মা বুলি খাতুন (৪০), ছোট ভাই তুষার হোসেন (১০) ও আপন খালা নছিমন খাতুনকে (৪৫) কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
স্থানীয়রা ঘাতকের স্ত্রী রুনার (১৮) বরাত দিয়ে জানান, তুহিন নেশা করার জন্য তার মায়ের কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে গরু জবাই করা ছুরি দিয়ে কোপানো হয়। এ সময় তার খালা ও ছোট ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরও উপর্যপুরি কোপান তুহিন। এতে তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ সকালে বাড়ির উঠোন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হত্যাকারী তুহিন পলাতক।

২। বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জেলায় নিহত ২

বন্দুকযুদ্ধে’ ময়মনসিংহ ও যশোরে দুইজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের ভালুকায় মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জালাল (৩৮) নামে একজন নিহত হন। পুলিশের দাবি, নিহত জালাল মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক, হত্যাসহ ৬টির বেশি মামলা রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা, চারটি গুলির খোসা, একটি বড় রামদা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান জানান, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশ সেখানে যৌথ অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ ল্য করে ইটপাটকেল নিপেসহ গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও গুলি ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী জালালকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে যশোরের চৌগাছায় দু’দল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয় একজন (৪০) নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও গাঁজা উদ্ধার করেছে।
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন জানান, চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামে দু’দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনকে উদ্ধার করে যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৩। তুরস্কে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করছে এরদোগান

তুরস্কের নতুন কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থার জন্য বিদ্যমান আইনগুলির সমন্বয় সাধনের জন্য চলতি সপ্তাহে দু’টি প্রধান আদেশ জারি করবে মতাসীন জাস্টিজ এ- ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত রজব তায়্যেপ এরদোগানের শপথ গ্রহণের পরপরই এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কার্যকর হবে।
আগামী ৯ জুলাই এরদোগান তার প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করবেনে; যেটি দেশটিতে নতুন যুগের সূচনা করবে। প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের আগে সাংবিধানিক সংশোধনী দ্বারা নির্ধারিত নতুন এক্সিকিউটিভ সিস্টেমের একীকরণ নিশ্চিত করতে আদেশ জারি করার জন্য বিদ্যমান একে পার্টি ক্যাবনিটে কর্তৃপকে পার্লামেন্টে অনুমোদন দিয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদ বাতিল করে তার সমস্ত কর্তৃত্ব নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নিকট স্থানান্তর করা হবে। মন্ত্রিসভা এই সপ্তাহে দু’টি আদেশ জারি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সংগঠন ও কর্তৃত্বের অধীনে ৮০০ আইনের সংশোধন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর পদ পুরোপুরি তুলে দিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপিত করতে প্রায় ৫ হাজার আইন সংশোধন করতে হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সমস্ত আইন বাতিল করবে, যেটি মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় শর্ত উপস্থাপন করবে। অতঃপর সকল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত করা হবে।
এক্সিকিউটিভ সিস্টেমের যেকোনো বৈষম্য রোধ করতে নতুন সিস্টেম সর্ম্পূণরূপে একত্রিকৃত না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভা আইন প্রণয়ন করবে। প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণের পর একটি নতুন সরকার গঠন করা হবে এবং তারপর মন্ত্রিসভার আদেশ জারি করার কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তারপর প্রেসিডেন্ট তার প্রথম আদেশ জারি করবে। এরপর নতুন মন্ত্রণালয় গঠিত হবে এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এতে মোট ১৬টি মন্ত্রণালয় থাকবে এবং আদেশ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় গঠনের পর নতুন মন্ত্রিদের নিয়োগ দিবেন এরদোগান।
মন্ত্রীদের নিয়োগের জন্য কোনো সময়সীমা নেই। তবে এই ১৬ জন মন্ত্রীকে একই সময়ে নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগের পরপরই আমলাতান্ত্রিক ক্যাডারদের নিযুক্ত করা হবে। এরাবিয়ান জার্নাল।

৪। বাঘেরহাটে মসজিদের নাম বদলের চেষ্টা, বিরোধিতা করায় হামলা

বাঘেরহাটে এক’শ বছর পুরোনো মসজিদের নাম বদলের চেষ্টার বিরোধীতা করায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ মুসল্লিদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ‘মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদ’ এর নাম বদলকে কেন্দ্রে করে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৮২০ সালে স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য “পশ্চিম চিংড়াখালী মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদটি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ নামেই মসজিদের সকল কার্যক্রম চলে আসছে। হঠাৎ করে, একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসি রফিকুল ইসলাম টিপু মুন্সি এই জামে মসজিদটির নাম বদল করে ‘শেখ মহব্বত উল্লাহ জামে মসজিদ’ নাম দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টাঙালে মুসল্লিরা প্তি হয়ে সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলে।
এ ঘটনায় প্রতিপরে হামলায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হাওলাদারসহ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পর মোঃ রফিকুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী বাদী হয়ে উল্টো মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হাওলাদারসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীম হাওলাদার বলেন, আগে মসজিদটির কাঁচা ঘর ছিল। এলাকাবাসির ঐকান্তিক চেষ্টায় সেখানে টাইলস লাগানো হয়েছে। শতবছরের পুরাতন এই মসজিদটি আগের নামেই থাকুক এটাই মুসল্লিদের প্রত্যাশা।
কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী কুয়েত প্রবাসি রফিকুল ইসলাম টিপু মুন্সি তার লোকজন নিয়ে এটির নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ মহব্বত উল্লাহ জামে মসজিদ’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হচ্ছে আমাদের।

৫। চট্টগ্রামে ৭ নারী ছিনতাইকারী গ্রেফতার

চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নারীরা যাত্রীবেশে বাসে উঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাত্রীদের টাকাপয়সা-অলঙ্কার কেড়ে নিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ জুন) রাতভর চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটে ও সীতাকু-ের ইমামগণের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া নারীরা হলেন, মোছাম্মৎ রাহেলা (৪০), আফিয়া বেগম (১৮), ফুলতারা বেগম (২২), সাহার বানু (৫৫), সুলতানা বেগম (২৩), নাজমা বেগম (৩৫), ও মরিয়ম বেগম (২৫)।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন সারাবাংলাকে জানান, গ্রেফতার হওয়া সাত নারী পরস্পরের আত্মীয়। তাদের কৌশল হচ্ছে, তারা একসঙ্গে বাসে উঠেন। ভিড়ের মধ্যে নিজেরা জটলা তৈরি করেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। হইচইয়ের মধ্যে সাধারণ ছাত্রীদের টাকাপয়সা-মোবাইল, অলঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান।
ওসি জানান, শুক্রবার রাতে রাহেলাকে এক নারী বাসযাত্রীর চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে বাকি ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া নারীদের সবার বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

৬। তাবলিগী সাথীদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ; কোটি টাকার মালামাল লুট

পারিবারিক জের ধরে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পাওন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন (৩৫) কে মারধর করায় ভাংচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে বলে জানা যায়।
প্রত্যদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৩ জুন) ভোরে মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন তার নিজ বাড়ি কাগজী গ্রাম হতে বাই সাইকেল যোগে পাওনে জামে মসজিদে আযান দিতে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় ওৎপেতে থাকা মুখোশধারীরা তাকে রাস্তায় আটক করে মারধর শুরু করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ ঘটনায় মাওলানা জাকির হোসেন চিৎকার করলে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে।
এই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে কাগজী গ্রাম, দেওঘর, সদয় নগর, পাওনসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত লোক মাইকিংয়ের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাগজী গ্রামের দেওবন্দী ওমালায়ে কেরাম ও তাবলীগ জামাতের সাথীদের বাড়িতে তা-ব চালায়।
এই সময়ে হামলাকারীরা একটি মসজিদ ও গ্রামের প্রায় ৩৫-৪০ বাড়িতে ভাংচুর এবং দুটি মটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিসহ লাধিক টাকার স্বর্ণ অলংকার লুটপাট করে। এতে প্রায় কোটি টাকার তি হয়েছে বলে দাবি করে ক্ষতিগ্রস্তরা।
পরে দেওবন্দী ওলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে থানায় মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থানায় গেলে মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠে। এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি মামলা না নেয়ার বিষয়টি একটি রটানো কথা বলে দাবি করেন।

৭। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলের ল্েয ছাত্র জমিয়তের জরুরী বৈঠক সম্পন্ন

আগামী ৫ ই জুলাই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলের লে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র জমিয়ত জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ জুলাই মঙ্গলবার বাদ মাগরিব সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সেক্রেটারী মাওলানা ইমরান উদ্দীনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র জমিয়ত চট্টগ্রাম (উত্তর) জেলার সভাপতি মাওলানা সাইফুর রহমান।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলের লে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবং নিম্নের সিদ্ধান্ত বিল গৃহীত হয়। ক. কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলের ল্েয চট্টগ্রাম হতে একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল বুধবার ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবে।
খ. আগামী ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা সহ-সভাপতি মুফতি শরীফ আল-হাসান, মাওলানা সালমান আহমদ, মাওলানা ফুরকান আলী, হাফিজ আব্দুল্লাহ, ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

৮। শাহবাগে হামলার পর কেমন আছেন মুফতি হুযাইফা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোববার দুপুরে শাহবাগে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। ওইদিন আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখলেই ধাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগদের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করেছে এবং মারধর করেছে।
ওইদিন শাহবাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হয় মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফা। তিনি কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার শিক। কোটা আন্দোলনের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই।
তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকেই কামরাঙ্গীরচরে নিজের মাদরাসায় ফিরছিলেন হুযাইফা। এসময় শাহবাগে ছাত্রলীগদের হামলার শিকার হন তরুণ এই আলেম।
শাহবাগে মুফতি হুজাইফাসহ ছয়জনকে ধরে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. আল জুবায়ের ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের স্কুলছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক সৈয়দ আরাফাত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুফতি হুজাইফাকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি চিৎকার করে মারধরকারীদের বলেছন, আমি কিছুই করিনি, আমি কিছুই করিনি, আপনারা তো আমার কথা শুনবেন। তবে হামলাকারীরা তার কোনো কথাই শোনেনি।
নির্যাতনের শিকার মুফতি হুজাইফা বর্তমানে তার কর্মস্থল মাদরাসায় মাহমুদিয়াতে অবস্থান করছেন। গতকাল সন্ধ্যায় যুব মজলিস, ছাত্র জমিয়ত ও খেলাফত আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে কামরাঙ্গীরচরে যান।
এসময় তারা মুফতি হুজাইফার কাছ থেকে হামলার বিবরণ শুনেন ও তার শারীরিক অবস্থার খোজ-খবর নেন এবং ন্যাক্কারজনক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

৯। যশোরে পাইলটসহ প্রশিণ বিমান বিধ্বস্ত

যশোরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ০২/০৭/১৮ইং রোববার রাতে যশোর সদর উপজেলার বুকভরা বাওড়ের মধ্যে বিমানটি পড়ে যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতের কারণে বিমানটির প্রকৃত অবস্থান এখনও জানা যায়নি।
যশোর বিমান বন্দর সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে যশোরের মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি থেকে একটি প্রশিণ বিমান উড্ডয়ন করে।
এর কিছুণ পর সেটি যশোর সদর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বুকভরা বাওড়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে যায়। বিমানটিতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এখনও তাদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, তাদের একটি প্রশিণ বিমান টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই বিমানটির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে বিমান বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার মিয়া জানান, সদর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বুকভরা বাওড়ের মধ্যে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিণ বিমান পড়ে যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

১০। নিখোঁজের একদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নিখোঁেজর একদিন পর পুকুর থেকে মুমিন নামের এক মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করতে গিয়ে আড়াইবাড়ি নূরানীয়া ইকরা হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র মুনিম (১০) নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ীর নিজাম উদ্দিনের ছেলে। অনেক খোঁজাখুজির পর স্থানীয়রা সকালে একটি পুকুরে তার ভাসমান লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিম জানান, মাদরাসার পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজের বিষয়ে মুনিমের চাচা জসীম উদ্দিন গত ২৯ জুন (শুক্রবার) কসবা থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন।

১১। এক সপ্তাহে পদ্মা গিলেছে ৩০০ বাড়িঘর

পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ৫টি গ্রাম। গত এক সপ্তাহে ডুবেছে ৩০০ বসতভিটা। রামকৃষ্ণপুর, কদমতলী, উজানকান্দি, বড় বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর এ পাঁচটি গ্রামে মূলত আঘাত হেনেছে পদ্মার ঢেউ।
গ্রামগুলোর স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
বাড়িঘর ভেঙে পদ্মার ঢলে ভেসে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও অভাব দেখা দিয়েছে ভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাড়ির উঠান, গাছপালা সব নদীর প্রবল ঢেউ ভেঙে ভেঙে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা হুড়মুড় করে উঠেই ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র সরাতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র চলে যেতে থাকেন। কেউ আবার বাড়ির মায়ায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকেন।
ভাঙনের কবলে পড়া প্রতিটি গ্রামেই মানুষজন ব্যাপক য়তির সম্মখীন হয়েছে। অত বাঁশঝাড়, মাঠ বা পাকা রাস্তায় জায়গা নিচ্ছেন অনেকেই। মসজদি, মাদরাসা ও পাকা স্কুলেও উঠছেন কেউ কেউ।
দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে আগামী এক সপ্তাহে য়তি দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নদীতীর বসবাসরত মানুষ সবসময় ভাঙনে হুমকিতে থাকেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মানসহ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরো করুণ হবে বলে তারা দাবি করছেন। তারা এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

সূত্র : দৈনিক সংবাদপত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight