দেশ-বিদেশের খবর

সূ চির সম্মান প্রত্যাহার করলো অক্সফোর্ড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গ মুসলমানের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের নেত্রি অং সান সূ চিকে দেয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নিয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড নগর কাউন্সিল। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি সূ চি যে আচরণ করছে, তাতে সূ চি আর “ফ্রিডম অব দ্য সিটি” নামে ওই পুরস্কারের যোগ্য নন।
গত অক্টোবরে কর্তৃপক্ষ সূ চির খেতাব প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়। অক্সফোর্ড শহরের সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সূ চির নাম জড়িয়ে আছে। কারণ তিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন।
এদিকে সেন্ট হাগস কলেজ যেখানে সূ চি পড়াশোনা করেছিলেন সেখান থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সমঝোতার পরদিন এল আরো ১৩২০ রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্বারক সইয়ের পরদিন নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফে ঢুকেছে আরও ১৩২০ রোহিঙ্গা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে টেকনাফে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোহিঙ্গ প্রবেশের ঘটনা এটি। এদিকে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক সই হওয়া নিয়ে খুশি হলেও এর বাস্তবতা নিয়ে তাঁরা তেমন আশাবাদী নন। মিয়ানমারকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা বোকামি হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ইসরায়েলের সঙ্গে কেন এই সৌদি দোস্তি?
সৌদি আরব ও ইসরায়েল এই দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত জোট এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ফিলিস্তিন ইস্যুকে সামনে রেখে এই দুই দেশের জোট গড়ার বিষয়টি এত দিন অসম্ভব বলে মনে হলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এর বাস্তবতা দৃশ্যমান। কেন এই দুই বিপরীত আদর্শের দেশ হাত মেলাচ্ছে? কারণ কি শুধুই ইরান? নাকি অন্য কিছু? বিবিসি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে ইরান। এরই মধ্যে সিরিয়া ও লেবাননে শিয়াদের প্রভাব বেড়েছে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার-আল আসাদের পক্ষে লড়ছে শিয়ারা। অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে  উঠেছে। এই দুই ঘটনায় দুশ্চিন্তায় সৌদি আরব। সেই দুশ্চিন্তাই ইসরাইলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে সৌদি আরবকে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে দাপট ফিরে পেতে হলে সৌদি আরবের এখন নতুন বন্ধু প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকার পরও কেন ইসরায়েল? আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে মধ্য প্রাচ্যে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা থেকে অনেকটাই সরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সে জায়গায় ভাগ বসিয়েছে রাশিয়া। এ কাজে রুশদের প্রধান সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ ইরান। এখন ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে  আবার মধ্য প্রাচ্যের মোড়ল হতে চাইছে সৌদি আরব।

চীনকে ধন্যবাদ জানালেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান
মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়ানোয় চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির সেনা প্রধান মিন অং হাইং। সম্প্রতি চীন সফরকালে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মিয়ানমারের কৃতজ্ঞতার কথা জানান। বর্মি সেনাপ্রধান গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে চীনা প্রেসিডেন্টক তার দেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানোর কথা প্রকাশ করেছেন। মিয়ানমার সেনা প্রধান শুক্রবার মিন অং হাইং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি জানান, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল রাখাইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দাঁড়িয়ে মিয়ানমারের পক্ষে চীনের অবস্থান। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বর্বরতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী। বিশেষত সেনা বাহিনী প্রধান মিন অং হাইংকে রোহিঙ্গা নিপীড়নের পুরোধা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রোহিঙ্গা নিপীড়নে অভিযুক্ত মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। এরই মধ্যে  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সহযোগিতা কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর নিপীড়নকে জাতিসংঘ জাহিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে।

এবার বউকে খুন করে আত্মসমর্পণ!  
স্ত্রীকে খুন করার পর জামাল উদ্দিন সরকার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জামালের অভিযোগ, স্ত্রী কথা শুনতেন না। বলার পরও মশার কয়েলে আগুন ধরাননি তিনি। পুলিশ বলছে, এর আগেও জামাল উদ্দিন তার ভাবিকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসর্মণ করেন। ওই মামলায় এখন জামিনে আছেন তিনি।
পুলিশ আরও বলছে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও হত্যা মামলা আছে। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী দক্ষিণপাড়া গ্রামে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ হত্যাকা- ঘটে। ২৮/১১/১৭ইং।

তিন “জঙ্গির” লাশ, বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকায় র‌্যাবের ঘিরে রাখা বাড়িতে তিন “জঙ্গির” লাশ মিলেছে। তারা জে এমবির সক্রিয় সদস্য ছিলেন জানিয়ে র‌্যাব বলেন, রাজশাহীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, ঢাকার মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, সাতটি আইডি, (হাতে তৈরি গ্রেনেড) এবং বেশ কিছু পাওয়ার জেল, বিস্ফোরকদ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানান তিনি

মোদির গ্রামে ওয়াই-ফাই আছে টয়লেট নেই  
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরিচ্ছন্ন ভারতের প্রচার চালিয়ে আসছেন। তবে নিজ রাজ্য গুজরাটের ভাদনগরের চিত্র সেই কর্মসূচি ম্লান করে দিয়েছে। সেখানে বেশিরভাগ বাড়িতেই টয়লেট বা শৌচাগার নেই। ভাদনগরে গিয়ে নারীদের সাথে কথা বলে এমন অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছে বিবিসির প্রতিনিধি প্রিয়াঙ্কা দোবে।
গুজরাটের মেহসানা এলাকার ভাদনগরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য এই এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়নের কাজ চলছে। মেহসানা এলাকার রোহিত ভাস গ্রামে দলিত সম্প্রদায়ের বাস। সেখানে ঢোকামাত্র প্রিয়াঙ্কার স্মার্টফোনে বার্তা আসে তিনি ভাদনগর ওয়াই-ফাই জোনে আছেন। কিন্তু শৌচাগারের খোঁজ করলে গ্রামের নারীরা তাকে নিয়ে যান খোলা মাঠে।
বাসিন্দারা জানান, রোহিত ভাস গ্রামে নারী ও পুরুষের প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য আলাদা দুটি খোলা জায়গা রয়েছে। সেখানেই রোজ সকালে এই কাজ সারতে হয় তাদের।

হাতির ছবি তুলতে গিয়ে….  
রাস্তায় হঠাৎ চোখে পড়ে মস্ত হাতিটি। জঙ্গলের রাস্তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে। ছবি তুলতে পারলে কী বাহাদুরীই না প্রকাশ পাবে। লোভ সামলাতে না পেরে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সিদ্দিকুল্লা রহমান (৪০) এগিয়ে যান হাতিটির দিকে। সঙ্গীরা বাধা দিলেও কান দেননি তাতে। সিদ্দিকুল্লার এক হাতে মোবাইল আর কাঁধে বন্দুক। মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় ফ্যাশের আলো পড়ে। সেটা দেখেই রেগে যায় হাতিটি। দৌড়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে ধরে ফেলে। শুঁড় দিয়ে তুলে আছার মারে। পা দিয়ে পিষে ফেলে নিরাপত্তাকর্মীর মাথা। বন্দুকটিও ভেঙ্গে ফেলে। সবার চোখের সামনেই ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সিদ্দিকুল্লা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী। গতকাল সকালে তিনিসহ ব্যাংকের কয়েজন নিরাপত্তাকর্মী টাকা নিয়ে মালবাজারে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে লাটাগুড়ি জঙ্গল পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিদ্দিকুল্লাকে মারার পর জঙ্গলেই ফিরে যায় হাতিটি।

রোহিঙ্গাদের জন্য ২৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হবে। এ জন্য ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার আশ্রয়ণ ৩ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ২০১৯ সালে নভেম্বর মাসে শেষ হবে। বিদেশি সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশজ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হবে। ১ লাখ ৩ হাজার ২০০ মানুষের বসবাসের জন্য ১২০ টি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ভাসানচরের অভ্যন্তরে সড়ক, পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নলকূপ বসানোসহ যাবতীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

গায়ের জ্যাকেট করবে কম্পিউটারের কাজ
সঙ্গে করে ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরতে হবে না। টেবিলেও রাখতে হবে না ঢাউস আকারের কম্পিউটার। গায়ে যে জ্যাকেট চড়াবেন, সেটাই কম্পিউটারের কাজ করে দেবে। কল্পকাহিনীর মত ব্যাপারটাকে বাস্তবে সম্ভব করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও শিক্ষক রাগিব হাসান। তাঁর সে গবেষণা নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে প্রথম পাতায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার কথাই নিয়েই প্রচ্ছদ প্রতিবেদন। শেষের কথা দিয়ে শুরুটা করি, ‘আমরা কম্পিউটারকে অদৃশ্য করে দিতে চাই’। ১৫ নভেম্বর মুঠোফোনে কম্পিউটার বিজ্ঞানী রাগিব হাসান যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ কথা দিয়েই আলাপ শেষ করেছিলেন। কথোপকথনের শুরুতে এ কথা শুনে ঘাবড়েই যেতাম। কম্পিউটার নিয়ে যে বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষকের কাজ, তিনিই কিনা বলছেন কম্পিউটারকে উধাও করে দিতে। সেদিনের আলাপনে ততক্ষণে রাগিবের এই কথার মর্ম বুঝে ফেলেছিলাম।
কাউড প্রযুক্তিকে ব্যক্তিগত বানাতে চাইলেন রাগিব। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আর তথ্যের নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকে। রাগিব হাসান জ্যাকেট বানানোর উদ্যোগ নিলেন। ভিজিটিং কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের আকারে র্যা স্পবেরি পাই নামে কম্পিউটার আছে, যা হাতের তালুতেই এঁটে যায়। রাগিব হাসান ১০ টা র্যা স্পবেরি পাই নিলেন। বিদ্যুতের জন্য সঙ্গে নিলেন ৩ টা পাওয়ার ব্যাংক। আর জ্যাকেটের পিঠে সোলার প্যানেল। সব জ্যাকেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলাম। বললেন রাগিব হাসান। এই জ্যাকেটে পুরো কম্পিউটার তৈরি হয়ে গেল। বিদ্যুতের চিন্তাও দূর হলো। রাগিব আবার বলতে থাকেন, দেখুন স্মার্টফোন, স্মার্টঘড়ি, এসবেরও তো অনেক দাম। আলাদা করে কেনার দরকার কী। স্মার্টফোন বা স্মার্টঘড়ি, যে প্রসেসর বা অন্যান্য যন্ত্র দিয়ে চলে, সব থাকবে জ্যাকেটের ভেতরেই। কিন্তু স্মার্টফোনের পর্দা? রাগিবের সহজ সমাধান, আপনার হাতে শুধু একটা টাচস্ক্রিন থাকবে। যেটির দাম ২০০-৩০০ বেশি হবে না। তার ছাড়া এগুলো যক্ত হবে জ্যাকেটের মধ্যে থাকা যন্ত্রপাতির সঙ্গে। এমনকি একই সঙ্গে আপনি আইফোন আর এন্ড্রয়েট ফোন চালাতে পারবেন। এই জ্যাকেটই  হলো স্মার্ট জ্যাকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight