দেশ-বিদেশের খবর

রুজুর পর পুনরায় ভুল করে বসেন মাওলানা সাদ

৩১ জানুয়ারি দারুল উলুম দেওবন্দে মাওলানা সাদ কান্ধলভির ব্যাপারে নতুন ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণায় দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার ঘোষণা দিয়েছে।
দারুল উলুম দেওবন্দের ঘোষণায় বলা হয়েছে, হজরত মুসা আ. এর ঘটনার ব্যাপারে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ এর রুজুর ঘোষণার পর বিগত ক‘দিন ধরে দেশে-বিদেশের অনেকেই দারুল উলুম দেওবন্দের অবস্থান জানতে নিয়মিত প্রশ্ন করে যাচ্ছেন।
যার প্রেক্ষিতে এ কথা স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, শুধু মুসা আ. এর ঘটনার ব্যাপারে মাওলানা সাদ এর রুজুনামা আশ্বস্ত হওয়ার মতো। কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দের (পূর্ব ঘোষিত) অবস্থানে মাওলানার যেই আদর্শিক গুমরাহির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, তা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
কারণ, একাধিকবার রুজু করার পর তাৎণিকভাবে মাওলানা সাদ এমন বয়ান করেন যাতে আগের মতই ইজতিহাদসুলভ ভঙ্গি, ভুল দলিল উপস্থাপন ও দাওয়াত সম্পর্কে তার নিজিস্ব চিন্তাধারার ওপর কুরআন-সুন্নাহর ভুল প্রয়োগ দেখা গেছে।
যার কারণে শুধু দারুল উলূম দেওবন্দ সংশ্লিষ্ট উলামায়ে কেরামই নন; অন্যান্য হকপন্থী আলেমগণও মাওলানার সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে চরম অনাস্থা প্রকাশ করেছে।
আমরা মনে করি, আকাবিরদের চিন্তা ও আদর্শ থেকে সামান্য বিচ্যূতিও তীব্র্র তির কারণ। মাওলানাকে অবশ্যই নিজ বয়ানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
যারা দারুল উলূম দেওবন্দের কাছে বারবার শরণাপন্ন হচ্ছেন, তাদের পুনরায় বলা হচ্ছে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের সঙ্গে দারুল উলূমের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রথম দিন থেকেই আমরা সেই ঘোষণা জানিয়ে আসছি। তারপরও যখনই কারো ভুল চিন্তিাধারা ও মতাদর্শ সম্পর্কে দারুল উলূমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে দারুল উলুম সবসময় উম্মাহকে পথ দেখানোর চেষ্টা করেছে। এ কাজকে দারুল উলুম নিজের ধর্মীয় ও শরিয়া দায়িত্ব মনে করে।
ঘোষণায় স্বার করেছেন, মুফতি আবুল কাসেম নুমানি ১৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৯ হিজরি। মাওলানা আরশাদ মাদানি ও মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি।
উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি ও দিল্লি মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির নেতেৃত্ব ও তার কিছু বক্তব্য নিয়ে তাবলিগের ভেতর ও বাইরে অসন্তোষ চলছে বেশ ক’বছর ধরে। দারুল উলুম দেওবন্দ ও উলামায়ে কেরাম তার নেতৃত্বকে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে গেলেও তার বক্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে শুরু থেকেই।
বিশেষত হজরত মুসা আ. এর ব্যাপারে তার বক্তব্যের ব্যাপারে জোর আপত্তির কথা জানায় দারুল উলুম দেওবন্দ। দেওবন্দের আপত্তির প্রেেিত মাওলানা সাদ একাধিকবার রুজু (বক্তব্য প্রত্যাহার) করার ঘোষণা দেন এবং দেওবন্দের কাছে চিঠি লিখেন। কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দ তাকে অস্পষ্ট আখ্যা দেয় এবং তাকে প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়ার দাবি জানায়।
সেমতে মাওলানা সাদ প্রকাশ্য ঘোষণাও দেন। কিন্তু রুজু করার সাথে সাথে একই ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। ফলে তার রুজুর ব্যাপারে সংশয় তৈরি হয় দারুল উলুমসহ অন্যান্য দীনি প্রতিষ্ঠানের উলামায়ে কেরামের। দারুল উলুমের নতুন ঘোষণায় সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশের টঙ্গী ইজতেমায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ, দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ ও গুজরাট সফর করেন।
বাংলাদেশের এ প্রতিনিধি দল নির্বাচন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশের শীর্ষ আলেমগণ পরামর্শ করে মাওলানা সাদ এ বছরের ইজতেমায় অংশ নিতে নিষেধ করেন। তবে তার প্রতিনিধি পাঠানোর কথা বলেন।
কিন্তু উলামায়ে কেরামের মতামত উপো করে তিনি বাংলাদেশে এলে উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ বিমানবন্দর ঘেরাও করে তার প্রতিবাদ জানান।
অবশেষে ইজতেমায় অংশগ্রহণ না করে কাকরাইল মসজিদ থেকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ না যেতেই দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে নতুন এ ঘোষণা আসলো। সূত্র : আওয়ার ইসলাম

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কিছু না লেখাই ভালো

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বইয়ের মধ্যে আপত্তিকর কিছু আছে কিনা সেটা দেখার জন্য পুলিশের প থেকে বাংলা একাডেমিতে মাঝে মাঝে এসে বই পরীা করে দেখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বই আছে ১৩ হাজারেরও বেশি, আর এতো বই এভাবে দেখাও সম্ভব না। আর তাছাড়া বাংলা একাডেমীর নীতিমালায় এই কথাটি নেই। শুধু একটি কথাই বলা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এরকম কিছু যেন না লেখা হয় বলে মন্তব্য করেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আগের বছরের তুলনায় এবারের মেলায় নতুন কী যোগ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বছরের বই মেলায় পরিসরের পাশাপাশি প্রকাশনা ও সংগঠনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন বলতে আমি বোঝাচ্ছি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। গত বছরে সাড়ে ৩শ’র মত প্রতিষ্ঠান ছিল এবার সেটি ৪৫৫ তে এসে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি আরও বলেন, এবার ২৫ টি প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে যেখানে আগের বছরে ছিল ১৩ টি। রাস্তার পরিসরও বড় করা হয়েছে। এছাড়া যারা বইমেলায় আসবে তারা ঘুরে দেখার সময় কান্ত হয়ে যায় তাহলে তাদের বিশ্রিাম নেওয়ার জন্য বসার জায়গা করা হয়েছে।
আর নিরাপত্তার বিষয়ে র‌্যাব, পুলশি ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কথা বলা হয়েছে তারা গুরুত্বের সাথে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে। পাশাপাশি সংস্কৃৃতমন্ত্রীও এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আর এবছর যেহেতু নির্বাচনী বছর সেহেতু একটু খারাপ অবস্থারতো সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিষয়টি নজরে রেখেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

ইরানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কেরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতা, অংশ নেবেন যেভাবে :

ইরানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তৃতীয় আন্তর্জাতিক কেরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়েছে। বিগত বছরের মতো এ বছরেও আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার সাথে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তৃতীয় আন্তর্জাতিক কিরাত ও হেফজ প্রতিযোগিতা হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইকনা।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য তৃতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান ১৯ শে এপ্রিল শুরু হবে এবং একাধারে ২৬ শে এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য অনুষ্ঠিত হবে।

এই প্রতিযোগিতার মূল শর্ত হচ্ছে যেসকল দেশ থেকে প্রতিনিধিগণ আসবে তাদেরকে সেসকল দেশের নাগরিক হতে হবে। বিগত বছরসমূহে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তার্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করে।

এছাড়াও প্রতিযোগতিায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছর হতে হবে। সুর সহকারে কিরাত এবং কিরাতের সকল নিয়ম-কানুন মেনে কিরাত করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধি শুধুমাত্র একটি বিভাগে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রতিনিধি তার সাথে একজন সঙ্গী রাখতে পারবে। প্রতিনিধি এবং তার সহযোগীর ভিসা, বিমানের টিকিট এবং থাকার সকল খরচ প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটি বহন করবে।

অংশগ্রহণ করবেন যেভাবে
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী সম্পর্কে য়ঁৎধহরৎধহ.রৎ ওয়েবসাইটে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য যেসকল ডকুমেন্টস প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে, পাসপোর্টের প্রথম পাতার ফটোকপি, নিবন্ধন ফর্ম সংযুক্ত করা ২ কপি ছবি।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আগ্রহীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৪৩৯ হিজরির ১৮ই জমাদিউস সানি তথা ২০১৮ সালের ৭ মার্চের মধ্যে ধয়িধভরৎধহ@াধযড়ড়.পড়স প্রেরণ করতে পারেন।

রোহিঙ্গাক্যাম্পে বাইতুল মুকাদ্দাসের ইমাম : গরীব এন্ড এতীম ট্রাস্টের ত্রাণ বিতরণ

এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন বাইতুল মুকাদ্দাসের ইমাম শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আল-আব্বাসী।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৮ শনিবার সকাল ১১ টার এক ফাইটে টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে কয়েকটি ক্যাম্প ঘুরে অসহায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এর আগে শুক্রবার রাত ১১ টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি ফাইটে অবতরণ করেন বায়তুল মুকাদ্দাসের গ্রান্ড ইমাম শায়খ আলী ওমর ইয়াকুব আল আব্বাসী।
উখিয়া মুচন এলাকায় বাইতুল মুকাদ্দাসের ইমামকে নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গরীব এন্ড এতীম ট্রাস্ট।

ত্রাণ বিতরণে সঙ্গে ছিলেন, গরীব এন্ড এতীম ট্রাস্টের ফাউন্ডার শায়খে সালেহ হামিদী, বিশিষ্ট আলেম ও রাজনীতিক খতিব তাজুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী শিাসচিব মাওলানা আনাস মাদানী ও শায়খে ইমাম ফরিদ আহমাদ খান।

এছাড়া স্থানীয় সেনাসদস্য পুলিশ এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ত্রাণ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight