তায়াম্মুমের মাসায়েল / মাওলানা শিব্বীর আহমদ

তায়াম্মুম হলো ওজু-গোসলের বিকল্প। যদি কেউ এমন অসুস্থ হয়―ওজু করলে তার রোগ বৃদ্ধি পাবে কিংবা যদি কেউ ওজু করার মতো পানি না পায় তাহলে ওজুর পরিবর্তে সে তায়াম্মুম করবে। গোসল ফরজ অবস্থায় যদি কেউ এমন সংকটের মুখোমুখি হয় তাহলে সেও তায়াম্মুম করবে। ওজুর পরিবর্তে হোক আর গোসলের পরিবর্তে হোক, তায়াম্মুমের নিয়ম একটাই।
তায়াম্মুমের ফরজ
তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি। ১. নিয়ত করা, ২. সমস্ত মুখ মাসেহ করা, ৩. দুই হাত কনুইসহ মাসেহ করা।
তায়াম্মুমের পদ্ধতি
প্রথমে মনে মনে নিয়ত করবে―আমি পবিত্র হওয়ার জন্যে কিংবা নামাজ পড়ার জন্যে তায়াম্মুম করছি। এরপর উভয় হাত পাক-পবিত্র মাটিতে কিংবা মাটি জাতীয় কিছুতে মারবে। হাতে যদি মাটি লেগে থাকে তাহলে দুই হাত ঝেড়ে নেবে। এরপর দুই হাত দিয়ে সমস্ত মুখম-ল মাসেহ করবে। তারপর আবার উভয়
হাত আগের মতো মাটিতে মেরে এক হাত দিয়ে আরেক হাতের কনুইসহ মাসেহ করবে। এভাবে উভয় হাত মাসেহ করবে। হাতে আংটি-চুড়ি ইত্যাদি থাকলে এগুলো সরিয়ে এমনভাবে মাসেহ করতে হবে, যেন কনুই পর্যন্ত কোনো অংশই মাসেহ থেকে বাদ না যায়। এরপর হাতের আঙ্গুল খেলাল করে নেবে।
কোন কোন বস্তু দিয়ে তায়াম্মুম করা যাবে
পবিত্র মাটি, কংকর, বালু, পাথর, মাটির তৈরি কাঁচা বা পাকা ইট, ধুলাবালি, পাথর বা ইটের তৈরি দেয়াল, মাটির পাত্র ইত্যাদি। মাটি জাতীয় নয় এমন কিছুর উপর তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়। বাসে বা ট্রেনে সফরের সময়ও তায়াম্মুমের প্রয়োজন হতে পারে। এ বাহনগুলো যেহেতু লোহা দিয়ে তৈরি, তাই তাতে তায়াম্মুম করা যাবে না। তবে যদি বাস বা ট্রেনের গায়ে বেশি পরিমাণে ধুলা জমে থাকে, তাহলে সে ধুলার উপর তায়াম্মুম করা যাবে। তায়াম্মুম করার সময় হাতে ধুলা লাগা জরুরি নয়। বরং মাটি জাতীয় কোনো বস্তু হলেই তাতে তায়াম্মুম করা যাবে।
তায়াম্মুম কতদিন করা যাবে
তায়াম্মুমের কোনো মেয়াদ নেই। তায়াম্মুম করার মতো ওজর যতদিন থাকে, ততদিনই তায়াম্মুম করা যাবে। এ নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নেই। কারণ তায়াম্মুম হলো ওজু-গোসলের বিকল্প। ওজু-গোসল করলে যেমন পবিত্রতা হাসিল হয়, তায়াম্মুমের মাধ্যমেও তেমনি পবিত্রতা হাসিল হয়। তবে যে তায়াম্মুম করবে তাকে অবশ্যই এমন অসুস্থ হতে হবে যে, সে পানি ব্যবহার করে ওজু-গোসল করলে রোগ বৃদ্ধি পাবে, কিংবা দীর্ঘায়িত হবে। ওজু-গোসল করার মতো পানি পাওয়া না গেলেও তায়াম্মুম করা যাবে।
তায়াম্মুম ভেঙ্গে যায় কখন
যেসব কারণে ওজু ভেঙ্গে যায়, সেসব কারণে তায়াম্মুমও ভেঙ্গে যায়। তবে কেউ যদি ওজু করার মতো পানি না থাকার কারণে তায়াম্মুম করে তাহলে ওজু করার মতো পানি পেলে তার তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে। একইভাবে যদি অসুস্থ অবস্থায় কেউ তায়াম্মুম করে, এরপর তার অসুস্থতা কেটে যায়, তাহলেও নতুন করে ওজু করতে হবে। সুস্থ হয়ে গেলে অসুস্থ অবস্থার তায়াম্মুম ভেঙ্গে যায়। আর যদি ফরজ গোসলের পরিবর্তে কেউ তায়াম্মুম করে তাহলে গোসল করার মতো পানি পেলে কিংবা অসুস্থতা কেটে গেলে গোসল করে নিতে হবে।
মাসয়ালা : তায়াম্মুম করার পর যখনই পানি পাবে, তখন তো তায়াম্মুম ভেঙ্গে যাবে ঠিক। কিন্তু পানি পাওয়ার আগে সেই তায়াম্মুম দিয়ে যে নামাজ আদায় করা হয়েছে তা দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না।
মাসয়ালা : বাসে বা ট্রেনে সফররত অবস্থায় যদি কেউ পানি না পেয়ে তায়াম্মুম করে, এরপর পানির পাশ দিয়ে কিংবা পানির উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায় তাহলেও তায়াম্মুম ভাঙবে না। কারণ এ পানি ব্যবহার করার মতো সুযোগ তার নেই। এমনকি স্টেশনে ট্রেন থামার পরও যদি ওজু করতে গেলে ট্রেন চলে যাওয়ার আশংকা থাকে, তাহলেও তায়াম্মুম ভাঙবে না এবং এ অবস্থায় ওজু করাও জরুরি নয়।
মাসয়ালা : সফররত অবস্থায় যদি কারও সঙ্গে এতটুকু পানি থাকে, যা দিয়ে ওজু করে নিলে তার খাওয়ার পানির সংকট দেখা দেবে, তাহলে সে ওজু না করে তায়াম্মুম করবে।
মাসয়ালা : কারও গোসল ফরজ হলো কিন্তু পানি ব্যবহার করে গোসল করার সামর্থ তার নেই, তবে ওজু করার সামর্থ আছে, তাহলে সে গোসলের পরিবর্তে শুধুই তায়াম্মুম করবে, ওজু করতে হবে না। এরপর যখন তার ওজু ভেঙ্গে যাবে তখন তাকে ওজু করতে হবে।
মাসয়ালা : কেউ যদি এমন অসুস্থ হয়, ঠা-া পানি ব্যবহার করলে তার সমস্যা হবে কিন্তু গরম পানি ব্যবহারে তার কোনো সমস্যা হবে না, এমতাবস্থায় যদি পানি গরম করার মতো সুযোগ তার থাকে তাহলে পানি গরম করেই ওজু বা গোসল করতে হবে। আর যদি পানি গরম করার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলেই কেবল তায়াম্মুম করতে পারবে।
গোসলের মাসায়েল
গোসলের ফরজ তিনটি। এক. ভালোভাবে কুলি করা, যাতে সমস্ত মুখে পানি পৌঁছে যায়, দুই. নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছানো, তিন. সমস্ত শরীর ধৌত করা।
গোসলের সুন্নত পদ্ধতি
প্রথমে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেবে। এরপর লজ্জাস্থান। হাতে ও লজ্জাস্থানে কোনো নাপাকি থাকুক বা না থাকুক, সর্বাবস্থায় প্রথমে হাত, এরপর লজ্জাস্থান ধোয়া সুন্নত। এরপর দেখতে হবে শরীর বা কাপড়ে কোথাও নাপাক কিছু লেগে আছে কি না। থাকলে তা ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে পরিপূর্ণ ওজু করবে। কিন্তু যদি কেউ এমন কোথাও দাঁড়িয়ে গোসল করে, যেখানে গোসলের পানি জমে থাকে কিংবা কাদা হয়ে থাকে, তাহলে পা ধুইবে না। গোসল শেষে পা ধুয়ে নেবে। এমন সংকট না হলে ওজুর সময়ই পা ধুয়ে নেবে। এরপর তিনবার করে পানি ঢালবে। প্রথমে মাথায়, এরপর ডান কাঁধে, পরে বাম কাঁধে। পানি এমনভাবে ঢালবে যেন পুরো শরীরে পানি গড়িয়ে পড়ে।
মাসয়ালা : কারও দেখার সম্ভাবনা নাই―এমন জায়গায় প্রয়োজন হলে নগ্ন অবস্থায়ও গোসল করা যায়েজ আছে। তবে গোসলের সময়ও যথাসম্ভব সতর ঢেকে রাখাই উত্তম। নগ্ন হয়ে গোসল করলে সেসময় কেবলার দিকে মুখ করবে না। আর যদি সতর ঢাকা থাকে, তাহলে কেবলামুখী হয়ে গোসল করাতেও কোনো সমস্যা নেই।
মাসয়ালা : গোসল করার পূর্বে নিয়ত করা কোনো জরুরি বিষয় নয়। নিয়ত করুক বা না করুক, যদি কেউ পানি ঢেলে পুরো শরীর ভিজিয়ে দেয়, কিংবা বৃষ্টিতে পুরো শরীর ভিজে যায়, এমনকি যদি নদী বা পুকুর থেকে ডুব দিয়ে ওঠে, আর এর সঙ্গে ভালোভাবে কুলি করে নেয় এবং নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছায়, তাহলেই গোসল হয়ে যাবে। গোসলের সময় কোনো কালেমা পড়া কিংবা কালেমা পড়ে পানিতে ফুঁ দেয়ারও কোনো নিয়ম নেই। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে―পুরো শরীরে পানি পৌঁছেছে কিনা। যদি একটি লোমের জায়গাও শুকনো থাকে, তাহলেও গোসল হবে না।
মাসয়ালা : গোসলের সময় ভুলে কোনো অঙ্গ ধোয়া না হলে, কিংবা গোসলের পরও যদি কোনো অঙ্গ শুকনো থেকে যায় তাহলে শুধু ঐ অঙ্গটি ধুয়ে নিলেই হবে। আবার নতুন করে গোসল করতে হবে না। তবে যদি শুকনো অঙ্গটি ভেজা হাতে মাসেহ করে নেয় তাহলে যথেষ্ট হবে না। বরং তা ধুয়ে নিতে হবে।
মাসয়ালা : উপরে বর্ণিত নিয়মে গোসলের আগে ওজু করা সুন্নত। যদি কেউ ওজু না করে তাহলেও গোসল হয়ে যাবে। গোসল করার পর আর ওজু করার প্রয়োজন নেই। তবে ফরজ গোসল হলে অবশ্যই ভালোভাবে কুলি করতে হবে এবং নাকে পানি দিতে হবে। এদুটি গোসলের ফরজ। এদুটি ছাড়া গোসল সম্পন্ন হবে না।
মাসয়ালা : মেয়েদের চুলে যদি বেণি করা থাকে, তাহলে বেণি খোলা জরুরি নয়। বরং চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছালেই হবে। তবে সবগুলো চুলের গোড়াতেই পানি পৌঁছাতে হবে। আর যদি বেণি না থাকে, তাহলে চুলের গোড়া ও চুল সবই ধুয়ে নিতে হবে। কিছুই শুকনো রাখা যাবে না। বেণি রেখে যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব না হয় তাহলে বেণি খুলে ফেলতে হবে। আর তখন চুল ও চুলের গোড়া সবই ধুয়ে নিতে হবে।
মাসয়ালা : বেণি পাকানো চুল ধুইতে হয় না―এ বিধান শুধুই মহিলাদের জন্যে প্রযোজ্য। যদি কোনো পুরুষ চুলে বা দাড়িতে বেণি করে তাহলে গোসলের সময় তাকে বেণি খুলে চুল-দাড়ি ধুয়ে নিতে হবে। অন্যথায় গোসল হবে না।
ব্যান্ডেজের ওপর ওজু-গোসল
ওজুর কোনো অঙ্গ যদি ব্যান্ডেজ করা থাকে, তা পুরো অঙ্গেই থাকুক কিংবা আংশিক, প্রথমত দেখতে হবে, ওজুর সময় সে ব্যান্ডেজ খোলা যায় কিনা। যদি খুলে পানিতে ধুয়ে নিলে কোনো সমস্যা না হয় তাহলে তা খুলে ওজু করতে হবে। খোলা গেলেও যদি ক্ষতস্থানটি পানিতে ভেজানো না যায়, তাহলে সরাসরি ক্ষতস্থানে মাসেহ করতে হবে। আর যদি সহজে খোলা না যায়, কিংবা খোলা গেলেও ক্ষতস্থানে মাসেহ করা সম্ভব না হয় তাহলে ব্যান্ডেজের উপরেই মাসেহ করবে। ব্যান্ডেজের বাইরের অংশ যথাসম্ভব ধুয়ে নিতে হবে।
পুরো ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করাই ভালো। যদি অর্ধেকের বেশি অংশে মাসেহ করা হয় তাহলেও জায়েজ হবে। এর চেয়ে কম করলে জায়েজ হবে না।
ব্যান্ডেজ লাগানোর সময় ওজু থাকুক কিংবা না থাকুক, সর্বাবস্থায়ই ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করা যাবে।
ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় গোসলের বিধান ওজুর বিধানের মতোই। প্রথমত ব্যান্ডেজ খুলে গোসল করা যায় কিনা দেখতে হবে। তা সম্ভব না হলে সরাসরি ক্ষতস্থানটি মাসেহ করে অবশিষ্ট শরীর ধুয়ে নিতে হবে। আর যদি সরাসরি ক্ষতস্থানে মাসেহ করাও ক্ষতিকর হয় তাহলে ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করে অবশিষ্ট শরীর পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
প্রয়োজনে খতস্থানের সঙ্গে এতটুকু ভালো জায়গাও মাসেহ করা যাবে, যা ধুতে গেলে খতস্থানের ক্ষতি হতে পারে। তবে ভালো জায়গা ধুয়ে নিলে যদি ক্ষতস্থানের কোনো ক্ষতি না হয় তাহলে ধুয়েই নিতে হবে।
যদি শরীরের অধিকাংশ জায়গায় ব্যান্ডেজ থাকে, যা খোলা সম্ভব নয় কিংবা পানি ব্যবহার করা ক্ষতিকর হয়, তাহলে গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবে।
ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ কখন ভেঙ্গে যায়
সুস্থতার পূর্বে যদি ব্যান্ডেজটি খুলে যায়, তাহলে মাসেহ ভাঙ্গবে না। আবার ব্যান্ডেজটি লাগিয়ে নিলেই হবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার পর খোলে এবং ব্যান্ডেজটি আবার বাঁধার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে মাসেহ ভেঙ্গে যাবে। তখন ওজু থাকলে শুধু ব্যান্ডেজের জায়গাটি ধুয়ে নিলেই হবে।
সংযোজিত অঙ্গের ওজু-গোসল
অনেক সময় শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়। সেটি যদি এমনভাবে লাগানো হয় যা অপারেশন ছাড়া সহজে খোলা যায় না, তাহলে তা মূল অঙ্গের মতোই বিবেচিত হবে। মূল অঙ্গের যে বিধান, এমন কৃত্রিম অঙ্গেরও একই বিধান। আর যদি কৃত্রিম অঙ্গটি সহজেই খুলে রাখা যায়, তাহলে ওজু-গোসলের সময় তা খুলেই নিতে হবে।
কর্তিত অঙ্গের পবিত্রতা
কোনো কারণে যদি কারও হাতের কনুইসহ কিংবা পায়ের টাখনুসহ অপারেশন করে কেটে ফেলা হয় তাহলে তো ওজু-গোসলের সময় তা আর ধোয়ার সুযোগই থাকল না। অবশিষ্ট অঙ্গগুলো ধুয়ে নিলেই হবে। আর যদি উক্ত অঙ্গগুলোর কিছু অংশ বাকি থাকে, যেমন কারও এক-দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হলো, তাহলে তাকে ঐ হাতের বা পায়ের যতটুকু বাকি আছে ততটুকুও নিয়মমতো ধুয়ে নিতে হবে।

2 মন্তব্য রয়েছেঃ তায়াম্মুমের মাসায়েল / মাওলানা শিব্বীর আহমদ

  1. salman says:

    গোসল ফরয হয়েছে ও গোসল করার পানি ও আছে কিন্তু বাড়িতে মানুষের উপস্থিতির কারণে গোসল করতে ইতস্ত বোদ হলে বা গোসলের পূর্বে লজ্জিত হওয়ার সম্ববনা আছে তখন কি করতে হবে????
    সফরের সময় বা কোথাও বেড়াতে গেলে যদি গোসল ফরয হয়ে যায় তখন কি করতে হবে??/??

    • আল জান্নাত says:

      লজ্জা বা ইতস্ততবোধ কোনো বিধানকে রহিত করতে পারে না। আর লজ্জার কোনো কারণই নেই।

      বর্তমান যুগে পানি পাওয়া যায় না এমন জায়গা খুব কম। বিমানবন্দরেও পানির ব্যবস্থা থাকে। মিনারেল ওয়াটারও পাওয়া যায়। এক মাইলের মধ্যে পানি না থাকলে এবং পানি পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই না থাকলে তায়াম্মুম করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight